জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অনার্স ২য় বর্ষের ইংরেজি বাধ্যতামূলক পাস মার্ক ৪০: নন-ক্রেডিট হলেও ফেল করলে ডিগ্রি আটকে যায়

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬nu.ac.bd
অনার্স ২য় বর্ষের ইংরেজি বাধ্যতামূলক পাস মার্ক ৪০: নন-ক্রেডিট হলেও ফেল করলে ডিগ্রি আটকে যায়

সংক্ষেপে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে দ্বিতীয় বর্ষে একটি বাধ্যতামূলক ইংরেজি কোর্স থাকে। এর পাস নম্বর ৪০ শতাংশ, মানে ১০০-এর মধ্যে ৪০। ২০২৩-২৪ ও আগের সেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্সটি নন-ক্রেডিট, এর গ্রেড জিপিএতে যোগ হয় না। কিন্তু রেগুলেশনে স্পষ্ট লেখা, ইংরেজিতে অবশ্যই পাস করতে হবে, নইলে অনার্স ডিগ্রি পাওয়া যাবে না।

২০২৪-২৫ সেশন থেকে নিয়ম বদলেছে। নতুন সিলেবাসে দ্বিতীয় বর্ষের Functional English ১০০ নম্বরের, ৪ ক্রেডিটের কোর্স, যা অন্য কোর্সের মতো জিপিএতে যোগ হবে। পাস নম্বর আগের মতোই ৪০ শতাংশ। ইংরেজি অনার্সের শিক্ষার্থীরা এই কোর্সের আওতায় পড়েন না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস

অনার্সের বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস আর সবার জন্য বাধ্যতামূলক কোর্সের সিলেবাস এই পাতায়।

সিলেবাস দেখুন
এই লেখায়
  1. নন ক্রেডিট মানে কি
  2. অনার্স ২য় বর্ষের ইংরেজি বাধ্যতামূলক পাস মার্ক কত
  3. ইংরেজিতে ফেল করলে এখন কী করবেন
  4. পাস করতে কী পড়বেন
  5. ডিগ্রি পাস কোর্সে ইংরেজির নিয়ম
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. নন ক্রেডিট মানে কি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে প্রতিটি কোর্সের একটি ক্রেডিট থাকে, যেমন ৪ ক্রেডিট। ফল তৈরির সময় কোর্সের গ্রেড পয়েন্টকে ক্রেডিট দিয়ে গুণ করে জিপিএ হয়। নন-ক্রেডিট কোর্স হলো এমন কোর্স, যার নম্বর বা গ্রেড এই হিসাবে ঢোকে না। ২০০৯-১০ সালের সংশোধিত রেগুলেশনের গ্রেডিং অংশে লেখা আছে, নন-ক্রেডিট ইংরেজি বিষয়ের প্রাপ্ত গ্রেড জিপিএ গণনায় নেওয়া হবে না।

তাহলে এই কোর্স গুরুত্বহীন? একদম না। রেগুলেশনের আবশ্যিক ইংরেজি অংশে বলা হয়েছে, ইংরেজি বিষয়ে অবশ্যই পাস করতে হবে, অন্যথায় অনার্স ডিগ্রি দেওয়া হবে না। মানে জিপিএতে না গুনলেও পাস না করলে চার বছর পড়ে শেষে সনদ আটকে যায়।

নন-ক্রেডিট হলেও ক্লাস কম নয়। পুরোনো রেগুলেশনে কোর্সটিকে ৪ ক্রেডিটের ইংরেজি হিসেবেই পড়ানোর কথা বলা আছে, মোট ক্রেডিটের হিসাবে আলাদা করে লেখা থাকে ১২০ ক্রেডিট যোগ ৪ ক্রেডিট ইংরেজি নন-ক্রেডিট।

২. অনার্স ২য় বর্ষের ইংরেজি বাধ্যতামূলক পাস মার্ক কত

রেগুলেশনে সরাসরি লেখা: উক্ত নন-ক্রেডিট বিষয়ে পাশ নম্বর ৪০%। পুরোনো সিলেবাসে কোর্সটির কোড ছিল ৯৯৯৯, পূর্ণমান ১০০, পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা। তাই ১০০-এর মধ্যে ৪০ পেলেই পাস।

বিষয়২০২৩-২৪ ও আগের সেশন২০২৪-২৫ থেকে
কোর্সের নামEnglish (Compulsory)Functional English
কোন বর্ষেদ্বিতীয় বর্ষদ্বিতীয় বর্ষ
পূর্ণমান১০০১০০
ক্রেডিটনন-ক্রেডিট (৪ ক্রেডিটের সমান পাঠ)৪ ক্রেডিট, জিপিএতে যোগ হয়
পাস নম্বর৪০%৪০%, গ্রেড D
যাঁদের জন্য নয়ইংরেজি অনার্স, বিবিএইংরেজি অনার্স

বিবিএর বেলায় পুরোনো রেগুলেশনে নন-ক্রেডিট ইংরেজির বদলে দ্বিতীয় বর্ষে ৪ ক্রেডিটের Business Communication and Report Writing (In English) কোর্স ছিল। নতুন Functional English-এর সিলেবাস বিএ, বিএসসি, বিএসএস আর বিবিএ, সব শিক্ষার্থীর জন্য লেখা।

নিজের সেশন দিয়ে মিলিয়ে নিন

আপনার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে শিক্ষাবর্ষ লেখা থাকে। ২০২৩-২৪ বা আগের হলে পুরোনো নন-ক্রেডিট নিয়ম, ২০২৪-২৫ বা পরের হলে নতুন ৪ ক্রেডিটের নিয়ম।

একটা উদাহরণ। তানিয়া সমাজকর্মে অনার্স পড়েন, সেশন ২০২২-২৩। দ্বিতীয় বর্ষে সব বিভাগীয় কোর্সে ভালো গ্রেড পেলেও ইংরেজিতে পেয়েছেন ৩৬। তাঁর দ্বিতীয় বর্ষের জিপিএতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি, কারণ কোর্সটি নন-ক্রেডিট। কিন্তু ইংরেজিতে F থেকে যাওয়ায় পরের বছর আবার এই পরীক্ষায় বসতে হবে। পাস না করা পর্যন্ত চতুর্থ বর্ষ শেষেও তিনি অনার্স ডিগ্রির সনদ পাবেন না।

৩. ইংরেজিতে ফেল করলে এখন কী করবেন

  • ১
    ফলে বিষয়টি খুঁজুনদ্বিতীয় বর্ষের ফলের পাতায় ইংরেজির পাশে F আছে কি না দেখুন। পুরোনো নিয়মে এটা জিপিএতে না থাকলেও F আলাদা করে দেখা যায়।
  • ২
    পরের বছরের ফরম পূরণে নাম তুলুনদ্বিতীয় বর্ষের পরের পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় কলেজের মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়টি নির্বাচন করুন। কোন কোন কোর্সে বসা যাবে, তা সেই বছরের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে আসে।
  • ৩
    রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ মাথায় রাখুনঅনার্সের রেজিস্ট্রেশন শুরু থেকে সর্বোচ্চ সাত শিক্ষাবর্ষ। এর মধ্যে F পাওয়া কোর্সে অন্তত D তুলতে হয়, নইলে ডিগ্রি মেলে না।

পুরোনো সেশনের যাঁরা পাস না করে পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য ২০২৫ সালের নতুন রেগুলেশনে একটি স্থানান্তরের নিয়ম আছে। ২০২৩-২৪ বা আগের শিক্ষাবর্ষের কেউ কোনো কোর্সে পাস করতে ব্যর্থ হলে আগের সিলেবাস অনুযায়ীই পরীক্ষা দেবেন। মানে আপনার ইংরেজি কোর্স নন-ক্রেডিটই থাকবে, নতুন ৪ ক্রেডিটের কোর্সে বদলে যাবে না।

ইংরেজির ক্লাসে উপস্থিতি আর ইনকোর্সও অবহেলা করবেন না। ফরম পূরণের যোগ্যতায় উপস্থিতির শর্ত থাকে, আর কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রত্যয়ন ছাড়া ফরম পূরণ হয় না।

অনেকে ভাবেন ইংরেজি পরে দিলেই চলবে, আগে বিভাগের কোর্স সামলাই। এতে ঝুঁকি বাড়ে। তৃতীয় আর চতুর্থ বর্ষে বিভাগীয় কোর্সের চাপ বেশি, তখন পুরোনো একটি কোর্সের প্রস্তুতি আলাদা করে নেওয়া কঠিন হয়। সুযোগ পাওয়া মাত্র ইংরেজি পাস করে নেওয়াই ভালো।

৪. পাস করতে কী পড়বেন

নতুন Functional English সিলেবাসের লক্ষ্য লেখা আছে একাডেমিক ও পেশাগত কাজে ইংরেজি পড়া, লেখা, শোনা আর বলার দক্ষতা বাড়ানো। পুরোনো English (Compulsory) সিলেবাসেও ছিল রিডিং, গ্রামার, অনুচ্ছেদ আর বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ। দুই সিলেবাসই সবার জন্য একই, বিভাগভেদে আলাদা নয়।

পরীক্ষার আগে যা গুছিয়ে নেবেন

একটা হিসাব মাথায় রাখুন। ৪০ পেতে হলে সব প্রশ্নের উত্তর নিখুঁত হওয়ার দরকার নেই, কিন্তু কোনো প্রশ্ন বাদ দেওয়া ঝুঁকির। চার ঘণ্টার পরীক্ষায় সময় ভাগ করে সব প্রশ্নে অন্তত কিছু লিখে আসুন।

৫. ডিগ্রি পাস কোর্সে ইংরেজির নিয়ম

ডিগ্রি (পাস) কোর্সেও ইংরেজি বাধ্যতামূলক। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর নতুন সিলেবাসে বিএ, বিএসসি, বিবিএস ও বিএসএস (পাস) প্রথম বর্ষে Functional English ১০০ নম্বরের, ৪ ক্রেডিটের কোর্স।

ডিগ্রি ইংরেজি পাস মার্ক কত, তা আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ডিগ্রি সিলেবাসে আলাদা করে পাইনি। নিজের কলেজের পরীক্ষা শাখা বা ডিগ্রির রেগুলেশন দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন, অনুমানে ভরসা করবেন না।

৬. অনেকে যা জানতে চান

অনার্স ২য় বর্ষ ইংরেজিতে কত পেলে পাশ?
১০০ নম্বরের মধ্যে ৪০, মানে ৪০ শতাংশ। পুরোনো নন-ক্রেডিট কোর্স আর নতুন Functional English, দুটিতেই পাস নম্বর ৪০ শতাংশ।
নন-ক্রেডিট ইংরেজিতে ফেল করলে কি সিজিপিএ কমে?
না। নন-ক্রেডিট ইংরেজির গ্রেড জিপিএতে যোগ হয় না। কিন্তু পাস না করলে অনার্স ডিগ্রি দেওয়া হয় না, তাই রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদের মধ্যে পাস করতেই হবে।
ইংরেজি অনার্সের শিক্ষার্থীদের কি এই কোর্স আছে?
না। পুরোনো রেগুলেশনে ইংরেজি অনার্সে নন-ক্রেডিট ইংরেজি বাধ্যতামূলক ছিল না, বিবিএতে ছিল ইংরেজিতে বিজনেস কমিউনিকেশন কোর্স। নতুন Functional English-ও ইংরেজি অনার্সের জন্য নয়।
২০২৪-২৫ সেশনের ইংরেজি কি এখন জিপিএতে যোগ হবে?
হ্যাঁ। ২০২৪-২৫ সেশনের দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাসে Functional English ৪ ক্রেডিটের কোর্স হিসেবে বর্ষের মোট ক্রেডিটের মধ্যে ধরা আছে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ডিগ্রি ভর্তি ২০২৬: আবেদনের শেষ তারিখ, যোগ্যতা, ফি আর মেধাতালিকা

২০২৫-২৬ সেশনের ডিগ্রি পাস ভর্তির আবেদন ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। কারা পারবেন, ছবির মাপ, কলেজে ফি আর মেধাতালিকা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

মাস্টার্স ভর্তি ২০২৬ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: যোগ্যতা, আবেদন, ফি আর কাগজ

২০২৪-২৫ সেশনের মাস্টার্স (নিয়মিত) আবেদন ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪৫% বা সিজিপিএ ২.২৫ শর্ত, অঙ্গীকারনামা আর কলেজে যা জমা দেবেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল: কখন লাগে, কত টাকা, কাগজ ফেরত পাবেন যেভাবে

অনার্স, ডিগ্রি আর মাস্টার্সে ভর্তি বাতিলের ফি, দ্বৈত ভর্তির নিয়ম, পুনর্বহাল আর কলেজ থেকে মূল সনদ ফেরতের নিয়ম।

অনেকে খোঁজেন