সংক্ষেপে
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা হয় না। এসএসসির ফল আর আপনার দেওয়া পছন্দক্রম মিলিয়ে একটি কলেজ বা মাদ্রাসায় আপনাকে নির্বাচন করা হয়। আবেদন হয় শুধু অনলাইনে, একাদশ শ্রেণির ভর্তির সরকারি ওয়েবসাইটে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আবেদন ফি ছিল ২২০ টাকা, আর পছন্দের তালিকায় কমপক্ষে ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠান রাখা গেছে।
কলেজ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইটে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন আর আবেদন দুটোই বাতিল হয়ে যায়। নিশ্চায়নের পর কলেজে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিয়ে চূড়ান্ত ভর্তি নিতে হয়।
আবেদন, ফল দেখা আর নিশ্চায়নের কাজ এই সাইটে হয়।
এই লেখায়
১. কারা আবেদন করবেন, কয়টি কলেজ বাছবেন
এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন। কোন কোন বছরের পাস শিক্ষার্থী সুযোগ পাবেন, ফি কত, কয় ধাপে ভর্তি হবে, সবই প্রতি বছরের ভর্তি নীতিমালায় বলা থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নীতিমালা প্রকাশ করে ২৪ আগস্ট ২০২৬।
- অনলাইন আবেদন ফি: ২২০ টাকা (২০২৬ সাল)।
- পছন্দের তালিকা: কমপক্ষে ৫টি, সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা মাদ্রাসা, পছন্দের ক্রম অনুযায়ী।
- বাছাই হয় শুধু এসএসসি বা সমমানের ফলের ভিত্তিতে। জিপিএ সমান হলে মোট নম্বর, তাতেও সমান হলে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের নম্বর দেখে মেধাক্রম ঠিক হয়।
- একজন শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানেই নির্বাচিত হন।
- কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি আলাদা নিয়মে হয়।
যে কলেজে সত্যিই পড়তে চান, সেটি ওপরে রাখুন, তবে নিজের জিপিএর কাছাকাছি কয়েকটি কলেজও রাখুন। ২০২৬ সালের প্রথম ধাপে জিপিএ ৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জনসহ ১৪ হাজার ৪১৫ জন কোনো কলেজই পাননি।
২. আবেদন করবেন যেভাবে
- ১তথ্য হাতে নিনএসএসসির রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ডের নাম, পাসের সাল আর একটি সচল মোবাইল নম্বর লাগবে। কোন গ্রুপে পড়বেন আর কোন কলেজগুলো চান, তার তালিকা আগেই করে রাখুন।
- ২আবেদন ফি দিনভর্তির ওয়েবসাইটে যে পেমেন্ট মাধ্যমগুলো দেখানো হয়, তার কোনো একটিতে ফি দিন। লেনদেন নম্বর বা রসিদ রেখে দিন।
- ৩ফরম পূরণ করে পছন্দক্রম দিনএসএসসির তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন, তারপর গ্রুপ আর কলেজের পছন্দক্রম দিন। কোটায় আবেদন করলে সেটি ঠিকমতো বাছাই করুন।
- ৪জমা দিয়ে কপি রাখুনসাবমিট করার পর আবেদনের কপি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে রাখুন। চূড়ান্ত ভর্তির সময় এই কপি কলেজে জমা দিতে হয়।
আবেদন আর ফি শুধু একাদশ শ্রেণির ভর্তির সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দিন। দোকানে আবেদন করালে মোবাইল নম্বর আর পাসওয়ার্ড যেন আপনার নিজের থাকে, কারণ পরের সব বার্তা ওই নম্বরেই আসে।
৩. কোটা কীভাবে কাজ করে
| কোটা | আসনের অংশ | কারা পাবেন |
|---|---|---|
| মেধা | ৯৩% | সবার জন্য উন্মুক্ত |
| বীর মুক্তিযোদ্ধা | ৫% | মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-নাতনি নয় |
| শিক্ষা মন্ত্রণালয় (EQ-1) | ১% | শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান |
| অধীন দপ্তর (EQ-2) | ১% | মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান |
এই হার ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নীতিমালা অনুযায়ী। কোটার আসনে যোগ্য প্রার্থী না পেলে সেগুলো মেধা তালিকা থেকে পূরণ হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির সময় সনদ বা গেজেটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে আর মূল কপি দেখাতে হয়। শিক্ষা কোটায় লাগে সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানের প্রত্যয়নপত্র।
যোগ্য না হয়েও কোটা বাছলে নির্বাচিত হলেও ভর্তি হতে পারবেন না। কাগজ হাতে না থাকলে কোটার ঘর ফাঁকা রাখাই নিরাপদ।
৪. মেধাতালিকা, নিশ্চায়ন আর মাইগ্রেশন
ফল প্রকাশের পর ওয়েবসাইটে লগইন করে দেখুন কোন কলেজ পেয়েছেন। সাধারণত আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসেও ফল জানানো হয়।
- নিশ্চায়ন: কলেজ পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইটে নিশ্চায়ন ফি দিয়ে আসনটি নিশ্চিত করুন। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী ২০২৬ সালে প্রাথমিক নিশ্চায়নের মোট অঙ্ক ছিল ৩৪০ টাকা, যার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, রোভার-রেঞ্জারসহ কয়েকটি ফি ধরা থাকে।
- মাইগ্রেশন: নিশ্চায়নের পর আপনার তালিকার ওপরের দিকের কোনো কলেজে আসন খালি হলে পরের ধাপে সেখানে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। মাইগ্রেশন সাধারণত শুধু ওপরের পছন্দের দিকেই হয়।
- পরের ধাপ: যাঁরা প্রথম ধাপে আবেদন করেননি, কলেজ পাননি, নিশ্চায়ন করেননি, সময়মতো ভর্তি হননি বা ভুল কোটার কারণে আটকে গেছেন, তাঁরা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারেন।
| ধাপ | ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যা হয়েছে |
|---|---|
| প্রথম ধাপের আবেদন | ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর |
| প্রথম ধাপের ফল | ১৬ সেপ্টেম্বর |
| নিশ্চায়নের শেষ সময় | ১৮ সেপ্টেম্বর, রাত ৮টা থেকে বাড়িয়ে রাত ১১টা |
| কলেজে ভর্তি | ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর |
| দ্বিতীয় ধাপের আবেদন | ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর (সময় বাড়িয়ে) |
| দ্বিতীয় ধাপের ফল ও মাইগ্রেশন | ফল ৫ অক্টোবর, নিশ্চায়ন ৮ অক্টোবর পর্যন্ত, মাইগ্রেশনের ফল ৯ অক্টোবর |
| দ্বিতীয় ধাপে ভর্তি | ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর |
এই লেখা হালনাগাদের দিন (১৪ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত তৃতীয় ধাপের ঘোষণা দেখা যায়নি। আগের বছরগুলোতে আসন খালি থাকলে আরও ধাপ হয়েছে, তাই ভর্তির ওয়েবসাইট আর শিক্ষা বোর্ডের নোটিশে চোখ রাখুন।
৫. কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি ও খরচ
কলেজে যা নিয়ে যাবেন
| এলাকা | এমপিওভুক্ত কলেজে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি |
|---|---|
| ঢাকা মহানগর | ৫,০০০ টাকা |
| অন্য মহানগর | ৩,০০০ টাকা |
| জেলা সদর | ২,০০০ টাকা |
| উপজেলা ও মফস্বল | ১,৫০০ টাকা |
এমপিওভুক্ত নয় এমন কলেজে খরচ বেশি। ঢাকা মহানগরে সেখানে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭,৫০০ আর ইংরেজি মাধ্যমে ৮,৫০০ টাকা নেওয়া যায়। নির্ধারিত অঙ্কের বেশি টাকা নেওয়া বা মূল নম্বরপত্র আটকে রাখা নিষেধ।
৬. অনেকে যা জানতে চান
পুনর্নিরীক্ষায় এসএসসির ফল বদলালে কি আবেদন করা যায়?
প্রথম ধাপে কলেজ না পেলে কি আবার ফি দিতে হয়?
নিশ্চায়ন না করলে কী হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।