সংক্ষেপে
অনার্স, ডিগ্রি ও মাস্টার্সের পরীক্ষার ফরম পূরণ হয় অনলাইনে, ems.nu.ac.bd সাইটে। আপনি নিজে, অথবা কলেজ, রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফরম পূরণ করে প্রিন্ট নেবেন। প্রিন্ট করা ফরম ফিসহ জমা দেবেন কলেজে নিজের বিভাগে। তারপর কলেজ অনলাইনে নিশ্চয়ন করে আর সোনালী সেবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা জমা দেয়।
ফি আর তারিখ প্রতিটি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে দেওয়া হয়। শেষ তারিখ পেরোলে সাইট নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায়, আর ফরম জমা না দিলে প্রবেশপত্র মেলে না।
অনার্স, ডিগ্রি ও মাস্টার্সের অনলাইন ফরম পূরণ এখানে হয়।
এই লেখায়
১. কে কোন কাজ করেন
| কাজ | কে করবেন |
|---|---|
| অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও প্রিন্ট | শিক্ষার্থী নিজে, অথবা কলেজ |
| প্রিন্ট করা ফরম আর ফি বিভাগে জমা | শিক্ষার্থী |
| সম্ভাব্য তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে অনলাইনে নিশ্চয়ন | কলেজ |
| বিবরণী প্রিন্ট, বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যক্ষের সই | কলেজ |
| বিবরণীতে নিজের বিষয়কোড দেখে সই | শিক্ষার্থী |
| পে-স্লিপ নামিয়ে সোনালী ব্যাংকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি জমা | কলেজ |
কারা পরীক্ষা দিতে পারবেন, তার সম্ভাব্য তালিকা (Probable List) বিশ্ববিদ্যালয় আগেই সাইটে দেয়। যোগ্য হয়েও তালিকায় নাম না থাকলে কলেজ কাগজপত্রসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা বা আইসিটি দপ্তরে যোগাযোগ করে নাম তোলার ব্যবস্থা করে। তাই শুরুতেই বিভাগে জেনে নিন, তালিকায় আপনার নাম আছে কি না।
২. অনলাইনে ফরম পূরণের ধাপ
- ১বিজ্ঞপ্তি পড়ুনnu.ac.bd-র পরীক্ষা সংক্রান্ত নোটিশে নিজের পরীক্ষার ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি খুঁজে নিন। তারিখ, ফি আর কারা নিয়মিত বা অনিয়মিত, সবই সেখানে লেখা থাকে।
- ২EMS-এ ঢুকুনems.nu.ac.bd সাইটের স্টুডেন্ট লগইন অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ঢুকুন। বিজ্ঞপ্তিতে এই পাতার ঠিকানা দেওয়া থাকে ems.nu.ac.bd/student-login।
- ৩বিষয়কোড বাছুনসিলেবাস মিলিয়ে প্রতিটি পত্রের কোড, ব্যবহারিকসহ, ঠিকভাবে বাছুন। রেজিস্ট্রেশন কার্ডে যে বিষয় লেখা, তার বাইরে অন্য বিষয়ে ফরম পূরণ করলে আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
- ৪প্রিন্ট করে জমা দিনফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিন, নির্ধারিত ফিসহ কলেজে নিজের বিভাগে জমা দিন। ডিগ্রির বিজ্ঞপ্তিতে ফরমের নির্ধারিত জায়গায় অধ্যক্ষের সত্যায়িত দুই কপি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগাতে বলা হয়েছে।
- ৫বিবরণী মিলিয়ে সই করুননিশ্চয়নের পর কলেজ বিবরণী প্রিন্ট করে। সেখানে আপনার বিষয়কোড ঠিক আছে কি না দেখে তবেই সই করুন। বিষয়কোড ভুলের দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেয় না।
আবেদন ফরমে ভুল হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ফরমটি Cancel করে দেয়, তারপর নতুন করে ডাউনলোড করতে হয়। কলেজের নিশ্চয়নের পর ফরম পূরণ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেওয়া হয় না, তাই সময় থাকতেই মিলিয়ে নিন।
৩. ফি কত লাগে
ফি পরীক্ষাভেদে আলাদা, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে দেওয়া থাকে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির ফি:
| খাত | টাকা |
|---|---|
| তত্ত্বীয়, প্রতি পত্র (বিশ্ববিদ্যালয়ে) | ৩০০ |
| ব্যবহারিক, প্রতি পত্র (বিশ্ববিদ্যালয়ে) | ৩০০ |
| ইনকোর্স ফি, প্রতি পরীক্ষার্থী (বিশ্ববিদ্যালয় ১৫০, কলেজ ৩০০) | ৪৫০ |
| তত্ত্বীয় কেন্দ্র ফি, প্রতি পরীক্ষার্থী (কলেজ ১৫০, কেন্দ্র ৩০০) | ৪৫০ |
| ব্যবহারিক কেন্দ্র ফি, প্রতি পত্র | ১৭৫ |
| অনিয়মিত বা গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীর অতিরিক্ত | ৬০০ |
| Conditional Promoted পরীক্ষার্থীর অতিরিক্ত | ১,৫০০ |
ডিগ্রির হিসাব আলাদা। ২০২৫ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে তত্ত্বীয় প্রতি পত্র ১৫০ টাকা, ইনকোর্স ৪৫০, তত্ত্বীয় কেন্দ্র ফি ৪৫০ আর ব্যবহারিক প্রতি বিষয় ৩০০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ কলেজ জমা দেয় শুধু সোনালী সেবার পে-স্লিপে। অন্য কোনো উপায়ে টাকা জমা দিলে পরের জটিলতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেয় না।
৪. সময়সীমা যেভাবে চলে, যেভাবে বাড়ে
প্রতিটি পরীক্ষার ফরম পূরণে কয়েকটি আলাদা সময়সীমা থাকে: শিক্ষার্থীর আবেদন, কলেজের ডাটা নিশ্চয়ন, আর সোনালী সেবায় টাকা জমা। সময় পার হলে সাইট নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। চলতি দুটি পরীক্ষার সূচি:
| ধাপ | অনার্স ৩য় বর্ষ ২০২৫ (বর্ধিত সময়) | ডিগ্রি ২য় বর্ষ ২০২৫ |
|---|---|---|
| শিক্ষার্থীর অনলাইন আবেদন | ৫ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১ থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ |
| প্রিন্ট করা ফরম কলেজে জমা | কলেজের বেঁধে দেওয়া সময়ে | ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত |
| কলেজের ডাটা নিশ্চয়ন | ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত | ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ |
| সোনালী সেবায় টাকা জমা | ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা | ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ২০২৬ |
অনার্স তৃতীয় বর্ষে প্রথমে সময় ছিল ৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, পরে বাড়ানো হয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি পরীক্ষায় এভাবে সময় বেড়েছে, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে বিলম্ব ফিসহ। তবে সময় বাড়বে ধরে নিয়ে বসে থাকবেন না।
৫. অনিয়মিত, গ্রেড উন্নয়ন ও পুরোনো সেশনের পরীক্ষার্থী
- নিয়মিত: সংশ্লিষ্ট সেশনের শিক্ষার্থী, যাঁরা আগের বর্ষে প্রমোটেড বা উত্তীর্ণ হয়ে এই বর্ষের শিক্ষাক্রম শেষ করেছেন এবং যাঁদের তথ্য সাইটে আছে।
- অনিয়মিত: আগে এই বর্ষে উঠেছেন, কিন্তু এর পরীক্ষায় বসেননি বা প্রমোটেড হননি। প্রতি পত্রের ফির ওপর অতিরিক্ত ৬০০ টাকা লাগে।
- গ্রেড উন্নয়ন: আগের পরীক্ষায় F পাওয়া বা অনুপস্থিত থাকা পত্রে, আর প্রথমবারে C+, C বা D পাওয়া সর্বোচ্চ দুটি পত্রে। ফরম পূরণের সময়েই গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করতে হয়।
- C-Promoted: অনুপস্থিত পত্রে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, অতিরিক্ত ১,৫০০ টাকা।
- ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের F পাওয়া শিক্ষার্থী: ৫,০০০ টাকা জরিমানাসহ শুধু ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় শেষ সুযোগ। ফরম পূরণ না করলে বা আবার অকৃতকার্য হলে পরে আর আবেদন করা যাবে না।
নভেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত অনার্সের সংশোধিত রেগুলেশনে পরীক্ষায় বসতে লেকচার ও ব্যবহারিক ক্লাসে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর। ফরম পূরণের সময় কলেজকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হারও জানাতে হয়। কোন সেশন থেকে এটি কড়াকড়ি, তা নিজের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
ফরম পূরণের শেষ দিন পেরিয়ে গেলে কী করব?
ফি কি নিজে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিতে পারি?
গ্রেড উন্নয়নের জন্য আলাদা আবেদন লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।