
সংক্ষেপে
৪-এর স্কেলে সিজিপিএ ৩.০০ বা তার বেশি হলে ফার্স্ট ক্লাস (প্রথম শ্রেণি), ২.২৫ থেকে ৩.০০-এর কম হলে সেকেন্ড ক্লাস, আর ১.৬৫ থেকে ২.২৫-এর কম হলে থার্ড ক্লাস ধরা হয়। হিসাবটা এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০০৯ সালের সমতা নির্ধারণের আদেশ থেকে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ স্কেলের পূর্ণমানকে ৮০ শতাংশ নম্বরের সমান ধরা হয়েছে।
সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও এই হিসাব মেনে চলে। যেমন ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে একটি পদের যোগ্যতায় প্রথম শ্রেণির বিকল্প হিসেবে লেখা আছে সিজিপিএ ৪.০০ স্কেলে ৩.০০ বা ৫.০০ স্কেলে ৩.৭৫, আর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় শ্রেণি মানে ৪-এ ২.২৫ বা ৫-এ ২.৮।
Consolidated Result অংশে চার বছরের সমন্বিত সিজিপিএ দেখা যায়।
এই লেখায়
১. সিজিপিএ কত হলে ফার্স্ট ক্লাস, সেকেন্ড ক্লাস, থার্ড ক্লাস: এক ছকে
| শ্রেণি | নম্বরের সমতা | ৪-এর স্কেলে সিজিপিএ | ৫-এর স্কেলে সিজিপিএ |
|---|---|---|---|
| প্রথম শ্রেণি (ফার্স্ট ক্লাস) | ৬০ শতাংশ বা বেশি | ৩.০০ বা বেশি | ৩.৭৫ বা বেশি |
| দ্বিতীয় শ্রেণি (সেকেন্ড ক্লাস) | ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশের কম | ২.২৫ থেকে ৩.০০-এর কম | ২.৮ থেকে ৩.৭৫-এর কম |
| তৃতীয় শ্রেণি (থার্ড ক্লাস) | ৩৩ থেকে ৪৫ শতাংশের কম | ১.৬৫ থেকে ২.২৫-এর কম | নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন |
৫-এর স্কেলের ৩.৭৫ আর ২.৮ সংখ্যা দুটি সরাসরি সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা আছে। ৫-এর স্কেলে তৃতীয় শ্রেণির নিচের সীমা কোনো বিজ্ঞপ্তিতে আমরা আলাদা করে পাইনি, তাই সেটা নিজে না গুনে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
শর্ত হলো ৩.০০ বা তার বেশি। ২.৯৯ বা ২.৯৮ পেলে সেটা দ্বিতীয় শ্রেণি, পূর্ণসংখ্যায় গোল করে ৩ ধরা হয় না।
২. ৩.০০, ২.২৫ আর ১.৬৫ সংখ্যাগুলো এল কোথা থেকে
২০০৯ সালের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশে জিপিএ ও সিজিপিএ-র সঙ্গে পুরোনো বিভাগ বা শ্রেণির সমতা ঠিক করে দেয়, যা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর তখন প্রকাশ করে। আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় যে স্কেলেই সিজিপিএ দিক, স্কেলের পূর্ণমানকে ৮০ শতাংশ নম্বরের সমান ধরতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে প্রথম বিভাগ ৬০ শতাংশ বা বেশি, দ্বিতীয় ৪৫ থেকে ৬০-এর কম, তৃতীয় ৩৩ থেকে ৪৫-এর কম।
- ১পূর্ণমান = ৮০ শতাংশ৪-এর স্কেলে ৪.০০ মানে ৮০ শতাংশ। তাহলে প্রতি ১ পয়েন্ট সমান ২০ শতাংশ নম্বর।
- ২প্রথম শ্রেণি৬০ শতাংশ ভাগ ২০ = ৩.০০। তাই ৩.০০ বা বেশি প্রথম শ্রেণি। ৫-এর স্কেলে প্রতি পয়েন্ট ১৬ শতাংশ, তাই ৬০ ভাগ ১৬ = ৩.৭৫।
- ৩দ্বিতীয় শ্রেণি৪৫ শতাংশ ভাগ ২০ = ২.২৫। তাই ২.২৫ থেকে ৩.০০-এর কম দ্বিতীয় শ্রেণি।
- ৪তৃতীয় শ্রেণি৩৩ শতাংশ ভাগ ২০ = ১.৬৫। তাই ১.৬৫ থেকে ২.২৫-এর কম তৃতীয় শ্রেণি।
একই আদেশে উদাহরণও দেওয়া ছিল: ৪-এর স্কেলে ৩ মানে প্রথম বিভাগ, কিন্তু ৫-এর স্কেলে ৩ মানে দ্বিতীয় বিভাগ। তাই সিজিপিএ বলার সময় স্কেলটাও বলুন, নইলে ভুল বোঝাবুঝি হয়।
৩. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে কত পেলে পাস, কত পেলে কোন শ্রেণি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রতিটি কোর্সে ৪০ শতাংশ নম্বর পেলে D গ্রেড, গ্রেড পয়েন্ট ২.০০। ৪০ শতাংশের কম পেলে F, আর কোনো কোর্সে F থাকলে সিজিপিএ গণনাই হয় না। এর একটা সোজা মানে আছে: সব কোর্সে পাস করলে আপনার সিজিপিএ কখনো ২.০০-এর নিচে নামতে পারে না, অর্থাৎ অন্তত তৃতীয় শ্রেণি থাকছেই।
- B গ্রেড (৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের কম) মানে ৩.০০। গড়ে B রাখতে পারলেই প্রথম শ্রেণির সীমায় পৌঁছান।
- C গ্রেড (৪৫ থেকে ৫০ শতাংশের কম) মানে ২.২৫, দ্বিতীয় শ্রেণির শুরু।
- সিজিপিএ ২.০০ থেকে ২.২৪ হলে তৃতীয় শ্রেণি, যা অনেক নিয়োগে চলে না।
উদাহরণ: সুমাইয়ার চার বছরের সমন্বিত ফল ২.৯৫। তিনি দ্বিতীয় শ্রেণি। তাঁর বন্ধু রাকিব পেয়েছেন ৩.০২, তিনি প্রথম শ্রেণি। ডিগ্রি (পাস) বা মাস্টার্সের ফলও ৪-এর স্কেলের সিজিপিএ-তে এলে একই ছক খাটে।
৪. চাকরির আবেদনে কোন শ্রেণি দরকার, কীভাবে মেলাবেন
সরকারি নিয়োগে শ্রেণির শর্ত বিজ্ঞপ্তিতেই লেখা থাকে, আর সেখানে সিজিপিএ-র সমমানও দেওয়া থাকে। কয়েকটা বাস্তব উদাহরণ দেখুন।
| নিয়োগ | বিজ্ঞপ্তিতে যা চাওয়া হয়েছে |
|---|---|
| ৫০তম বিসিএস: ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভূতত্ত্ব) | প্রথম শ্রেণির স্নাতকোত্তর, অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্সসহ দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর, অথবা সিজিপিএ ৪.০০ স্কেলে ৩.০০ বা ৫.০০ স্কেলে ৩.৭৫ |
| ৫০তম বিসিএসের কয়েকটি পদ | শিক্ষাজীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ, সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য নয় |
| সরকারি প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক (নভেম্বর ২০২৫) | অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণি: সিজিপিএ ৪-এ ২.২৫ বা ৫-এ ২.৮; কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি চলবে না |
- ১সমন্বিত সিজিপিএ বের করুনফলাফল সাইটের Consolidated Result অংশে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে চার বছরের সিজিপিএ দেখুন। এক বর্ষের জিপিএ নয়, সমন্বিত সংখ্যাটাই শ্রেণি ঠিক করে।
- ২স্কেল মিলিয়ে নিনজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কেল ৪.০০। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ হলে মার্কশিটে স্কেল লেখা থাকে।
- ৩বিজ্ঞপ্তির শর্ত পড়ুনপদের যোগ্যতার ঘরে কোন শ্রেণি চাওয়া হয়েছে আর এসএসসি-এইচএসসির কোনো শর্ত আছে কি না, দুটোই দেখুন।
- ৪যেভাবে আছে সেভাবেই লিখুনফরমে নিজের সিজিপিএ সনদে যেমন আছে, তেমনই লিখুন। নিজে থেকে শতাংশে বদলে লিখবেন না।
৫. শতাংশ চাইলে কী লিখবেন, আর এসএসসি-এইচএসসির হিসাব আলাদা কেন
কোনো ফরম বা বিদেশের ভর্তি আবেদনে শতাংশ চাইলে ২০০৯ সালের ওই আদেশের হিসাবই কাজে লাগে। ৪-এর স্কেলে পূর্ণমান ৮০ শতাংশ ধরা হয়েছে, তাই সিজিপিএ-কে ২০ দিয়ে গুণ করলে আদেশ অনুযায়ী সমতুল্য শতাংশ আসে। যেমন ৩.২৫ মানে ৬৫ শতাংশ, ২.৭৫ মানে ৫৫ শতাংশ। তবে যে প্রতিষ্ঠান শতাংশ চাইছে, তাদের নিজস্ব রূপান্তরের নিয়ম থাকলে সেটাই মানতে হবে, তাই আবেদনের নির্দেশনা আগে পড়ুন।
এসএসসি আর এইচএসসির জিপিএ ৫-এর স্কেলে, আর সেখানে বিভাগের হিসাব আলাদা। একই আদেশে ২০০৪ সাল থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য বলা হয়েছে: জিপিএ ৪ বা বেশি প্রথম বিভাগ, ৩ থেকে ৪-এর কম দ্বিতীয় বিভাগ, আর ১ থেকে ৩-এর কম তৃতীয় বিভাগ। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যখন লেখা থাকে শিক্ষাজীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ চলবে না, তখন এই হিসাব ধরে এসএসসি, এইচএসসি আর স্নাতক তিনটিই মিলিয়ে দেখতে হয়।
ধরুন কারও এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯০ আর অনার্সে সিজিপিএ ২.১০। তাঁর দুটো স্তরেই তৃতীয় শ্রেণি বা বিভাগ, অর্থাৎ একাধিক তৃতীয়। যে পদে এই শর্ত আছে, সেখানে তিনি আবেদন করতে পারবেন না।
৬. অনেকে যা জানতে চান
অনার্স কত পয়েন্টে ফাস্ট ক্লাস?
সিজিপিএ কত হলে সেকেন্ড ক্লাস?
অনার্স কত পেলে পাস?
বিসিএস দিতে কত সিজিপিএ লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।