
সংক্ষেপে
বিসিএসে না। প্রিলিমিনারি আর লিখিত, দুই পরীক্ষার নির্দেশনাতেই ক্যালকুলেটর নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকায় আছে। প্রথম আলোর ১৫ মার্চ ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় পিএসসি ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, বই আর ব্যাগ আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে, আর এসব নিয়ে গেলে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
অন্য নিয়োগ পরীক্ষায় নিয়ম ঠিক করে নিয়োগকারী দপ্তর, যা প্রবেশপত্র আর বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে। সেখানে কিছু লেখা না থাকলেও ক্যালকুলেটর ছাড়াই অঙ্ক করার প্রস্তুতি নেওয়া নিরাপদ।
পিএসসি যেসব জিনিস নিষিদ্ধ করেছে আর কেন্দ্রে কখন পৌঁছাতে বলেছে।
এই লেখায়
১. বিসিএস পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর: প্রিলি আর লিখিত দুটোতেই না
গত তিনটি বিসিএস পরীক্ষার নির্দেশনা পাশাপাশি রাখলে ছবিটা পরিষ্কার। প্রতিবারই ক্যালকুলেটর নিষিদ্ধ তালিকায় ছিল।
| পরীক্ষা | নিষিদ্ধ তালিকায় যা ছিল | প্রতিবেদনের তারিখ |
|---|---|---|
| ৪৬তম বিসিএস লিখিত | বই, ঘড়ি, মুঠোফোন, ক্যালকুলেটর, সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস | ২১ এপ্রিল ২০২৫ |
| ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি | বই, সব ধরনের ঘড়ি, মোবাইল, সায়েন্টিফিক বা প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, অলংকার, ব্যাগ | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| ৫০তম বিসিএস লিখিত | ডিজিটাল বা অ্যানালগ ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, বই, ব্যাগ, চাবি, মানিব্যাগ, অলংকার | ১৫ মার্চ ২০২৬ |
৪৭তম প্রিলির তালিকায় 'সায়েন্টিফিক বা প্রোগ্রামেবল' লেখা দেখে কেউ কেউ ভাবেন সাধারণ ক্যালকুলেটর চলবে। এমন অনুমতির কথা কোনো নির্দেশনায় নেই, বরং একই তালিকায় সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ। লিখিত পরীক্ষায় তো সরাসরি 'ক্যালকুলেটর' লেখা। তাই কোনো ধরনের ক্যালকুলেটর নিয়েই বিসিএসের হলে যাবেন না।
প্রশ্নটা বেশি আসে কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের প্রার্থীদের কাছ থেকে, যাঁদের লিখিত পরীক্ষায় হিসাবের অংশ থাকে। ৫০তম বিসিএসে আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা ৯ থেকে ২৩ এপ্রিল আর কারিগরি বা পেশাগত বিষয়ের পরীক্ষা ২৭ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল, আর নিষিদ্ধ তালিকা ছিল পুরো পরীক্ষার জন্য একই। কোনো বিষয়ের জন্য আলাদা ছাড়ের কথা প্রতিবেদনে নেই।
২. নিষিদ্ধ জিনিস নিয়ে গেলে কী হয়
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো কেন্দ্রেই ঢুকতে না পারা। ৫০তম বিসিএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সামগ্রীসহ কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়ে শুধু একটা ক্যালকুলেটর বা ঘড়ির জন্য গেট থেকে ফিরে যাওয়ার মতো কষ্ট আর হয় না, অথচ কাজটা পুরোপুরি এড়ানো যায়।
- ৪৬তম বিসিএসের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আর পুলিশের উপস্থিতিতে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির কথা জানিয়েছিল পিএসসি।
- পরীক্ষার দিন নিষিদ্ধ জিনিস না আনতে সব পরীক্ষার্থীর মোবাইলে এসএমএস পাঠানোর কথাও তখন বলা হয়েছিল।
- ৪৭তম প্রিলিতে হলে ঢোকার শেষ সময় ছিল সকাল সাড়ে ৯টা, এরপর গেট বন্ধ।
- ৫০তম লিখিতে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌঁছাতে বলা হয়েছে।
অনেক কেন্দ্রে ব্যাগ বা ফোন রাখার জায়গা থাকে না। সঙ্গে কেউ না থাকলে এসব বাসায় রেখে যান, নইলে গেট থেকে ফিরতে হতে পারে।
৩. অন্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় কী করবেন
প্রাথমিক শিক্ষক, এনটিআরসিএ, পুলিশ বা কোনো অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় নিয়ম ঠিক করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বেশির ভাগ প্রবেশপত্রের নিচে বা পেছনে নির্দেশনা ছাপা থাকে। পরীক্ষার আগের রাতে সেটা একবার পড়ে নিন।
স্কুল-কলেজের বোর্ড পরীক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে অনেকে ধরে নেন চাকরির পরীক্ষাতেও নির্দিষ্ট মডেলের ক্যালকুলেটর চলবে। দুটো আলাদা কর্তৃপক্ষের আলাদা নিয়ম, একটার অনুমতি আরেকটায় খাটে না। চাকরির পরীক্ষায় যা লেখা আছে, শুধু সেটাই মানুন।
- ১প্রবেশপত্রের নির্দেশনা পড়ুনক্যালকুলেটর, ঘড়ি, মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কী লেখা আছে দেখুন। 'ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ' লেখা থাকলে ক্যালকুলেটরও তার মধ্যে পড়ে বলে ধরে নিন।
- ২নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিনদপ্তরের ওয়েবসাইটে পরীক্ষার আলাদা নোটিশ আসে কি না দেখুন। সেখানে কেন্দ্র, সময় আর নিষিদ্ধ জিনিসের তালিকা থাকতে পারে।
- ৩সন্দেহ থাকলে জিজ্ঞেস করুননোটিশে দেওয়া হেল্পলাইন বা দপ্তরের ফোনে জেনে নিন। অনুমতি না পেলে ক্যালকুলেটর ছাড়াই যান।
একটা বাস্তব উদাহরণ দিই। ধরুন, কোনো অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক পদের প্রবেশপত্রে শুধু লেখা 'মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ নিষেধ'। এখানে ক্যালকুলেটরের নাম নেই, কিন্তু ক্যালকুলেটরও একটা ইলেকট্রনিক যন্ত্র। গেটে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সেটা আটকে দিলে তর্ক করে লাভ হবে না, সময় নষ্ট হবে। তাই নাম না থাকলেও ধরে নিন এটি নিষিদ্ধ।
প্রবেশপত্র নামানো বা পাসওয়ার্ড হারানোর সমস্যা থাকলে আমাদের প্রবেশপত্রের গাইডটি দেখুন, লিংক নিচে দেওয়া আছে।
৪. ক্যালকুলেটর ছাড়া অঙ্কের প্রস্তুতি
বিসিএসসহ বেশির ভাগ নিয়োগ পরীক্ষার গণিত এমনভাবে বানানো হয়, যাতে হাতে হিসাব করে মেলানো যায়। তাই ক্যালকুলেটরের অভাবে আটকে যাওয়ার চেয়ে সময়ের চাপে আটকে যাওয়ার ভয় বেশি। প্রস্তুতির সময়ই ক্যালকুলেটর সরিয়ে রাখুন।
প্রিলিমিনারিতে প্রতিটি অঙ্কে হাতে গোনা সময় থাকে, তাই বড় সংখ্যার পুরো গুণ না করে উত্তরের বিকল্পগুলো দেখে আন্দাজে মেলানো একটা কাজের কৌশল। যেমন ৪৯৮ এর ২৫ শতাংশ চাইলে ৫০০ এর চার ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ১২৫ এর কাছাকাছি উত্তরটা খুঁজুন, সঠিক উত্তর ১২৪.৫। লিখিত পরীক্ষায় অবশ্য ধাপগুলো খাতায় দেখাতে হয়, তাই সেখানে পরিষ্কার হাতের হিসাবই নম্বর আনে।
- শতকরা, লাভ-ক্ষতি আর সুদের অঙ্ক প্রতিদিন কয়েকটা করে হাতে করুন।
- ১ থেকে ২০ পর্যন্ত নামতা আর ১ থেকে ৩০ পর্যন্ত বর্গ মুখস্থ থাকলে সময় বাঁচে।
- ভগ্নাংশকে শতকরায় নেওয়ার চেনা মানগুলো, যেমন ১/৮ মানে সাড়ে ১২ শতাংশ, মনে রাখুন।
- পুরোনো প্রশ্ন ঘড়ি ধরে সমাধান করুন, যাতে পরীক্ষার হলে ঘড়ি না থাকলেও সময়ের আন্দাজ থাকে।
পরীক্ষার দিন যা নেবেন
৫. অনেকে যা জানতে চান
চাকরির পরীক্ষায় কি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায়?
সাধারণ ক্যালকুলেটর হলে কি বিসিএসে নেওয়া যাবে?
হাতঘড়ি পরে কি বিসিএস পরীক্ষা দেওয়া যায়?
নিষিদ্ধ জিনিস নিয়ে গেলে কী হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।