সংক্ষেপে
সরকারি ও বেসরকারি সব মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তির জন্য একটাই কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হয়, আয়োজন করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। আবেদন হয় অনলাইনে, টেলিটকের ভর্তি পোর্টালে।
২০২৫-২৬ সেশনে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে কমপক্ষে জিপিএ ৮.৫০ লেগেছে। পরীক্ষা ছিল ১০০ নম্বরের এমসিকিউ, পাস নম্বর ৪০, প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ কাটা। ২০২৬-২৭ সেশনের নীতিমালা এলে নতুন শর্ত মিলিয়ে নিন।
ভর্তির বিজ্ঞপ্তি, ফল আর মেধাতালিকা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়।
এই লেখায়
১. আবেদনের যোগ্যতা (২০২৫-২৬ নীতিমালা)
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- এসএসসি ও এইচএসসি দুটিই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস হতে হবে, আর এইচএসসিতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান থাকতে হবে।
- দুই পরীক্ষা মিলিয়ে জিপিএ কমপক্ষে ৮.৫০। কোনো একটিতে ৪.০০ এর কম থাকলে আবেদন করা যায়নি।
- এইচএসসিতে জীববিজ্ঞানে কমপক্ষে ৩.৫০।
- এইচএসসি পাস হতে হবে পরীক্ষার বছরে বা তার আগের বছরে। ২০২৫-২৬ সেশনে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীরা আবেদন করেছেন।
- পার্বত্য জেলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য মোট জিপিএর শর্ত ছিল ৮.০০।
২০২৪-২৫ সেশনে মোট জিপিএ লাগত ৯.০০, ২০২৫-২৬ সেশনে তা কমিয়ে ৮.৫০ করা হয়। নীতিমালা প্রকাশ করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), তাই নতুন সেশনে শর্ত আবার বদলাতে পারে।
২. পরীক্ষার প্রশ্ন কেমন হয়
| বিষয় | নম্বর |
|---|---|
| জীববিজ্ঞান | ৩০ |
| রসায়ন | ২৫ |
| পদার্থবিজ্ঞান | ১৫ |
| ইংরেজি | ১৫ |
| সাধারণ জ্ঞান, প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলি | ১৫ |
| মোট | ১০০ |
প্রশ্ন হয় এইচএসসির পাঠ্যসূচি থেকে, ১০০টি এমসিকিউ, প্রতিটির মান ১। সময় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যায়, আর ৪০ এর কম পেলে মেধাতালিকায় আসা যায় না। এমবিবিএস ও বিডিএসের পরীক্ষা একই দিনে, একই প্রশ্নে হয়।
আবেদনের সময় প্রশ্নের ভাষা বাংলা না ইংরেজি হবে, সেটি বেছে নিতে হয়।
৩. মেধাতালিকার নম্বর যেভাবে হিসাব হয়
এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএ থেকে আসে ১০০ নম্বর, সঙ্গে যোগ হয় ভর্তি পরীক্ষার ১০০। মোট ২০০ নম্বরে মেধাক্রম ঠিক হয়।
| অংশ | হিসাব | সর্বোচ্চ |
|---|---|---|
| এসএসসি | জিপিএ × ৮ | ৪০ |
| এইচএসসি | জিপিএ × ১২ | ৬০ |
| ভর্তি পরীক্ষা | প্রাপ্ত নম্বর | ১০০ |
উদাহরণ: এসএসসিতে ৫.০০ আর এইচএসসিতে ৪.৮৩ পেলে জিপিএ অংশে পাবেন ৪০ + ৫৭.৯৬ = ৯৭.৯৬।
- আগের বছরের এইচএসসি পাস প্রার্থীর ৩ নম্বর কাটা যায় (২০২৪-২৫ সেশনে কাটা হতো ৬)।
- আগের বছর কোনো সরকারি মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন, এমন প্রার্থীর কাটা যায় ৫ নম্বর।
৪. আবেদন, ফল আর কলেজ বরাদ্দ
- ১বিজ্ঞপ্তি দেখুনএইচএসসির ফলের পর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি আসে। ২০২৫-২৬ সেশনে আবেদন চলেছিল ১১ থেকে ২১ নভেম্বর ২০২৫, পরীক্ষা হয় ১২ ডিসেম্বর।
- ২টেলিটক পোর্টালে আবেদনএকজন একবারই আবেদন করতে পারেন। আবেদনের ধরন ফি দেওয়ার পর বদলানো যায় না, তবে সরকারি কলেজের পছন্দক্রম নির্দিষ্ট কয়েকবার বদলানো যায়।
- ৩টেলিটক প্রিপেইড থেকে ফি দিনফি দিতে হয় টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে। ফি জমা হলে ফিরতি এসএমএসে ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড আর পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম আসে। ফির অঙ্ক আর এসএমএসের ফরম্যাট সার্কুলারে দেখে নিন।
- ৪প্রবেশপত্র ও আসনবিন্যাসনির্ধারিত দিনে ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র নামান, পরে আসনবিন্যাস দেখে কেন্দ্রে যান।
- ৫ফল দেখুনফল প্রকাশ হয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে। ভর্তি পরীক্ষার রোল দিয়ে ফল দেখা যায়, মেধাতালিকা পিডিএফেও দেওয়া হয়।
সরকারি কলেজের আসন বরাদ্দ হয় মেধাক্রম আর আপনার দেওয়া কলেজ পছন্দক্রম মিলিয়ে, আলাদা আবেদন লাগে না। ২০২৫-২৬ সেশনে সরকারি কলেজে আসন ছিল ৫,৬৪৫টি (এমবিবিএস ৫,১০০, বিডিএস ৫৪৫), বেসরকারিতে ৭,৪০৬টি। সরকারি কলেজে জায়গা না পেলে উত্তীর্ণরা পরে আলাদা বিজ্ঞপ্তি ধরে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে আবেদন করেন।
২০২৫-২৬ সেশনে ফল প্রকাশের পরদিন থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষার আবেদন নেওয়া হয়, ফি ছিল ১,০০০ টাকা, দিতে হয়েছে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে এসএমএসে। ফল বের হওয়ার পরপরই বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
৫. অনেকে যা জানতে চান
২০২৬-২৭ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কবে?
দ্বিতীয়বার কি পরীক্ষা দেওয়া যায়?
বেসরকারি মেডিকেলে কি আলাদা পরীক্ষা দিতে হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।