
সংক্ষেপে
একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেণিতে কলেজ বদলাতে চাইলে নিজে গিয়ে নতুন কলেজে ভর্তি হওয়া যায় না। শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি লাগে, আর আবেদন হয় নির্দিষ্ট সময়ে, নির্ধারিত ফরম ও ফি দিয়ে। যেমন চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন নিয়েছে; একই বোর্ডের ভেতরে কলেজ বদলের ফি ১,০০০ টাকা, অন্য বোর্ডে যেতে ১,২০০ টাকা।
একাদশে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কলেজ বা বোর্ড বদল (টিসি, বিটিসি) সাধারণত ভর্তির পর আলাদা অনলাইন সূচিতে হয়। ২০২৪ সালে এটি চলেছিল ১৭ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের সূচি ১৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আমরা কোনো বোর্ডের নোটিশে পাইনি।
দ্বাদশ শ্রেণিতে কলেজ পরিবর্তনের ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি আর আবেদন ফরমের নিয়মাবলি।
এই লেখায়
১. কখন কোন পথে কলেজ বদলাবেন
| অবস্থা | যেভাবে হয় | সাম্প্রতিক উদাহরণ |
|---|---|---|
| একাদশে সদ্য ভর্তি, এখন অন্য কলেজে যেতে চান | আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের ঘোষিত সূচিতে অনলাইনে টিসি বা বিটিসির আবেদন | ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ: ১৭ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪; ঢাকা বোর্ডে ফি ৭০০ টাকা |
| দ্বাদশে উঠেছেন, একই বোর্ডের অন্য কলেজে যাবেন | দুই কলেজের অধ্যক্ষের সুপারিশসহ ফরম বোর্ডের কলেজ শাখায় | চট্টগ্রাম বোর্ড, ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ফি ১,০০০ টাকা |
| দ্বাদশে অন্য বোর্ডের কলেজে যাবেন | একই ফরম, বোর্ড পরিবর্তনের ফি দিয়ে | চট্টগ্রাম বোর্ড, ২০২৬; ফি ১,২০০ টাকা |
প্রতিটি বোর্ড নিজের বিজ্ঞপ্তি দেয়, ফি আর তারিখও আলাদা হতে পারে। ২০২৪ সালের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছিল, ঢাকা বোর্ডের ফি ৭০০ টাকা, অন্য বোর্ডগুলো নিজ নিজ হারে ফি নেবে। ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এই কাজের জন্য e-TC আর Board Transfer (BTC/TC) নামে আলাদা অংশ আছে।
২. দ্বাদশে কলেজ বদলের ধাপ: চট্টগ্রাম বোর্ডের ২০২৬ সালের নিয়ম
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ৩১ আগস্ট ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ও eSIF রেজিস্ট্রেশন করা যেসব শিক্ষার্থী এখন দ্বাদশে, তাঁরা ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কলেজ পরিবর্তনের আবেদন বোর্ডের কলেজ শাখায় জমা দিতে পারবেন। অন্য বোর্ডের প্রক্রিয়াও মোটামুটি এ রকম, তবে নিজের বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি আগে পড়ে নিন।
- ১বোর্ডের ফরম নামানবোর্ডের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে দেওয়া কলেজ বা বোর্ড পরিবর্তনের আবেদন ফরমই ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো ফরমে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
- ২যে কলেজে যাবেন, সেখানে আসন আছে কি না জানুনআপনার বিভাগে (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা বা গার্হস্থ্য বিজ্ঞান) আসন খালি থাকলে আর কলেজের চাওয়া ন্যূনতম জিপিএ আর বিষয়ের সঙ্গে আপনার মিল থাকলেই সুপারিশ করা যায়।
- ৩বর্তমান কলেজের অধ্যক্ষের সুপারিশ নিনফরমের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ বর্তমান কলেজের অধ্যক্ষ পূরণ করে সুপারিশ করবেন। এর পরে নতুন কলেজের অধ্যক্ষ তাঁর অংশ পূরণ করে সুপারিশ করবেন।
- ৪ফি জমা দিনচট্টগ্রাম বোর্ডে টাকা জমা হয় সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের অনুকূলে, বোর্ড ভবনের সোনালী ব্যাংক বুথে। ডিডি বা পে-অর্ডারও সেখানে জমা দেওয়া যায়, বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনেও পরিশোধের ব্যবস্থা আছে। রসিদের কলেজ শাখার অংশ আবেদনের সঙ্গে দিতে হয়।
- ৫সময়ের মধ্যে কলেজ শাখায় জমা দিনকাগজসহ পূর্ণ আবেদন নির্ধারিত সময়ে বোর্ডের কলেজ শাখায় দিন। অসম্পূর্ণ আবেদন বিবেচনা করা হয় না।
- ৬অনুমতির পর ছাড়পত্র নিনবোর্ড অনুমতি দিলে তবেই পুরোনো কলেজ ছাড়পত্র দেবে আর নতুন কলেজ ভর্তি নেবে। চট্টগ্রাম বোর্ড অনুমতির তালিকা ওয়েবসাইটে কলেজ পরিবর্তনের আদেশ হিসেবে প্রকাশ করে।
৩. যে কাগজ আর টাকা লাগবে
আবেদনের সঙ্গে দিন
চট্টগ্রাম বোর্ডের হিসাবে বোর্ডের এলাকার ভেতরে কলেজ বদলের ফি ১,০০০ টাকা, বোর্ড পরিবর্তনে ১,২০০ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা আছে, বোর্ডের অনুমতির পর ছাড়পত্র দেওয়ার সময় পুরোনো কলেজ চলতি মাসের বেতনের বাইরে কোনো অগ্রিম টাকা নিতে পারবে না। কেউ কয়েক মাসের অগ্রিম বেতন চাইলে বিজ্ঞপ্তিটি দেখান।
৪. যে কারণে আবেদন আটকে যায়
- যে কলেজে যেতে চান, সেখানে আপনার বিভাগে আসন খালি নেই।
- আপনার পড়া বিষয়ের সঙ্গে নতুন কলেজের অনুমোদিত বিষয় মেলে না। বিশেষ করে চতুর্থ বিষয় নিয়ে এই সমস্যা হয়।
- নতুন কলেজের চাওয়া ন্যূনতম জিপিএ আপনার নেই।
- বোর্ডের নির্ধারিত ফরম ছাড়া অন্য কাগজে আবেদন, কিংবা কোনো অনুচ্ছেদ ফাঁকা।
- বোর্ডের অনুমতি আসার আগেই পুরোনো কলেজ ছাড়পত্র দিয়েছে বা নতুন কলেজ ভর্তি নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দুটোই নিষেধ।
বোর্ডের অনুমতি ছাড়া নতুন কলেজে বসে থাকলে রেজিস্ট্রেশন পুরোনো কলেজেই থেকে যায়, পরে ফরম পূরণ আর প্রবেশপত্রে জটিলতা হয়। অনুমতির আদেশে নিজের নাম দেখে তবেই কলেজ বদলান।
৫. একাদশের নতুন শিক্ষার্থীরা কবে পারবেন
২০২৪ সালে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি একাদশে ভর্তি শেষ হওয়ার পর টিসি ও বিটিসির অনলাইন আবেদনের সূচি দিয়েছিল: ১৭ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪। নির্দেশনা ছিল একাদশ ভর্তির ওয়েবসাইটে, আর আবেদন হয়েছিল নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটে। তখন বোর্ডে সরাসরি যাওয়ার দরকার পড়েনি।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের টিসি ও বিটিসির সূচি এখনো আসেনি। নিজের বোর্ডের ওয়েবসাইট আর একাদশ ভর্তির ওয়েবসাইটের নোটিশ নিয়মিত দেখুন, আর সূচি না আসা পর্যন্ত বর্তমান কলেজে ক্লাস চালিয়ে যান। যে কলেজে যেতে চান, সেখানে আপনার বিভাগে আসন খালি আছে কি না, এখনই খোঁজ নিয়ে রাখতে পারেন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
কলেজ পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?
দ্বাদশ শ্রেণিতে কি কলেজ পরিবর্তন করা যায়?
কলেজ পরিবর্তনের আবেদন পত্র কি নিজে লিখে দেওয়া যাবে?
অন্য বোর্ডের কলেজে যেতে কী লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।