
সংক্ষেপে
সরকারি চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। নিয়োগকারী দপ্তর প্রার্থীকে একটি নির্দিষ্ট ফরম দেয়, যার নাম পুলিশ প্রত্যয়ন বিবরণী ফরম। বিপিএসসি একে বলে প্রাক্-চাকরি বৃত্তান্ত যাচাই ফরম। প্রথম ভাগ আপনি পূরণ করেন, দ্বিতীয় ভাগে জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চ লেখে আপনি উপযুক্ত কি না।
চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনে কি কি কাগজ লাগে, তার মূল উত্তর ফরমেই আছে: শেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের দেওয়া চারিত্রিক সনদ, অনাত্মীয় দুজন পরিচয়দাতার নাম-ঠিকানা, আর এসএসসি সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখসহ নির্ভুল ঠিকানা। দপ্তর বাড়তি কিছু চাইলে তা নিয়োগপত্র বা নোটিশে লেখা থাকে।
বিসিএসের প্রাক্-চাকরি বৃত্তান্ত যাচাই ফরম এখানে পাওয়া যায়। অন্য চাকরিতে ফরম দেয় নিয়োগকারী দপ্তর।
এই লেখায়
১. চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম কোথায় পাবেন
ফরমটি দেয় যে দপ্তর আপনাকে নিয়োগ দিচ্ছে। সাধারণত নিয়োগের সুপারিশ বা নিয়োগপত্রের সঙ্গে নোটিশে বলা থাকে কবে, কয় কপি জমা দিতে হবে। অনেক দপ্তর ফরমটি নিজের ওয়েবসাইটেও রাখে, যেমন বাংলাদেশ বেতারের বার্তা সংস্থা বা পরিসংখ্যান ব্যুরো।
বিসিএসে ফরমটি বিপিএসসির ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি বলছে, ফরমটি নামিয়ে পূরণ ও স্বাক্ষর করে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে তিন কপি জমা দিতে হবে।
দপ্তরভেদে ফরমের চেহারা একই ধাঁচের, সরকারি মুদ্রণালয়ের ছাপা চার পাতার ফরম। তবু যে দপ্তরে যোগ দেবেন, তাদের দেওয়া কপিটিই ব্যবহার করুন।
২. পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করার নিয়ম: ১৪টি ঘর
ফরমের প্রথম ভাগ প্রার্থী নিজে পূরণ করেন। ফরমের শুরুতেই সতর্ক করা আছে, কোনো ঘর বাদ গেলে যাচাইয়ে দেরি হতে পারে আর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ঘরগুলো মোটামুটি এ রকম:
- ডাকনামসহ পুরো নাম, বড় হাতের অক্ষরে, আর জাতীয়তা
- বাবার পুরো নাম, চাকরি করলে পদের নাম, আর জাতীয়তা
- স্থায়ী ঠিকানা, আবেদন ফরমে যা লিখেছিলেন তার সঙ্গে মিলিয়ে
- বর্তমান ঠিকানা
- গত পাঁচ বছরে যেসব জায়গায় ছয় মাসের বেশি থেকেছেন, তারিখসহ
- জন্মতারিখ, এসএসসি পাস করে থাকলে সেই সনদ অনুযায়ী
- জন্মস্থান: গ্রাম, থানা, জেলা
- পনেরো বছর বয়স থেকে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছেন, ভর্তি ও ছাড়ার তারিখসহ
- আগে কোনো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে থাকলে তার বিবরণ আর ছাড়ার কারণ
- কখনো ফৌজদারি, রাজনৈতিক বা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হয়েছেন কি না, হলে তারিখসহ পূর্ণ বিবরণ
- নিকটাত্মীয়দের কেউ সরকারি চাকরিতে থাকলে তাঁর নাম, পদ আর কর্মস্থল
- শেষ যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছেন, তার প্রধানের দেওয়া চারিত্রিক সনদ সংযুক্ত
- আত্মীয় নন এমন দুজন পরিচয়দাতার নাম-ঠিকানা
- বিবাহিত কি না, বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয়তা
ফরমের শেষে লেখা থাকে, ওপরের তথ্য আপনার জানামতে সঠিক। ভুল বা গোপন করা তথ্য পরে ধরা পড়লে সেটি নিজেই সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৩. চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনে কি কি কাগজ লাগে
ফরমের সঙ্গে যা প্রস্তুত রাখবেন
চারিত্রিক সনদপত্র নিয়ে অনেকে বিভ্রান্ত হন। পুলিশ প্রত্যয়ন ফরমে সনদটি চাওয়া হয় শেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে। কোনো বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার দেওয়া চারিত্রিক সনদ চাওয়া হলে সেটিও দিন, কে দিতে পারবেন তা বিজ্ঞপ্তিতেই লেখা থাকে।
৪. চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনে কি কি দেখা হয়
| ফরমের অংশ | কে পূরণ করেন | কী থাকে |
|---|---|---|
| প্রথম ভাগ | প্রার্থী | পরিচয়, ঠিকানা, পড়াশোনা, চাকরি, মামলা আর পরিচয়দাতার তথ্য |
| প্রেরণকারী অংশ | নিয়োগকারী দপ্তরের কর্মকর্তা | স্বাক্ষর, পদবি আর অফিসের ঠিকানা |
| দ্বিতীয় ভাগ | জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি | প্রার্থী উপযুক্ত, নাকি নির্দিষ্ট কারণে অনুপযুক্ত |
ফরমের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কিছু না পাওয়া গেলে জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চ ফরমটি সরাসরি প্রেরণকারী দপ্তরে ফেরত পাঠায়। রেকর্ডে কিছু পাওয়া গেলে সেটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজির মাধ্যমে মন্তব্যসহ ফেরত যায়। তাই যে ঘরগুলো যাচাই হয় তার মূল হলো ঠিকানা, পরিচয় আর মামলার রেকর্ড।
বিসিএসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দুটি প্রতিবেদন দেখে: পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ আর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই)। প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের প্রতিবেদন বলছে, ৪৩তম বিসিএসে সুপারিশ পাওয়া ২,১৬৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন যাচাইয়ের জটিলতায় গেজেট থেকে বাদ পড়েন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী পুরো ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা সংস্কারের কথা বলেছেন।
৫. কত দিন লাগে, অনুপযুক্ত বলা হলে কী করবেন
পুলিশ ভেরিফিকেশন কত দিন লাগে, এর কোনো নির্দিষ্ট সময় ফরমে বা আমাদের দেখা কোনো সরকারি নির্দেশনায় লেখা নেই। আপনি যত জায়গায় থেকেছেন, প্রতিটির খোঁজ নিতে সময় লাগতে পারে। যাচাইয়ের সময়টায় ফরমে দেওয়া ঠিকানা আর ফোন নম্বর চালু রাখুন, যাচাইকারী কর্মকর্তা খোঁজ নিতে আসতে বা ফোন করতে পারেন।
- ১জমার প্রমাণ রাখুনফরম জমার তারিখ আর কার কাছে জমা দিলেন, লিখে রাখুন। সম্ভব হলে রিসিভ কপি নিন।
- ২দেরি হলে দপ্তরে খোঁজ নিননিয়োগকারী দপ্তরের প্রশাসন শাখায় গিয়ে জানতে চান, ফরম ফেরত এসেছে কি না।
- ৩অনুপযুক্ত বলা হলে কারণ জানতে চানলিখিত আবেদন করে কারণ জানতে চান, আর যে কাগজে আপনার অবস্থান প্রমাণ হয়, যেমন মামলার নিষ্পত্তির রায়, তার কপি জমা দিন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের খবর অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি কর্ম কমিশন ‘সরকারি চাকরি (প্রার্থীর প্রাক-পরিচয় যাচাই) বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। খসড়ায় অনুপযুক্ত প্রার্থীকে কারণ জানানো, পুনর্বিবেচনার আবেদন আর পুনঃতদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ লেখা হালনাগাদের সময় পর্যন্ত বিধিমালাটি জারির কোনো প্রজ্ঞাপন আমরা পাইনি।
৬. অনেকে যা জানতে চান
পুলিশ ভেরিফিকেশন কত দিন লাগে?
চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম কোথায় পাব?
পরিচয়দাতা হিসেবে আত্মীয়ের নাম দেওয়া যায়?
চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনে কি কি দেখা হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।