
সংক্ষেপে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি (পাস) কোর্সে প্রতিটি পত্রে পাস মার্ক ৪০%, মানে ১০০-তে ৪০, যা D গ্রেড বা গ্রেড পয়েন্ট ২.০০। প্রতি তত্ত্বীয় পত্রের ১০০ নম্বরের ৮০ চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষায় আর ২০ ইনকোর্স ও ক্লাসে উপস্থিতিতে। ব্যবহারিকেও আলাদা করে ৪০% লাগে।
পরের বর্ষে উঠতে সব পত্রের পরীক্ষায় বসতে হয় আর অন্তত ৩টি তত্ত্বীয় পত্রে D বা তার বেশি পেতে হয়। ডিগ্রি পেতে শেষ পর্যন্ত সব পত্রে পাস আর সিজিপিএ অন্তত ২.০০ লাগে। নিয়মগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) ডিগ্রি রেগুলেশন ২০১৩-১৪ থেকে।
ডিগ্রির ফলে প্রতিটি পত্রের গ্রেড আর বর্ষের জিপিএ দেখা যায়, রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে।
এই লেখায়
১. ডিগ্রি পাস নম্বর কত: গ্রেডের পুরো টেবিল
ডিগ্রি (পাস) এখন গ্রেডিং পদ্ধতিতে চলে, ফলে নম্বর নয়, গ্রেড আর জিপিএ দেখানো হয়। রেগুলেশনের টেবিল অনুযায়ী নম্বর থেকে গ্রেড এভাবে হয়:
| নম্বর | লেটার গ্রেড | গ্রেড পয়েন্ট |
|---|---|---|
| ৮০% বা বেশি | A+ | ৪.০০ |
| ৭৫% থেকে ৮০%-এর কম | A | ৩.৭৫ |
| ৭০% থেকে ৭৫%-এর কম | A- | ৩.৫০ |
| ৬৫% থেকে ৭০%-এর কম | B+ | ৩.২৫ |
| ৬০% থেকে ৬৫%-এর কম | B | ৩.০০ |
| ৫৫% থেকে ৬০%-এর কম | B- | ২.৭৫ |
| ৫০% থেকে ৫৫%-এর কম | C+ | ২.৫০ |
| ৪৫% থেকে ৫০%-এর কম | C | ২.২৫ |
| ৪০% থেকে ৪৫%-এর কম | D | ২.০০ |
| ৪০%-এর কম | F | ০.০০ |
তাই ডিগ্রি পাস মার্ক কত, এর সোজা উত্তর প্রতি পত্রে ৪০%। শুধু D বা তার ওপরের গ্রেড পাওয়া পত্রের ক্রেডিট ফলের হিসাবে যোগ হয়, F পাওয়া পত্রের ক্রেডিট যোগ হয় না।
২. degree pass mark out of 80: লিখিত আর ইনকোর্সের ভাগ
প্রতিটি তত্ত্বীয় পত্রের ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষার, আর ২০ ইনকোর্স ও ক্লাসে উপস্থিতির, যার ১৫ ইনকোর্স আর ৫ উপস্থিতি। বছরে প্রতি পত্রে দুটি ইনকোর্স পরীক্ষা নেন কলেজের শিক্ষক, পাঠ্যসূচির অর্ধেক করে।
অনেকে ভাবেন লিখিত ৮০-তে আলাদা করে ৪০% লাগে কি না। রেগুলেশনে লিখিত অংশের জন্য আলাদা পাস নম্বর লেখা নেই। শর্ত হলো তত্ত্বীয় আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে ৪০% বা D, আর গ্রেড হয় পত্রের ১০০ নম্বর ধরে। নিজের ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকলে কলেজের পরীক্ষা শাখায় জেনে নিন।
| ক্লাসে উপস্থিতি | নম্বর (৫-এর মধ্যে) |
|---|---|
| ৯০% বা বেশি | ৫.০০ |
| ৮৫% থেকে ৯০%-এর কম | ৪.৫০ |
| ৮০% থেকে ৮৫%-এর কম | ৪.০০ |
| ৭৫% থেকে ৮০%-এর কম | ৩.৫০ |
| ৭০% থেকে ৭৫%-এর কম | ৩.০০ |
| ৬৫% থেকে ৭০%-এর কম | ২.৫০ |
| ৬০% থেকে ৬৫%-এর কম | ২.০০ |
| ৫৫% থেকে ৬০%-এর কম | ১.৫০ |
| ৫০% থেকে ৫৫%-এর কম | ১.০০ |
| ৪৫% থেকে ৫০%-এর কম | ০.৫০ |
| ৪৫%-এর কম | ০.০০ |
উদাহরণ: রিয়াদ ইনকোর্সে ১৫-এর মধ্যে ১০ আর উপস্থিতিতে ৪ পেলেন, মোট ১৪। পত্রের ১০০ নম্বর ধরে হিসাব করলে ৪০ ছুঁতে তাঁর লিখিত ৮০-র মধ্যে অন্তত ২৬ দরকার। ইনকোর্সে কম পেলে লিখিত অংশে বেশি তুলতে হয়, তাই ইনকোর্সকে হালকাভাবে নেবেন না।
৩. ডিগ্রি প্রমোশনের নিয়ম
- এক বর্ষ থেকে পরের বর্ষে উঠতে ওই বর্ষের সব পত্রের পরীক্ষায় বসা বাধ্যতামূলক।
- প্রথম থেকে দ্বিতীয় বর্ষে, আর দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় বর্ষে উঠতে অন্তত ৩টি তত্ত্বীয় পত্রে D বা তার বেশি গ্রেড লাগে।
- কোনো বর্ষে একটি পত্রে অনুপস্থিত থেকে বাকি সব পত্রে D বা বেশি পেলে শর্তসাপেক্ষে প্রমোশন মেলে, তবে পরের বছর ওই পত্রের পরীক্ষা দিতেই হয়।
- এই শর্ত পূরণ না হলে Not Promoted, আর পরের বর্ষের ভর্তি বাতিল ধরা হয়।
- প্রথম বর্ষের সব পত্রে D বা বেশি না পাওয়া পর্যন্ত তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসা যায় না।
রেগুলেশনটি ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর, আর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যসূচি পরিমার্জিত হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষার ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে যে শর্ত আসে, সেটাই চূড়ান্ত ধরুন।
৪. ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করলে কি হয়
কোনো পত্রে F পেলে সেটা পরের বছর ফরম পূরণের সময় আবার দিতে হয়, একে বলে গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষা। Not Promoted হলে পরের বছর শুধু F আর অনুপস্থিত পত্রগুলোতে বসবেন, সঙ্গে C বা D পাওয়া সর্বোচ্চ দুটি পত্রে মান উন্নয়নও দিতে পারবেন।
- F পাওয়া পত্রে একাধিকবার পরীক্ষা দেওয়া যায়, তবে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদের মধ্যে অন্তত D তুলতে হবে।
- F থেকে উঠলে সেই পত্রে যত নম্বরই পান, সর্বোচ্চ B+ গ্রেড দেওয়া হয়।
- F থেকে পাস গ্রেডে উঠে গেলে ওই পত্রে আর মান উন্নয়নের সুযোগ থাকে না।
- ব্যবহারিকে ফেল করলে পরের শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একবার ব্যবহারিক দেওয়ার সুযোগ থাকে।
২০২৪ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ফলে পাসের হার ছিল ৪৪.২৭%, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি এসেছে। অর্থাৎ ফেল বা আটকে যাওয়া খুব বিরল ঘটনা নয়, তাই কোন পত্রে F এসেছে তা দেখে দ্রুত পরের বছরের প্রস্তুতি শুরু করুন।
৫. ডিগ্রি পেতে কী লাগে, আর ইংরেজির পাস মার্ক
স্নাতক (পাস) ডিগ্রি পেতে সব তত্ত্বীয় আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সিজিপিএ অন্তত ২.০০ পেতে হয়। কোনো একটি পত্রে F থাকলে সিজিপিএ যত ভালোই হোক, ফল অকৃতকার্য আর সনদ দেওয়া হয় না, তবে চাইলে অকৃতকার্য হিসেবে ট্রান্সক্রিপ্ট নেওয়া যায়। সিজিপিএ ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ হলে ডিস্টিংশনসহ ডিগ্রি দেওয়া হয়।
ডিগ্রি ইংরেজি পাস মার্ক কত, এই প্রশ্নও খুব আসে। আবশ্যিক ইংরেজিও একটি পত্র, তাই অন্য পত্রের মতো এখানেও ৪০% বা D লাগে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিএ, বিএসএস, বিবিএস আর বিএসসির প্রথম বর্ষে Functional English নামে ১০০ নম্বরের, ৪ ক্রেডিটের একটি আবশ্যিক কোর্স চালু হয়েছে।
৬. উপস্থিতির শর্ত আর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ
চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে মোট ক্লাসের ৭৫% উপস্থিতি লাগে। বিশেষ ক্ষেত্রে ৬০% থেকে ৭৫%-এর মধ্যে উপস্থিতি থাকলে অধ্যক্ষ সুপারিশ করতে পারেন, তখন ফরম পূরণের সময় ৫০০ টাকা নন-কলেজিয়েট ফি দিতে হয়।
রেগুলেশন অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ ৬ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে ডিগ্রি শেষ করতে হয়। মেয়াদ পেরিয়ে গেলে F তোলার সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়, তাই ফেল করা পত্র ফেলে রাখবেন না।
৭. অনেকে যা জানতে চান
ডিগ্রি পাস মার্ক কত?
degree pass mark out of 80 কত?
ডিগ্রি ১ম বর্ষে কয় বিষয়ে ফেল করলে প্রমোশন হয় না?
ডিগ্রিতে F পেয়ে পরে পাস করলে কত গ্রেড পাওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।