
সংক্ষেপে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের নিয়মাবলী অনুযায়ী স্নাতক প্রথম বর্ষ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ছাড়পত্র বা টিসির জন্য আবেদন করা যায়। আবেদন করতে হয় ফল প্রকাশের দিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে, অনলাইনে, আর একজন শিক্ষার্থী একাধিকবার টিসি নিতে পারেন না।
সরকারি কলেজ থেকে সরকারি বা বেসরকারি কলেজে, আর বেসরকারি থেকে বেসরকারি কলেজে টিসি হয়। বেসরকারি কলেজ থেকে সরকারি কলেজে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ হিসেবে অভিভাবকের বদলি, বিয়ে, স্থায়ী ঠিকানার কাছের কলেজ বা অভিভাবকের মৃত্যুর মতো যুক্তি প্রমাণসহ দেখাতে হয়।
Services মেনুর Student Login থেকে শিক্ষার্থীদের অনলাইন সেবার আবেদন শুরু হয়।
এই লেখায়
১. টিসির মূল শর্তগুলো
শর্তগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন স্টুডেন্ট সার্ভিসের নির্দেশনা পাতায় দেওয়া ছাড়পত্রের (টিসি) মাধ্যমে কলেজ পরিবর্তনের নিয়মাবলী থেকে নেওয়া, যাতে স্বাক্ষর আছে স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিনের।
- স্নাতক প্রথম বর্ষ উত্তীর্ণ হওয়ার পরই আবেদন করা যায়।
- সরকারি কলেজ থেকে সরকারি ও বেসরকারি কলেজে, আর বেসরকারি থেকে বেসরকারি কলেজে যাওয়া যায়। বেসরকারি থেকে সরকারি কলেজে টিসির আবেদন চলে না।
- একই জেলার দুটি কলেজের মধ্যে টিসি দেওয়া হয় না। তবে বিশেষ কারণে মেয়ে শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল হতে পারে।
- শতবর্ষী কলেজ থেকে যেকোনো সরকারি-বেসরকারি কলেজে যাওয়া যায়, কিন্তু অন্য কলেজ থেকে শতবর্ষী কলেজে টিসির আবেদন করা যায় না।
- ফল প্রকাশের দিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হয়, আর টিসি একবারের বেশি নেওয়া যায় না।
নিয়মাবলীর শেষে বলা আছে, শর্ত যোগ-বিয়োগ বা পরিমার্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাই আবেদনের আগে নিজের কলেজের অফিস থেকে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিন।
২. কোন কারণে টিসি মেলে, কী প্রমাণ লাগে
| কারণ | যা জমা দিতে হয় |
|---|---|
| চাকরিজীবী বাবা, মা বা স্বামীর অন্য জেলায় বদলি | বদলির আদেশ, যোগদানপত্র, চাকরির আইডি কার্ড আর অভিভাবকের সম্মতিপত্র। শুধু সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর বদলি গণ্য হয়। বাবা-মা জীবিত না থাকলে বা অসমর্থ হলে আইনানুগ অভিভাবকের কাগজ। |
| ভর্তির পর মেয়ে শিক্ষার্থীর বিয়ে | কাবিননামা। হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের কাবিননামা না থাকলে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা বা ইউপি চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন, স্বামী-স্ত্রীর যৌথ ছবি ও বিয়ের দাওয়াতপত্র। সঙ্গে স্বামীর কর্মস্থলের প্রত্যয়ন, যোগদানপত্র আর NID বা পেশার প্রমাণ। |
| স্থায়ী ঠিকানার কাছের কলেজে যাওয়া | শিক্ষার্থী ও বাবা-মায়ের NID আর অভিভাবকের মতামতপত্র। নিজ জেলার কোনো কলেজে বিষয়টি না থাকলে পাশের জেলার কাছের কলেজে আবেদন করা যায়। কর্তৃপক্ষ বিবেচনার যোগ্য মনে করলে টিসি দেন। |
| অভিভাবকের মৃত্যু | ডাক্তারের দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট বা চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবকের সম্মতিপত্র, তাঁর পেশা ও কর্মস্থলের প্রমাণ আর NID-র কপি। |
| শিক্ষার্থী প্রতিবন্ধী | সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের দেওয়া সনদ। |
| কলেজে বিষয়ের অধিভুক্তি স্থগিত | বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন দপ্তরের অধিভুক্তি বাতিলের চিঠি। |
যে কারণেই আবেদন করুন, সঙ্গে দিতে হয় রেজিস্ট্রেশন কার্ড, সংশ্লিষ্ট বর্ষের প্রবেশপত্র ও পরীক্ষার ফল, আর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র।
৩. অনলাইনে আবেদনের ধাপ
- ১Student Login খুলুনnu.ac.bd সাইটের Services মেনু থেকে Student Login-এ যান। User ID ও Password না থাকলে Student Registration থেকে নিবন্ধন করুন, মোবাইল আর ইমেইলে আসা OTP দিয়ে যাচাই করলে User ID ও Password পাবেন।
- ২ফলের তথ্য যুক্ত করুনড্যাশবোর্ডে আপনার ফল না দেখালে সেখানকার নির্ধারিত লিংক থেকে ফলের তথ্য যুক্ত করুন। তথ্য না মিললে প্রয়োজনীয় কাগজসহ support.is@nu.ac.bd ঠিকানায় ইমেইল করলে যাচাই করে যুক্ত করা হয়।
- ৩সেবার তালিকা থেকে টিসি বাছুনসেবার আবেদন অংশে টিসির সেবা বেছে ফরম খুলুন। কারণ লিখুন আর ওপরের ছকের কাগজগুলো স্ক্যান করে আপলোড করুন, তারপর সাবমিট দিন।
- ৪পে-স্লিপে ফি দিনApplication List থেকে আবেদনের অবস্থা দেখুন। Payslip লিংক থেকে ফি দিন, পরে Money Receipt নামিয়ে সংরক্ষণ করুন। কোনো তথ্য বদলাতে হলে Edit লিংক আছে।
- ৫দুই কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুনবিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ লগইনে টিসি অনুমোদনের অংশ আছে। তাই যে কলেজে যেতে চান, সেখানে আপনার বিষয় আছে কি না আগে খোঁজ নিন, আর দুই কলেজের অফিসকেই আবেদনের কথা জানিয়ে রাখুন।
সময় গোনা হয় ফল প্রকাশের দিন থেকে। প্রথম বর্ষের ফল বের হলেই কাগজ জোগাড় শুরু করুন, বিশেষ করে বদলির আদেশ, যোগদানপত্র বা কাবিননামার মতো কাগজ, যা অন্য জায়গা থেকে আনতে হয়।
৪. টিসি আর মাইগ্রেশন এক নয়
টিসি মানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই এক কলেজ থেকে আরেক কলেজে পড়া চালিয়ে যাওয়া। মাইগ্রেশন সনদ সাধারণত লাগে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাইগ্রেশনের আবেদনে লাগে কলেজ অধ্যক্ষের সুপারিশসহ ডিন বরাবর আবেদনপত্র, মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টার্স বা অন্য কোর্সে ভর্তি নেই মর্মে অঙ্গীকারপত্র, আর প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও সনদের সত্যায়িত কপি।
অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তির সময় রিলিজ স্লিপে কলেজ বদলের সুযোগ আলাদা প্রক্রিয়া, সেটি ভর্তি কার্যক্রমের অংশ। ক্লাস শুরু হয়ে গেলে কলেজ বদলাতে চাইলে প্রথম বর্ষ পাস করে টিসির পথই খোলা থাকে।
৫. আবেদনের আগে যা মিলিয়ে নেবেন
টিসির আগে শেষবার দেখে নিন
রেজিস্ট্রেশন কার্ডে নাম বা অন্য তথ্যে ভুল থাকলে টিসির আগে সেটি ঠিক করে নিন, নইলে নতুন কলেজে গিয়ে কাগজ মেলাতে ঝামেলা হতে পারে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংশোধনের কাগজের তালিকাও বিশ্ববিদ্যালয়ের একই নির্দেশনা পাতায় আছে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
অনার্স প্রথম বর্ষেই কি টিসি নেওয়া যায়?
বেসরকারি কলেজ থেকে সরকারি কলেজে টিসি হয়?
একই জেলার অন্য কলেজে যাওয়া যায়?
টিসি কতবার নেওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।