সরকারি চাকরি

চাকরির আবেদনে ছবি বা স্বাক্ষর নিচ্ছে না: সঠিক মাপ আর ঠিক করার উপায়

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৫ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬alljobs.teletalk.com.bd
চাকরির আবেদনে ছবি বা স্বাক্ষর নিচ্ছে না: সঠিক মাপ আর ঠিক করার উপায়

সংক্ষেপে

টেলিটকের মাধ্যমে হওয়া সরকারি চাকরির আবেদনে ছবি হতে হয় ৩০০ x ৩০০ পিক্সেল আর স্বাক্ষর ৩০০ x ৮০ পিক্সেল। বিপিএসসির আবেদন সাইট অনুযায়ী ছবির ফাইল ১০০ কিলোবাইট আর স্বাক্ষর ৬০ কিলোবাইটের বেশি হবে না, আর ফাইল হতে হবে JPG। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশিকাতেও একই পিক্সেলের মাপ দেওয়া আছে।

আপলোড আটকায় সাধারণত চার কারণে: ফাইল JPG নয়, পিক্সেলের মাপ এক-দুই ঘর এদিক-ওদিক, ফাইল বড়, অথবা ছবি সাদা-কালো বা অস্পষ্ট। আগে ছবি বর্গাকারে কেটে নিন, তারপর মাপ বদলান, আর জমার আগে Validator দিয়ে মিলিয়ে নিন।

বিপিএসসির আবেদন সাইটে মাপ যাচাই করুন

বিসিএসের আবেদন পাতায় Photo/Signature Validator আছে, সেখানে ছবি আর স্বাক্ষরের মাপ ও আকার পরীক্ষা করা যায়।

আবেদন সাইট খুলুন
এই লেখায়
  1. মাপ আর নিয়ম, এক নজরে
  2. যে ভুলে আপলোড আটকায়
  3. কম্পিউটারে মাপ ঠিক করবেন যেভাবে
  4. ভালো ছবি আর স্বাক্ষর তৈরির প্রস্তুতি
  5. আপলোডের পর ফি দেওয়ার আগে
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. মাপ আর নিয়ম, এক নজরে

বিষয়ছবিস্বাক্ষর
পিক্সেল (প্রস্থ x উচ্চতা)৩০০ x ৩০০৩০০ x ৮০
সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ১০০ কিলোবাইট৬০ কিলোবাইট
ফাইলের ধরনJPGJPG
অন্যান্য শর্তরঙিন, সাম্প্রতিক, কালো চশমা ছাড়াসাদা কাগজে কালো কালিতে নিজের সই

মাপগুলো নেওয়া হয়েছে বিপিএসসির আবেদন সাইটের Help পাতা, Validator আর ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি থেকে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা আছে, ছবি হতে হবে তিন মাসের মধ্যে তোলা। অন্য দপ্তরের নিয়োগে মাপ সাধারণত একই থাকে, তবু আবেদন করার আগে নিজের বিজ্ঞপ্তি বা সাইটের নির্দেশনা একবার দেখে নিন।

পিক্সেল আর কিলোবাইট আলাদা জিনিস

পিক্সেল হলো ছবির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, কিলোবাইট হলো ফাইল কতটা জায়গা নেয়। ৩০০ x ৩০০ পিক্সেলের ছবিও ১০০ কিলোবাইটের বেশি হতে পারে, তাই দুটিই আলাদা করে দেখতে হয়।

২. যে ভুলে আপলোড আটকায়

  • ফাইল JPG নয়। বিপিএসসির Validator-এ JPG ছাড়া অন্য ফাইল দিলে সরাসরি জানিয়ে দেয় যে ফরম্যাট .jpg হতে হবে। আইফোনের HEIC বা স্ক্রিনশটের PNG ফাইল আগে JPG করে নিন।
  • শুধু নামের শেষে .jpg লিখে দেওয়া। ফাইলের নাম বদলালে ভেতরের ধরন বদলায় না, তাই ছবি সম্পাদনার অ্যাপ বা সফটওয়্যারে JPG হিসেবে সেভ করুন।
  • লম্বা ছবিকে টেনে ৩০০ x ৩০০ বানানো। এতে মুখ চ্যাপ্টা বা লম্বা দেখায়। আগে বর্গাকারে কেটে নিন, তারপর মাপ বদলান।
  • স্বাক্ষর উল্টো মাপে, যেমন ৮০ x ৩০০। প্রস্থ ৩০০, উচ্চতা ৮০, এই ক্রম মনে রাখুন।
  • সাদা-কালো, ঝাপসা, খুব কাছ বা দূর থেকে তোলা ছবি। বিপিএসসির সাইট বলছে, এমন ছবি গ্রহণ করা হয় না, আর তাদের ব্যবস্থা মুখ শনাক্ত করতে পারে।
  • স্বাক্ষর রুলটানা কাগজে বা নীল কালিতে, অথবা অন্য কারও করা। সাদা কাগজে কালো কালির কলমে নিজে সই করে স্ক্যান করুন।
  • ফোনের ক্যামেরায় তোলা ছবি সরাসরি দেওয়া। আধুনিক ফোনের ছবির ফাইল কয়েক মেগাবাইটের হয়, বিপিএসসির সাইটও বলছে বড় ফাইল ছোট করে নিতে হবে।

৩. কম্পিউটারে মাপ ঠিক করবেন যেভাবে

উইন্ডোজের সঙ্গে থাকা Paint দিয়েই কাজটা করা যায়, আলাদা সফটওয়্যার লাগে না। ছবির জন্য নিচের ধাপগুলো মানুন, স্বাক্ষরের জন্যও একই পথ, শুধু মাপ ৩০০ x ৮০।

  • ১
    আগে বর্গাকারে কাটুনPaint-এ ছবি খুলে Select দিয়ে মুখ আর কাঁধসহ একটি বর্গাকার অংশ বেছে নিন, তারপর Crop চাপুন। নিচে পিক্সেলের মাপ দেখা যায়, দুই দিক প্রায় সমান রাখুন।
  • ২
    Resize-এ পিক্সেল বেছে নিনResize খুলে Percentage বদলে Pixels করুন। Maintain aspect ratio থেকে টিক তুলে দিন, তারপর Horizontal ৩০০ আর Vertical ৩০০ লিখুন।
  • ৩
    JPG হিসেবে সেভ করুনSave as থেকে JPEG picture বেছে নতুন নামে সেভ করুন। আসল ছবিটি আলাদা রেখে দিন, যাতে আবার কাজ করা যায়।
  • ৪
    ফাইল সাইজ দেখুনসেভ করা ফাইলে রাইট ক্লিক করে Properties খুলুন। Size ১০০ কিলোবাইটের কম হলে ঠিক আছে। স্বাক্ষরের ফাইল হতে হবে ৬০ কিলোবাইটের কম।
  • ৫
    Validator-এ মিলিয়ে নিনবিপিএসসির আবেদন সাইটের Photo/Signature Validator-এ ছবি আর স্বাক্ষর দিয়ে দেখুন। সেখানে একটি অনলাইন রিসাইজ টুলের লিংকও দেওয়া আছে।

মোবাইলে করলে গ্যালারির এডিট অপশনে ১:১ অনুপাতে কেটে নিন, তারপর কোনো রিসাইজ অ্যাপে পিক্সেল ঠিক করুন। অ্যাপভেদে মেনু আলাদা, তবে শেষে পিক্সেল আর কিলোবাইট দুটোই মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

৪. ভালো ছবি আর স্বাক্ষর তৈরির প্রস্তুতি

ছবি তোলার আগে

স্বাক্ষরের জন্য সাদা কাগজে কালো কালির কলমে কয়েকবার সই করে সবচেয়ে পরিষ্কারটি বেছে নিন। স্ক্যান বা ছবি তোলার পর চারপাশের ফাঁকা অংশ কেটে ফেলুন, যাতে ৩০০ x ৮০ মাপে সই ছোট না দেখায়। পরীক্ষার দিন হাজিরা খাতার সইয়ের সঙ্গে এটি মেলানো হতে পারে, তাই সব জায়গায় একই ধাঁচে সই করুন।

৫. আপলোডের পর ফি দেওয়ার আগে

ফর্মে ছবি আর স্বাক্ষরের জন্য আলাদা দুটি আপলোডের জায়গা থাকে। বিসিএসের ফর্মে এগুলো আসে Application Preview পাতায়, তিন অংশের তথ্য পূরণের পর। Browse চেপে ফাইল বেছে Upload করুন, তারপর প্রিভিউতে ছবি ঠিকমতো বসেছে কি না দেখুন।

আবেদন জমা দিলে যে Applicant's Copy আসে, তাতে ছবি আর স্বাক্ষর দুটোই দেখা যেতে হবে। ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী Applicant's Copy-তে স্বাক্ষর ছাপা না থাকলে আবেদন বাতিল হবে। তাই এসএমএসে ফি পাঠানোর আগে কপিটি খুলে ভালো করে দেখুন, আর PDF হিসেবে সেভ বা প্রিন্ট করে রাখুন।

ছবি ফাঁকা দেখালে

Applicant's Copy-তে ছবি বা স্বাক্ষর না দেখালে ফি দেবেন না। ফি জমার আগে সংশোধন বা নতুন করে আবেদনের সুযোগ থাকে, জমার পর সাধারণত থাকে না।

৬. অনেকে যা জানতে চান

সব সরকারি চাকরির আবেদনেই কি ছবি ৩০০ x ৩০০ পিক্সেল?
টেলিটকের মাধ্যমে হওয়া বেশির ভাগ আবেদনে এই মাপই চলে। বিসিএস আর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশনায় ছবি ৩০০ x ৩০০ আর স্বাক্ষর ৩০০ x ৮০ পিক্সেল দেওয়া আছে। তবে প্রতিটি নিয়োগের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত, তাই সেখানে একবার মিলিয়ে নিন।
ছবি ২০ কিলোবাইট হলে কি চলবে?
বিপিএসসির শর্তে শুধু সর্বোচ্চ সীমা দেওয়া আছে, ছবির ক্ষেত্রে ১০০ আর স্বাক্ষরে ৬০ কিলোবাইট। তবে খুব বেশি চাপ দিয়ে ছোট করলে ছবি ঝাপসা হয়ে যায়, আর অস্পষ্ট ছবি বাতিল হতে পারে। মুখ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে কি না দেখে নিন।
দোকান থেকে তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি স্ক্যান করে দেওয়া যাবে?
যাবে। বিপিএসসির সাইট বলছে, ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা অথবা ভালো মানের প্রিন্ট থেকে স্ক্যান করা ছবি দেওয়া যায়। শর্ত হলো ছবিটি সাম্প্রতিক ও রঙিন হতে হবে, আর বিসিএসে তিন মাসের মধ্যে তোলা।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

অনেকে খোঁজেন