
সংক্ষেপে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাস) ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। নির্বাচিত হলে বছরে ৫,০০০ টাকা পাওয়া যায়: মাসে ২০০ টাকা হিসেবে ২,৪০০, বই কেনার ১,৬০০ আর পরীক্ষার ফি ১,০০০।
আবেদন শিক্ষার্থী নিজে করেন ট্রাস্টের e-Stipend সফটওয়্যারে, তারপর কলেজ বাছাই কমিটির রেজুলেশনসহ আবেদন ট্রাস্টে পাঠায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়া হয়েছে বসন্তে; ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি এসেছিল ১৪ মে। শর্ত হলো ৭০ শতাংশ উপস্থিতি, আগের পরীক্ষায় ভালো ফল আর পারিবারিক বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার কম।
স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের উপবৃত্তির অনলাইন আবেদন এই সফটওয়্যারে হয়।
এই লেখায়
১. কারা উপবৃত্তি পান
ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে স্নাতক পর্যায়ের উপবৃত্তির যে শর্ত দেওয়া আছে, সবগুলো একসঙ্গে পূরণ করতে হয়। নির্বাচিতদের মধ্যে ৪০ শতাংশ ছাত্র আর ৬০ শতাংশ ছাত্রী রাখা হয়।
আবেদনের আগে মিলিয়ে নিন
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, এতিম, তৃতীয় লিঙ্গের, ভূমিহীন পরিবারের, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা সন্তানের সন্তান, আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ পরিবারের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পান।
২. টাকা কত, কীভাবে ভাগ
| খাত | টাকা (বছরে) |
|---|---|
| উপবৃত্তি, মাসে ২০০ টাকা করে ১২ মাস | ২,৪০০ |
| বই কেনা | ১,৬০০ |
| পরীক্ষার ফি | ১,০০০ |
| মোট | ৫,০০০ |
প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত প্রতি বছরের হার একই, পাঁচ বছর মেয়াদি কোর্সে পঞ্চম বর্ষেও। বেসরকারি কলেজে পড়লে প্রতিষ্ঠান আলাদা করে মাসে ৬০ টাকা হারে বছরে ৭২০ টাকা টিউশন ফি পায়; সরকারি কলেজ এটি পায় না। উপবৃত্তির টাকা যায় অনলাইন বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে, টিউশন ফি যায় কলেজের ব্যাংক হিসাবে।
৩. আবেদন কবে, কীভাবে
নির্দেশিকায় লেখা আছে, প্রতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন চাওয়া হবে। বাস্তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞপ্তি এসেছে বছরের প্রথম ভাগে: ২০২৪ সালে ২ মে, ২০২৫ সালে ৮ এপ্রিল, আর ২০২৬ সালে ১৪ মে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবেদন এন্ট্রির বিজ্ঞপ্তি। ২০২৪ সালের বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের আবেদনের সময় ছিল ৮ থেকে ২৩ মে, কলেজের ফরোয়ার্ডের সময় ২৪ থেকে ৩০ মে।
- ১বিজ্ঞপ্তি দেখুনট্রাস্টের ওয়েবসাইটের স্নাতক উপবৃত্তি অংশে বিজ্ঞপ্তি আসে। কোন শিক্ষাবর্ষের কোন বর্ষের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন, সেখানেই লেখা থাকে।
- ২e-Stipend-এ নিজে আবেদন করুনestipend.pmeat.gov.bd সফটওয়্যারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন এন্ট্রি দিন। যে অ্যাকাউন্টে টাকা নেবেন তার তথ্য সাবধানে লিখুন।
- ৩কলেজে খবর দিনকলেজের বাছাই কমিটি সুপারিশ করে, প্রতিষ্ঠান প্রধান রেজুলেশন স্ক্যান করে সফটওয়্যারে দেন আর আপনার উপস্থিতির হার তোলেন।
- ৪ফরোয়ার্ড হয়েছে কি না নিশ্চিত হোনপ্রতিষ্ঠান প্রধান সময়ের মধ্যে আবেদন ট্রাস্টে ফরোয়ার্ড না করলে তা আর গণ্য হয় না। ২০২৪ সালের বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা স্পষ্ট করে বলা ছিল।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর উপবৃত্তি কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন। কলেজ সাড়া না দিলে সেখানেও জানাতে পারেন।
৪. টাকা না এলে বা আটকে গেলে
- আগে কলেজে জানুন আপনার নাম চূড়ান্ত তালিকায় ছিল কি না। আবেদন করলেই সবাই পান না, কোটার মধ্যে বাছাই হয়।
- অ্যাকাউন্ট নম্বর বা নামে ভুল থাকলে টাকা ফেরত যায়। ২০২৪ সালে ট্রাস্ট বাউন্সড হওয়া শিক্ষার্থীদের হিসাব নম্বর সচল আর KYC হালনাগাদ করতে আলাদা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল।
- মোবাইল অ্যাকাউন্টটি সচল আছে কি না, KYC পূরণ করা কি না দেখে নিন।
- কারিগরি সমস্যায় স্নাতক উপবৃত্তির হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন: ০১৭৭৮-৯৫৮৩৫৬ (হোয়াটসঅ্যাপও চালু) আর ০১৭৭৮-৯৬৪১৫৬, রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা। ইমেইল ad.stipend@pmeat.gov.bd।
টাকা কবে আসবে, তা অর্থবছর ধরে ঠিক হয়। ট্রাস্টের হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের স্নাতক উপবৃত্তি বিতরণ হয়েছে ২০২৫ সালে, পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭১৪ জন। চলতি বছরের বিতরণের তারিখ ট্রাস্ট নোটিশ দিয়ে জানায়।
৫. প্রতি বছর কতজন পান
ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে বছরভিত্তিক বিতরণের হিসাব দেওয়া আছে। এতে বোঝা যায়, আবেদন করলেই সবাই পান না, প্রতিবছর দেড় লাখের মতো শিক্ষার্থী বাছাই হন।
| অর্থবছর | বিতরণের বছর | উপবৃত্তি পেয়েছেন |
|---|---|---|
| ২০২১-২২ | ২০২২ | ১,৩৯,৫৫৩ জন |
| ২০২২-২৩ | ২০২৩ | ১,৪৫,৯৮৯ জন |
| ২০২৩-২৪ | ২০২৪ | ১,৬৮,০১৬ জন |
| ২০২৪-২৫ | ২০২৫ | ১,৫৬,৭১৪ জন |
২০১২-১৩ অর্থবছরে শুধু ছাত্রীদের দিয়ে এই উপবৃত্তি শুরু হয়, ২০১৩-১৪ থেকে ছাত্ররাও এর আওতায় আসেন। ট্রাস্টের টাকা আসে সরকারের দেওয়া এক হাজার কোটি টাকার স্থায়ী তহবিল ব্যাংকে এফডিআর রেখে পাওয়া লভ্যাংশ থেকে।
৬. অনার্সের শিক্ষার্থীরা কি পাবেন
২০২৩ সালে প্রথম আলো জানিয়েছিল, অনার্স আর এমবিবিএসের মতো পাঁচ বছরের কোর্সের শিক্ষার্থীদেরও এই উপবৃত্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, শর্ত আর টাকার হার একই। ট্রাস্টের নির্দেশিকার টেবিলেও পাঁচ বছর মেয়াদি কোর্সের হিসাব আছে।
তবে সাম্প্রতিক আবেদন বিজ্ঞপ্তিগুলোতে ডাকা হয়েছে স্নাতক (পাস) ও সমমান, অর্থাৎ ডিগ্রি ও ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের। অনার্সে পড়লে পরের বিজ্ঞপ্তিতে আপনার কোর্স নাম ধরে উল্লেখ আছে কি না দেখে তবেই আবেদন করুন, না থাকলে হেল্পলাইনে জেনে নিন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
ডিগ্রি উপবৃত্তি কত টাকা দেয়?
ডিগ্রি উপবৃত্তির আবেদন কোথায় করব?
ডিগ্রি উপবৃত্তির জন্য কত জিপিএ লাগে?
ডিগ্রি উপবৃত্তি কবে দিবে ২০২৬?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।