
সংক্ষেপে
বিসিএস লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন অনুযায়ী সাধারণ ক্যাডারের প্রার্থীদের ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়: বাংলা ২০০, ইংরেজি ২০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২০০, আর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা, সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ১০০ করে। গড় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ।
কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারেও মোট ৯০০, তবে বাংলা ১০০ আর পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২০০। যাঁরা সাধারণ আর কারিগরি দুই ধরনের ক্যাডারই পছন্দ দেন, তাঁরা ৯০০-এর সঙ্গে আরও ২০০ নম্বরের পদ-সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা দেন। লিখিত পাস করলে ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা।
তিন ধাপের পরীক্ষা, মানবন্টন আর বিস্তারিত সিলেবাস পিএসসির ওয়েবসাইটে আছে।
এই লেখায়
১. বিসিএস পরীক্ষার তিন ধাপ: লিখিত কোথায় পড়ে
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইটে বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতির পাতায় তিনটি স্তর লেখা আছে। প্রথম স্তরে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রিলিমিনারি, দ্বিতীয় স্তরে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের জন্য ৯০০ নম্বরের লিখিত, আর তৃতীয় স্তরে লিখিত পাস করা প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা।
পিএসসি প্রিলিমিনারিকে বলেছে বিপুল প্রার্থীর মধ্য থেকে লিখিত পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা। আসল লড়াই শুরু হয় লিখিততে। ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে ৬ হাজার ১৬৫ জন উত্তীর্ণ হন, ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফল প্রকাশ হয় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আর ভাইভা শুরু হয় ১১ আগস্ট।
| স্তর | নম্বর | পাস নম্বর |
|---|---|---|
| প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) | ২০০ | পিএসসি বাছাই করে, নির্দিষ্ট কাট মার্ক প্রকাশ করে না |
| লিখিত | ৯০০ (দুই ধরনের ক্যাডার চাইলে আরও ২০০) | গড়ে ৫০% |
| মৌখিক | ২০০ | ৫০% |
২. সাধারণ ক্যাডারে বিসিএস লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন
প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর, নিরীক্ষার মতো সাধারণ ক্যাডারের প্রার্থীরা নিচের ছয়টি আবশ্যিক বিষয়ে পরীক্ষা দেন। হিসাবটা পিএসসির পাতার তালিকা থেকে নেওয়া।
| আবশ্যিক বিষয় | নম্বর |
|---|---|
| বাংলা | ২০০ |
| ইংরেজি | ২০০ |
| বাংলাদেশ বিষয়াবলি | ২০০ |
| আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি | ১০০ |
| গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা | ১০০ |
| সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | ১০০ |
| মোট | ৯০০ |
দেখা যাচ্ছে মোট নম্বরের দুই-তৃতীয়াংশই বাংলা, ইংরেজি আর বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে। তাই প্রস্তুতির বড় অংশ এই তিন বিষয়ে লেখার অভ্যাসে দেওয়াই যুক্তিসংগত। প্রতিটি বিষয়ের ভেতরের টপিক জানতে পিএসসির পাতায় 'লিখিত পরীক্ষার বিস্তারিত সিলেবাস' লিংক খুলুন।
৩. কারিগরি ক্যাডারে মানবন্টন কী আলাদা
চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষি, শিক্ষা বা অন্য কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের প্রার্থীদের পরীক্ষাও ৯০০ নম্বরের, তবে বিষয়ের ভাগ ভিন্ন। বাংলা কমে ১০০ হয়, আর সাধারণ বিজ্ঞানের জায়গায় আসে পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়।
| আবশ্যিক বিষয় | নম্বর |
|---|---|
| বাংলা | ১০০ |
| ইংরেজি | ২০০ |
| বাংলাদেশ বিষয়াবলি | ২০০ |
| আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি | ১০০ |
| গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা | ১০০ |
| পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় | ২০০ |
| মোট | ৯০০ |
যাঁরা সাধারণ আর কারিগরি দুই ধরনের ক্যাডারেই পছন্দক্রম দেন, পিএসসির নিয়মে তাঁদের সাধারণ ক্যাডারের ৯০০ নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদের ২০০ নম্বরের আলাদা লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়। আবেদনের সময় ক্যাডার পছন্দ দেওয়ার আগে এই বাড়তি চাপের কথা ভাবুন।
৪. বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি সাজাবেন যেভাবে
- ১নিজের বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আর সিলেবাস নামানপিএসসির সাধারণ পাতার তথ্য সব বিসিএসে হুবহু একই থাকবে, এমন নয়। ৫০তম বিসিএস থেকে প্রিলিমিনারির নম্বর বণ্টন বদলেছে। আপনি যে বিসিএসে বসবেন, তার বিজ্ঞপ্তি আর সিলেবাস মিলিয়ে নিন।
- ২নম্বর ধরে সময় ভাগ করুনসাধারণ ক্যাডারে ৬০০ নম্বর বাংলা, ইংরেজি আর বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে। সপ্তাহের পড়ার সময় মোটামুটি এই অনুপাতে ভাগ করুন, গণিত আর বিজ্ঞানে নিয়মিত অনুশীলন রাখুন।
- ৩হাতে লিখে সময় ধরে অনুশীলন করুনলিখিত পরীক্ষায় জানা উত্তরও সময়মতো লিখতে না পারলে নম্বর আসে না। পুরোনো প্রশ্ন নিয়ে ঘড়ি ধরে পুরো খাতা লেখার অভ্যাস করুন।
- ৪কারিগরি ক্যাডার চাইলে পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় আলাদা পড়ুনপদ-সংশ্লিষ্ট ২০০ নম্বরে স্নাতকের বিষয়ই আসে। বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সিলেবাস ধরে স্নাতকের মূল বইগুলো আবার দেখে নিন।
পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর নেওয়া যায় কি না, প্রবেশপত্রে কী লেখা থাকে, এসব প্রতিটি বিসিএসের নির্দেশনায় আলাদা করে আসে। প্রবেশপত্র নামানোর পর নির্দেশনাগুলো এক বসায় পড়ে নিন।
৫. বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় যে ভুলগুলো নম্বর কাটে
লিখিত পরীক্ষায় অনেক প্রার্থী প্রস্তুতি নিয়েও নম্বর হারান কয়েকটি চেনা ভুলে। প্রথমটি সময়ের হিসাব না রাখা। একটি প্রশ্নে বেশি লিখে শেষের দুটি প্রশ্ন ফাঁকা রাখলে সেই নম্বর আর ফেরে না। প্রতিটি প্রশ্নে কত নম্বর, সেই অনুপাতে মিনিট ভাগ করে নিন।
- নম্বর কম বলে গণিত আর মানসিক দক্ষতা বাদ রাখা: ১০০ নম্বরের এই বিষয়ে নিয়মিত অনুশীলনে তুলনামূলক সহজে নম্বর তোলা যায়
- শুধু নোট মুখস্থ করা: বাংলাদেশ বিষয়াবলি আর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ লিখতে হয়, তথ্যের তালিকা নয়
- হাতের লেখা অপাঠ্য রাখা: পরীক্ষক পড়তে না পারলে ঠিক উত্তরও নম্বর পায় না
- নিজের বিসিএসের সিলেবাস না দেখে পুরোনো গাইডের ওপর ভরসা করা
- কারিগরি ক্যাডার চেয়ে পদ-সংশ্লিষ্ট ২০০ নম্বরের প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে শুরু করা
ফল প্রকাশের পর রেজিস্ট্রেশন নম্বর খুঁজতে পিএসসির পিডিএফ ফল বা এসএমএস দেখতে হয়, যার নিয়ম সাইটের বিসিএস ফল দেখার লেখায় আছে। লিখিতর ফল থেকে ভাইভার সূচি পর্যন্ত পিএসসির নোটিশ নিয়মিত দেখুন, কারণ ভাইভার তারিখ আর কাগজের তালিকা আলাদা নোটিশে আসে।
৬. লিখিত পাস করলে মৌখিক পরীক্ষা কেমন
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, পাস নম্বর ৫০ শতাংশ। পিএসসির পাতা অনুযায়ী বোর্ডে থাকেন কমিশনের চেয়ারম্যান বা একজন সদস্য, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান, সরকারের মনোনীত যুগ্মসচিব বা তার ওপরের একজন কর্মকর্তা, আর কমিশনের মনোনীত একজন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ।
লিখিতর পর থেকেই যা গুছিয়ে রাখবেন
ভাইভা বোর্ড আবেদনে দেওয়া ক্যাডার পছন্দক্রম নিয়েও প্রশ্ন করতে পারে। তাই লিখিত পরীক্ষার পরে নিজের পছন্দক্রমের যুক্তিগুলোও গুছিয়ে রাখুন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
বিসিএস লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন কত?
বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কত?
bcs written exam e koto number?
বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস কোথায় পাব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।