জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অনার্স রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ কত বছর: ৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়ম, আর মেয়াদ শেষ হলে যা করবেন

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২১ অক্টোবর ২০২৬nu.ac.bd
অনার্স রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ কত বছর: ৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়ম, আর মেয়াদ শেষ হলে যা করবেন

সংক্ষেপে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শুরুর শিক্ষাবর্ষ থেকে সাত শিক্ষাবর্ষ। চার বছরের কোর্স শেষ করতে হাতে তিনটি বাড়তি শিক্ষাবর্ষ থাকে। এই সময়ের মধ্যেই F পাওয়া সব পত্রে অন্তত D তুলতে হয়।

মেয়াদ পেরিয়ে গেলে নিজে থেকে আর ফরম পূরণ করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কখনো কখনো ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ সেশনকে জরিমানা দিয়ে শেষ একটি সুযোগ দেয়, যেমন ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় ২০১৮-১৯ সেশনকে ৫,০০০ টাকা জরিমানায় দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ

ফরম পূরণ, বিশেষ সুযোগ আর মেয়াদের বিজ্ঞপ্তি এখানেই প্রথমে আসে।

নোটিশ দেখুন
এই লেখায়
  1. অনার্স রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ কত বছর থাকে
  2. মেয়াদের মধ্যে কী কী শেষ করতে হয়
  3. রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হলে করনীয়: বিশেষ সুযোগ কীভাবে আসে
  4. যে কারণে অনেকের মেয়াদ হাতছাড়া হয়
  5. নিজের অবস্থা মিলিয়ে নেবেন যেভাবে
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. অনার্স রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ কত বছর থাকে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণের যে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে নিয়মটা পরিষ্কার লেখা আছে। সংশোধিত রেগুলেশন অনুযায়ী F পাওয়া পত্রে রেজিস্ট্রেশন মেয়াদে, অর্থাৎ শুরু থেকে সাত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে অবশ্যই D বা তার ওপরের গ্রেড তুলতে হবে।

সহজ করে বললে, আপনি যে শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন, সেটি এক নম্বর। সেখান থেকে সাতটি শিক্ষাবর্ষ গুনলে আপনার মেয়াদের শেষ শিক্ষাবর্ষ পাবেন। নিচের হিসাবটা এই নিয়ম ধরে করা। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা প্রায়ই সেশনের চেয়ে পিছিয়ে চলে, তাই কোন পরীক্ষাটি আপনার শেষ সুযোগ, সেটা ঠিক হয় ওই বছরের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে।

ভর্তির সেশনসাত শিক্ষাবর্ষের হিসাবমেয়াদের শেষ শিক্ষাবর্ষ
২০১৮-১৯২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫২০২৪-২৫
২০১৯-২০২০১৯-২০ থেকে ২০২৫-২৬২০২৫-২৬
২০২০-২১২০২০-২১ থেকে ২০২৬-২৭২০২৬-২৭
২০২১-২২২০২১-২২ থেকে ২০২৭-২৮২০২৭-২৮
রেজিস্ট্রেশন কার্ডে সেশন দেখুন

মেয়াদ গোনা হয় আপনার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লেখা শিক্ষাবর্ষ থেকে, কোন বছরে পরীক্ষা দিয়েছেন তা থেকে নয়। কার্ড হাতে না থাকলে কলেজের অনার্স শাখা থেকে সেশন জেনে নিন।

২. মেয়াদের মধ্যে কী কী শেষ করতে হয়

মেয়াদের হিসাবটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে যাঁদের কোনো পত্রে F আছে বা যাঁরা কোনো বছরে পরীক্ষা দেননি। একই বিজ্ঞপ্তিতে তৃতীয় থেকে চতুর্থ বর্ষে ওঠার শর্তও দেওয়া আছে, সেগুলো মাথায় রাখলে বুঝবেন হাতে কত সময় আছে।

  • F পাওয়া প্রতিটি পত্রে সাত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে অন্তত D তুলতে হবে। F থেকে উঠে আসা পত্রে পরে আর গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ থাকে না।
  • প্রথমবার C+, C বা D পাওয়া সর্বোচ্চ দুটি পত্রে পরের বছর গ্রেড উন্নয়ন দেওয়া যায়, তবে A- এর বেশি পাওয়া যায় না।
  • পরের বর্ষে প্রমোশন পেতে সব পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় এবং অন্তত ৫০% তত্ত্বীয় পত্রে D বা তার বেশি পেতে হয়।
  • ইনকোর্স আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ নেই।

একটা উদাহরণ দিই। ধরুন রাকিব ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্র, দ্বিতীয় বর্ষের দুটি পত্রে F আছে। তাঁর মেয়াদ চলবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত। এর মধ্যে যে পরীক্ষাগুলোতে তিনি অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে বসতে পারবেন, সেগুলোতেই দুটি F তুলে ফেলতে হবে। একটি পরীক্ষাও ফেলে রাখলে শেষ দিকে চাপ বাড়বে, কারণ প্রতিটি বর্ষের পরীক্ষা বছরে একবারই হয়।

৩. রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হলে করনীয়: বিশেষ সুযোগ কীভাবে আসে

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ফরম পূরণের সাইটে আপনার নাম সাধারণত আর আসে না। তখন একমাত্র পথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া বিশেষ সুযোগ। এটা প্রতি বছর আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এলে ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তির ভেতরেই আলাদা অনুচ্ছেদে লেখা থাকে।

পরীক্ষাকারা সুযোগ পেয়েছেনটাকাশর্ত
২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ২০১৮-১৯ সেশনের যাঁদের এক বা একাধিক পত্রে Fজরিমানা ৫,০০০ টাকা ও অন্যান্য ফিশুধু এই পরীক্ষা। রেজিস্ট্রেশন নবায়ন লাগবে না
২০২৫ সালের ডিগ্রি (পাস) দ্বিতীয় বর্ষ২০১৮-১৯ সেশন ও ২০১৯ সালের প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশন, যাঁদের মেয়াদ শেষঅন্তর্ভুক্তি ফি ৫,০০০ টাকাপ্রথম ও তৃতীয় বর্ষের সব বিষয়ে পাস থাকতে হবে
এটাই শেষ সুযোগ

দুই বিজ্ঞপ্তিতেই বলা আছে, এই সুযোগে ফরম পূরণ না করলে, পরীক্ষায় না বসলে বা বসে আবার অকৃতকার্য হলে ভবিষ্যতে পরীক্ষার সুযোগ চেয়ে আর কোনো আবেদন করা যাবে না।

তাই মেয়াদ শেষের কাছাকাছি থাকলে প্রতিটি ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি পুরোটা পড়ুন, শুধু তারিখের অংশ নয়। বিশেষ সুযোগের অনুচ্ছেদটা সাধারণত ফির টেবিলের নিচে বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্তাবলিতে থাকে।

৪. যে কারণে অনেকের মেয়াদ হাতছাড়া হয়

যাঁরা শেষ পর্যন্ত মেয়াদ পেরিয়ে যান, তাঁদের বেশিরভাগের গল্প প্রায় একই। চাকরি, বিয়ে বা পরিবারের চাপে এক বছর পরীক্ষা বাদ পড়ে, পরের বছর ফরম পূরণের তারিখ চোখ এড়িয়ে যায়, তারপর হঠাৎ দেখা যায় সময় আর নেই। নিচের ভুলগুলো এড়ালে ঝুঁকি অনেক কমে।

  1. ফরম পূরণের তারিখ শুধু ফেসবুক গ্রুপের খবরে দেখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশে আসল তারিখ আর শর্ত থাকে, সেটা নিজে খুলে পড়ুন।
  2. ইনকোর্স নম্বর ঠিকমতো ওঠেনি কি না খেয়াল না করা। ইনকোর্স নম্বর অনলাইনে না উঠলে সম্ভাব্য তালিকায় নাম আসে না, ফরম পূরণও হয় না।
  3. একটি পত্রে অনুপস্থিত থেকে অন্য পত্রে F পাওয়া। এতে প্রমোশন আটকে যায়, আর পরের বছর দুই দিকের চাপ একসঙ্গে আসে।
  4. কলেজ বদল বা ঠিকানা বদলের পর আগের কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা। আপনার ডাটা এন্ট্রি আর নিশ্চয়ন ভর্তির কলেজই করে।

৫. নিজের অবস্থা মিলিয়ে নেবেন যেভাবে

  • ১
    সেশন আর আগের ফল দেখুনরেজিস্ট্রেশন কার্ড থেকে সেশন নিন। ফলের সাইটে প্রতিটি বর্ষের ফল খুলে কোন কোন পত্রে F বা অনুপস্থিত আছে, তার তালিকা করুন।
  • ২
    শেষ শিক্ষাবর্ষ গুনে নিনসেশন থেকে সাতটি শিক্ষাবর্ষ গুনুন। যত পরীক্ষা বাকি, তার সঙ্গে সময়টা মিলিয়ে দেখুন কোথায় টান পড়ছে।
  • ৩
    বিজ্ঞপ্তির অনুচ্ছেদ মিলিয়ে নিনচলতি ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত, অনিয়মিত, গ্রেড উন্নয়ন আর বিশেষ সুযোগের তালিকায় আপনার সেশন কোথায় পড়েছে দেখুন।
  • ৪
    কলেজে গিয়ে কথা বলুনফরম পূরণের সময় সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীর তালিকা কলেজই মিলিয়ে নিশ্চয়ন করে। তালিকায় নাম না থাকলে সময় থাকতেই বিভাগে জানান।
  • ৫
    সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিনঅনলাইনে ফরম পূরণের পর প্রিন্ট কপি ফিসহ বিভাগে জমা দিন। কলেজ নির্ধারিত সময়ে সোনালী সেবায় টাকা জমা দিলে তবেই ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়।

যা হাতের কাছে রাখবেন

৬. অনেকে যা জানতে চান

অনার্স রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হলে করনীয় কী?
নিজে থেকে ফরম পূরণের সুযোগ থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বছর মেয়াদোত্তীর্ণ সেশনকে জরিমানা দিয়ে শেষ সুযোগ দিলে সেটা ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে আসে। ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষে ২০১৮-১৯ সেশনের F পাওয়া শিক্ষার্থীরা ৫,০০০ টাকা জরিমানায় এই সুযোগ পেয়েছেন।
অনার্স রেজিস্ট্রেশন কার্ড কি নবায়ন করতে হয়?
মেয়াদের ভেতরে আলাদা নবায়নের কথা বিজ্ঞপ্তিতে নেই। ২০২৫ সালের তৃতীয় বর্ষের বিশেষ সুযোগের অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা ছিল, এ ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নবায়নের প্রয়োজন হবে না।
ডিগ্রি রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ কত বছর?
অনার্সের মতো সাত শিক্ষাবর্ষের কথা আমরা ডিগ্রির বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে পাইনি। ২০২৫ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৮-১৯ সেশন আর ২০১৯ সালের প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশনকে মেয়াদোত্তীর্ণ ধরা হয়েছে। নিজের সেশনের হিসাব কলেজের ডিগ্রি শাখায় জেনে নিন।
বিশেষ সুযোগে পরীক্ষা দিয়ে আবার F এলে কী হবে?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তখন আর পরীক্ষার সুযোগ চেয়ে আবেদন করা যাবে না। তাই বিশেষ সুযোগ পেলে ওই পরীক্ষাটিকে শেষ পরীক্ষা ধরে প্রস্তুতি নিন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ডিগ্রি ভর্তি ২০২৬: আবেদনের শেষ তারিখ, যোগ্যতা, ফি আর মেধাতালিকা

২০২৫-২৬ সেশনের ডিগ্রি পাস ভর্তির আবেদন ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। কারা পারবেন, ছবির মাপ, কলেজে ফি আর মেধাতালিকা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

মাস্টার্স ভর্তি ২০২৬ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: যোগ্যতা, আবেদন, ফি আর কাগজ

২০২৪-২৫ সেশনের মাস্টার্স (নিয়মিত) আবেদন ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪৫% বা সিজিপিএ ২.২৫ শর্ত, অঙ্গীকারনামা আর কলেজে যা জমা দেবেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল: কখন লাগে, কত টাকা, কাগজ ফেরত পাবেন যেভাবে

অনার্স, ডিগ্রি আর মাস্টার্সে ভর্তি বাতিলের ফি, দ্বৈত ভর্তির নিয়ম, পুনর্বহাল আর কলেজ থেকে মূল সনদ ফেরতের নিয়ম।

অনেকে খোঁজেন