
সংক্ষেপে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টন ২০২৫-২৬ সেশনে ছিল: বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, সাধারণ জ্ঞান ২০ আর নিজের শাখার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন ৪০, মোট ১০০ নম্বরের এমসিকিউ, সময় এক ঘণ্টা। পাস নম্বর ৩৫, ভুল উত্তরে নম্বর কাটা হয় না। মানবিক, বিজ্ঞান আর ব্যবসায় শিক্ষার জন্য আলাদা প্রশ্ন।
পাস করলে মেধাতালিকা হয় ২০০ নম্বরে: ভর্তি পরীক্ষার ১০০, এসএসসি জিপিএর ৪০% আর এইচএসসি জিপিএর ৬০% মিলিয়ে আরও ১০০। পরীক্ষায় ৩৫ না পেলে জিপিএ যত ভালোই হোক, মেধাতালিকায় নাম আসে না।
প্রবেশপত্র, কেন্দ্র তালিকা আর ভর্তি পরীক্ষার ফল Honours ট্যাবে আসে।
এই লেখায়
১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কি ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়
হ্যাঁ, এখন দিতে হয়। ২০১৫-১৬ থেকে কয়েক বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে ভর্তি হতো শুধু এসএসসি ও এইচএসসির ফল দেখে। ২০২৫-২৬ সেশনের বিজ্ঞপ্তিতে আবার ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা রাখা হয়, পরীক্ষা হয় ২৫ এপ্রিল ২০২৬। ২০২৬-২৭ সেশনেও পরীক্ষা থাকবে কি না, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানা যাবে।
এই পরীক্ষা অধিভুক্ত কলেজে সাধারণ অনার্সের জন্য। প্রফেশনাল কোর্সে (বিবিএ, সিএসই ইত্যাদি) গত সেশনে পরীক্ষা ছিল না, জিপিএ দিয়েই মেধাতালিকা হয়েছে।
২. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টন
| অংশ | নম্বর | কী থাকে |
|---|---|---|
| বাংলা | ২০ | তিন শাখার জন্যই |
| ইংরেজি | ২০ | তিন শাখার জন্যই |
| সাধারণ জ্ঞান | ২০ | তিন শাখার জন্যই |
| শাখার বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন | ৪০ | নিজের শাখার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বিষয় থেকে |
| মোট | ১০০ | এমসিকিউ, প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১, সময় ১ ঘণ্টা |
অনার্স ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস নিয়ে বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশিকায় এর বেশি ভাগ করে কিছু বলা নেই, অর্থাৎ শাখার ৪০ নম্বরের কোন বিষয় থেকে কত, তা আলাদা করে দেওয়া হয়নি। নিজের শাখার এইচএসসির পাঠ্যবই ধরে প্রস্তুতি নিন। গার্হস্থ্য অর্থনীতির শিক্ষার্থীরা মানবিকের প্রশ্নে পরীক্ষা দেন।
নির্দেশিকায় লেখা আছে, এমসিকিউ পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা হবে না। ঢাবি বা গুচ্ছের মতো নেগেটিভ মার্কিং এখানে নেই, তাই কোনো প্রশ্ন খালি রাখার দরকার নেই।
৩. অনার্স ভর্তি পরীক্ষা কত পেলে পাস, মেধাতালিকা কীভাবে
পাস নম্বর ১০০-এর মধ্যে ৩৫। পাস করলে আপনার জিপিএ থেকে ১০০ নম্বর যোগ হয়: এসএসসির জিপিএর ৪০% আর এইচএসসির জিপিএর ৬০%, চতুর্থ বিষয়সহ। হিসাবটা সহজ করে বললে এসএসসি জিপিএকে ৮ দিয়ে আর এইচএসসি জিপিএকে ১২ দিয়ে গুণ করলে এই অংশের নম্বর আসে।
- ১এসএসসির অংশধরুন এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০। ৫ গুণ ৮ মানে ৪০।
- ২এইচএসসির অংশএইচএসসিতে ৪.৫০। ৪.৫ গুণ ১২ মানে ৫৪।
- ৩ভর্তি পরীক্ষাএমসিকিউতে পেলেন ৬২, পাস নম্বর ৩৫ পার।
- ৪মোট৪০ যোগ ৫৪ যোগ ৬২, অর্থাৎ ২০০-এর মধ্যে ১৫৬। এই নম্বর ধরে কলেজ ও বিষয়ভিত্তিক মেধাতালিকা হয়।
- সমান নম্বর হলে প্রথমে দেখা হয় ভর্তি পরীক্ষায় কার নম্বর বেশি।
- তাতেও সমান হলে চতুর্থ বিষয় বাদে এসএসসি জিপিএর ৪০% আর এইচএসসি জিপিএর ৬০%-এর যোগফল।
- তারপর চতুর্থ বিষয়সহ এসএসসি আর এইচএসসির মোট নম্বরের একই অনুপাত।
- সবশেষে যাঁর বয়স কম, তিনি এগিয়ে থাকেন।
মেধাতালিকা হয় প্রতিটি কলেজের জন্য আলাদা করে, আপনার দেওয়া বিষয়ের পছন্দক্রম অনুযায়ী। গত সেশনে ধাপগুলো ছিল প্রথম মেধাতালিকা, শূন্য আসন সাপেক্ষে দ্বিতীয় মেধাতালিকা, কোটার মেধাতালিকা, তারপর প্রথম ও দ্বিতীয় রিলিজ স্লিপ। তৃতীয় রিলিজ স্লিপের সুযোগ রাখা হয়নি।
৪. পরীক্ষার দিনের নিয়ম আর প্রবেশপত্র
প্রবেশপত্র নামাতে হয় পরীক্ষার সাত দিন আগে থেকে, ভর্তি সাইটের Applicant Login থেকে। কলেজ আপনার প্রাথমিক আবেদন অনলাইনে নিশ্চয়ন না করলে পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই। প্রথম আলো ২০২৬ সালের পরীক্ষার আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করেছিল, তার মূল কথা:
পরীক্ষার দিন যা মানতে হয়েছিল
প্রবেশপত্র নামাতে না পারলে কী হবে, সে কথাও প্রথম আলোর খবরে ছিল। তখন প্রাথমিক আবেদন ফরম, এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড আর এসএমএসে পাওয়া কেন্দ্রের তথ্য নিয়ে কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছিল, আর হাজিরাপত্রের ছবি আবেদন ফরমের ছবির সঙ্গে না মিললে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। আবেদনের সময় যে ছবি দিয়েছেন সেটাই চূড়ান্ত, পরে বদলানো যায় না।
পরীক্ষাকেন্দ্র ঠিক করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা শহরের নির্বাচিত কলেজে। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কলেজ উপকেন্দ্র আর আসন বিন্যাস ঠিক করে নোটিশ বোর্ডে দেয়, তিন শাখার পরীক্ষার্থীদের একসঙ্গে বসিয়ে। নির্দেশিকা অনুযায়ী পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক নির্দেশনা পরীক্ষার ১৫ দিন আগে ভর্তি সাইটে প্রকাশ করা হয়।
৫. গত সেশনের হিসাব আর কতবার দেওয়া যায়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ জন, পাস করেন ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫ জন, পাসের হার ৮০.৩৬ শতাংশ। প্রথম মেধাতালিকায় জায়গা পান ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৬৫ জন। পরীক্ষা হয়েছিল ১৩৮টি কেন্দ্রে, আর পরীক্ষার এক সপ্তাহের মধ্যে, ৩ মে ফল প্রকাশ হয়।
অনার্স ভর্তি পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়, এর আলাদা কোনো সংখ্যা বিজ্ঞপ্তিতে নেই। তবে প্রতি সেশনে দুই সালের এইচএসসি পাসরা আবেদন করতে পারেন, তাই কার্যত পাসের পর দুটি সেশনে সুযোগ মেলে। ফল দেখা যায় ভর্তি সাইটে, অথবা nu লিখে স্পেস, athn লিখে স্পেস, তারপর Application ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস করে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
অনার্স ভর্তি পরীক্ষা কত পেলে পাস?
অনার্স ভর্তি পরীক্ষায় কি কি আসবে?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় কি নেগেটিভ মার্কিং আছে?
nu admission result কিভাবে দেখবো?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।