
সংক্ষেপে
হ্যাঁ, ডিগ্রি পাস একটি স্নাতক ডিগ্রি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলেশনে এর নাম স্নাতক (পাস) বা Bachelor Degree (Pass), মেয়াদ ৩ বছর, আর প্রোগ্রামগুলো বিএ, বিএসএস, বিবিএস ও বিএসসি (পাস)। তাই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েট চাইলে ডিগ্রি পাস সাধারণত সেই শর্তে পড়ে।
তবে সব জায়গায় নয়। বিসিএসে আবেদনের যোগ্যতায় এইচএসসির পর চার বছর মেয়াদি শিক্ষা শেষের ডিগ্রি চাওয়া হয়, তাই শুধু তিন বছরের ডিগ্রি পাস দিয়ে বিসিএস দেওয়া যায় না, সঙ্গে মাস্টার্স লাগে। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে স্নাতক (পাস) চলে, তবে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সিজিপিএ ২.২৫ লাগে।
বিএ, বিএসএস, বিবিএস ও বিএসসি (পাস) প্রোগ্রামের পাঠ্যসূচি আর রেগুলেশন এই পাতায় থাকে।
এই লেখায়
১. ডিগ্রি পাস মানে কি, ইংরেজিতে কি বলে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলেশনের শিরোনামেই লেখা: স্নাতক (পাস) ডিগ্রির রেগুলেশনস, ইংরেজিতে Bachelor Degree (Pass) Regulations। ডিগ্রি পাসকে তাই ইংরেজিতে Bachelor's degree (Pass) বলে, প্রোগ্রাম অনুযায়ী BA (Pass), BSS (Pass), BBS (Pass) বা BSc (Pass)। অনার্স হলো স্নাতক (সম্মান), চার বছরের।
| প্রোগ্রাম | মেয়াদ | মোট ক্রেডিট |
|---|---|---|
| বিএ (পাস) | ৩ বছর | ৮৪ |
| বিএসএস (পাস) | ৩ বছর | ৮৪ |
| বিবিএস (পাস) | ৩ বছর | ৮৪ |
| বিএসসি (পাস) | ৩ বছর | ৯৬ |
প্রতিটি প্রোগ্রামে তিনটি ঐচ্ছিক বিষয় পড়তে হয়, সঙ্গে আবশ্যিক কোর্স। ডিগ্রি পাস করতে কত বছর লাগে, এর উত্তর কাগজে তিন বছর, তবে পরীক্ষা আর ফলের সময় মিলিয়ে বাস্তবে বেশি লাগতে পারে। রেজিস্ট্রেশনের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৬ শিক্ষাবর্ষ।
২. ডিগ্রি পাস কি গ্র্যাজুয়েট: অনার্সের সঙ্গে তফাত
দুটোই স্নাতক ডিগ্রি, দুটোই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ। তফাত মেয়াদে আর গভীরতায়। অনার্সে এক বিষয়ে চার বছর পড়া হয়, ডিগ্রি পাসে তিন বছরে কয়েকটি বিষয়। যেসব নিয়োগে শুধু স্নাতক বা সমমান চাওয়া হয়, সেখানে ডিগ্রি পাস গণ্য হয়। কিন্তু যেখানে স্নাতক (সম্মান) বা চার বছরের ডিগ্রি নির্দিষ্ট করে চাওয়া হয়, সেখানে শুধু ডিগ্রি পাস যথেষ্ট নয়।
স্নাতক বা সমমান, স্নাতক (পাস/সম্মান), নাকি চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান): বিজ্ঞপ্তির এই শব্দগুলোই ঠিক করে আপনার ডিগ্রি পাস চলবে কি না।
আরেকটা তফাত মাস্টার্সে। অনার্সের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের মাস্টার্স শেষ পর্বেই মাস্টার্স হয়, আর ডিগ্রি পাসের পর আগে প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স করতে হয়। ফলে মোট পড়ার সময় প্রায় সমান দাঁড়ায়।
৩. ডিগ্রি পাস করে কি বিসিএস দেওয়া যায়
শুধু ডিগ্রি পাস দিয়ে নয়। প্রথম আলোর ৪৭তম বিসিএসের প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, বিসিএস আবেদনের শিক্ষাগত যোগ্যতায় এইচএসসি পাসের পর চার বছর মেয়াদি শিক্ষা সমাপনী ডিগ্রি থাকতে হয়। তিন বছরের পাস ডিগ্রি থাকলে সঙ্গে দুই বছরের মাস্টার্স শেষ করতে হবে।
- ১ডিগ্রি পাস শেষ করুনতিন বছরের স্নাতক (পাস) পাস করুন, কোনো পত্রে F রাখবেন না।
- ২মাস্টার্সে ভর্তি হনজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি পাসের পর মাস্টার্স দুই ধাপে হয়: আগে প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স, তারপর মাস্টার্স শেষ পর্ব। ভর্তির শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।
- ৩মাস্টার্স শেষ করে আবেদনমাস্টার্স শেষ হলে ডিগ্রি পাস আর মাস্টার্স মিলে চার বছরের বেশি পড়া হয়, তখন বিসিএসের শিক্ষাগত শর্ত পূরণ হয়। বয়সসীমা আর অন্য শর্ত প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন।
উদাহরণ: হাসান ২০২৩ সালে ডিগ্রি পাস করে ভেবেছিলেন সরাসরি বিসিএস দেবেন। শর্ত দেখে তিনি প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্সে ভর্তি হলেন। মাস্টার্স শেষ হতে যে সময় লাগবে, তা হিসাব করে তিনি বয়সসীমার মধ্যে কোন বিসিএসে বসতে পারবেন, সেটাও আগে থেকে দেখে রাখলেন।
৪. ডিগ্রি পাস করে কি প্রাইমারিতে আবেদন করা যায়
যায়, শর্তসহ। ডেইলি স্টার বাংলার ৬ নভেম্বর ২০২৫-এর খবরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা এভাবে এসেছে: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি।
- সিজিপিএ হলে ৪-এর মধ্যে অন্তত ২.২৫, বা ৫-এর মধ্যে অন্তত ২.৮।
- শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ বা তৃতীয় শ্রেণি, বা সমমানের জিপিএ বা সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য নয়।
- সেই বিজ্ঞপ্তিতে বয়স ছিল ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ২১ থেকে ৩২ বছর।
তাই ডিগ্রি পাসে সিজিপিএ ২.২৫ বা বেশি থাকলে আর এসএসসি-এইচএসসিতে তৃতীয় বিভাগের সমমান কিছু না থাকলে আবেদন করা যায়। ডিগ্রি পাসে সিজিপিএ ২.০০ থেকে ২.২৫-এর নিচে হলে ডিগ্রি পাবেন ঠিকই, কিন্তু এই পদে আবেদন টিকবে না।
৫. ডিগ্রি পাস করে কি কি চাকরি করা যায়
স্নাতক বা সমমান চাওয়া যেকোনো সরকারি-বেসরকারি পদে আবেদন করা যায়, যদি বিজ্ঞপ্তিতে চার বছরের ডিগ্রি নির্দিষ্ট করা না থাকে আর শ্রেণি বা সিজিপিএর শর্ত পূরণ হয়। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ বয়সসীমা ৩২ বছর, তবে পদভেদে আলাদা হতে পারে।
উল্টো দিকটাও দেখুন। বিসিএসের মতো কিছু নিয়োগে চার বছরের পড়া বা স্নাতকোত্তর চাওয়া হয়, কোথাও আবার নির্দিষ্ট বিষয়ে স্নাতক লাগে, যেমন হিসাববিজ্ঞান বা কম্পিউটার বিজ্ঞান। ডিগ্রি পাসে কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে পড়া হয় বলে এমন বিষয়ভিত্তিক শর্তে আপনার ঐচ্ছিক বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখতে হবে। সনদের সঙ্গে নম্বরপত্র বা ট্রান্সক্রিপ্টে বিষয়ের নাম থাকে, আবেদনের সময় সেটা কাজে লাগে।
আবেদনের আগে মিলিয়ে নিন
৬. ডিগ্রি পাসের পর কি অনার্স করা যায়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেগুলেশন অনুযায়ী বিএ, বিএসএস, বিবিএস বা বিএসসি (পাস) পাস করার পর নিয়মিত, অনিয়মিত বা প্রাইভেট কোনোভাবেই অন্য ডিসিপ্লিনে আবার স্নাতক (পাস) বা অনার্সে ভর্তি হওয়া বা পরীক্ষা দেওয়া যায় না। তাই ডিগ্রি পাসের পর পথ সাধারণত মাস্টার্স।
যে বিষয় ডিগ্রিতে ঐচ্ছিক হিসেবে পড়েননি, সেই বিষয়ে মাস্টার্স করতে চাইলে রেগুলেশনে এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্সের ব্যবস্থা আছে, ২৪ ক্রেডিটের, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ তিন বছর। ব্যবহারিক বিষয়ে এই কোর্সে ভর্তির সুযোগ নেই।
৭. অনেকে যা জানতে চান
ডিগ্রি পাস কি স্নাতক?
ডিগ্রি পাস করে কি বিসিএস দেওয়া যায়?
ডিগ্রি পাস করে কি প্রাইমারিতে আবেদন করা যায়?
ডিগ্রি পাস কে ইংরেজিতে কি বলে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।