
সংক্ষেপে
বেশির ভাগ বড় ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যায়, মানে চারটি ভুলে এক নম্বর। ২০২৫-২৬ সেশনে মেডিকেল, গুচ্ছের ২০ বিশ্ববিদ্যালয় আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়ম ছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভর্তি পরীক্ষায় ভুল উত্তরে কোনো নম্বর কাটা হয়নি।
পাস নম্বরও সব জায়গায় এক নয়। মেডিকেল আর রাবিতে ১০০-এর মধ্যে ৪০, গুচ্ছে ৩০। ঢাবিতে আগের বছরগুলোতে এমসিকিউ ও লিখিত মিলিয়ে ৪০ লেগেছে, সঙ্গে দুই অংশে আলাদা ন্যূনতম নম্বর। প্রতি বছরের ভর্তি নির্দেশিকায় নিয়ম আবার মিলিয়ে নিতে হয়।
এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তির নীতিমালা আর পরীক্ষার নিয়ম স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাইটে আসে।
এই লেখায়
১. কোন ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্ক কত
নিচের সারণি সর্বশেষ শেষ হওয়া সেশনের নিয়ম ধরে বানানো। ২০২৬-২৭ সেশনের বিজ্ঞপ্তি এলে সংখ্যা বদলাতে পারে, তবে গত কয়েক বছর ধরে মূল ধাঁচ মোটামুটি একই।
| পরীক্ষা (সেশন) | প্রশ্ন ও নম্বর | ভুল উত্তরে কাটা | পাস নম্বর |
|---|---|---|---|
| এমবিবিএস-বিডিএস (২০২৫-২৬) | ১০০ এমসিকিউ, ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট | প্রতি ভুলে ০.২৫ | ৪০ |
| গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৫-২৬) | ১০০ নম্বরের এমসিকিউ, ১ ঘণ্টা | প্রতি চার ভুলে ১ | ৩০ |
| রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (২০২৫-২৬) | ১০০ নম্বরের এমসিকিউ, ১ ঘণ্টা | প্রতি চার ভুলে ১ | ৪০ |
| জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স (২০২৫-২৬) | ১০০ এমসিকিউ, ১ ঘণ্টা | কাটা হয়নি | ফলের বিজ্ঞপ্তিতে আসে |
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | এমসিকিউ ৬০, লিখিত ৪০ | ইউনিটের নির্দেশিকা দেখুন | আগের বছরগুলোতে মোট ৪০ |
গুচ্ছ আর রাবির বিজ্ঞপ্তিতে কথাটা লেখা থাকে এভাবে: প্রতি চারটি ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর কাটা যাবে। অঙ্কে এটাই প্রতি ভুলে ০.২৫। মেডিকেলের নীতিমালায় সরাসরি লেখা থাকে, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে।
২. নেগেটিভ মার্কিং হিসাব করবেন যেভাবে
- ১সঠিক উত্তর গুনুনপ্রতিটি প্রশ্নের মান ১ ধরলে যত প্রশ্ন ঠিক, তত নম্বর। ধরুন ১০০টির মধ্যে ৬৮টি ঠিক।
- ২ভুল উত্তর গুনুনযে প্রশ্নে উত্তর দিয়েছেন কিন্তু ভুল হয়েছে, শুধু সেগুলো। ধরুন ভুল ২০টি। ফাঁকা রাখা ১২টি এই হিসাবে আসে না।
- ৩ভুলকে ০.২৫ দিয়ে গুণ করুন২০ গুণ ০.২৫ হলো ৫। এই ৫ নম্বর কাটা যাবে।
- ৪বিয়োগ করুন৬৮ থেকে ৫ বাদ দিলে ৬৩। মেডিকেল বা রাবির ৪০ আর গুচ্ছের ৩০ পাস নম্বর, দুটোই এখানে পার হয়েছে।
একই পরীক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় একই উত্তর দিলে পেতেন পুরো ৬৮, কারণ সেখানে ভুলে নম্বর কাটে না। তাই এক পরীক্ষার কৌশল আরেক পরীক্ষায় হুবহু চালানো ঠিক নয়।
দুজন পরীক্ষার্থীর তুলনা করলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হয়। তানিয়া ৭০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ৬০টি ঠিক করেছে, ভুল ১০টি। তার নম্বর ৬০ থেকে ২.৫ বাদে ৫৭.৫। রাফি ৯০টির উত্তর দিয়ে ৬৪টি ঠিক করেছে, ভুল ২৬টি। তার নম্বর ৬৪ থেকে ৬.৫ বাদে ৫৭.৫। দুজনের নম্বর সমান, অথচ রাফি অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়েছে। মেধাতালিকায় এক নম্বরের ব্যবধানে শত শত জন পিছিয়ে যান, তাই এই হিসাব প্রস্তুতির সময়েই করে দেখা দরকার।
৩. আন্দাজে উত্তর দেবেন কি না
নেগেটিভ মার্ক থাকলে অনেকে ঠিক করেন, নিশ্চিত না হলে একদম উত্তর দেবেন না। হিসাবটা একটু খতিয়ে দেখা দরকার। চারটি অপশনের প্রশ্নে পুরো আন্দাজে উত্তর দিলে ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা চারে এক। ঠিক হলে পাবেন ১, ভুল হলে হারাবেন ০.২৫। গড়ে এতে সামান্য লাভ থাকে, ক্ষতি নয়।
দুটি অপশন বাদ দিতে পারলে হিসাব আরও পরিষ্কার। তখন বাকি দুটির একটি ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা অর্ধেক, ঝুঁকি নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত। তবে পাস নম্বরের কাছাকাছি থাকলে, বা প্রশ্ন একেবারেই অচেনা হলে, ঝুঁকি কমিয়ে খেলাই ভালো। কারণ গড়ের হিসাব একজনের একটি পরীক্ষায় সব সময় মেলে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় হিসাব একদম উল্টো। সেখানে ভুলে নম্বর কাটে না, তাই কোনো প্রশ্ন ফাঁকা রাখার মানে নেই। শেষ মিনিটে বাকি প্রশ্নগুলোতে অন্তত একটি উত্তর ভরাট করে দিন।
মেডিকেলে ৪০-এর কম পেলে মেধাতালিকায় নাম আসে না, জিপিএ যত ভালোই থাকুক। গুচ্ছে সীমা ৩০। নেগেটিভ মার্ক কাটার পর যে নম্বর থাকে, সেটাই এই সীমার সঙ্গে মেলানো হয়।
৪. ঢাবির পাস নম্বর আলাদা কেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ইউনিটে পরীক্ষা দুই অংশে: ৬০ নম্বরের এমসিকিউ, ৪০ নম্বরের লিখিত। এর সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসির ফল থেকে ২০, মোট মূল্যায়ন ১২০ নম্বরে। পাস-ফেলের হিসাব হয় পরীক্ষার ১০০ নম্বরে।
২০২১-২২ সেশনের খ ইউনিটের উদাহরণ দেখলে বোঝা যায় শর্ত কতটা কড়া। মোট ৪০ তো লাগতই, এমসিকিউতে বাংলায় ৫, ইংরেজিতে ৫, সাধারণ জ্ঞানে ১০ সহ অন্তত ২৪, আর লিখিততে বাংলা ও ইংরেজিতে ৫ করে সহ অন্তত ১১। তাই ঢাবিতে শুধু মোট নম্বর নয়, প্রতিটি অংশ আলাদা করে পার হতে হয়।
২০২৬-২৭ সেশনে ঢাবির আবেদন ১১ থেকে ২৫ নভেম্বর। প্রতিটি ইউনিটের ভর্তি নির্দেশিকায় এবারের নেগেটিভ মার্ক আর ন্যূনতম নম্বর দেওয়া থাকবে, আবেদনের আগেই সেটা পড়ে নিন।
৫. প্রস্তুতিতে যা কাজে লাগে
পরীক্ষার আগে ঠিক করে নিন
বিজ্ঞপ্তি পড়ার সময় শব্দগুলো খেয়াল করুন। কোথাও লেখা থাকে প্রতিটি ভুলে ০.২৫, কোথাও প্রতি চারটি ভুলে ১। দুটো একই কথা। কিন্তু কোনো ইউনিটে অপশনের সংখ্যা কম হলে বা লিখিত অংশ থাকলে নিয়ম আলাদা হতে পারে। যে পরীক্ষা দিচ্ছেন, শুধু সেই পরীক্ষার নির্দেশিকা ধরে কৌশল ঠিক করুন, বন্ধু বা কোচিংয়ের সাধারণ কথায় নয়।
মডেল টেস্টের খাতায় শুধু প্রাপ্ত নম্বর না লিখে ভুলের সংখ্যাও লিখুন। কয়েক সপ্তাহ পর দেখবেন কোন ধরনের প্রশ্নে আন্দাজ করলে আপনার লাভ হয় আর কোথায় ক্ষতি। আসল পরীক্ষায় সেই অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে কাজে দেবে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
গুচ্ছে নেগেটিভ মার্ক কত?
মেডিকেলে নেগেটিভ মার্ক কত?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্ক আছে কি?
ফাঁকা রাখলে কি নম্বর কাটে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।