জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অনার্স ভাইভা পরীক্ষা: কোন বর্ষে কত নম্বর, ফেল বা অনুপস্থিত হলে কী হয়, আর পাস মার্ক ৪০%

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬nu.ac.bd
অনার্স ভাইভা পরীক্ষা: কোন বর্ষে কত নম্বর, ফেল বা অনুপস্থিত হলে কী হয়, আর পাস মার্ক ৪০%

সংক্ষেপে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা আলাদা একটি কোর্স, এর নম্বর ও ক্রেডিট ফলে যোগ হয়। ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীদের ভাইভা হয় চতুর্থ বর্ষে, ৪ ক্রেডিটের। ২০২৪-২৫ সেশন থেকে নতুন রেগুলেশনে ভাইভা দ্বিতীয় আর চতুর্থ বর্ষে, প্রতিটি ২ ক্রেডিটের।

দুই নিয়মেই পাস নম্বর ৪০ শতাংশ, আর ভাইভায় গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ নেই। নতুন রেগুলেশনে ভাইভায় ফেল করলে শুধু একবার পরের শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আবার বসা যায়। যুক্তিসংগত কারণে অনুপস্থিত হলে উপাচার্যের অনুমোদনে, বাড়তি ফি দিয়ে বিশেষ ভাইভার সুযোগ আছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ

ভাইভার সময়সূচি আর কেন্দ্র তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ পাতায় আসে।

নোটিশ দেখুন
এই লেখায়
  1. অনার্স ভাইভা পরীক্ষা কোন বর্ষে, কত নম্বরের
  2. ভাইভা পরীক্ষা কিভাবে নেয়া হয়
  3. অনার্স ভাইভা না দিলে কি হয়
  4. ভাইভায় ফেল করলে
  5. অনার্স ভাইভা প্রস্তুতি
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. অনার্স ভাইভা পরীক্ষা কোন বর্ষে, কত নম্বরের

আপনার সেশন কোনটা, তার ওপর নিয়ম নির্ভর করে। রেজিস্ট্রেশন কার্ডে শিক্ষাবর্ষ দেখে নিচের সারণি মিলিয়ে নিন:

বিষয়২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ সেশন২০২৪-২৫ সেশন থেকে
কোন বর্ষে ভাইভাশুধু চতুর্থ বর্ষদ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ষ
ক্রেডিট৪প্রতিবার ২
পাস নম্বর৪০%৪০%, গ্রেড পয়েন্ট ২
গ্রেড উন্নয়ননেইনেই

পুরোনো রেগুলেশনের ক্রেডিট বণ্টনের সারণিতে বিএ, বিএসএস, বিবিএ আর বিএসসি, চারটি প্রোগ্রামেই মৌখিক ৪ ক্রেডিট, চতুর্থ বর্ষে। ২০১৩-১৪ সেশনের আগের বিএসএস ও বিবিএ শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে ২ ক্রেডিটের মৌখিক ও টার্ম পেপার ছিল। নতুন সিলেবাসে, যেমন অর্থনীতির দ্বিতীয় বর্ষে, ভাইভা ৫০ নম্বরের, ২ ক্রেডিট।

একটা হিসাবে গুরুত্বটা বোঝা যায়। পুরোনো নিয়মে চার বছরে মোট ক্রেডিট ১২০ থেকে ১২৮, তার ৪ ক্রেডিট ভাইভার। মানে একটি পূর্ণ তত্ত্বীয় কোর্সের সমান ওজন। নতুন নিয়মে দুই দফায় ২ করে ৪ ক্রেডিট, ভাগ হয়ে যায় দ্বিতীয় আর চতুর্থ বর্ষে। তাই দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই ভাইভাকে আলাদা পরীক্ষা হিসেবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

২. ভাইভা পরীক্ষা কিভাবে নেয়া হয়

২০২৫ সালের সংশোধিত রেগুলেশন অনুযায়ী মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত তারিখের মধ্যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো শিক্ষক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে। অভ্যন্তরীণ আর বহিরাগত পরীক্ষক মিলে পরীক্ষা নেন। একদিনে সর্বোচ্চ ১০০ জনের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া যায়।

  • ১
    নোটিশ দেখুনলিখিত পরীক্ষা শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় ভাইভার সময়সূচি আর কেন্দ্র তালিকা দেয়। ব্যবহারিক ও মৌখিকের কেন্দ্র তালিকা অনেক সময় লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে আলাদা।
  • ২
    কলেজ থেকে নিজের দিন জানুনকোন দিন, কোন সময়, কোন কক্ষে আপনার পালা, কলেজের বিভাগ জানিয়ে দেয়। বিভাগীয় নোটিশ বোর্ডে চোখ রাখুন।
  • ৩
    নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হোনকলেজের নোটিশে যে কাগজ আনতে বলা হয়, সঙ্গে নিন। সময়ের আগে পৌঁছান, কারণ একদিনে অনেকের পালা থাকে।
  • ৪
    নম্বর যায় অনলাইনেপরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে কলেজ নম্বর অনলাইনে ও অফলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। তারপর লিখিত ফলের সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত ফল হয়।

মৌখিক আর ব্যবহারিক পরীক্ষা এক জিনিস নয়। ব্যবহারিক হয় বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে, ল্যাবে, একদিনে সর্বোচ্চ ৩০ জন। মৌখিক বা ভাইভা সব বিভাগে, প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে। দুটোর নম্বরই অভ্যন্তরীণ আর বহিরাগত পরীক্ষক আলাদাভাবে জমা দেন।

৩. অনার্স ভাইভা না দিলে কি হয়

ভাইভা ঐচ্ছিক নয়। দুই রেগুলেশনেই বলা আছে, সব কোর্সে আর মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। নতুন রেগুলেশনে অনার্স ডিগ্রির শর্তে লেখা, সব তত্ত্বীয়, ব্যবহারিক, মাঠকর্ম ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.০০ পেতে হবে। আর কোনো কোর্সের পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে কোনো ডিগ্রিই দেওয়া হয় না।

অনুপস্থিত হলে দ্রুত আবেদন করুন

নতুন রেগুলেশনে কেউ বিশেষ কারণে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে, লিখিত প্রমাণসহ, ফল প্রকাশের আগে নির্ধারিত বাড়তি ফি দিয়ে উপাচার্যের অনুমোদনে বিশেষ বিবেচনায় ভাইভা দিতে পারেন। সেই ভাইভার সব খরচ পরীক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। ফল প্রকাশের পর এই সুযোগ থাকে না, তাই দেরি করবেন না।

যেমন ধরুন, ভাইভার দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালের কাগজ নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় প্রধান আর অধ্যক্ষের মাধ্যমে আবেদন করুন। কাগজে তারিখ আর রোগের বিবরণ পরিষ্কার থাকা দরকার।

৪. ভাইভায় ফেল করলে

ভাইভায় ৪০ শতাংশের কম পেলে কোর্সটি F। নতুন রেগুলেশনে বলা আছে, মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হলে একজন শিক্ষার্থী শুধু একবার পরের শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান। তাই দ্বিতীয় সুযোগটা হেলাফেলা করার মতো নয়।

ভাইভায় পাস করার পর নম্বর বাড়ানোর জন্য আবার বসার সুযোগ নেই। পুরোনো রেগুলেশনেও লেখা ছিল, ইনকোর্স, মৌখিক আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় গ্রেড উন্নয়নের কোনো সুযোগ থাকবে না। মানে ভাইভায় যে গ্রেড পাবেন, সেটাই সিজিপিএতে যাবে।

চতুর্থ বর্ষের ৪ ক্রেডিটের ভাইভা সিজিপিএতে কম প্রভাব ফেলে না। ধরুন কেউ লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেও ভাইভায় C পেলেন। চার ক্রেডিটের একটি কোর্সে কম গ্রেড পুরো সিজিপিএকে টেনে নামায়, আর চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া সিজিপিএর সীমা থেকে অল্পের জন্য পিছিয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

তাই প্রথম সুযোগেই পাস করার চেষ্টা করুন। দ্বিতীয়বারেও না হলে কী হবে, সেটা রেগুলেশনে আলাদা করে বলা নেই, সেই অবস্থায় কলেজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত জেনে নিন।

৫. অনার্স ভাইভা প্রস্তুতি

ভাইভার আগের সপ্তাহে

ভাইভার দিন যে ভুলগুলো বারবার দেখা যায়:

  • ফেসবুক গ্রুপের গুজবে তারিখ ধরে বসে থাকা, বিভাগের নোটিশ না দেখা
  • নিজের রোল কোন দিনের তালিকায় তা না মিলিয়ে ভুল দিনে যাওয়া
  • কলেজের চাওয়া কাগজ ভুলে যাওয়া
  • দেরিতে পৌঁছে পালা পেরিয়ে যাওয়া

প্রশ্ন না পারলে বানিয়ে উত্তর না দিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বলুন জানা নেই, তারপর কাছাকাছি যা জানেন তা বলুন। পরীক্ষকেরা সাধারণত বিষয়ের মৌলিক ধারণা আর বলার স্বচ্ছতা দেখেন। পোশাকের কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম রেগুলেশনে নেই, কলেজ আলাদা নির্দেশনা দিলে সেটা মানুন।

৬. অনেকে যা জানতে চান

viva exam honours 4th year কত নম্বরের?
২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষের মৌখিক পরীক্ষা ৪ ক্রেডিটের। ২০২৪-২৫ সেশন থেকে চতুর্থ বর্ষে ২ ক্রেডিট, আর দ্বিতীয় বর্ষেও ২ ক্রেডিটের একটি ভাইভা থাকছে।
অনার্স ভাইভা না দিলে কি হয়?
মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। অনুপস্থিত থাকলে ডিগ্রি আটকে যায়। নতুন রেগুলেশনে লিখিত প্রমাণসহ ফল প্রকাশের আগে বাড়তি ফি দিয়ে উপাচার্যের অনুমোদনে বিশেষ ভাইভার সুযোগ আছে।
ভাইভায় কত পেলে পাস?
৪০ শতাংশ, গ্রেড D, গ্রেড পয়েন্ট ২। এর কম পেলে কোর্সটি F হয়।
ভাইভায় ফেল করলে কতবার আবার দেওয়া যায়?
২০২৫ সালের রেগুলেশন অনুযায়ী শুধু একবার, পরের শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ডিগ্রি ভর্তি ২০২৬: আবেদনের শেষ তারিখ, যোগ্যতা, ফি আর মেধাতালিকা

২০২৫-২৬ সেশনের ডিগ্রি পাস ভর্তির আবেদন ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। কারা পারবেন, ছবির মাপ, কলেজে ফি আর মেধাতালিকা।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

মাস্টার্স ভর্তি ২০২৬ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: যোগ্যতা, আবেদন, ফি আর কাগজ

২০২৪-২৫ সেশনের মাস্টার্স (নিয়মিত) আবেদন ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪৫% বা সিজিপিএ ২.২৫ শর্ত, অঙ্গীকারনামা আর কলেজে যা জমা দেবেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বাতিল: কখন লাগে, কত টাকা, কাগজ ফেরত পাবেন যেভাবে

অনার্স, ডিগ্রি আর মাস্টার্সে ভর্তি বাতিলের ফি, দ্বৈত ভর্তির নিয়ম, পুনর্বহাল আর কলেজ থেকে মূল সনদ ফেরতের নিয়ম।

অনেকে খোঁজেন