
সংক্ষেপে
২০২৬-২৭ করবর্ষে বেশির ভাগ ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক। এনবিআরের ২৮ জুন ২০২৬ তারিখের বিশেষ আদেশ নং ১/২০২৬ অনুযায়ী কাগজের রিটার্ন ফরমে দিতে পারবেন পাঁচ ধরনের করদাতা: ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (সনদসহ), বিদেশে থাকা বাংলাদেশি, মৃত করদাতার প্রতিনিধি আর বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক।
এঁদের জন্য দুটি ফরম: শর্ত মিললে এক পাতার আইটি-ঘ (২০২৩), না মিললে আইটি-১১গ (২০২৩)। দুটোই এনবিআরের ওয়েবসাইটের ফরম পাতায় বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। অন্য কেউ ই-রিটার্নে নিবন্ধনে আটকে গেলে উপ কর কমিশনারের কাছে কারণ দেখিয়ে অনুমতি নিয়ে কাগজে দিতে পারেন।
আইটি-ঘ, আইটি-১১গ আর প্রাপ্তিস্বীকারপত্রের ফরম এখানে PDF ও Doc আকারে আছে।
এই লেখায়
১. কারা কাগজের রিটার্ন ফরমে দিতে পারবেন
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৮(৪)-এর ক্ষমতায় এনবিআর বিশেষ আদেশ নং ১/২০২৬ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, নিচের পাঁচ ধরনের করদাতা ছাড়া সব ব্যক্তি করদাতাকে etaxnbr.gov.bd-তে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে।
- ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা
- শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, সনদ জমা দেওয়ার শর্তে
- বিদেশে থাকা বাংলাদেশি করদাতা
- মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক
বয়সের হিসাবটা একটু খেয়াল করুন। ধরা যাক আপনার বাবার বয়স এখন ৬৬, তিনি পেনশন আর সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পান। তিনি কাগজের ফরমে দিতে পারেন। কিন্তু আপনার মায়ের বয়স ৬২ হলে, তিনি আলাদা করদাতা হিসেবে অনলাইনেই দেবেন, যদি না তিনি অন্য কোনো ব্যতিক্রমে পড়েন। একই পরিবারে দুজনের পথ আলাদা হতে পারে।
এই পাঁচ ধরনের করদাতাও চাইলে অনলাইনে দিতে পারেন। আদেশে আরেকটা পথ খোলা রাখা হয়েছে: অন্য কোনো ব্যক্তি ই-রিটার্নে নিবন্ধন সমস্যার কারণে অনলাইনে দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট কারণসহ আবেদন করবেন। অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনার অনুমোদন দিলে তবেই কাগজে দেওয়া যাবে।
চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী কেউ শুধু অভ্যাসে সার্কেলে কাগজের রিটার্ন জমা দিতে গেলে বিপদে পড়তে পারেন, কারণ এখন তাঁদের জন্য অনলাইন বাধ্যতামূলক। আগে ই-রিটার্নে নিবন্ধনের চেষ্টা করুন, না পারলে লিখিত অনুমতি নিন।
২. আইটি-ঘ না আইটি-১১গ: কোন ফরম আপনার
নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যক্তি করদাতার রিটার্ন দুটি। আইটি-ঘ (২০২৩) এক পাতার, সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত। আইটি-১১গ (২০২৩) পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন, যাতে সব খাতের আয়, কর, জীবনযাপনের ব্যয় আর দেশে-বিদেশে সব সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দিতে হয়।
| এক পাতার আইটি-ঘ ব্যবহারের শর্ত | সব শর্ত মিলতে হবে |
|---|---|
| করযোগ্য আয় | ৫,০০,০০০ টাকার বেশি নয় |
| মোট পরিসম্পদ | ৫০,০০,০০০ টাকার বেশি নয় |
| মোটরযান | কোনো মোটরযানের মালিক নন |
| বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট | সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো গৃহসম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টের মালিক নন |
| বিদেশে সম্পদ | বাংলাদেশের বাইরে কোনো সম্পদ নেই |
| কোম্পানি | কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নন |
উদাহরণ: অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক, বয়স ৬৮, পেনশনের বাইরে ব্যাংক সুদ পান, নিজের নামে উপজেলা শহরে একটি একতলা বাড়ি আছে, গাড়ি নেই, মোট সম্পদ ৪০ লাখ টাকা। সব শর্ত মিলছে, তাই তিনি এক পাতার আইটি-ঘ দিতে পারেন। তাঁর ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট থাকলে লাগবে আইটি-১১গ।
কোন ফরম নেবেন বুঝতে না পারলে আইটি-১১গ নিন। এটি সব ব্যক্তি করদাতার পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন, তাই শর্ত মেলানোর ঝুঁকি থাকে না। শুধু সময় একটু বেশি লাগে।
৩. আয়কর রিটার্ন ফরম কোথায় পাওয়া যায়
- ১এনবিআরের ফরম পাতা খুলুনnbr.gov.bd-এর আয়কর ফরমের পাতায় 'স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার রিটার্ন আইটি ঘ-২০২৩' আর 'আইটি ১১গ-২০২৩' দুটোই PDF আর Doc আকারে আছে।
- ২সাল দেখে নামানএকই পাতায় ২০১৬ আর ২০২০ সালের পুরোনো ফরমও আছে। ঝামেলা এড়াতে নাম দেখে ২০২৩ সালের ফরমটিই নিন।
- ৩প্রাপ্তিস্বীকারপত্রের ফরমও নিনআইটি-১১ছ (২০২৩) প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা প্রত্যয়নপত্রের ফরম। জমার সময় অফিস এটি পূরণ করে সিল দিয়ে আপনাকে দেয়।
- ৪প্রিন্ট করে পূরণ করুনপ্রিন্ট নিয়ে পরিষ্কার হাতে পূরণ করুন, কাটাকাটি এড়ান। Doc ফাইলটি কম্পিউটারে পূরণ করে তারপর প্রিন্ট করলে পড়তে সুবিধা হয়।
নির্দেশিকায় বলা আছে, আগের আয়কর বিধিমালার অধীনে চালু থাকা রিটার্ন ফরমে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে দেওয়ার সুযোগও আছে। তবু নতুন ফরমে দিলে কর্মকর্তার সঙ্গে প্রশ্নোত্তর কম হয়।
৪. আয়কর রিটার্ন ফরম কিভাবে পূরণ করতে হয়
এক পাতার আইটি-ঘ-তে মূলত নয়টি তথ্য লাগে: আয়ের উৎস, মোট পরিসম্পদ, মোট আয়, আরোপযোগ্য কর, কর রেয়াত, প্রদেয় কর, উৎসে পরিশোধিত কর, রিটার্নের সঙ্গে দেওয়া কর আর জীবনযাপনের ব্যয়। আইটি-১১গ-তে এর সঙ্গে খাতভিত্তিক আয়ের তফসিল আর সম্পদ-দায়ের বিস্তারিত বিবরণ দিতে হয়।
পূরণের আগে হাতের কাছে রাখুন
আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে কর শূন্য আসবে, কিন্তু আয়, খরচ আর সম্পদের ঘর শূন্য রাখবেন না। যা আছে, সেটাই লিখুন, যাতে পরের বছরের রিটার্নের সঙ্গে হিসাব মেলে।
৫. কোথায় জমা দেবেন, আর সময়সীমা
কাগজের রিটার্ন জমা দেবেন আপনার TIN সনদে লেখা কর সার্কেলে। রিটার্ন রেজিস্টারে তোলার পর অফিস প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেয়। স্লিপে ক্রমিক নম্বর, ভলিউম নম্বর, জমার তারিখ, সিল আর গ্রহণকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষর আছে কি না, অফিস ছাড়ার আগে মিলিয়ে নিন। এই স্লিপই আপনার রিটার্ন জমার প্রমাণ, পরে ঋণ, সঞ্চয়পত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের কাজে লাগবে। তাই মূল কপি আলাদা ফাইলে রাখুন আর একটি ফটোকপি ও ছবি রেখে দিন।
- ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: বাড়তি কর নেই।
- ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭: প্রদেয় করের ২% বা ৩,০০০ টাকা, যেটি বেশি।
- ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন ২০২৭: প্রদেয় করের ৫% বা ৫,০০০ টাকা, যেটি বেশি।
- উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা বৈধ ভিসায় আয়ের জন্য বিদেশে থাকলে দেশে ফেরার ৯০তম দিনের মধ্যে রিটার্ন দেওয়া যায়।
৬. অনেকে যা জানতে চান
আয়কর রিটার্ন ফরম ২০২৫-২০২৬ pdf কোথায় পাব?
আমি চাকরি করি, কাগজে রিটার্ন দিতে পারব?
সরকারি চাকরিজীবীদের আয়কর রিটার্ন ফরম কি আলাদা?
এক পাতার রিটার্ন কি সবাই দিতে পারে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।