জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ডিগ্রি পাস মার্ক কত: প্রতি পত্রে ৪০% বা D গ্রেড, ৮০ আর ২০ নম্বরের ভাগ, প্রমোশনের নিয়ম আর ফেল করলে কী হয়

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬result.nu.ac.bd
ডিগ্রি পাস মার্ক কত: প্রতি পত্রে ৪০% বা D গ্রেড, ৮০ আর ২০ নম্বরের ভাগ, প্রমোশনের নিয়ম আর ফেল করলে কী হয়

সংক্ষেপে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি (পাস) কোর্সে প্রতিটি পত্রে পাস মার্ক ৪০%, মানে ১০০-তে ৪০, যা D গ্রেড বা গ্রেড পয়েন্ট ২.০০। প্রতি তত্ত্বীয় পত্রের ১০০ নম্বরের ৮০ চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষায় আর ২০ ইনকোর্স ও ক্লাসে উপস্থিতিতে। ব্যবহারিকেও আলাদা করে ৪০% লাগে।

পরের বর্ষে উঠতে সব পত্রের পরীক্ষায় বসতে হয় আর অন্তত ৩টি তত্ত্বীয় পত্রে D বা তার বেশি পেতে হয়। ডিগ্রি পেতে শেষ পর্যন্ত সব পত্রে পাস আর সিজিপিএ অন্তত ২.০০ লাগে। নিয়মগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) ডিগ্রি রেগুলেশন ২০১৩-১৪ থেকে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলের সাইট

ডিগ্রির ফলে প্রতিটি পত্রের গ্রেড আর বর্ষের জিপিএ দেখা যায়, রোল ও রেজিস্ট্রেশন দিয়ে।

ফল দেখুন
এই লেখায়
  1. ডিগ্রি পাস নম্বর কত: গ্রেডের পুরো টেবিল
  2. degree pass mark out of 80: লিখিত আর ইনকোর্সের ভাগ
  3. ডিগ্রি প্রমোশনের নিয়ম
  4. ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করলে কি হয়
  5. ডিগ্রি পেতে কী লাগে, আর ইংরেজির পাস মার্ক
  6. উপস্থিতির শর্ত আর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. ডিগ্রি পাস নম্বর কত: গ্রেডের পুরো টেবিল

ডিগ্রি (পাস) এখন গ্রেডিং পদ্ধতিতে চলে, ফলে নম্বর নয়, গ্রেড আর জিপিএ দেখানো হয়। রেগুলেশনের টেবিল অনুযায়ী নম্বর থেকে গ্রেড এভাবে হয়:

নম্বরলেটার গ্রেডগ্রেড পয়েন্ট
৮০% বা বেশিA+৪.০০
৭৫% থেকে ৮০%-এর কমA৩.৭৫
৭০% থেকে ৭৫%-এর কমA-৩.৫০
৬৫% থেকে ৭০%-এর কমB+৩.২৫
৬০% থেকে ৬৫%-এর কমB৩.০০
৫৫% থেকে ৬০%-এর কমB-২.৭৫
৫০% থেকে ৫৫%-এর কমC+২.৫০
৪৫% থেকে ৫০%-এর কমC২.২৫
৪০% থেকে ৪৫%-এর কমD২.০০
৪০%-এর কমF০.০০

তাই ডিগ্রি পাস মার্ক কত, এর সোজা উত্তর প্রতি পত্রে ৪০%। শুধু D বা তার ওপরের গ্রেড পাওয়া পত্রের ক্রেডিট ফলের হিসাবে যোগ হয়, F পাওয়া পত্রের ক্রেডিট যোগ হয় না।

২. degree pass mark out of 80: লিখিত আর ইনকোর্সের ভাগ

প্রতিটি তত্ত্বীয় পত্রের ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষার, আর ২০ ইনকোর্স ও ক্লাসে উপস্থিতির, যার ১৫ ইনকোর্স আর ৫ উপস্থিতি। বছরে প্রতি পত্রে দুটি ইনকোর্স পরীক্ষা নেন কলেজের শিক্ষক, পাঠ্যসূচির অর্ধেক করে।

অনেকে ভাবেন লিখিত ৮০-তে আলাদা করে ৪০% লাগে কি না। রেগুলেশনে লিখিত অংশের জন্য আলাদা পাস নম্বর লেখা নেই। শর্ত হলো তত্ত্বীয় আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে ৪০% বা D, আর গ্রেড হয় পত্রের ১০০ নম্বর ধরে। নিজের ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকলে কলেজের পরীক্ষা শাখায় জেনে নিন।

ক্লাসে উপস্থিতিনম্বর (৫-এর মধ্যে)
৯০% বা বেশি৫.০০
৮৫% থেকে ৯০%-এর কম৪.৫০
৮০% থেকে ৮৫%-এর কম৪.০০
৭৫% থেকে ৮০%-এর কম৩.৫০
৭০% থেকে ৭৫%-এর কম৩.০০
৬৫% থেকে ৭০%-এর কম২.৫০
৬০% থেকে ৬৫%-এর কম২.০০
৫৫% থেকে ৬০%-এর কম১.৫০
৫০% থেকে ৫৫%-এর কম১.০০
৪৫% থেকে ৫০%-এর কম০.৫০
৪৫%-এর কম০.০০

উদাহরণ: রিয়াদ ইনকোর্সে ১৫-এর মধ্যে ১০ আর উপস্থিতিতে ৪ পেলেন, মোট ১৪। পত্রের ১০০ নম্বর ধরে হিসাব করলে ৪০ ছুঁতে তাঁর লিখিত ৮০-র মধ্যে অন্তত ২৬ দরকার। ইনকোর্সে কম পেলে লিখিত অংশে বেশি তুলতে হয়, তাই ইনকোর্সকে হালকাভাবে নেবেন না।

৩. ডিগ্রি প্রমোশনের নিয়ম

  • এক বর্ষ থেকে পরের বর্ষে উঠতে ওই বর্ষের সব পত্রের পরীক্ষায় বসা বাধ্যতামূলক।
  • প্রথম থেকে দ্বিতীয় বর্ষে, আর দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় বর্ষে উঠতে অন্তত ৩টি তত্ত্বীয় পত্রে D বা তার বেশি গ্রেড লাগে।
  • কোনো বর্ষে একটি পত্রে অনুপস্থিত থেকে বাকি সব পত্রে D বা বেশি পেলে শর্তসাপেক্ষে প্রমোশন মেলে, তবে পরের বছর ওই পত্রের পরীক্ষা দিতেই হয়।
  • এই শর্ত পূরণ না হলে Not Promoted, আর পরের বর্ষের ভর্তি বাতিল ধরা হয়।
  • প্রথম বর্ষের সব পত্রে D বা বেশি না পাওয়া পর্যন্ত তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসা যায় না।
শেষ নিয়ম ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে

রেগুলেশনটি ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর, আর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যসূচি পরিমার্জিত হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষার ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে যে শর্ত আসে, সেটাই চূড়ান্ত ধরুন।

৪. ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করলে কি হয়

কোনো পত্রে F পেলে সেটা পরের বছর ফরম পূরণের সময় আবার দিতে হয়, একে বলে গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষা। Not Promoted হলে পরের বছর শুধু F আর অনুপস্থিত পত্রগুলোতে বসবেন, সঙ্গে C বা D পাওয়া সর্বোচ্চ দুটি পত্রে মান উন্নয়নও দিতে পারবেন।

  • F পাওয়া পত্রে একাধিকবার পরীক্ষা দেওয়া যায়, তবে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদের মধ্যে অন্তত D তুলতে হবে।
  • F থেকে উঠলে সেই পত্রে যত নম্বরই পান, সর্বোচ্চ B+ গ্রেড দেওয়া হয়।
  • F থেকে পাস গ্রেডে উঠে গেলে ওই পত্রে আর মান উন্নয়নের সুযোগ থাকে না।
  • ব্যবহারিকে ফেল করলে পরের শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একবার ব্যবহারিক দেওয়ার সুযোগ থাকে।

২০২৪ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ফলে পাসের হার ছিল ৪৪.২৭%, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি এসেছে। অর্থাৎ ফেল বা আটকে যাওয়া খুব বিরল ঘটনা নয়, তাই কোন পত্রে F এসেছে তা দেখে দ্রুত পরের বছরের প্রস্তুতি শুরু করুন।

৫. ডিগ্রি পেতে কী লাগে, আর ইংরেজির পাস মার্ক

স্নাতক (পাস) ডিগ্রি পেতে সব তত্ত্বীয় আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সিজিপিএ অন্তত ২.০০ পেতে হয়। কোনো একটি পত্রে F থাকলে সিজিপিএ যত ভালোই হোক, ফল অকৃতকার্য আর সনদ দেওয়া হয় না, তবে চাইলে অকৃতকার্য হিসেবে ট্রান্সক্রিপ্ট নেওয়া যায়। সিজিপিএ ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ হলে ডিস্টিংশনসহ ডিগ্রি দেওয়া হয়।

ডিগ্রি ইংরেজি পাস মার্ক কত, এই প্রশ্নও খুব আসে। আবশ্যিক ইংরেজিও একটি পত্র, তাই অন্য পত্রের মতো এখানেও ৪০% বা D লাগে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিএ, বিএসএস, বিবিএস আর বিএসসির প্রথম বর্ষে Functional English নামে ১০০ নম্বরের, ৪ ক্রেডিটের একটি আবশ্যিক কোর্স চালু হয়েছে।

৬. উপস্থিতির শর্ত আর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ

চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে মোট ক্লাসের ৭৫% উপস্থিতি লাগে। বিশেষ ক্ষেত্রে ৬০% থেকে ৭৫%-এর মধ্যে উপস্থিতি থাকলে অধ্যক্ষ সুপারিশ করতে পারেন, তখন ফরম পূরণের সময় ৫০০ টাকা নন-কলেজিয়েট ফি দিতে হয়।

রেগুলেশন অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ ৬ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে ডিগ্রি শেষ করতে হয়। মেয়াদ পেরিয়ে গেলে F তোলার সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়, তাই ফেল করা পত্র ফেলে রাখবেন না।

৭. অনেকে যা জানতে চান

ডিগ্রি পাস মার্ক কত?
প্রতি পত্রে ৪০%, মানে ১০০-তে ৪০, যা D গ্রেড বা গ্রেড পয়েন্ট ২.০০। ব্যবহারিকেও আলাদা করে ৪০% লাগে।
degree pass mark out of 80 কত?
রেগুলেশনে ৮০ নম্বরের লিখিত অংশের আলাদা পাস নম্বর লেখা নেই। গ্রেড হয় লিখিত ৮০ আর ইনকোর্স-উপস্থিতি ২০ মিলিয়ে পত্রের ১০০ নম্বরে, পাস ৪০% বা D।
ডিগ্রি ১ম বর্ষে কয় বিষয়ে ফেল করলে প্রমোশন হয় না?
প্রমোশনে অন্তত ৩টি তত্ত্বীয় পত্রে D বা বেশি আর সব পত্রে অংশগ্রহণ লাগে। এর কম হলে Not Promoted, পরের বছর F পাওয়া পত্রগুলো আবার দিতে হয়।
ডিগ্রিতে F পেয়ে পরে পাস করলে কত গ্রেড পাওয়া যায়?
F থেকে উন্নীত পত্রে নম্বর যত বেশিই হোক, সর্বোচ্চ B+ দেওয়া হয়। তবে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদের মধ্যে অন্তত D তুলতেই হবে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ডিগ্রি ভর্তি ২০২৬: আবেদনের শেষ তারিখ, যোগ্যতা, ফি আর মেধাতালিকা

২০২৫-২৬ সেশনের ডিগ্রি পাস ভর্তির আবেদন ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। কারা পারবেন, ছবির মাপ, কলেজে ফি আর মেধাতালিকা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

মাস্টার্স ভর্তি ২০২৬ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: যোগ্যতা, আবেদন, ফি আর কাগজ

২০২৪-২৫ সেশনের মাস্টার্স (নিয়মিত) আবেদন ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪৫% বা সিজিপিএ ২.২৫ শর্ত, অঙ্গীকারনামা আর কলেজে যা জমা দেবেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল: কখন লাগে, কত টাকা, কাগজ ফেরত পাবেন যেভাবে

অনার্স, ডিগ্রি আর মাস্টার্সে ভর্তি বাতিলের ফি, দ্বৈত ভর্তির নিয়ম, পুনর্বহাল আর কলেজ থেকে মূল সনদ ফেরতের নিয়ম।

অনেকে খোঁজেন