সংক্ষেপে
অনার্সের ফল দেখতে result.nu.ac.bd খুলে Honours অংশে যান। পরীক্ষার নাম, পরীক্ষার সাল, রোল আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ছোট একটা যোগের উত্তর লিখলেই ফল আসে। সাল হবে পরীক্ষার নামের সাল। ‘২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ’ পরীক্ষা ২০২৬ সালে হলেও লিখবেন 2024।
প্রতিটি পত্রে একটি লেটার গ্রেড থাকে, ৪০ শতাংশের কম নম্বরে F। কোনো পত্রে F থাকলে CGPA হিসাবই হয় না। প্রথমবারে C+, C বা D পাওয়া সর্বোচ্চ দুটি পত্রে পরের বছর গ্রেড উন্নয়ন দেওয়া যায়, তবে তাতে A- এর বেশি পাওয়া যায় না।
সদ্য প্রকাশিত ফল আর পুরোনো ফলের আর্কাইভ, দুটোর লিংকই এই পাতায়।
এই লেখায়
১. ওয়েবসাইটে ফল দেখার ধাপ
ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় এখন result.nu.ac.bd ঠিকানাটিই দেয়। পাতাটি খুললে সদ্য প্রকাশিত ফলের লিংক আর Honours, Degree, Master's নামের বোতাম পাবেন। Honours চাপলে results.nu.ac.bd-র খোঁজার ফর্ম খোলে, সেখানে পুরোনো বছরের ফলও আছে।
- ১পরীক্ষার নাম বাছুনExamination Name তালিকা থেকে Bachelor Degree Honours 1st Year, 2nd Year, 3rd Year বা 4th Year বেছে নিন। চার বছরের সমন্বিত ফলের জন্য আলাদা ঘর আছে, নাম Consolidated Result।
- ২পরীক্ষার সাল লিখুনExamination Year ঘরে পরীক্ষার নামের সাল দিন, পরীক্ষা যে বছর হয়েছে সেটি নয়। ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা হয়েছে ২০২৬ সালে, ফল এসেছে ৩১ আগস্ট ২০২৬, কিন্তু সাল লিখতে হবে 2024। প্রবেশপত্রে পরীক্ষার নামের সঙ্গেই সালটি ছাপা থাকে।
- ৩রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিনExam Roll ঘরে প্রবেশপত্রের রোল, Registration No. ঘরে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের নম্বর লিখুন।
- ৪যোগফল লিখে খুঁজুননিচে ‘১৭ + ১৮’ ধরনের একটা ছোট অঙ্ক থাকে। উত্তর লিখে Search Result চাপুন। ফল এলে স্ক্রিনশট বা প্রিন্ট রেখে দিন।
শুধু ২০২৪ সালের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাতেই বসেছিলেন ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তাই প্রথম কয়েক ঘণ্টা সাইট না খুললে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। রোল আর রেজিস্ট্রেশন চেয়ে ফল দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলা অচেনা সাইট বা পেজে তথ্য দেবেন না।
২. এসএমএসে ফল জানা
আগে ফল প্রকাশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় এসএমএসের নিয়মও দিত। ২০২২ সালে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফলের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা ছিল, nu লিখে স্পেস, h2 লিখে স্পেস, তারপর রোল নম্বর লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রথম বর্ষের জন্য h1 আর তৃতীয় বর্ষের জন্য H3 লেখার কথা এসেছে বাংলা ট্রিবিউন ও যুগান্তরের প্রতিবেদনে।
- দ্বিতীয় বর্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২ সালের বিজ্ঞপ্তি: NU H2 রোল নম্বর, পাঠাবেন 16222 নম্বরে
- তৃতীয় বর্ষ, যুগান্তর (মে ২০২৬): NU H3 রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পাঠাবেন 16222 নম্বরে
- প্রথম বর্ষ, বাংলা ট্রিবিউন (এপ্রিল ২০২৩): nu h1 রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পাঠাবেন 16222 নম্বরে
রোল নম্বর লাগবে না রেজিস্ট্রেশন নম্বর, এ নিয়ে সূত্রগুলো একমত নয়। আগস্ট ২০২৬-এ অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলের বিজ্ঞপ্তিতে এসএমএসের উল্লেখই ছিল না, শুধু ওয়েবসাইট। ফিরতি বার্তা না এলে বারবার না পাঠিয়ে ওয়েবসাইটে দেখুন।
৩. ফলাফলে কী লেখা থাকে
প্রতিটি পত্রের পাশে একটি লেটার গ্রেড থাকে। সব পত্রের গ্রেড পয়েন্ট মিলিয়ে সেই বর্ষের GPA হয়। প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষের ফলে সঙ্গে থাকে পরের বর্ষে ওঠার অবস্থা:
- Promoted: পরের বর্ষে উঠেছেন।
- Conditional Promoted: একটি পত্রে অনুপস্থিত ছিলেন, বাকি সব পত্রে D বা তার বেশি পেয়েছেন। পরের বছর ওই পত্রের পরীক্ষা দিতেই হবে।
- Not Promoted: একাধিক পত্রে অনুপস্থিত, অথবা একটিতে অনুপস্থিত আর আরেকটিতে F। পরের বছর অনুপস্থিত আর F পাওয়া পত্রগুলোর পরীক্ষা দিতে হয়।
- F: ওই পত্রে ৪০ শতাংশের কম নম্বর। পত্রটি আবার দিয়ে অন্তত D তুলতে হবে।
২০২৫ সালের তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরের বর্ষে উঠতে সব পত্রের পরীক্ষায় বসতে হয়, কমপক্ষে ৫০ শতাংশ তত্ত্বীয় পত্রে D বা তার বেশি পেতে হয়, আর ব্যবহারিকে পাস করতে হয়। অন্য বর্ষের শর্ত সেই বর্ষের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে।
চতুর্থ বর্ষের ফল প্রথমে আলাদাভাবে আসে। চার বছরের সমন্বিত ফল (CGPA) বিশ্ববিদ্যালয় পরে প্রকাশ করে, ২০২৪ সালের চতুর্থ বর্ষের ফলের বিজ্ঞপ্তিতেও তাই বলা হয়েছিল। কোনো পত্রে F থেকে গেলে CGPA হিসাব হয় না।
৪. গ্রেড স্কেল আর CGPA-র হিসাব
ফলাফল সাইটে বিশ্ববিদ্যালয় যে গ্রেডিং সিস্টেম দিয়েছে, তাতে নম্বর থেকে গ্রেড আর পয়েন্ট দাঁড়ায় এভাবে:
| প্রাপ্ত নম্বর | লেটার গ্রেড | গ্রেড পয়েন্ট |
|---|---|---|
| ৮০% বা তার বেশি | A+ | ৪.০০ |
| ৭৫% থেকে ৮০%-এর কম | A | ৩.৭৫ |
| ৭০% থেকে ৭৫%-এর কম | A- | ৩.৫০ |
| ৬৫% থেকে ৭০%-এর কম | B+ | ৩.২৫ |
| ৬০% থেকে ৬৫%-এর কম | B | ৩.০০ |
| ৫৫% থেকে ৬০%-এর কম | B- | ২.৭৫ |
| ৫০% থেকে ৫৫%-এর কম | C+ | ২.৫০ |
| ৪৫% থেকে ৫০%-এর কম | C | ২.২৫ |
| ৪০% থেকে ৪৫%-এর কম | D | ২.০০ |
| ৪০%-এর কম | F | ০.০০ |
- ১প্রতি পত্রের পয়েন্ট বের করুনপত্রের ক্রেডিটকে গ্রেড পয়েন্ট দিয়ে গুণ করুন। ৪ ক্রেডিটের পত্রে A (৩.৭৫) পেলে অর্জিত পয়েন্ট ১৫।
- ২বছরের GPAবছরের সব পত্রের অর্জিত পয়েন্ট যোগ করে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের উদাহরণে ২৮ ক্রেডিটে ৯৩ পয়েন্ট, অর্থাৎ GPA ৩.৩২।
- ৩চার বছরের CGPAচার বছরের মোট অর্জিত পয়েন্টকে চার বছরের মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করলে CGPA। চার বছরের GPA-র সাধারণ গড় নিলে মিলবে না, কারণ প্রতি বছরের ক্রেডিট সমান নয়।
৫. গ্রেড উন্নয়ন, F তোলা আর পুনঃমূল্যায়ন
গ্রেড উন্নয়নের জন্য আলাদা আবেদন নেই। পরের বছর ওই বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় গ্রেড উন্নয়ন বা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করতে হয়। ২০২৫ সালের তৃতীয় বর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে শর্তগুলো ছিল এমন:
- প্রথমবার পরীক্ষায় C+, C বা D পাওয়া পত্রে গ্রেড উন্নয়ন দেওয়া যায়, সর্বোচ্চ দুটি পত্রে।
- উন্নয়ন পরীক্ষায় যত ভালোই করুন, A- এর বেশি গ্রেড পাবেন না।
- গ্রেড না বাড়লে বা পরীক্ষায় না বসলে আগের গ্রেডই থাকবে।
- F পাওয়া পত্রে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদের মধ্যে, মানে শুরু থেকে সাত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে, অন্তত D তুলতে হবে। F থেকে ওঠা পত্রে পরে আর গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ নেই।
- ইনকোর্স আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় গ্রেড উন্নয়ন হয় না।
খাতা আবার দেখাতে চাইলে ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যে পুনঃমূল্যায়নের বিজ্ঞপ্তি আসে। আবেদন অনলাইনে, nu.ac.bd-র Services মেনুর Re-Evaluation অংশে। ২০২৪ সালের চতুর্থ বর্ষের বেলায় সময় ছিল ৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ফি প্রতি পত্র ১,২০০ টাকা। পত্রকোড খুব সাবধানে লিখুন। পুনঃমূল্যায়নের ফল আসে results.nu.ac.bd-র Revaluation অংশে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
সব ঠিকঠাক দিয়েও ফল আসছে না, কী করব?
চার বছরের CGPA কোথায় দেখব?
গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষা খারাপ হলে কি আগের গ্রেড কমে যাবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।