
সংক্ষেপে
কলেজ না পেলে আপনার অ্যাকাউন্ট সচল থাকে, পরের ধাপে একই অ্যাকাউন্টে ঢুকে নতুন করে কলেজ বাছতে পারবেন। কিন্তু কলেজ পেয়েও সময়মতো নিশ্চায়ন না করলে অ্যাকাউন্ট আর আবেদন দুটোই নিজে থেকে বাতিল হয়ে যায়। তখন পরের ধাপে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন করতে হয়।
নিশ্চায়ন করার পর অন্য কলেজে যেতে চাইলে বা ভর্তি না হতে চাইলে বোর্ডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট বাতিল করাতে হয়, নইলে পরের ধাপে অংশ নেওয়া যায় না। সব ধাপের তারিখ আর বিজ্ঞপ্তি আসে একাদশ ভর্তির সরকারি ওয়েবসাইটে।
লগইন করে নিজের ফল, নিশ্চায়ন আর মাইগ্রেশনের অবস্থা দেখুন, বোর্ড বিজ্ঞপ্তিও এখানে।
এই লেখায়
১. আপনার অবস্থা কোনটি, আগে মিলিয়ে নিন
একাদশে ভর্তির সমস্যাগুলো দেখতে এক রকম হলেও সমাধান আলাদা। ভর্তির সাইটের সচরাচর জিজ্ঞাসায় যেভাবে বলা আছে, নিচের ছকে তা সাজানো হলো:
| অবস্থা | যা হয় | আপনার করণীয় |
|---|---|---|
| কোনো কলেজে নির্বাচিত হননি | অ্যাকাউন্ট সচল থাকে | পরের ধাপে একই অ্যাকাউন্টে লগইন করে কলেজ বাছুন |
| নির্বাচিত, কিন্তু নিশ্চায়ন করেননি | অ্যাকাউন্ট ও আবেদন নিজে থেকে বাতিল | পরের ধাপে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন |
| নিশ্চায়ন করেছেন, সময়মতো কলেজে ভর্তি হননি | নিশ্চায়ন বাতিল হয় না | কলেজে যোগাযোগ করুন, কলেজ পরেও ভর্তি নিতে পারে |
| নিশ্চায়ন করেছেন, এখন ভর্তি হতে চান না | অ্যাকাউন্ট সচল থাকে, পরের ধাপে ঢোকা যায় না | বোর্ডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট বাতিল করুন |
| কোটায় নির্বাচিত, কাগজ নেই | ওই কলেজে ভর্তি হওয়া যায় না | নিশ্চায়ন করে থাকলে বোর্ডে অ্যাকাউন্ট বাতিল করুন |
নিশ্চায়ন করার পর ভর্তি না হয়ে বসে থাকলে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে আপনি ওই কলেজেরই শিক্ষার্থী হিসেবে থেকে যান। তাই কলেজ পছন্দ না হলে চুপ করে না থেকে বাতিলের প্রক্রিয়া সেরে ফেলুন।
২. নিশ্চায়ন হয়েছে কি না নিশ্চিত হবেন যেভাবে
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নিশ্চায়ন ফি ছিল ৩৪০ টাকা। দেওয়া গেছে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, সোনালী ই-সেবা, সোনালী ওয়েব আর এসএসএল কমার্জের মাধ্যমে। টাকা কাটলেই কাজ শেষ নয়, ভর্তির পোর্টালে পেমেন্টের তথ্য উঠতে হবে।
- পেমেন্টের তথ্য পেমেন্ট সার্ভার থেকে পোর্টালে আসতে কিছুটা সময় লাগে। বোর্ড তাই শেষ দিনের শেষ ঘণ্টায় না দিয়ে হাতে সময় রেখে ফি দিতে বলে।
- টাকা দেওয়ার পর পোর্টালে তথ্য না এলে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে আবার লগইন করে দেখুন।
- এরপরও না এলে নতুন করে পেমেন্ট করা যায়। আগের যে টাকার তথ্য পোর্টালে ওঠেনি, তা পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান তিন কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার কথা। না পেলে সেই প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন।
- নির্ধারিত সময় শেষ হলে নিশ্চায়ন ফি নেওয়া নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৬ সালে প্রথম ধাপে শেষ দিনে সময় রাত ৮টা থেকে বাড়িয়ে রাত ১১টা করা হয়েছিল, তবে এমন বাড়তি সময়ের ভরসায় থাকবেন না।
নিশ্চায়ন ফির এসএমএস বা লেনদেন নম্বর মুছবেন না। পোর্টালে তথ্য না এলে বা টাকা ফেরত চাইলে এটাই আপনার প্রমাণ।
৩. মাইগ্রেশন কীভাবে কাজ করে
নিশ্চায়নের পর আপনার পছন্দক্রমের ওপরের দিকের কোনো কলেজে আসন খালি হলে আপনাকে সেখানে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, একেই মাইগ্রেশন বলে। ২০২৬ সালে প্রথম ধাপের মাইগ্রেশনের ফল আসে ১৯ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় ধাপেরটা ৯ অক্টোবর। ফল দেখা যায় পোর্টালে লগইন করে, এসএমএসেও পাঠানো হয়।
- মাইগ্রেশনের পর যে কলেজ দেখাবে, ভর্তি হতে হবে সেখানেই। ফলের পিডিএফ পোর্টাল থেকে নামিয়ে কলেজে নিয়ে যান।
- প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করে থাকলে দ্বিতীয় ধাপে আর মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকে না।
- দ্বিতীয় ধাপে নতুন কলেজ চাইলে আগে বোর্ডের মাধ্যমে আগের অ্যাকাউন্ট বাতিল করাতে হয়, তারপর নতুন অ্যাকাউন্টে আবেদন।
৪. অ্যাকাউন্ট বাতিল করাবেন যেভাবে
অ্যাকাউন্ট বাতিল বা মোবাইল নম্বর বদলের ক্ষমতা শুধু শিক্ষা বোর্ডের। সাধারণ শিক্ষা বোর্ড আর মাদ্রাসা বা কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীদের পথ আলাদা।
- ১সাধারণ বোর্ড ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়নিজের শিক্ষা বোর্ডে সশরীরে যান। সঙ্গে নিন হাতে লেখা ও স্বাক্ষর করা আবেদন, সদ্য তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রের মূল কপি আর ট্রান্সক্রিপ্ট।
- ২মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডই-মেইলে আবেদন করা যায়, ঠিকানা cad@teacher.cse.buet.ac.bd। বিষয়ের ঘরে লিখুন একাউন্ট বাতিল চেয়ে আবেদন। সঙ্গে দিন হাতে লেখা তারিখ ও স্বাক্ষরসহ আবেদন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, প্রবেশপত্র আর ট্রান্সক্রিপ্টের রঙিন ছবি, এবং আবেদনটি হাতে ধরে তোলা আপনার সেলফি।
- ৩উত্তরের অপেক্ষা করুনসাধারণত ১২ ঘণ্টার মধ্যে আপনার আবেদন বিবেচনাধীন আছে লেখা ই-মেইল আসে। এরপর বোর্ডের অনুমোদনে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে।
- ৪বাতিল হলো কি না দেখুনপোর্টালে আগের অ্যাকাউন্ট আর কাজ করছে না নিশ্চিত হয়ে নিজের সঠিক তথ্যে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলুন, তারপর নতুন করে পছন্দক্রম দিন।
প্রতিটি ই-মেইল আলাদা আবেদন হিসেবে বোর্ডে যেতে পারে। এতে পরে খোলা নতুন অ্যাকাউন্টটিও বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ই-মেইল নেওয়া হয় নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে আবেদনের শেষ সময়ের ৩৬ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত।
৫. পরের ধাপ কবে, না এলে কী
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় ধাপের আবেদন চলেছে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত (সময় বাড়িয়ে), ফল এসেছে ৫ অক্টোবর। নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের পোর্টালে ভর্তি সম্পন্ন করার জন্য কলেজগুলোকে ১৫ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
১৫ অক্টোবর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপের কোনো ঘোষণা ভর্তির সাইটে দেখা যায়নি। আগের বছরগুলোতে আসন খালি থাকলে আরও ধাপ হয়েছে, যেমন ২০২৪ সালে তৃতীয় ধাপে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। তাই ভর্তির সাইটের বোর্ড বিজ্ঞপ্তি অংশে চোখ রাখুন, আর নিজের বোর্ডের হেল্পলাইনে জেনে নিন।
কলেজে ভর্তি হলে নিশ্চিত হয়ে নিন
৬. অনেকে যা জানতে চান
নিশ্চায়নের সময় পার হয়ে গেছে, পরে টাকা দিলে কি হবে?
প্রথম ধাপে কলেজ পাইনি, দ্বিতীয় ধাপে কি আবার আবেদন ফি দিতে হবে?
নিশ্চায়ন করেছি কিন্তু কলেজে যাইনি, আমার আসন কি চলে গেছে?
পছন্দক্রম কতবার বদলানো যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।