
সংক্ষেপে
বিসিএস ক্যাডার চয়েস দেবেন অনলাইন আবেদন ফরমেই। শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর পূরণ করলে আপনার জন্য যে ক্যাডারগুলো প্রযোজ্য, সেগুলো পর্দায় আসে। সেখান থেকে কয়েকটি বা সবগুলো ক্যাডার নিজের পছন্দের ক্রমে সাজাতে হয়। সব সাধারণ ক্যাডার সবাই নিতে পারেন, কারিগরি ক্যাডার আসে স্নাতকের বিষয় মিলিয়ে।
সাধারণ আর কারিগরি দুই ধরনের ক্যাডার একসঙ্গে বাছলে লিখিত পরীক্ষায় আরও ২০০ নম্বরের পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় দিতে হয়। আবেদনের সময় এখন ক্যাডারের পাশাপাশি নন-ক্যাডারেও পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ আছে। জমার আগে প্রিভিউতে পুরো তালিকা মিলিয়ে নিন।
বিসিএসের আবেদন আর ক্যাডার পছন্দক্রম দেওয়া হয় পিএসসির টেলিটক সাইটে।
এই লেখায়
১. বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্টে কয়টি ক্যাডার আসে
পিএসসির পরীক্ষা পদ্ধতির পাতায় বলা আছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী ২৬টি ক্যাডার দুই ভাগে ভাগ করা: সাধারণ ক্যাডার আর কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডার। প্রথম আলোর চাকরি-বাকরি পাতায় ৪৭তম বিসিএসের প্রার্থীদের প্রশ্নের উত্তরে একজন বিসিএস কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করেছেন, একজন প্রার্থী সব সাধারণ ক্যাডার আর নিজের স্নাতকের বিষয়ের সঙ্গে মেলে এমন কারিগরি ক্যাডারে আবেদন করতে পারেন।
কারও স্নাতকের বিষয়ে কোনো কারিগরি ক্যাডার নেই, কারও এক বা একাধিক আছে। ফরমের শিক্ষাগত যোগ্যতার ছক পূরণ করলে আপনার জন্য কয়টি ক্যাডার প্রযোজ্য, সেটি পর্দাতেই দেখা যায়। তাই কোন তালিকা ধরে সাজাবেন, সেটা অনলাইন ফরমই ঠিক করে দেয়।
| ক্যাডারের ধরন | কারা পছন্দ দিতে পারেন | লিখিত পরীক্ষা |
|---|---|---|
| সাধারণ ক্যাডার | যোগ্য সব প্রার্থী | ৯০০ নম্বর |
| কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডার | স্নাতকের বিষয় মিললে | ৯০০ নম্বর, এর মধ্যে পদ-সংশ্লিষ্ট ২০০ |
| দুই ধরনেরই | স্নাতকের বিষয় মিললে | সাধারণের ৯০০ আর পদ-সংশ্লিষ্ট ২০০, মোট ১১০০ |
২. ক্যাডার চয়েস কিভাবে দিব: অনলাইন ফরমে ধাপগুলো
- ১শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর আগে নির্ভুলভাবে পূরণ করুনস্নাতক বা স্নাতকোত্তরের বিষয় ভুল দিলে ভুল কারিগরি ক্যাডার আসবে, বা যোগ্য ক্যাডার আসবে না। সনদ দেখে বিষয়ের নাম মিলিয়ে দিন।
- ২পর্দায় আসা ক্যাডারের তালিকা দেখুনশিক্ষাগত তথ্য দেওয়ার পর আপনার জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ও কারিগরি ক্যাডারগুলো দেখা যাবে। এর বাইরের কোনো ক্যাডার আপনি নিতে পারবেন না।
- ৩যে ক্যাডারে চাকরি করবেন, শুধু সেগুলো রাখুনকোনো ক্যাডার রাখতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। যে ক্যাডারে সুযোগ পেলেও যোগ দেবেন না, সেটি তালিকায় না রাখাই ভালো।
- ৪পছন্দের ক্রমে সাজানসবচেয়ে বেশি চাওয়া ক্যাডার এক নম্বরে, তারপর পরেরটা। মেধাতালিকায় আপনার অবস্থান আর এই ক্রম মিলিয়ে ক্যাডার ঠিক হয়।
- ৫নন-ক্যাডার পছন্দ আর প্রিভিউ মিলিয়ে জমা দিননন-ক্যাডারের পছন্দক্রমও দিন। প্রিভিউ পাতায় নাম, জন্মতারিখ আর পুরো পছন্দক্রম মিলিয়ে তারপর জমা দিন।
জমা দেওয়ার পর পছন্দক্রম বদলানোর সুযোগ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশোধনের কোনো সুযোগ পিএসসি দেয় কি না, সেটি নিজের বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন, আর জমার আগেই তালিকা চূড়ান্ত করুন।
৩. পছন্দক্রম সাজাবেন কী ভেবে
প্রথম আলোর ওই প্রশ্নোত্তরে পরামর্শ ছিল, আগে প্রতিটি ক্যাডারের কাজের ধরন, পদায়ন আর সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন, তারপর নিজের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে এমন ক্যাডারগুলো ওপরে রাখুন। স্নাতকের বিষয় নয়, নিজের আগ্রহ আর জীবনযাপনের পরিকল্পনাই এখানে মূল।
- পদায়ন কোথায়: খাদ্য আর তথ্য সাধারণ ক্যাডারে সব জেলায় পদায়ন আছে, ডাক আর রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক ক্যাডারে নির্দিষ্ট জেলায়
- কাজের ধরন: নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডার রাষ্ট্রের ব্যয় দেখে, পদায়ন মূলত বিভাগীয় শহরে, কাজ বেশির ভাগ ডেস্কে
- মানুষের সঙ্গে কাজ: কর ক্যাডারে জেলা ও বিভাগে পদায়ন, করদাতাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ
- পরিবারের অবস্থা: বারবার বদলি বা মাঠের কাজ আপনার পরিবারের সঙ্গে খাপ খায় কি না
একটা উদাহরণ ধরা যাক। হিসাববিজ্ঞানের একজন প্রার্থী অর্থনীতি আর বাণিজ্যের কাজে আগ্রহী হলে নিরীক্ষা ও হিসাব, কর, শুল্ক ও আবগারি, বাণিজ্য ক্যাডারগুলো ওপরের দিকে রাখতে পারেন। কিন্তু তিনি যদি মাঠ প্রশাসনে কাজ করতে চান, তাহলে প্রশাসন ক্যাডারই আগে আসবে। দুই প্রার্থীর তালিকা আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক।
৪. বিসিএস নন ক্যাডার চয়েস কেন দেবেন
প্রথম আলোর প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী সাধারণ, কারিগরি বা দুই ধরনের ক্যাডারেই আবেদন করুন না কেন, মেধাতালিকা আর স্নাতকের বিষয় মিলিয়ে তিনি সব নন-ক্যাডার পদের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। আর এখন আবেদনের সময়েই ক্যাডারের পাশাপাশি নন-ক্যাডারেও পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ক্যাডার না পেলেও লিখিত ও মৌখিক পাস করা অনেকে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ পান। তাই নন-ক্যাডারের পছন্দক্রমও সমান গুরুত্ব দিয়ে সাজান, যেসব পদে সত্যিই যোগ দেবেন সেগুলো আগে রাখুন।
৫. ক্যাডার চয়েস দিতে গিয়ে সাধারণ ভুল
- অন্যের তালিকা হুবহু নকল করা: বন্ধুর প্রথম পছন্দ আপনার জীবনের সঙ্গে নাও মিলতে পারে
- শুধু জনপ্রিয় তিন-চারটি ক্যাডার রেখে বাকিগুলো বাদ দেওয়া, অথচ ওই ক্যাডারগুলোতে যোগ দিতে আপনার আপত্তি নেই
- যে ক্যাডারে যোগ দেবেন না, সেটিও তালিকায় রাখা, পরে সেই ক্যাডারে সুপারিশ এলে বিপদে পড়া
- শিক্ষাগত তথ্যে বিষয়ের নাম ভুল দেওয়ায় নিজের কারিগরি ক্যাডার পর্দায় না আসা
- নন-ক্যাডার পছন্দক্রম তাড়াহুড়ো করে দেওয়া
আবেদনের শেষ দিনে চাপের মধ্যে পছন্দক্রম সাজাবেন না। আগের দিন কাগজে খসড়া তালিকা করে রাখুন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন, তারপর ফরমে বসান। আবেদন ফরম পূরণের অন্য ঘর, ছবি আর ফি দেওয়ার নিয়ম বিসিএসে আবেদনের গাইডে আছে।
৬. ভাইভায় ক্যাডার চয়েস নিয়ে কী প্রশ্ন আসে
কোনো ক্যাডার পছন্দক্রমে না রাখলে সমস্যা হয় না, তবে ভাইভা বোর্ড কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইতে পারে, অমুক ক্যাডার কেন প্রথম পছন্দ, বা অমুক ক্যাডার কেন তালিকায় নেই। এর গুছানো উত্তর বোর্ডে ভালো ধারণা তৈরি করতে পারে।
ক্যাডার চয়েস দেওয়ার আগে নিজেকে যা জিজ্ঞেস করবেন
আবেদন জমার পর পছন্দক্রমের প্রিন্ট বা পিডিএফ রেখে দিন। ভাইভার আগে এটি আবার পড়ে নিলে প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে বলা সহজ হয়।
৭. অনেকে যা জানতে চান
বিসিএস ক্যাডার চয়েস কিভাবে দিব?
একজন প্রার্থী কয়টি ক্যাডার পছন্দ করতে পারেন?
cadre choice e technical cadre dile ki extra porikkha dite hoy?
কোনো ক্যাডার পছন্দক্রমে না রাখলে কি ভাইভায় সমস্যা হয়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।