
সংক্ষেপে
টেলিটকের মাধ্যমে সরকারি চাকরির আবেদনে ভুল হলে সমাধান নির্ভর করে আপনি কোন ধাপে আছেন তার ওপর। ফি দেওয়ার আগে প্রিভিউ থেকে সংশোধন করা যায়, আর জমা দিয়ে ফেললেও ফি না দিলে সেই আবেদন গৃহীত হয় না। তখন সঠিক তথ্যে নতুন আবেদন করে নতুন User ID দিয়ে ফি দেওয়াই সহজ পথ।
ফি দেওয়ার পর আবেদন আর বদলানো যায় না, ফিও ফেরত হয় না। তখন ভুলটা কতটা বড় তা বুঝে নিয়োগকারী দপ্তরকে লিখে জানাতে হয়, আর মৌখিক বা কাগজ যাচাইয়ের দিন মূল সনদ দিয়ে সঠিক তথ্য দেখাতে হয়।
কোন নিয়োগের আবেদন কোন সাইটে, আর প্রতিটি বিজ্ঞপ্তি এখানে পাবেন।
এই লেখায়
১. আগে দেখুন আপনি কোন ধাপে আটকেছেন
| অবস্থা | সংশোধন করা যায়? | এখন যা করবেন |
|---|---|---|
| Submit চাপার আগে, প্রিভিউ পাতায় | হ্যাঁ | প্রিভিউ থেকে ফিরে গিয়ে ভুল ঘর ঠিক করুন, তারপর জমা দিন |
| জমা দিয়েছেন, User ID পেয়েছেন, ফি দেননি | ওই আবেদনে নয় | ভুল আবেদনের ফি দেবেন না। সঠিক তথ্যে নতুন আবেদন করে নতুন User ID দিয়ে ফি দিন |
| ফি দিয়ে Password পেয়ে গেছেন | না | ভুলের ধরন বুঝে নিয়োগকারী দপ্তরকে লিখে জানান, মূল কাগজ গুছিয়ে রাখুন |
৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন নিয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদনে বিপিএসসির নির্দেশনা ছিল এরকম: সব তথ্য পূরণের পর Application Preview দেখে যাচাই করা যাবে, তখন ভুল ধরা পড়লে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, কিন্তু আবেদন ফি দেওয়ার পর কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না। অন্য দপ্তরের আবেদনে নিজের বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।
২. ফি দেওয়ার আগে ভুল ধরা পড়লে
প্রথম আলোয় প্রকাশিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অক্টোবর ২০২৬ সালের নিয়োগের নিয়মে লেখা, আবেদনপত্র পূরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি দিতে হবে, আর নির্ধারিত সময়ে ফি না দিলে আবেদন গৃহীত হবে না। অর্থাৎ ফি না দেওয়া আবেদন নিজে থেকেই বাদ পড়ে। এই সুবিধাটা কাজে লাগান।
- ১ভুল আবেদনের ফি দেবেন নাApplicant's Copy-তে ভুল দেখলে ওই User ID দিয়ে এসএমএস পাঠাবেন না। একবার ফি গেলে আর ফেরানো যায় না।
- ২সঠিক তথ্যে নতুন আবেদন করুনএকই সাইটে নতুন করে ফরম পূরণ করুন। এবার প্রিভিউ পাতায় প্রতিটি ঘর আলাদা করে পড়ুন: নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, পদের নাম, নিজ জেলা, কোটা, মোবাইল নম্বর।
- ৩নতুন User ID দিয়েই ফি দিননতুন Applicant's Copy-র User ID দিয়ে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে দুই এসএমএসে ফি দিন। পুরোনো আর নতুন দুই কপিই পাশাপাশি রাখলে গুলিয়ে যায়, তাই ভুলটা আলাদা ফোল্ডারে সরিয়ে রাখুন।
- ৪বিজ্ঞপ্তির শর্ত মিলিয়ে নিনকোনো বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক আবেদন নিয়ে আলাদা শর্ত থাকলে সেটিই মানবেন। সন্দেহ থাকলে নতুন আবেদনের আগে টেলিটকের হেল্পলাইনে জিজ্ঞেস করুন।
শেষ দিনে ভুল ধরলে নতুন আবেদনের সময় না-ও পেতে পারেন, সার্ভারও ধীর থাকে। তাই আবেদনের দিনই Applicant's Copy খুলে পড়ুন, ফি দিন আরও এক-দুই ঘণ্টা পরে।
৩. ফি দেওয়ার পর ভুল: কোন ভুল কতটা গুরুতর
এখানে আর অনলাইনে কিছু বদলানো যাবে না। প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনেও লেখা, এসব ফি অফেরতযোগ্য। তাই শান্ত হয়ে ভুলটা কোন ধরনের, সেটা আগে ঠিক করুন।
| ভুল | কেন জরুরি | যা করবেন |
|---|---|---|
| নামের বানান, ঠিকানায় ছোট ভুল | পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না, সনদে সঠিক তথ্য আছে | দপ্তরকে লিখে জানিয়ে রাখুন, মৌখিক পরীক্ষায় সনদ দেখান |
| জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম | বয়স আর পরিচয় যাচাই হয় এসএসসি সনদ আর NID দিয়ে | দ্রুত লিখিত আবেদন, সঙ্গে সনদ ও NID-র কপি |
| নিজ জেলা, কোটা, শিক্ষাগত যোগ্যতা | যোগ্যতা আর বাছাই এসবের ওপর নির্ভর করে | দপ্তরকে লিখে জানান, তাদের সিদ্ধান্তের কপি চেয়ে নিন |
| মোবাইল নম্বর | প্রবেশপত্র আর পরীক্ষার খবর এসএমএসে আসে | User ID আর Password নিজের কাছে রাখুন, সাইটে নিয়মিত নিজে দেখুন, টেলিটকের হেল্পলাইনে জানান |
- ১লিখিত আবেদন তৈরি করুনবিজ্ঞপ্তিতে যে কর্মকর্তার নাম ও ঠিকানা আছে, তাঁর বরাবর এক পাতার আবেদন লিখুন। পদের নাম, User ID, কোন ঘরে কী ভুল আর সঠিক তথ্য কী, স্পষ্ট লিখুন।
- ২প্রমাণ জুড়ে দিনApplicant's Copy, ফি জমার নিশ্চিতকরণ এসএমএসের স্ক্রিনশট আর সঠিক তথ্যের প্রমাণ, যেমন এসএসসি সনদ বা NID-র কপি সংযুক্ত করুন।
- ৩জমার প্রমাণ রাখুনহাতে জমা দিলে রিসিভ কপিতে সিল নিন, ডাকে পাঠালে রসিদ রাখুন। মৌখিক বা কাগজ যাচাইয়ের দিন এই কপি সঙ্গে নেবেন।
৪. যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়, আর আগেভাগে ঠেকানোর উপায়
- দোকান থেকে আবেদন করিয়ে প্রিভিউ নিজে না পড়া। কম্পিউটারের দোকানে তাড়াহুড়োয় জন্মতারিখের দিন আর মাস উল্টে যাওয়া খুব সাধারণ ভুল।
- নিজ জেলা হিসেবে বর্তমান ঠিকানার জেলা দেওয়া। বিজ্ঞপ্তিতে নিজ জেলা বলতে কী বোঝানো হয়েছে, আগে পড়ে নিন।
- অন্যের মোবাইল নম্বর দেওয়া। প্রবেশপত্রের খবর ওই নম্বরেই যায়, নম্বরটা যেন বছরজুড়ে আপনার হাতে থাকে।
- পদের নাম বা পদ কোড ভুল বাছাই। একই বিজ্ঞপ্তিতে কাছাকাছি নামের কয়েকটি পদ থাকলে এটা বেশি হয়।
- শিক্ষাগত যোগ্যতায় ফলের ঘরে জিপিএ আর বিভাগ গুলিয়ে ফেলা।
একটা অভ্যাস বেশির ভাগ ভুল আটকায়: Applicant's Copy নামিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা পরে, নিজের এসএসসি সনদ আর NID পাশে রেখে লাইন ধরে মিলিয়ে তবেই ফি দিন। উদাহরণ: মিতু রাত ১১টায় আবেদন করে সকালে কপি মিলিয়ে দেখল বাবার নামের বানান ভুল। ফি না দেওয়ায় সে দুপুরে নতুন আবেদন করে সঠিক User ID দিয়ে ফি দিল, কোনো টাকা নষ্ট হলো না।
৫. কোথায় যোগাযোগ করবেন
- টেলিটক নম্বর থেকে ১২১-এ কল করে ৮, তারপর ১ চাপলে এজেন্ট পাওয়া যায়।
- অন্য অপারেটরের নম্বর থেকে সরাসরি ০১৫০০১২১১২১।
- ইমেইল vas.query@teletalk.com.bd, বিষয়ের ঘরে দপ্তরের কোড লিখুন। বিসিআইসির আবেদন সাইটে যেমন লেখা আছে Subject: BCIC।
- আবেদনের তথ্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়োগকারী দপ্তরের। টেলিটক শুধু আবেদন আর ফির কারিগরি দিক দেখে।
ফোন বা ইমেইলের আগে হাতে রাখুন
৬. অনেকে যা জানতে চান
বিসিএস আবেদনে ভুল হলে করণীয় কী?
সরকারি চাকরির আবেদন বাতিল করার নিয়ম কী?
চাকরির আবেদনে ঠিকানা ভুল হলে করণীয় কী?
ফি দেওয়ার পর কি টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২১ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।