জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

সম্ভাব্য তালিকায় নাম নেই, ফরম পূরণ আটকে গেছে: কী করবেন

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬nu.ac.bd
সম্ভাব্য তালিকায় নাম নেই, ফরম পূরণ আটকে গেছে: কী করবেন

সংক্ষেপে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরম পূরণ করতে পারেন শুধু তাঁরাই, যাঁদের নাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া সম্ভাব্য তালিকায় (Probable List) আছে। নাম না থাকার সবচেয়ে বড় কারণ ইনকোর্স ও ক্লাস উপস্থিতির নম্বর সময়মতো অনলাইনে জমা না পড়া। ২০২৫ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাঁদের ইনকোর্স নম্বর এন্ট্রি থাকবে শুধু তাঁরাই তালিকায় আসবেন।

যোগ্য হয়েও তালিকায় নাম না থাকলে নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোটার আগে বিভাগে জানান। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কলেজ প্রয়োজনীয় কাগজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা বা আইসিটি দপ্তরে যোগাযোগ করে নাম তালিকায় তোলার ব্যবস্থা করবে। কাজটা করতে হয় ফরম পূরণের সময় থাকতেই।

অনলাইন ফরম পূরণের সাইট

রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে স্টুডেন্ট লগইনে ঢুকে ফরম আসে কি না দেখুন।

EMS সাইটে যান
এই লেখায়
  1. সম্ভাব্য তালিকা কী, কারা থাকেন
  2. নাম না থাকার সাধারণ কারণ
  3. ইনকোর্সের নম্বর: যেখানে সবচেয়ে বেশি আটকায়
  4. নাম তোলার ধাপ
  5. অনেকে যা জানতে চান

১. সম্ভাব্য তালিকা কী, কারা থাকেন

প্রতিটি পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করে দেয়, কারা ওই পরীক্ষায় বসতে পারবেন। এই তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজের সাইটে দেয়, আর কলেজ জমা পড়া ফরম তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে College Login থেকে নিশ্চয়ন করে। তালিকায় নাম না থাকলে কলেজ আপনার ফরম নিশ্চয়ন করতে পারে না, ফলে প্রবেশপত্রও আসে না। ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে তিন ধরনের পরীক্ষার্থীর কথা আছে:

  • নিয়মিত: ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের যাঁরা দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোটেড বা উত্তীর্ণ হয়ে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষাক্রম শেষ করেছেন এবং যাঁদের তথ্য সাইটে দেওয়া আছে।
  • অনিয়মিত: আগে তৃতীয় বর্ষে উঠেছেন, কিন্তু ২০২২, ২০২৩ বা ২০২৪ সালের তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় বসেননি বা প্রমোটেড হননি।
  • গ্রেড উন্নয়ন: চতুর্থ বর্ষে উঠেছেন, কিন্তু তৃতীয় বর্ষের কোনো পত্রে F বা অনুপস্থিত আছে, অথবা প্রথমবারে C+, C বা D পাওয়া পত্রে গ্রেড বাড়াতে চান।

অন্য বর্ষ আর ডিগ্রির জন্য শিক্ষাবর্ষগুলো আলাদা, তবে কাঠামো একই। নিজের পরীক্ষার ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্তাবলী অংশটা আগে পড়ে নিন, বুঝবেন আপনি কোন ঘরে পড়েন।

২. নাম না থাকার সাধারণ কারণ

কারণকীভাবে বুঝবেনকে ঠিক করতে পারেন
ইনকোর্স বা উপস্থিতির নম্বর অনলাইনে জমা পড়েনিইনকোর্সে বসেননি, অথবা বিভাগ আপনার নম্বর তুলতে ভুলেছেবিভাগ, নম্বর এন্ট্রির শেষ তারিখের আগে
আগের বর্ষে প্রমোটেড হননিআগের বর্ষের ফলে Not Promoted লেখাআপনি নিজে, আগের বর্ষের পরীক্ষায় অনিয়মিত হিসেবে বসে
রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষভর্তির পর সাত শিক্ষাবর্ষ পেরিয়ে গেছেনিয়মিত পথে হয় না, পুরোনো শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশেষ সুযোগের বিজ্ঞপ্তি এলে তবেই
বিষয় বা তথ্যের অমিলরেজিস্ট্রেশন কার্ডের বিষয় আর বিভাগের রেকর্ড আলাদাকলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে

পুরোনো শিক্ষাবর্ষের জন্য মাঝে মাঝে আলাদা সুযোগ আসে। যেমন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের যাঁদের এক বা একাধিক পত্রে F আছে, তাঁরা ৫,০০০ টাকা জরিমানাসহ শুধু ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় ফরম পূরণের সুযোগ পেয়েছেন, রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ছাড়াই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, এবার ফরম পূরণ না করলে বা আবার অকৃতকার্য হলে পরে আর আবেদন করা যাবে না।

উপস্থিতির শর্তও দেখে নিন

নভেম্বর ২০২৫-এর সংশোধিত অনার্স রেগুলেশনে পরীক্ষায় বসতে ক্লাসে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে খবর এসেছে। কোন সেশন থেকে এটি কড়াকড়ি, নিজের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে মিলিয়ে নিন।

৩. ইনকোর্সের নম্বর: যেখানে সবচেয়ে বেশি আটকায়

অনার্স চতুর্থ বর্ষ ২০২৫-এর নিয়মাবলী অনুযায়ী কলেজ নিজ দায়িত্বে দুটি ইনকোর্স পরীক্ষা নেয়। মোট নম্বরের ১৫ শতাংশ ইনকোর্স আর ৫ শতাংশ ক্লাস উপস্থিতির জন্য। দুই ইনকোর্সের গড় করে চূড়ান্ত নম্বর বিভাগ EMS-এ এন্ট্রি দেয়। ইনকোর্স আর উপস্থিতির নম্বর ছাড়া ফরম পূরণ করা যায় না।

ধাপঅনার্স চতুর্থ বর্ষ ২০২৫-এর সময়
প্রথম ইনকোর্স পরীক্ষা১ থেকে ২৩ জুলাই ২০২৬
দ্বিতীয় ইনকোর্স পরীক্ষা২৩ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নম্বর অনলাইনে এন্ট্রিপ্রথমে ১৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, পরে বাড়িয়ে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত

নির্ধারিত সময়ের পর নম্বর এন্ট্রি করা যায় না, লিংক নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। আর একবার নম্বর ইনপুট দিলে তা বদলানো বা নতুন করে দেওয়া যায় না। তাই ইনকোর্স মিস করলে বা অসুস্থ থাকলে নম্বর এন্ট্রির আগেই বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলুন। এন্ট্রির সময় পেরিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় সময় বাড়ায় কি না, nu.ac.bd-র নোটিশে দেখুন।

৪. নাম তোলার ধাপ

বিভাগে যাওয়ার সময় সঙ্গে রাখুন

  • ১
    নিজে একবার চেষ্টা করুনems.nu.ac.bd-র স্টুডেন্ট লগইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ঢুকুন। ফরম না এলে স্ক্রিনশট রেখে দিন, বিভাগকে দেখাতে কাজে লাগবে।
  • ২
    বিভাগ ও পরীক্ষা শাখায় জানানকারণ জানতে চান: ইনকোর্স নম্বর জমা পড়েনি, আগের ফলের সমস্যা, নাকি তথ্যের অমিল। কারণ বুঝলেই পরের কাজ ঠিক হয়।
  • ৩
    কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করবেযোগ্যতা থাকলে কলেজ কাগজপত্রসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা বা আইসিটি দপ্তরে যোগাযোগ করে আপনার নাম সম্ভাব্য তালিকায় তোলার ব্যবস্থা নেবে। এটি কলেজের দায়িত্ব বলে বিজ্ঞপ্তিতেই লেখা।
  • ৪
    নাম উঠলে দেরি না করে ফরম পূরণফরম পূরণ করে প্রিন্ট নিন, ফিসহ বিভাগে জমা দিন। আবেদন, কলেজের নিশ্চয়ন আর টাকা জমা, তিনটির আলাদা শেষ তারিখ থাকে।

সময়টা কত কম, একটা উদাহরণে বোঝা যায়। অনার্স তৃতীয় বর্ষ ২০২৫-এর বর্ধিত সূচিতে শিক্ষার্থীর অনলাইন আবেদন চলেছে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত, কলেজের নিশ্চয়ন ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর, আর সোনালী সেবায় টাকা জমা ১৮ ও ১৯ অক্টোবর। আবেদনের শেষ দিনের পর নাম তোলার কাজ করতে গেলে হাতে থাকে মাত্র কয়েক দিন।

নিশ্চয়নের পর অভিযোগ চলে না

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কলেজের নিশ্চয়নের পর ফরম পূরণ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেওয়া হয় না। রেজিস্ট্রেশন কার্ডে লেখা বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয়ে ফরম পূরণ করলে আবেদন বাতিল হয়। বিবরণীতে নিজের বিষয়কোড দেখে তবেই সই করুন।

৫. অনেকে যা জানতে চান

তালিকায় আমার নাম আছে কি না নিজে কীভাবে বুঝব?
তালিকাটি বিশ্ববিদ্যালয় দেয়, কলেজ সেটি মিলিয়ে নিশ্চয়ন করে। আপনি ems.nu.ac.bd-র স্টুডেন্ট লগইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফরম খোলে কি না দেখতে পারেন। না খুললে বিভাগে জিজ্ঞেস করুন।
ফরম পূরণের সময় শেষ, নাম এখনো ওঠেনি। কী হবে?
সময় পেরোলে সাইট নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক কয়েকটি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় সময় বাড়িয়েছে, যেমন অনার্স তৃতীয় বর্ষ ২০২৫-এ আবেদনের সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তবে সময় বাড়বে ধরে নেবেন না, কলেজকে দিয়ে আগেভাগে কাজটা করান।
ইনকোর্স পরীক্ষা দিইনি। ফরম পূরণ করা যাবে?
অনার্স চতুর্থ বর্ষ ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ইনকোর্স ও উপস্থিতির নম্বর ছাড়া ফরম পূরণ করা যায় না, আর যাঁদের নম্বর এন্ট্রি থাকবে শুধু তাঁরাই তালিকায় আসবেন। তাই নম্বর এন্ট্রির শেষ তারিখের আগেই বিভাগের সঙ্গে কথা বলুন।
EMS-এ কারিগরি সমস্যা হলে কার কাছে যাব?
ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণত EMS সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ফোন নম্বর দেওয়া থাকে, যেমন অনার্স তৃতীয় বর্ষ ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি। ইনকোর্স নম্বর এন্ট্রির বিজ্ঞপ্তিতে থাকে কারিগরি সহায়তার ই-মেইল। কলেজের পরীক্ষা শাখাকে দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করানোই সবচেয়ে কার্যকর।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন