
সংক্ষেপে
জিপিএফ ব্যালেন্স অনলাইনে দেখা যায় অর্থ বিভাগের প্রধান হিসাবরক্ষণ অফিস, পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্টের (CAFO PFM) ওয়েবসাইটে। GPF Information বোতামে চাপ দিয়ে ১৭ ডিজিটের NID বা ১০ ডিজিটের স্মার্ট কার্ড নম্বর আর বেতনের EFT-র জন্য নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিলে সেই নম্বরে OTP যায়। OTP মিললে হিসাব দেখার পাতা খোলে।
সবচেয়ে বেশি আটকায় মোবাইল নম্বরে। যে নম্বরটি iBAS++-এ আপনার বেতনের তথ্যে আছে, শুধু সেটিই চলবে। নম্বর বদলে থাকলে নিজের হিসাবরক্ষণ অফিসে গিয়ে হালনাগাদ করাতে হয়।
হোমপেজের GPF Information বোতাম থেকে নিজের জিপিএফ হিসাব দেখা যায়।
এই লেখায়
১. জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম, ধাপে ধাপে
শুরু করার আগে হাতে রাখুন
- ১সাইটটি খুলুনমোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে প্রধান হিসাবরক্ষণ অফিস, পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্টের সাইট খুলুন। হোমপেজে GPF Information অংশে বোতামটি আছে।
- ২NID নম্বর দিনNID/Smart ID ঘরে ১৭ ডিজিটের NID বা ১০ ডিজিটের স্মার্ট কার্ড নম্বর লিখুন। পুরোনো ১৩ ডিজিটের কার্ড হলে সামনে জন্মসাল বসিয়ে ১৭ ডিজিট করে নিন।
- ৩EFT-র মোবাইল নম্বর দিনPhone No ঘরে সেই নম্বরটি দিন, যেটি বেতনের EFT-র জন্য নিবন্ধিত। এরপর Submit চাপুন।
- ৪OTP বসানতথ্য মিললে ওই নম্বরে OTP আসে। OTP দিয়ে যাচাই শেষ হলে অর্থবছরভিত্তিক হিসাব দেখার পাতায় নিয়ে যাবে।
- ৫হিসাব মিলিয়ে নিননিজের নাম, NID আর জিপিএফ হিসাব নম্বর ঠিক আছে কি না আগে দেখুন। তারপর অঙ্কগুলো নিজের বেতন বিবরণীতে কাটা চাঁদা আর অগ্রিমের কিস্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
উদাহরণ ধরুন, আপনার পুরোনো কার্ডের নম্বর ১৩ ডিজিটের আর জন্মসাল ১৯৮৮। তাহলে নম্বরের শুরুতে ১৯৮৮ বসিয়ে ১৭ ডিজিট করে লিখবেন। সাইটের নির্দেশনাতেও এটাই বলা আছে।
২. কোন মোবাইল নম্বর লাগবে, আর কেন সেটা নিয়েই ঝামেলা
সাইটটি আপনার দেওয়া NID আর মোবাইল নম্বর মিলিয়ে দেখে বেতনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে। তাই এখানে আপনার এখনকার ব্যক্তিগত নম্বর নয়, বেতনের EFT-র জন্য যে নম্বর নিবন্ধিত আছে সেটাই লাগবে। অনেকে পরে সিম বদলেছেন কিন্তু অফিসে জানাননি, তাঁদের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়।
একটা সাধারণ ঘটনা ধরুন। মাহমুদ সাহেব ২০১৯ সালে চাকরিতে যোগ দেন, তখন বেতনের ফরমে দিয়েছিলেন পুরোনো একটি নম্বর। ২০২৩ সালে সেই সিম হারিয়ে নতুন নম্বর নেন, কিন্তু অফিসে জানাননি। এখন নতুন নম্বর দিলে সাইট বলবে তথ্য মেলেনি, আর পুরোনো নম্বর দিলে OTP যাবে এমন সিমে যেটা তাঁর হাতে নেই। এ অবস্থায় দুটি পথ আছে: একই নম্বরের সিম অপারেটর থেকে তুলে নেওয়া, অথবা অফিসে নম্বর হালনাগাদ করানো।
মিল না হলে পর্দায় ইংরেজিতে লেখা আসে, The NID or mobile number that you have entered does not match with our database. এর মানে দুটি তথ্যের অন্তত একটি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলছে না।
| কী হচ্ছে | সম্ভাব্য কারণ | যা করবেন |
|---|---|---|
| does not match লেখা আসছে | পুরোনো বা ভিন্ন মোবাইল নম্বর দিয়েছেন | বেতনের EFT ফরমে কোন নম্বর ছিল, অফিসের হিসাব শাখায় জেনে সেটি দিন |
| does not match লেখা আসছে | ১৩ ডিজিটের NID সরাসরি লিখেছেন | সামনে জন্মসাল বসিয়ে ১৭ ডিজিট করুন, অথবা স্মার্ট কার্ডের ১০ ডিজিট দিন |
| OTP আসছে না | নম্বরটি বন্ধ বা সিম হাতে নেই | সিম চালু করুন, নয়তো হিসাবরক্ষণ অফিসে নতুন নম্বর হালনাগাদ করান |
| সাইট তথ্য দেখাচ্ছে না | বেতন এখনো iBAS++ এর বাইরে থেকে হলে এমন হতে পারে | নিজের হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে জিপিএফ হিসাব বিবরণী চেয়ে নিন |
জিপিএফ হিসাব দেখার OTP শুধু আপনার কাজে লাগে। কেউ অফিসের লোক পরিচয়ে ফোন করে OTP বা টাকা চাইলে দেবেন না, বিষয়টি নিজের অফিসে জানান।
৩. মোবাইল নম্বর বদলে গেলে বা তথ্য না মিললে কোথায় যাবেন
নম্বর হালনাগাদের কাজ অনলাইনে নিজে করা যায় না। যে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে আপনার বেতন হয়, সেখানে বা নিজের দপ্তরের হিসাব শাখার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। সঙ্গে NID আর সাম্প্রতিক বেতন বিবরণীর কপি রাখলে কাজ দ্রুত হয়।
- প্রধান হিসাবরক্ষণ অফিস, পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্টের হেল্পলাইন: +৮৮০ ৯৬০৯ ০০০ ৫৫৫, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া।
- অফিসের ঠিকানা: হিসাব ভবন (৩য় তলা), সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।
- জিপিএফ হিসাব খোলার ফরম, নমিনি ফরম আর নমিনি পরিবর্তনের ফরম একই সাইটের Forms অংশে পাওয়া যায়।
৪. ব্যালেন্স দেখে যে প্রশ্নগুলো মাথায় আসে
হিসাব খুলে অনেকেই দেখেন সহকর্মীর চেয়ে তাঁর স্থিতি কম, অথচ চাঁদা একই হারে কাটে। দপ্তরের প্রশ্নোত্তর অংশে এর ব্যাখ্যা আছে: অগ্রিম তুললে সেই টাকা জিপিএফ স্থিতি থেকে বিয়োগ হয়, তাই স্থিতি কমে দেখায়। অগ্রিম তোলার পরের মাসের বেতন বিল থেকে তোলা টাকার ওপর মুনাফা পাওয়া যায় না।
অনলাইনে হিসাব দেখা গেলেও কাগুজে হিসাব বিবরণীর দরকার পড়ে অনেক কাজে, যেমন অগ্রিমের আবেদন, ঋণ বা আয়কর রিটার্ন। তখন সাইটের পাতা প্রিন্ট করে রাখা যায়, তবে দাপ্তরিক কাজে অফিস সাধারণত হিসাবরক্ষণ অফিসের দেওয়া বিবরণীই চায়। কোনটা লাগবে, যে দপ্তরে জমা দেবেন সেখানে আগে জেনে নিন।
- চাঁদার হার মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫% থেকে সর্বোচ্চ ২৫%।
- চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে তহবিলে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক, চাইলে আগেও যোগ দেওয়া যায়।
- অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরের শুরুতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের পর চাঁদার অঙ্ক ঠিক করা যায়। iBAS++ ব্যবহারকারীদের জন্য জিপিএফ অপশন EDIT করার সুযোগ খোলা থাকে আগস্ট মাসের বেতন দাখিল পর্যন্ত।
- অগ্রিমের টাকা চালানে জমা দিয়ে শোধ করা যায় না, বেতন থেকে কিস্তিতে কাটা হয়।
কোনো মাসের চাঁদা না দেখালে বা অগ্রিমের কিস্তি দুবার কাটা দেখালে সেই মাসের বেতন বিবরণীর কপি নিয়ে নিজের হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করুন। আপনার জিপিএফ হিসাব সেই অফিসই রাখে।
৫. অনেকে যা জানতে চান
জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করতে কোন মোবাইল নম্বর লাগে?
১৩ ডিজিটের NID দিয়ে কি জিপিএফ ব্যালেন্স দেখা যায়?
gpf balance check on mobile করতে কি কোনো অ্যাপ লাগে?
অগ্রিম নেওয়ার পর ব্যালেন্স কম দেখাচ্ছে কেন?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।