
সংক্ষেপে
ফলে F মানে ওই পত্রে ৪০ শতাংশের কম নম্বর। খাতা ঠিকমতো দেখা হয়নি মনে হলে ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যে আসা পুনঃমূল্যায়নের বিজ্ঞপ্তি ধরে অনলাইনে আবেদন করুন, সময় থাকে মোটামুটি দুই সপ্তাহ। আর F না বদলালে পরের বছর ফরম পূরণের সময় ওই পত্রে আবার বসতে হয়, রেজিস্ট্রেশনের সাত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে।
পরীক্ষা দিয়েও কোনো পত্রে অনুপস্থিত দেখালে বা কোনো পত্রের নম্বর না এলে পুনঃমূল্যায়নে কাজ হবে না। হাজিরা শিট আর ইনকোর্স ও ব্যবহারিকের নম্বর কলেজের হাত দিয়েই যায়, তাই প্রবেশপত্র নিয়ে সেদিনই কলেজের পরীক্ষা শাখায় যান।
আবেদনের ফল আসে ফলাফল আর্কাইভের Revaluation Result অংশে।
এই লেখায়
১. ফলে কোন শব্দের মানে কী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ফলে প্রতিটি পত্রের পাশে গ্রেড থাকে, আর প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষে নিচে লেখা থাকে পরের বর্ষে ওঠার অবস্থা। ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে শর্তগুলো এভাবে লেখা:
| ফলে যা দেখছেন | মানে | এরপর আপনার কাজ |
|---|---|---|
| কোনো পত্রে F | ওই পত্রে ৪০ শতাংশের কম নম্বর | খাতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে পুনঃমূল্যায়ন, না হলে পরের বছর ওই পত্রে আবার পরীক্ষা |
| Conditional Promoted | একটি পত্রে অনুপস্থিত, বাকি সব পত্রে D বা তার বেশি | পরের বর্ষে উঠেছেন, তবে পরের বছর ওই পত্রের পরীক্ষা দিতেই হবে |
| Not Promoted | একাধিক পত্রে অনুপস্থিত, অথবা একটিতে অনুপস্থিত আর আরেকটিতে F | পরের বছর অনুপস্থিত আর F পাওয়া পত্রগুলোতে আবার বসতে হবে |
| পত্রে অনুপস্থিত, অথচ পরীক্ষা দিয়েছেন | হাজিরা বা নম্বর জমায় কোথাও গরমিল | প্রবেশপত্র নিয়ে কলেজের পরীক্ষা শাখায় যান |
পরের বর্ষে উঠতে সব পত্রের পরীক্ষায় বসা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ তত্ত্বীয় পত্রে D বা তার বেশি পেতে হয়, আর ব্যবহারিকে পাস করতে হয়। তাই কয়েকটি F থাকলেও Promoted লেখা থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রেও F পাওয়া পত্রগুলো পরে তুলতেই হবে।
২. পুনঃমূল্যায়ন কখন কাজে আসে
পুনঃমূল্যায়নের আবেদন হয় প্রকাশিত ফলের উত্তরপত্রের জন্য, পত্রকোড ধরে। ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি আসে, আবেদনের সময় থাকে মোটামুটি দুই সপ্তাহ। ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল এসেছিল ৩১ আগস্ট ২০২৬, পুনঃমূল্যায়নের আবেদন চলেছে ৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর। এই বছরের ফি ছিল প্রতি পত্র ১,২০০ টাকা। অন্য পরীক্ষার ফি আলাদা হতে পারে, নিজের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
আবেদনের আগে হাতে রাখুন
- ১আবেদন ফরম খুলুনnu.ac.bd-র Services মেনুতে Re-Evaluation (পুনঃমূল্যায়ন) লিংক আছে। পরীক্ষার নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, নাম আর মোবাইল নম্বর দিন।
- ২পত্রকোড বাছুনতালিকা থেকে একাধিক পত্র বাছা যায়। জমার আগে বাছাই করা কোডগুলো একটি বার্তায় দেখায়, কোড ঠিক থাকলে OK, না থাকলে Cancel চাপুন। বিজ্ঞপ্তিতেও পত্রকোড যথাযথভাবে পূরণ করতে বলা আছে।
- ৩টাকা জমা দিনPay slip নামিয়ে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায়, অথবা অনলাইন গেটওয়েতে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডে টাকা দিন। টাকা জমা হলেই আবেদন শেষ, কোনো কপি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হয় না।
- ৪টাকা জমা হয়েছে কি না দেখুনএকই পাতায় Check Payment বোতাম আছে। টাকা কাটার পর সন্দেহ থাকলে সেখানে মিলিয়ে নিন, আর লেনদেনের নম্বর লিখে রাখুন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে ফরম পূরণ, Pay slip নামানো বা টাকা জমা দেওয়া যায় না। ফল বেরোনোর পরের দুই সপ্তাহ nu.ac.bd-র নোটিশে রোজ একবার চোখ রাখুন।
৩. পরীক্ষা দিয়েও অনুপস্থিত, বা কোনো পত্রের নম্বর নেই
এই সমস্যার উৎস সাধারণত খাতার নম্বর নয়। পরীক্ষার হাজিরা শিট কলেজ EMS থেকে নামায়, আর ইনকোর্স ও ব্যবহারিকের নম্বর কলেজ বা কেন্দ্রই অনলাইনে পাঠায়। ২২ অক্টোবর ২০২৫-এর পরীক্ষা সংক্রান্ত অনলাইন সেবার তালিকাতেও ফল সংশোধনের কোনো সেবা নেই। তাই পথটা কলেজের ভেতর দিয়েই।
- ১দেরি না করে পরীক্ষা শাখায় যানপ্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড আর ফলের প্রিন্ট নিয়ে নিজের বিভাগ ও কলেজের পরীক্ষা শাখায় যান। কোন পত্র, কোন দিনের পরীক্ষা, তা লিখে নিয়ে যান।
- ২হাজিরা আর নম্বরের রেকর্ড মেলাতে বলুনকলেজ দেখবে সেদিনের হাজিরা শিটে আপনার সই আছে কি না, আর ইনকোর্স ও ব্যবহারিকের নম্বর ঠিক রেজিস্ট্রেশন নম্বরে জমা পড়েছিল কি না।
- ৩লিখিত আবেদন কলেজের মাধ্যমেগরমিল পাওয়া গেলে বিষয়টি সাধারণত কলেজের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠাতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত সেবায় অধ্যক্ষের সুপারিশ ছাড়া আবেদন নেওয়া হয় না, তাই আবেদনে অধ্যক্ষের সই করিয়ে নিন। আবেদন আর জমা দেওয়া কাগজের ফটোকপি নিজের কাছে রাখুন।
ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে, প্রকাশিত ফলে কোনো অসংগতি বা ভুলত্রুটি ধরা পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় তা সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে। তবে ইনকোর্সের নম্বর নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে, একবার নম্বর ইনপুট দেওয়ার পর তা আর বদলানো যায় না। ইনকোর্সে বসে থাকলে নম্বর জমার সময়েই বিভাগে খোঁজ নিন।
ফল বদলে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাওয়া কোনো পেজ বা ব্যক্তির কথায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় নিজেও বিজ্ঞপ্তিতে বলে, nu.ac.bd-তে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বাইরের কোনো তথ্য অনুসরণ না করতে।
৪. F থেকে উঠবেন যেভাবে
F তোলার জন্য আলাদা আবেদন নেই। পরের বছর ওই বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় অনিয়মিত বা গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করতে হয়। ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষের বিজ্ঞপ্তির নিয়মগুলো:
- F পাওয়া পত্রে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদের মধ্যে, মানে শুরু থেকে সাত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে, অন্তত D তুলতে হবে।
- F থেকে D বা তার ওপরে উঠে গেলে ওই পত্রে আর গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ থাকে না।
- অনিয়মিত বা গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীকে প্রতি পত্রের ফির ওপর অতিরিক্ত ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে, Conditional Promoted পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ১,৫০০ টাকা।
- ইনকোর্স আর ব্যবহারিক পরীক্ষায় গ্রেড উন্নয়ন হয় না।
- একই সঙ্গে প্রথমবারে C+, C বা D পাওয়া সর্বোচ্চ দুটি পত্রে গ্রেড উন্নয়ন দেওয়া যায়, তবে তাতে A- এর বেশি পাওয়া যায় না।
পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করে ফলের অপেক্ষায় থাকলেও পরের বছরের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন। বিভাগকে আগেই জানিয়ে রাখুন কোন পত্রে আবার বসতে হতে পারে, কারণ ফরম পূরণের আগে কলেজকে ইনকোর্সের নম্বরও অনলাইনে জমা দিতে হয়, আর সেই নম্বর ছাড়া সম্ভাব্য তালিকায় নাম আসে না।
৫. অনেকে যা জানতে চান
পুনঃমূল্যায়নের ফল কোথায় দেখব?
Conditional Promoted হলে কি পরের বর্ষে ক্লাস করতে পারব?
ভুল পত্রকোডে পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করে ফেলেছি, এখন?
F থাকলে কি সমন্বিত ফল বা CGPA আসবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।