
সংক্ষেপে
প্রাইভেট ডিগ্রি মানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থী না হয়ে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া। রেগুলেশন অনুযায়ী বিএ, বিএসএস আর বিবিএস (পাস) প্রাইভেটে দেওয়া যায়, তবে যে বিষয়ে ব্যবহারিক বা মাঠকর্ম আছে তা নেওয়া যায় না, আর বিএসসি (পাস) প্রাইভেটে পড়ার সুযোগ নেই।
প্রাইভেট পরীক্ষার্থীর কোর্সের মেয়াদ নিয়মিতদের মতোই ৩ বছর, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ৬ বছর। এইচএসসি বা সমমান পাসের ৩ বছর পর শর্ত পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করা যায়। পরীক্ষা হয় নিয়মিতদের সঙ্গে একই প্রশ্নে, আর প্রতিটি কোর্সে ২০ নম্বরের ইনকোর্স দিতে হয় সংশ্লিষ্ট কলেজের অধীনে।
প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশন আর ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ পাতায় আসে।
এই লেখায়
১. প্রাইভেট ডিগ্রি মানে কি
নিয়মিত শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয়ে ক্লাস করেন, উপস্থিতির শর্ত মানেন। প্রাইভেট পরীক্ষার্থী সেভাবে ক্লাসের শর্তে বাঁধা থাকেন না, কিন্তু একই সিলেবাস, একই প্রশ্ন আর একই পরীক্ষায় বসেন। ফলের সনদও একই স্নাতক (পাস) ডিগ্রির। যাঁরা চাকরি বা সংসারের কারণে নিয়মিত ক্লাস করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই পথ।
| বিষয় | নিয়মিত | প্রাইভেট |
|---|---|---|
| প্রোগ্রাম | বিএ, বিএসএস, বিবিএস, বিএসসি | বিএ, বিএসএস, বিবিএস |
| ব্যবহারিক বা মাঠকর্মের বিষয় | নেওয়া যায় | নেওয়া যায় না |
| কোর্সের মেয়াদ | ৩ বছর | ৩ বছর |
| রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ | ৬ শিক্ষাবর্ষ | ৬ বছর |
| ইনকোর্স | কলেজে, প্রতি পত্রে ২০ নম্বর | সংশ্লিষ্ট কলেজের অধীনে, প্রতি কোর্সে ২০% |
| চূড়ান্ত পরীক্ষা | একই প্রশ্নে | একই প্রশ্নে, একসঙ্গে |
তবে প্রাইভেট মানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি পরীক্ষা পদ্ধতি।
২. প্রাইভেট ডিগ্রি কত বছরের কোর্স, কারা পারবেন
কোর্স তিন বছরের, প্রতি বছর শেষে নিয়মিতদের সঙ্গে বর্ষভিত্তিক চূড়ান্ত পরীক্ষা। রেগুলেশনে লেখা আছে, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষা পাসের ৩ বছর পর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষায় বসতে হবে। অর্থাৎ এইচএসসি পাসের পরপরই প্রাইভেট ডিগ্রিতে রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম নেই, তখন নিয়মিত ডিগ্রি বা অনার্সে ভর্তি হতে হয়।
- এইচএসসি বা সমমান পাসের অন্তত ৩ বছর পার হতে হবে।
- ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে এমন বিষয় বাছতে হবে, যার পাঠ্যসূচিতে ব্যবহারিক বা মাঠকর্ম নেই।
- একই সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো কোর্সে ভর্তি থাকা যাবে না।
- আগে কোনো স্নাতক (পাস) প্রোগ্রাম পাস করে থাকলে আবার অন্য ডিসিপ্লিনে স্নাতক (পাস) বা অনার্সে বসা যায় না।
৩. প্রাইভেট পরীক্ষার্থীর ইনকোর্স আর ফি
২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন সিলেবাসে প্রতিটি কোর্সের ফল হয় ৮০% লিখিত আর ২০% ইনকোর্সের ভিত্তিতে। রেগুলেশনের সঙ্গে যুক্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মতো প্রাইভেট শিক্ষার্থীদেরও ইনকোর্সে অংশ নিতে হবে। প্রতিটি কোর্সে ২০ নম্বরের ইনকোর্স নেয় সংশ্লিষ্ট কলেজ, প্রশ্ন আসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, সময় ৪০ মিনিট।
সেই বিজ্ঞপ্তিতে ফরম পূরণের সময় প্রাইভেট পরীক্ষার্থীর ইনকোর্স ফি ধরা হয়েছিল ৩০০ টাকা, যার ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর ২০০ কলেজের। এটি ২০১৪ সালের হিসাব, এখনকার ফি প্রতিটি ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন। ইনকোর্সের তারিখ আর সময় কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে হয়।
ইনকোর্সের ২০ নম্বর পাসের হিসাবে যোগ হয়। এটা না দিলে লিখিত ৮০-তেই পুরো ৪০ তুলতে হয়, যা অনেক কঠিন। কলেজের নোটিশ বোর্ডে চোখ রাখুন।
৪. ডিগ্রি প্রাইভেট ভর্তি কবে থেকে, আবেদন যেভাবে
প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা বিজ্ঞপ্তি দেয়, আর নিয়মিত ভর্তির মতো এর তারিখ প্রতি বছর একই সময়ে হয় না। ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নোটিশে নতুন প্রাইভেট ডিগ্রি রেজিস্ট্রেশনের বিজ্ঞপ্তি আমরা পাইনি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ডিগ্রি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক (পাস) নিয়মিত ও প্রাইভেট প্রোগ্রামের উল্লেখ আছে দ্বৈত ভর্তির শর্তে, অর্থাৎ প্রাইভেট প্রোগ্রাম চালু আছে।
- ১নিকটের অধিভুক্ত কলেজে খোঁজ নিনযে কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্স আছে, তার ডিগ্রি শাখায় প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশনের খবর আগে আসে, আর ইনকোর্সও সেখানেই হবে।
- ২বিষয় বাছাই করুনব্যবহারিক নেই এমন তিনটি ঐচ্ছিক বিষয় ঠিক করুন, প্রোগ্রামের বিষয়গুচ্ছের নিয়ম মেনে।
- ৩বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদনবিজ্ঞপ্তি এলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন আর ফি জমা দিন, তারপর রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করুন।
- ৪ফরম পূরণ আর ইনকোর্সপ্রতি বছর পরীক্ষার আগে ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি ধরে ফরম পূরণ করুন আর কলেজের ইনকোর্সে বসুন।
বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় থাকার সময় কাগজগুলো তৈরি রাখুন: এসএসসি ও এইচএসসির নম্বরপত্র আর সনদ, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র আর সদ্য তোলা ছবি। আগে কোনো কোর্সে ভর্তি থেকে থাকলে তার অবস্থাও জেনে রাখুন, কারণ দ্বৈত রেজিস্ট্রেশন হলে দুই জায়গার রেজিস্ট্রেশন আর ফল বাতিল হতে পারে।
৫. প্রাইভেটে পাস, ফেল আর প্রমোশনের নিয়ম
রেগুলেশন বলছে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মতো প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের জন্যও রেগুলেশনের অন্য শর্তগুলো প্রযোজ্য। তাই পাস মার্ক, প্রমোশন আর গ্রেড উন্নয়নের নিয়ম একই।
- প্রতি পত্রে পাস ৪০% বা D গ্রেড।
- পরের বর্ষে উঠতে সব পত্রে অংশ নিয়ে অন্তত ৩টি তত্ত্বীয় পত্রে D লাগে।
- F পাওয়া পত্র রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদের মধ্যে তুলতে হয়, তখন সর্বোচ্চ B+।
- ডিগ্রি পেতে সিজিপিএ অন্তত ২.০০ আর কোনো পত্রে F নয়।
লিখিত অংশের বাইরে ইনকোর্সের ২০% নম্বরই আপনার বড় ভরসা। নিজে পড়ে প্রস্তুতি নিতে হয় বলে প্রতিটি পত্রের পাঠ্যসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইট থেকে নামিয়ে সেটা ধরে পড়ুন, শুধু গাইড বইয়ের ওপর ভরসা করবেন না।
৬. প্রাইভেট ডিগ্রির পর কী করা যায়, কী যায় না
পাস করলে আপনি স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারী, তাই স্নাতক বা সমমান চাওয়া চাকরিতে শ্রেণি বা সিজিপিএর শর্ত মিলিয়ে আবেদন করতে পারবেন। মাস্টার্সের পথে যেতে চাইলে প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্সের বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন প্রাইভেট ডিগ্রিধারীরা নিয়মিত না প্রাইভেট প্রিলিমিনারিতে আবেদন করতে পারবেন, কারণ শর্তটা বিজ্ঞপ্তি ধরে আসে।
উদাহরণ: রুবিনা ২০২১ সালে এইচএসসি পাস করে চাকরিতে ঢোকেন। ২০২৪ সালের পর তিনি প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হওয়ার শর্তে পড়েন, তাই বাসার কাছের ডিগ্রি কলেজে খোঁজ রাখছেন। বিএ (পাস)-এ এক গুচ্ছ থেকে একটির বেশি বিষয় নেওয়া যায় না, তাই তিনি তিন আলাদা গুচ্ছ থেকে ইতিহাস, দর্শন আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান ভাবছেন, যেগুলোতে ব্যবহারিক নেই। মনোবিজ্ঞান বা ভূগোলের মতো ব্যবহারিক আছে এমন বিষয় তিনি নিতে পারবেন না।
৭. অনেকে যা জানতে চান
প্রাইভেট ডিগ্রি কি?
প্রাইভেট ডিগ্রি কত বছরের কোর্স?
বিএসসি কি প্রাইভেটে করা যায়?
ডিগ্রি প্রাইভেট ভর্তি ২০২৬ কবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।