
সংক্ষেপে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি নীতিমালা অনুযায়ী অধিভুক্ত কলেজের দুই ধরনের শিক্ষার্থী বৃত্তি পান: সব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, আর স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরের আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত অথচ মেধাবী শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় দলের জন্য আগের বছরের ফলাফলে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ লাগে।
শিক্ষার্থী সরাসরি আবেদন করেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির পর কলেজ অধ্যক্ষ সুপারিশসহ তালিকা কলেজ পোর্টালে পাঠান। নীতিমালায় বছরে এককালীন কম-বেশি ৫,০০০ টাকার কথা আছে, আর ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ৪,৯২১ জনকে জনপ্রতি ৬,০০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবৃত্তির নতুন বিজ্ঞপ্তি আর তথ্য ছক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়।
এই লেখায়
১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা বৃত্তি কারা পান
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের প্রকাশ করা ‘শিক্ষাবৃত্তির নিয়মাবলী’ দুটি দলকে বৃত্তির আওতায় রেখেছে। দুই দলের শর্ত আলাদা।
| দল | যোগ্যতা ও শর্ত |
|---|---|
| বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী | বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সবাই, ভর্তির পর প্রতি শিক্ষাবর্ষে একবার। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় ভর্তির কাগজ আবেদনের সঙ্গে দিতে হয়। |
| অসচ্ছল, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত অথচ মেধাবী | স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। আগের বছরের ফলাফল আর মেধাক্রম ধরে বাছাই, প্রতি বছর ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০। |
| স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী | বাছাই হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা স্নাতক (পাস) বা স্নাতক (সম্মান) ফলের ভিত্তিতে। |
| অনিয়মিত শিক্ষার্থী | কোনো অবস্থাতেই বৃত্তির আওতায় নয়। |
নীতিমালা আরও বলছে, অসচ্ছল দলের মধ্যে যাঁরা কলেজের একাডেমিক আর সহপাঠ্যক্রমিক কাজে নিয়মিত অংশ নেন, তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন। অর্থাৎ ভালো ফলের সঙ্গে ক্লাসে নিয়মিত থাকাটাও কাজে লাগে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য জিপিএর এই শর্ত নীতিমালার সেই অংশে লেখা নেই, তাঁদের জন্য মূল শর্ত হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় ভর্তির কাগজ।
২. অনার্স বৃত্তির আবেদন: কলেজের মাধ্যমে যেভাবে যায়
শিক্ষার্থী নিজে অনলাইনে আবেদন করেন না। বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তি দেয়, তারপর কলেজ অধ্যক্ষ নীতিমালা মেনে নিজ কলেজের শিক্ষার্থীদের তালিকা সুপারিশসহ পাঠান। ২০২৪ সালের বিজ্ঞপ্তিতে তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছিল কলেজ পোর্টালে লগইন করে ‘শিক্ষাবৃত্তি তথ্যছক’ লিংকে।
- ১বিজ্ঞপ্তির খবর রাখুনবিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষাবৃত্তির বিজ্ঞপ্তি এলে কলেজের অফিস বা বিভাগে খোঁজ নিন। নিয়মাবলী আর তথ্য ছক ওয়েবসাইট থেকে নামানো যায়।
- ২কাগজ জমা দিন কলেজেআগের বছরের ফলাফলের কপি, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে প্রতিবন্ধিতার সনদ ও কোটায় ভর্তির কাগজ কলেজের নির্ধারিত শাখায় দিন।
- ৩অধ্যক্ষের সুপারিশঅধ্যক্ষ আগের বছরের ফল, নিজ কলেজে মেধাক্রম আর জিপিএ উল্লেখ করে সুপারিশ পাঠান, অসচ্ছলতার বিষয়ে প্রত্যয়নও দেন।
- ৪বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইচূড়ান্ত তালিকা ঠিক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
- ৫চেকে টাকানিয়মাবলী অনুযায়ী বৃত্তির টাকা দেওয়া হয় চেকের মাধ্যমে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর তথ্য ছকে যা লাগে
৩. কোন কলেজ কতজনের নাম দিতে পারে, টাকা কত
এই অংশটা অনেকের অজানা, আর এ কারণেই অনেক ভালো ফলের শিক্ষার্থীও বৃত্তি পান না। অসচ্ছল মেধাবী দলের জন্য প্রতিটি কলেজ বছরে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি নাম পাঠাতে পারে না।
| কলেজের সব পর্যায় মিলিয়ে শিক্ষার্থী | বছরে সর্বোচ্চ সুপারিশ |
|---|---|
| ৫০০-এর নিচে | ২ জন |
| ৫০১ থেকে ৫,০০০ | ৫ জন |
| ৫,০০০-এর বেশি | ১০ জন |
এই সংখ্যার মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ধরা হন না। যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সুপারিশ করা যাবে না। নীতিমালায় বৃত্তির অঙ্ক বছরে এককালীন কম-বেশি ৫,০০০ টাকা, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট অনুযায়ী সংখ্যা আর অঙ্ক বদলাতে পারে।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ৮৩০টি কলেজের ২,৮৯৭ জন আর ২০২৪ সালের জন্য ৭২৫টি কলেজের ২,০২৪ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৬,০০০ টাকা পেয়েছেন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও ছিলেন।
৪. বৃত্তির তালিকায় নাম না এলে কী দেখবেন
অনেক শিক্ষার্থী ভালো ফল করেও তালিকায় নাম পান না, তারপর ধরে নেন কেউ সুপারিশ খেয়ে ফেলেছে। নীতিমালার শর্তগুলো মিলিয়ে দেখলে বেশির ভাগ সময় কারণটা বোঝা যায়।
- আগের বছরের জিপিএ ৩.০০-এর নিচে ছিল কি না দেখুন।
- আপনি নিয়মিত শিক্ষার্থী কি না। অনিয়মিত শিক্ষার্থী কোনো অবস্থাতেই এই বৃত্তি পান না।
- নিজ কলেজে মেধাক্রম কোথায়। ধরুন আপনার কলেজে সব পর্যায় মিলিয়ে ৩,০০০ শিক্ষার্থী, তাহলে কলেজ বছরে সর্বোচ্চ ৫ জনের নাম পাঠাতে পারে।
- অসচ্ছলতার বিষয়ে অধ্যক্ষের প্রত্যয়ন পাওয়ার মতো তথ্য কলেজকে দিয়েছিলেন কি না।
- আপনার দেওয়া কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল ছিল কি না। নীতিমালায় তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দিলে সুপারিশ বাতিলের কথা আছে।
কলেজ থেকে নাম পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানার সবচেয়ে সহজ পথ কলেজের যে শাখা বৃত্তির তথ্য পাঠায়, সেখানে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করা। পরের বছরের বিজ্ঞপ্তির সময় আগেই কাগজ তৈরি রাখুন: সর্বশেষ নম্বরপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কপি আর পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সনদ যদি কলেজ চায়।
৫. ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড আর অন্য বৃত্তির সঙ্গে পার্থক্য
একই অনুষ্ঠানে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরে সেরা ফল করা ৩৭টি কলেজের ৫৭ জনকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। প্রত্যেকে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট আর ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। এটি আবেদনভিত্তিক শিক্ষাবৃত্তি নয়, ফলাফলের ভিত্তিতে দেওয়া সম্মাননা।
ডিগ্রি পর্যায়ের উপবৃত্তি আসে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে, তার আবেদনের নিয়ম আর সময় আলাদা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য পোষ্য শিক্ষাবৃত্তিও আলাদা, সেটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য পথ হলো ওপরের শিক্ষাবৃত্তি, যেখানে অধ্যক্ষের সুপারিশই প্রথম ধাপ।
৬. অনেকে যা জানতে চান
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা বৃত্তি ফরম কোথায় পাব?
অনার্স ১ম বর্ষে কি বৃত্তি পাওয়া যায়?
জিপিএ কত হলে আবেদন করা যায়?
বৃত্তির টাকা কীভাবে দেয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।