
সংক্ষেপে
একাদশে কোনো কলেজে ভর্তি হয়ে গেলে সেই ভর্তি বাতিল হয় শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিতে, শুধু কলেজকে বলে নয়। আবেদন যায় কলেজের অধ্যক্ষের সুপারিশসহ বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের কাছে। ঢাকা বোর্ডের ফি তালিকায় এইচএসসি ভর্তি বাতিলের ফি ৬০০ টাকা, চট্টগ্রাম আর কুমিল্লা বোর্ডের ফরমে ৮০০ টাকা।
বোর্ড কারণ দেখতে চায়, আর কারণের পক্ষে কাগজ। পলিটেকনিক বা কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিদেশ যাওয়া, চাকরি বা অভিভাবকের বদলির মতো কারণ ফরমেই লেখা আছে। শুধু অন্য সাধারণ কলেজে যাওয়ার জন্য ভর্তি বাতিল করা যায় না, তার জন্য ছাড়পত্রের আলাদা পথ।
ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের আবেদন ফরম (কলেজ) এখান থেকে নামানো যায়।
এই লেখায়
১. ভর্তি বাতিল, নাকি ছাড়পত্র: আগে এটা ঠিক করুন
অনেকে নিশ্চায়ন করে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর মত বদলান। কেউ পলিটেকনিকে সুযোগ পান, কেউ বিদেশে পড়তে যাবেন, কেউ চাকরিতে ঢুকেছেন। এসব ক্ষেত্রে লাগে ভর্তি বাতিল। আর যদি শুধু এক কলেজ ছেড়ে একই বোর্ডের আরেক সাধারণ কলেজে যেতে চান, সেটি ভর্তি বাতিলে হয় না।
কলেজের অনলাইন ভর্তির নিশ্চায়ন আর বোর্ডের ভর্তি বাতিল এক জিনিস নয়। নিশ্চায়ন হয় ভর্তির ওয়েবসাইটে, কলেজে আসন নিশ্চিত করতে। কলেজে ভর্তি শেষ হয়ে শিক্ষার্থীর তথ্য বোর্ডে চলে গেলে সেই ভর্তি তুলে নিতে বোর্ডের অনুমতি লাগে। তাই কলেজের অফিসে মুখে বলে চলে এলে কাজ শেষ হয় না, রেজিস্ট্রেশন আপনার নামেই থেকে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম বোর্ডের ফরমে স্পষ্ট লেখা, ওই বোর্ডের কলেজে ভর্তি হওয়া কেউ কারিগরি বা পলিটেকনিক ছাড়া অন্য কোনো কলেজে একই শিক্ষাবর্ষে ভর্তির উদ্দেশ্যে ভর্তি বাতিল করতে পারবেন না। কুমিল্লা বোর্ডের ফরমেও একই কথা: নির্দিষ্ট কয়েকটি কারণ ছাড়া ভর্তি বাতিল করে একই বোর্ডের কোনো কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে না। কলেজ বদলের জন্য আছে ছাড়পত্রের (টিসি) আবেদন, সেটি আমাদের কলেজ পরিবর্তনের লেখায় আছে।
চট্টগ্রাম বোর্ডের ফরমের নামই ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের আবেদন। অনুমতি হলে এই শিক্ষাবর্ষের রেজিস্ট্রেশনও থাকে না। তাই নতুন জায়গায় ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই আবেদন করুন।
২. কোন কারণে বোর্ড অনুমতি দেয়, কী প্রমাণ লাগে
| কারণ | যে কাগজ দিতে হয় |
|---|---|
| কারিগরি বোর্ডের প্রতিষ্ঠান বা পলিটেকনিকে ভর্তি | সেই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের প্রত্যয়নপত্র; কুমিল্লা বোর্ডে সঙ্গে ভর্তির টাকা জমার রসিদ |
| স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি (কুমিল্লা বোর্ড) | প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র আর ভর্তির টাকার রসিদ |
| ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ডিপ্লোমা বা মাদ্রাসা বোর্ডে ভর্তি (কুমিল্লা বোর্ড) | ওপরের মতো প্রত্যয়নপত্র আর রসিদ |
| বিদেশে চাকরি বা পড়াশোনা | ভিসার কপি; কুমিল্লায় পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি আর ভর্তিচ্ছু প্রতিষ্ঠানের কাগজও |
| সরকারি, আধা সরকারি বা প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি | নিয়োগপত্রের সত্যায়িত কপি |
| বাবা-মা বা অভিভাবকের বদলি (চট্টগ্রাম বোর্ড) | বদলির আদেশ আর যোগদানপত্রের সত্যায়িত কপি |
| বিয়ে (কুমিল্লা বোর্ড) | কাবিননামার সত্যায়িত কপি; এসএসসি সনদ অনুযায়ী বয়স ১৮ হতে হবে, সঙ্গে এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সত্যায়িত কপি |
চট্টগ্রাম বোর্ডে ফরমে বলা কারণগুলোর বাইরে অন্য কোনো কারণে বাতিল চাইলে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দিতে হয়। দুই বোর্ডেই শেষ সিদ্ধান্ত বোর্ডের। ঢাকাসহ অন্য বোর্ডের শর্ত নিজ বোর্ডের ফরমে মিলিয়ে নিন।
৩. বোর্ডভেদে ফি আর টাকা জমার নিয়ম
| বোর্ড | ফি | যেভাবে জমা |
|---|---|---|
| ঢাকা | ৬০০ টাকা (ফি তালিকায় Admission cancellation, HSC) | বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী; আবেদনের আগে কলেজ বা বোর্ড থেকে জেনে নিন |
| চট্টগ্রাম | ৮০০ টাকা | যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে সচিবের অনুকূলে ডিডি বা পে-অর্ডার; বোর্ড ভবনের সোনালী ব্যাংক বুথ বা বহদ্দারহাট শাখায় জমা |
| কুমিল্লা | ৮০০ টাকা | সোনালী ব্যাংকের ড্রাফট, বোর্ডের সচিবের অনুকূলে |
উদাহরণ: কুমিল্লার একটি কলেজে নিশ্চায়ন করে ভর্তি হওয়া রিয়া পরে চাঁদপুর পলিটেকনিকে সুযোগ পেল। সে পলিটেকনিকের অধ্যক্ষের প্রত্যয়নপত্র আর ভর্তির রসিদ নিল, এসএসসির নম্বরফর্দের সত্যায়িত কপি নিল, ৮০০ টাকার সোনালী ব্যাংক ড্রাফট করল, তারপর কলেজের অধ্যক্ষের সুপারিশ নিয়ে বোর্ডে জমা দিল।
৪. আবেদনের ধাপ
- ১নিজ বোর্ডের ফরম নিনচট্টগ্রাম বোর্ডের ই-সেবা পাতায় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের আবেদন ফরম (কলেজ) আছে। কুমিল্লা বোর্ডের ফরমের নাম ভর্তি বাতিল বা একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফেরত। অন্য বোর্ডে কলেজ থেকেই ফরম চান।
- ২ফরম পূরণ করুননাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, কলেজের নাম ও EIIN, শিক্ষাবর্ষ, শাখা, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাফট নম্বর আর বাতিলের কারণ লিখুন। শিক্ষার্থী আর অভিভাবক দুজনেই সই করেন।
- ৩অধ্যক্ষের সুপারিশ নিনফরমে অধ্যক্ষ লিখে দেন যে তথ্য সঠিক আর বোর্ড অনুমতি দিলে তাঁর আপত্তি নেই। এই সই আর সিল ছাড়া আবেদন নেওয়া হয় না।
- ৪কাগজ জুড়ে বোর্ডে জমা দিনফি জমার রসিদ বা ড্রাফটের কপি, কারণের প্রমাণ আর শিক্ষাগত কাগজ সঙ্গে দিয়ে বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিন। অসম্পূর্ণ আবেদন কুমিল্লা বোর্ডে বাতিল ধরা হয়।
- ৫অনুমতির খবর রাখুনবোর্ড ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের আদেশ প্রকাশ করে। চট্টগ্রাম বোর্ডের নোটিশ বোর্ডে এমন আদেশ নম্বরসহ দেওয়া হয়। কলেজকেও খোঁজ রাখতে বলুন।
৫. যে কাগজ গুছিয়ে রাখবেন
ভর্তি বাতিলের আবেদনের সঙ্গে
কুমিল্লা বোর্ডে ভর্তি বাতিলের সঙ্গেই কলেজে জমা থাকা এসএসসির একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফেরত চাওয়া হয়। নতুন প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে এই কাগজটি লাগতে পারে, তাই ফেরত পেলে যত্ন করে রাখুন।
আবেদন ফেরত আসার সাধারণ কারণগুলো ফরম পড়লেই বোঝা যায়: অধ্যক্ষের সই বা সিল নেই, ড্রাফট বোর্ডের সচিবের নামে না করে কলেজের নামে করা, কারণের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, অথবা মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জায়গায় শুধু ফটোকপি। জমার আগে এই চারটি জিনিস আরেকবার মিলিয়ে নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ভর্তি বাতিল করতে কত টাকা লাগে?
কলেজ ভর্তি নিশ্চায়ন বাতিল করে অন্য কলেজে ভর্তি হওয়া যায়?
ভর্তি বাতিলের ফরম কোথায় পাব?
পলিটেকনিকে ভর্তি হতে কলেজের ভর্তি বাতিল লাগবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।