
সংক্ষেপে
সাধারণ সরকারি কর্মচারীরা অবসরে যান ৫৯ বছর বয়সে, মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীরা ৬০ বছরে। জানুয়ারি ২০২৬-এ ডেইলি স্টারের ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে এই দুটি বয়সসীমাই লেখা হয়েছে। আগে সীমা ছিল ৫৭ বছর, পরে তা ৫৯ করা হয়।
বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেও অবসর হতে পারে। ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হলে নিজে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়া যায়, আবার সরকারও জনস্বার্থে কারণ না দেখিয়ে অবসরে পাঠাতে পারে।
অবসর, সরকার কর্তৃক অবসর আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে আইনের বিধান।
এই লেখায়
১. সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স কত: এক নজরে
| অবসরের ধরন | কখন | সিদ্ধান্ত কার |
|---|---|---|
| বয়স পূর্ণ হয়ে অবসর, সাধারণ কর্মচারী | ৫৯ বছর বয়সে | আইন অনুযায়ী নিজে থেকেই |
| বয়স পূর্ণ হয়ে অবসর, মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারী | ৬০ বছর বয়সে | আইন অনুযায়ী নিজে থেকেই |
| স্বেচ্ছায় অবসর | চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে | কর্মচারীর |
| সরকারের সিদ্ধান্তে অবসর | চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে, জনস্বার্থে | সরকারের, কারণ দেখাতে হয় না |
সরল কথায়, জন্মতারিখ থেকে ৫৯ বছর পূর্ণ হলে একজন সাধারণ কর্মচারীর চাকরি শেষ হয়, তিনি চান বা না চান। এই বয়সে অবসর কোনো শাস্তি বা দয়া নয়, আইনের নির্ধারিত মেয়াদ। মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীরা বাড়তি এক বছর পান।
সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৩, ৪৪ আর ৪৫ ধারায় অবসর গ্রহণ আর সরকার কর্তৃক অবসর প্রদানের বিধান আছে। আপনার নিয়োগ যদি কোনো বিশেষ আইনে হয়, যেমন বিচারক বা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, তাহলে বয়সসীমা আলাদা হতে পারে। এই লেখা সাধারণ বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের জন্য।
২. ৫৭ থেকে ৫৯: অবসরের বয়স যেভাবে বেড়েছে
একসময় সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স ছিল ৫৭। পরে তা ৫৯ করা হয়, আর মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের জন্য ৬০। ঠিক কোন বছর কোন ধাপে বদল হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন সাল আসে, তাই এখানে সাল দিলাম না।
বয়সের এই হিসাব প্রবেশের বয়সের সঙ্গেও জড়িত। ২০২৬ সালের আইনে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩২। কেউ ৩২ বছরে যোগ দিলে ৫৯ বছর পর্যন্ত চাকরি পান ২৭ বছর, অর্থাৎ স্বেচ্ছায় অবসরের ২৫ বছরের শর্তও পূরণ হয়। কিন্তু যিনি দেরিতে, ধরুন ৩৫ বছরে কোনো বিশেষ বয়সসীমার পদে যোগ দিয়েছেন, তাঁর ৫৯ বছরে চাকরিকাল দাঁড়াবে ২৪ বছর। পরিকল্পনার সময় এই হিসাবটা মাথায় রাখুন।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সংসদে প্রশ্ন উঠেছিল বয়স ৬২ করা হবে কি না। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী তখনকার প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বয়স বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। কারণ হিসেবে বলা হয়, বয়স বাড়লে পদোন্নতি আটকে যায় আর নতুনদের চাকরির সুযোগ কমে।
অবসরের বয়স বাড়ানোর দাবি মাঝে মাঝে ওঠে। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৫৯ থেকে বাড়ানোর কোনো প্রজ্ঞাপনের খবর আমরা পাইনি। বদল হলে আইন সংশোধন বা গেজেট হবে, শুধু দাবি বা প্রস্তাবের খবরে হিসাব বদলাবেন না।
৩. ৫৯ বছরের আগে অবসর: ২৫ বছরের দুই পথ
প্রথম পথ আপনার হাতে। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে পেনশনসহ বিদায় নেওয়া যায়। ডেইলি স্টারের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৫ বছরের আগে স্বেচ্ছায় চলে গেলে পেনশন মেলে না।
দ্বিতীয় পথ সরকারের হাতে। ৪৫ ধারায় ২৫ বছর চাকরি করা যেকোনো কর্মচারীকে সরকার জনস্বার্থে, কোনো কারণ না দেখিয়ে অবসরে পাঠাতে পারে। যেমন ৫ জুলাই ২০২৬-এ ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে এই ধারায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
জানুয়ারি ২০২৬-এ রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশোধিত অধ্যাদেশেও একই কাঠামো দেখা যায়, বাসসের খবর অনুযায়ী। সেখানে ২৫ বছর চাকরির পর ৩০ দিনের লিখিত নোটিশে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ রাখা হয়েছে, আর সেই সিদ্ধান্তকে বলা হয়েছে চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়। আপনার প্রতিষ্ঠানের নোটিশের সময় নিজের চাকরি বিধিমালায় দেখে নিন।
৪. স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান আর অবসরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
ডেইলি স্টারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ২০২৩ সালের এক সংশোধনীতে সরকারি চাকরি আইনের অবসর-সংক্রান্ত ৪৩, ৪৪ আর ৪৫ ধারা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান আর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্যও একই বয়সসীমা আর ২৫ বছরের নিয়ম খাটে।
অবসরের পর আবার সরকারি পদে ফেরার একটাই পথ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। একই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জনস্বার্থে কেবল রাষ্ট্রপতি অবসরপ্রাপ্ত কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারেন। কোনো দপ্তর নিজে থেকে এটা পারে না।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইন বা অধ্যাদেশ সংশোধনের সময়ও এখন একই কাঠামো যোগ হচ্ছে, যেমন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। তাই কোনো কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন বা পৌরসভায় চাকরি করলে নিজের প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ চাকরি প্রবিধানমালা একবার দেখে নিন।
তাই অবসরের আগে কেউ যদি বলেন, 'অফিস আপনাকে আরও দুই বছর রেখে দেবে', সেটা দপ্তরের হাতে নেই। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলে তার আলাদা প্রজ্ঞাপন হয়। এমন প্রতিশ্রুতির ভরসায় পেনশনের কাগজ গোছানো পিছিয়ে দেবেন না।
৫. নিজের অবসরের তারিখ জানবেন যেভাবে
- ১সার্ভিস বুকের জন্মতারিখ দেখুনচাকরির রেকর্ডে যে জন্মতারিখ আছে, অবসরের হিসাব হয় সেটি ধরে। NID বা সনদের সঙ্গে না মিললে আগে অফিসে জানিয়ে রাখুন।
- ২৫৯ বা ৬০ যোগ করুনজন্মতারিখের সঙ্গে ৫৯ বছর যোগ করলে মোটামুটি অবসরের সময়টা বোঝা যায়। মুক্তিযোদ্ধা হলে ৬০ বছর, তবে সেই তথ্য চাকরির রেকর্ডে থাকতে হবে।
- ৩অফিসে নিশ্চিত হোনপ্রশাসন বা হিসাব শাখা থেকে লিখিতভাবে অবসরের তারিখ জেনে নিন। পেনশনের কাগজ এই তারিখ ধরে আগেভাগে গোছাতে হয়।
- ৪কাগজ আগেভাগে গোছানসার্ভিস বুক হালনাগাদ, ছুটির হিসাব আর জিপিএফের তথ্য অবসরের অন্তত এক বছর আগে ঠিক করে ফেললে শেষ সময়ের দৌড়ঝাঁপ কমে।
সার্ভিস বুক, এসএসসি সনদ আর NID-তে জন্মতারিখ ভিন্ন থাকলে অবসরের তারিখ নিয়েই প্রশ্ন ওঠে, পেনশনের কাগজও আটকে যায়। চাকরিজীবনের শেষ দিকে নয়, গরমিল চোখে পড়ামাত্র অফিসে লিখিতভাবে জানান।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স নিয়ে জানতে চাইলে আমাদের ৩২ বছরের আইনের লেখাটি দেখুন। সেখানে কোন পদে বয়সের শর্ত আলাদা, তা আছে।
৬. অনেকে যা জানতে চান
সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়স কত?
চাকরির অবসরের বয়স কি বাড়ছে?
২৫ বছর চাকরি হলে কি অবসর নেওয়া যায়?
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অবসরের বয়স কি আলাদা?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।