সরকারি চাকরি

সরকারি চাকরির আবেদনে ভুল হলে করণীয়: ফি দেওয়ার আগে আর পরে কী করা যায়, কী যায় না

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ২১ অক্টোবর ২০২৬alljobs.teletalk.com.bd
সরকারি চাকরির আবেদনে ভুল হলে করণীয়: ফি দেওয়ার আগে আর পরে কী করা যায়, কী যায় না

সংক্ষেপে

টেলিটকের মাধ্যমে সরকারি চাকরির আবেদনে ভুল হলে সমাধান নির্ভর করে আপনি কোন ধাপে আছেন তার ওপর। ফি দেওয়ার আগে প্রিভিউ থেকে সংশোধন করা যায়, আর জমা দিয়ে ফেললেও ফি না দিলে সেই আবেদন গৃহীত হয় না। তখন সঠিক তথ্যে নতুন আবেদন করে নতুন User ID দিয়ে ফি দেওয়াই সহজ পথ।

ফি দেওয়ার পর আবেদন আর বদলানো যায় না, ফিও ফেরত হয় না। তখন ভুলটা কতটা বড় তা বুঝে নিয়োগকারী দপ্তরকে লিখে জানাতে হয়, আর মৌখিক বা কাগজ যাচাইয়ের দিন মূল সনদ দিয়ে সঠিক তথ্য দেখাতে হয়।

টেলিটকের সরকারি চাকরির তালিকা

কোন নিয়োগের আবেদন কোন সাইটে, আর প্রতিটি বিজ্ঞপ্তি এখানে পাবেন।

Alljobs খুলুন
এই লেখায়
  1. আগে দেখুন আপনি কোন ধাপে আটকেছেন
  2. ফি দেওয়ার আগে ভুল ধরা পড়লে
  3. ফি দেওয়ার পর ভুল: কোন ভুল কতটা গুরুতর
  4. যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়, আর আগেভাগে ঠেকানোর উপায়
  5. কোথায় যোগাযোগ করবেন
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. আগে দেখুন আপনি কোন ধাপে আটকেছেন

অবস্থাসংশোধন করা যায়?এখন যা করবেন
Submit চাপার আগে, প্রিভিউ পাতায়হ্যাঁপ্রিভিউ থেকে ফিরে গিয়ে ভুল ঘর ঠিক করুন, তারপর জমা দিন
জমা দিয়েছেন, User ID পেয়েছেন, ফি দেননিওই আবেদনে নয়ভুল আবেদনের ফি দেবেন না। সঠিক তথ্যে নতুন আবেদন করে নতুন User ID দিয়ে ফি দিন
ফি দিয়ে Password পেয়ে গেছেননাভুলের ধরন বুঝে নিয়োগকারী দপ্তরকে লিখে জানান, মূল কাগজ গুছিয়ে রাখুন

৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন নিয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদনে বিপিএসসির নির্দেশনা ছিল এরকম: সব তথ্য পূরণের পর Application Preview দেখে যাচাই করা যাবে, তখন ভুল ধরা পড়লে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কিন্তু আবেদন ফি দেওয়ার পর কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না। অন্য দপ্তরের আবেদনে নিজের বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।

২. ফি দেওয়ার আগে ভুল ধরা পড়লে

প্রথম আলোয় প্রকাশিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অক্টোবর ২০২৬ সালের নিয়োগের নিয়মে লেখা, আবেদনপত্র পূরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি দিতে হবে, আর নির্ধারিত সময়ে ফি না দিলে আবেদন গৃহীত হবে না। অর্থাৎ ফি না দেওয়া আবেদন নিজে থেকেই বাদ পড়ে। এই সুবিধাটা কাজে লাগান।

  • ১
    ভুল আবেদনের ফি দেবেন নাApplicant's Copy-তে ভুল দেখলে ওই User ID দিয়ে এসএমএস পাঠাবেন না। একবার ফি গেলে আর ফেরানো যায় না।
  • ২
    সঠিক তথ্যে নতুন আবেদন করুনএকই সাইটে নতুন করে ফরম পূরণ করুন। এবার প্রিভিউ পাতায় প্রতিটি ঘর আলাদা করে পড়ুন: নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, পদের নাম, নিজ জেলা, কোটা, মোবাইল নম্বর।
  • ৩
    নতুন User ID দিয়েই ফি দিননতুন Applicant's Copy-র User ID দিয়ে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে দুই এসএমএসে ফি দিন। পুরোনো আর নতুন দুই কপিই পাশাপাশি রাখলে গুলিয়ে যায়, তাই ভুলটা আলাদা ফোল্ডারে সরিয়ে রাখুন।
  • ৪
    বিজ্ঞপ্তির শর্ত মিলিয়ে নিনকোনো বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক আবেদন নিয়ে আলাদা শর্ত থাকলে সেটিই মানবেন। সন্দেহ থাকলে নতুন আবেদনের আগে টেলিটকের হেল্পলাইনে জিজ্ঞেস করুন।
শেষ দিনের ঝুঁকি

শেষ দিনে ভুল ধরলে নতুন আবেদনের সময় না-ও পেতে পারেন, সার্ভারও ধীর থাকে। তাই আবেদনের দিনই Applicant's Copy খুলে পড়ুন, ফি দিন আরও এক-দুই ঘণ্টা পরে।

৩. ফি দেওয়ার পর ভুল: কোন ভুল কতটা গুরুতর

এখানে আর অনলাইনে কিছু বদলানো যাবে না। প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনেও লেখা, এসব ফি অফেরতযোগ্য। তাই শান্ত হয়ে ভুলটা কোন ধরনের, সেটা আগে ঠিক করুন।

ভুলকেন জরুরিযা করবেন
নামের বানান, ঠিকানায় ছোট ভুলপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না, সনদে সঠিক তথ্য আছেদপ্তরকে লিখে জানিয়ে রাখুন, মৌখিক পরীক্ষায় সনদ দেখান
জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নামবয়স আর পরিচয় যাচাই হয় এসএসসি সনদ আর NID দিয়েদ্রুত লিখিত আবেদন, সঙ্গে সনদ ও NID-র কপি
নিজ জেলা, কোটা, শিক্ষাগত যোগ্যতাযোগ্যতা আর বাছাই এসবের ওপর নির্ভর করেদপ্তরকে লিখে জানান, তাদের সিদ্ধান্তের কপি চেয়ে নিন
মোবাইল নম্বরপ্রবেশপত্র আর পরীক্ষার খবর এসএমএসে আসেUser ID আর Password নিজের কাছে রাখুন, সাইটে নিয়মিত নিজে দেখুন, টেলিটকের হেল্পলাইনে জানান
  • ১
    লিখিত আবেদন তৈরি করুনবিজ্ঞপ্তিতে যে কর্মকর্তার নাম ও ঠিকানা আছে, তাঁর বরাবর এক পাতার আবেদন লিখুন। পদের নাম, User ID, কোন ঘরে কী ভুল আর সঠিক তথ্য কী, স্পষ্ট লিখুন।
  • ২
    প্রমাণ জুড়ে দিনApplicant's Copy, ফি জমার নিশ্চিতকরণ এসএমএসের স্ক্রিনশট আর সঠিক তথ্যের প্রমাণ, যেমন এসএসসি সনদ বা NID-র কপি সংযুক্ত করুন।
  • ৩
    জমার প্রমাণ রাখুনহাতে জমা দিলে রিসিভ কপিতে সিল নিন, ডাকে পাঠালে রসিদ রাখুন। মৌখিক বা কাগজ যাচাইয়ের দিন এই কপি সঙ্গে নেবেন।

৪. যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়, আর আগেভাগে ঠেকানোর উপায়

  • দোকান থেকে আবেদন করিয়ে প্রিভিউ নিজে না পড়া। কম্পিউটারের দোকানে তাড়াহুড়োয় জন্মতারিখের দিন আর মাস উল্টে যাওয়া খুব সাধারণ ভুল।
  • নিজ জেলা হিসেবে বর্তমান ঠিকানার জেলা দেওয়া। বিজ্ঞপ্তিতে নিজ জেলা বলতে কী বোঝানো হয়েছে, আগে পড়ে নিন।
  • অন্যের মোবাইল নম্বর দেওয়া। প্রবেশপত্রের খবর ওই নম্বরেই যায়, নম্বরটা যেন বছরজুড়ে আপনার হাতে থাকে।
  • পদের নাম বা পদ কোড ভুল বাছাই। একই বিজ্ঞপ্তিতে কাছাকাছি নামের কয়েকটি পদ থাকলে এটা বেশি হয়।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতায় ফলের ঘরে জিপিএ আর বিভাগ গুলিয়ে ফেলা।

একটা অভ্যাস বেশির ভাগ ভুল আটকায়: Applicant's Copy নামিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা পরে, নিজের এসএসসি সনদ আর NID পাশে রেখে লাইন ধরে মিলিয়ে তবেই ফি দিন। উদাহরণ: মিতু রাত ১১টায় আবেদন করে সকালে কপি মিলিয়ে দেখল বাবার নামের বানান ভুল। ফি না দেওয়ায় সে দুপুরে নতুন আবেদন করে সঠিক User ID দিয়ে ফি দিল, কোনো টাকা নষ্ট হলো না।

৫. কোথায় যোগাযোগ করবেন

  • টেলিটক নম্বর থেকে ১২১-এ কল করে ৮, তারপর ১ চাপলে এজেন্ট পাওয়া যায়।
  • অন্য অপারেটরের নম্বর থেকে সরাসরি ০১৫০০১২১১২১।
  • ইমেইল vas.query@teletalk.com.bd, বিষয়ের ঘরে দপ্তরের কোড লিখুন। বিসিআইসির আবেদন সাইটে যেমন লেখা আছে Subject: BCIC।
  • আবেদনের তথ্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়োগকারী দপ্তরের। টেলিটক শুধু আবেদন আর ফির কারিগরি দিক দেখে।

ফোন বা ইমেইলের আগে হাতে রাখুন

৬. অনেকে যা জানতে চান

বিসিএস আবেদনে ভুল হলে করণীয় কী?
ফি দেওয়ার আগে Application Preview থেকে সংশোধন করা যায়। ফি দেওয়ার পর বিপিএসসির নির্দেশনা অনুযায়ী আর কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন হয় না, তখন কমিশনকে লিখে জানান আর মৌখিক পরীক্ষায় মূল কাগজ দেখান।
সরকারি চাকরির আবেদন বাতিল করার নিয়ম কী?
ফি না দিলে নির্ধারিত সময় পরে আবেদন এমনিতেই গৃহীত হয় না, আলাদা করে বাতিলের দরকার পড়ে না। ফি দেওয়া আবেদন অনলাইনে বাতিলের কোনো ব্যবস্থা আমরা বিজ্ঞপ্তিগুলোতে পাইনি, আর ফি ফেরত হয় না।
চাকরির আবেদনে ঠিকানা ভুল হলে করণীয় কী?
ঠিকানার ছোট ভুলে সাধারণত বড় সমস্যা হয় না, কারণ প্রবেশপত্র নামাতে হয় অনলাইনে। তবে নিজ জেলা ভুল হলে জেলা কোটা বা যোগ্যতায় প্রভাব পড়তে পারে, তাই সেটি দপ্তরকে লিখে জানান।
ফি দেওয়ার পর কি টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
সাধারণত না। যেমন বিমানের ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে ফি অফেরতযোগ্য বলা আছে। তাই এসএমএস পাঠানোর আগে Applicant's Copy একবার পুরোটা পড়ে নিন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
চাকরি

চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম: কী কী কাগজ লাগে, কী দেখা হয়, পূরণে কোন ভুল এড়াবেন

পুলিশ প্রত্যয়ন ফরমের প্রতিটি ঘর, চারিত্রিক সনদ, পরিচয়দাতা আর মামলার তথ্য লুকালে কেন বিপদ।
চাকরি

সরকারি চাকরির আবেদন ফি কত: গ্রেড অনুযায়ী ৫০ থেকে ২০০ টাকা, সঙ্গে টেলিটকের চার্জ

কোন গ্রেডে কত টাকা, টেলিটকের কমিশন আর ভ্যাট যোগ হয়ে মোট কত, আর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে না মিললে কী করবেন।
চাকরি

বিসিএস ভাইভার কাগজপত্র আর বিপিএসসি ফরম ৩: মৌখিক পরীক্ষার আগে যা গুছিয়ে রাখবেন

ফরম ৩ পূরণ, ভাইভা বোর্ডে দুই কপি কাগজ, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম তিন কপি আর স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাপ।

অনেকে খোঁজেন