সরকারি চাকরি

টেলিটকে সরকারি চাকরির আবেদন ও এসএমএসে ফি জমা

নাগরিক সেবা সম্পাদনা দলপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬alljobs.teletalk.com.bd

সংক্ষেপে

বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া টেলিটকের সাইটে ঢুকে অনলাইন ফর্ম পূরণ করুন। জমা দিলে একটি Applicant's Copy পাবেন, তাতে আপনার User ID থাকে। এরপর টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে ১৬২২২ নম্বরে দুটি এসএমএস পাঠিয়ে ফি দিতে হয়। ফি জমা হলেই আবেদন চূড়ান্ত হয়, তার আগে নয়।

এসএমএসের শুরুতে কোন কোড লিখবেন, তা প্রতিটি দপ্তরের আলাদা। যেমন বিসিএসে BCS, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তিতে PTD। নিজের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা কোডটিই ব্যবহার করুন।

সরকারি চাকরির তালিকা দেখুন

টেলিটকের মাধ্যমে চলা নিয়োগগুলো আর প্রতিটির আবেদনের লিংক এই সাইটে পাবেন।

Alljobs খুলুন
এই লেখায়
  1. আবেদনের আগে বিজ্ঞপ্তিতে যা মিলিয়ে নেবেন
  2. ছবি আর স্বাক্ষর আগে থেকে তৈরি রাখুন
  3. ফর্ম পূরণ থেকে Applicant's Copy পর্যন্ত
  4. দুই এসএমএসে ফি জমা দেবেন যেভাবে
  5. যে ভুলগুলো বেশি হয়
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. আবেদনের আগে বিজ্ঞপ্তিতে যা মিলিয়ে নেবেন

বিজ্ঞপ্তি সাধারণত দপ্তরের নিজের ওয়েবসাইট, পত্রিকা আর টেলিটকের Alljobs সাইটে আসে। আবেদন হয় দপ্তরের জন্য আলাদা করে খোলা টেলিটকের সাইটে, যার ঠিকানা শুরু হয় দপ্তরের সংক্ষিপ্ত নাম দিয়ে, যেমন bcic.teletalk.com.bd বা dpe.teletalk.com.bd। ঠিকানাটি বিজ্ঞপ্তি থেকেই নিন, সার্চ করে পাওয়া অন্য কোনো লিংক থেকে নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আগে যা দেখবেন

বয়সের হিসাব

সাধারণ নিয়মে সরকারি চাকরিতে ঢোকার সর্বোচ্চ বয়স এখন ৩২ বছর। বয়স ধরা হয় বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া একটি নির্দিষ্ট তারিখে, আবেদনের দিন বা পরীক্ষার দিনে নয়।

২. ছবি আর স্বাক্ষর আগে থেকে তৈরি রাখুন

টেলিটকের বেশির ভাগ ফর্মে ছবি আর স্বাক্ষরের মাপ একই থাকে। ফর্ম পূরণের মাঝখানে ছবি ছোট করতে গেলে সময় নষ্ট হয়, তাই কাজটা আগেই সেরে নিন।

ফাইলমাপসর্বোচ্চ আকার
ছবি৩০০ x ৩০০ পিক্সেল, রঙিন১০০ কিলোবাইট
স্বাক্ষর৩০০ x ৮০ পিক্সেল৬০ কিলোবাইট
  • ছবি সাম্প্রতিক ও রঙিন হতে হবে। সাদা-কালো, ঝাপসা বা কালো চশমা পরা ছবি নেওয়া হয় না।
  • সাদা কাগজে কালো কালির কলমে নিজে সই করে স্ক্যান করুন। অন্য কেউ সই করে দেবেন না।
  • বিপিএসসির আবেদন সাইটে Photo/Signature Validator নামে একটি অংশ আছে, সেখানে মাপ যাচাই করে নেওয়া যায়।

৩. ফর্ম পূরণ থেকে Applicant's Copy পর্যন্ত

  • ১
    সঠিক সাইটে ঢুকুনবিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া টেলিটকের ঠিকানা খুলুন। Application Form বা Apply Now অংশে গিয়ে পদটি বেছে নিন।
  • ২
    যোগ্যতার তথ্য দিনঅনেক ফর্মে শুরুতে এসএসসি ও এইচএসসির বোর্ড, রোল আর পাসের সাল চাওয়া হয়। তথ্য মিলে গেলে নাম আর বাবা-মায়ের নাম নিজে থেকেই বসে যায়, পরে তা বদলানো যায় না।
  • ৩
    বাকি তথ্য, ছবি ও স্বাক্ষর দিনঠিকানা, মোবাইল নম্বর আর শিক্ষাগত তথ্য লিখে ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করুন। যে মোবাইল নম্বর দেবেন, পরীক্ষার খবর সেখানেই এসএমএসে আসবে।
  • ৪
    প্রিভিউ মিলিয়ে জমা দিনSubmit করার আগে প্রিভিউ পাতায় প্রতিটি তথ্য পড়ুন। জমা দিলে Applicant's Copy আসবে, তাতে আপনার User ID লেখা থাকে।
  • ৫
    Applicant's Copy রেখে দিনকপিটি ডাউনলোড করে PDF রাখুন, সম্ভব হলে রঙিন প্রিন্টও নিন। ফি দেওয়ার সময় এই User ID লাগবে।
ভুল ধরা পড়লে

ফি দেওয়ার আগে ভুল চোখে পড়লে অনেক সাইটে সঠিক তথ্য দিয়ে নতুন একটি আবেদন করা যায়, তখন নতুন User ID দিয়ে ফি দিন। ফি জমার পর সাধারণত আর কিছু বদলানো যায় না।

৪. দুই এসএমএসে ফি জমা দেবেন যেভাবে

ফি দিতে হয় টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে, অন্য অপারেটরের সিমে হয় না। ফোনে ফির সমান ব্যালেন্স রাখুন। ফির অঙ্ক বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে। যেমন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তিতে টেলিটকের চার্জসহ ফি ছিল ১১২ টাকা, কিছু পদে আর অনগ্রসর প্রার্থীদের জন্য ৫৬ টাকা।

ধাপযা লিখবেনউদাহরণ
প্রথম এসএমএসদপ্তরের কোড, স্পেস, User ID। পাঠাবেন ১৬২২২ নম্বরে।PTD ABCDEF
ফিরতি এসএমএসআপনার নাম, ফির অঙ্ক আর ৮ অঙ্কের একটি PIN আসবে।Your PIN is 12345678
দ্বিতীয় এসএমএসদপ্তরের কোড, স্পেস, Yes, স্পেস, PIN। পাঠাবেন ১৬২২২ নম্বরে।PTD Yes 12345678
নিশ্চিত হওয়ার এসএমএসফি জমা হয়েছে জানিয়ে User ID আর Password আসবে।User ID is ... Password ...

নিশ্চিত হওয়ার এসএমএসটি মুছবেন না। এতে থাকা Password দিয়েই পরে প্রবেশপত্র নামাতে হবে। ফি জমা হলো কি না, সাইটের Payment Status অংশে User ID দিয়েও দেখে নিতে পারেন।

সময় পেরোলে আবেদন গণ্য হয় না

অনেক বিজ্ঞপ্তিতে ফর্ম জমার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি দিতে বলা হয়, কোথাও সময় আরও কম। সময়মতো ফি না দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যায়।

৫. যে ভুলগুলো বেশি হয়

  • শেষ দিনের জন্য রেখে দেওয়া। শেষ দিনে সার্ভার আর ইন্টারনেটে চাপ থাকে, ফর্ম খুলতে বা জমা দিতে দেরি হয়।
  • অন্য দপ্তরের কোড বা ভুল User ID লিখে এসএমএস পাঠানো। পাঠানোর আগে প্রতিটি অক্ষর আরেকবার মিলিয়ে নিন।
  • মোবাইল নম্বর ভুল লেখা। পরীক্ষার তারিখ আর প্রবেশপত্রের খবর ওই নম্বরেই যায়।
  • দোকান বা দালালের হাতে সব ছেড়ে দেওয়া। দোকান থেকে করালেও প্রিভিউ নিজে পড়ুন, আর User ID ও Password নিজের কাছে রাখুন।

আবেদনে সমস্যা হলে টেলিটক নম্বর থেকে ১২১ নম্বরে ফোন করা যায়। অনেক দপ্তরের আবেদন সাইটের Help অংশে টেলিটকের একটি ইমেইল ঠিকানাও থাকে, সেখানে বিষয়ের ঘরে দপ্তরের কোড লিখতে বলা হয়।

৬. অনেকে যা জানতে চান

অন্য অপারেটরের সিম থেকে কি ফি দেওয়া যায়?
না। ফি দিতে হয় টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়ে। অন্য কারও টেলিটক নম্বর থেকে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে আসা PIN, User ID আর Password সঙ্গে সঙ্গে নিজের কাছে টুকে রাখুন।
সব সরকারি চাকরিতেই কি বয়সসীমা ৩২ বছর?
সাধারণ নিয়ম এটাই। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সংসদে পাস হওয়া আইনে বিসিএসসহ সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর। তবে যেসব পদের নিয়োগ বিধিতে আগে থেকেই এর বেশি বয়স রাখা আছে, সেগুলো আগের মতো থাকবে। প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলে নিজেদের বিধিতে।
Applicant's Copy হারিয়ে ফেললে কী করব?
যে সাইটে আবেদন করেছিলেন, সেখানে Download Applicant's Copy নামে অংশ থাকে। User ID-র সঙ্গে কোনো সাইটে মোবাইল নম্বর, কোনো সাইটে Password চাওয়া হয়। যেমন বিসিএসের সাইটে লাগে User ID আর মোবাইল নম্বর।

এরপর কী করবেন

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

চাকরি নিয়ে আরও লেখা

পুরো বিভাগ

অনেকে খোঁজেন