সরকারি চাকরি

সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় কী কী কাগজ লাগে: নিয়োগপত্রের শর্ত, স্বাস্থ্য সনদ আর যোগদানপত্র

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৬ মিনিট

হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬railway.gov.bd
সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় কী কী কাগজ লাগে: নিয়োগপত্রের শর্ত, স্বাস্থ্য সনদ আর যোগদানপত্র

সংক্ষেপে

সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় সাধারণত লাগে সিভিল সার্জন বা দপ্তরের চিকিৎসা কর্মকর্তার দেওয়া স্বাস্থ্যগত সনদ, সব শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব সনদের সত্যায়িত ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, আবেদনের কপি আর প্রবেশপত্রের কপি, সঙ্গে নিয়োগপত্রে চাওয়া অঙ্গীকারনামা। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তালিকা আপনার নিয়োগপত্রের শর্তাবলিতেই লেখা থাকে।

উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর একটি নিয়োগাদেশ ধরে এখানে প্রতিটি শর্ত ব্যাখ্যা করা হলো। সেখানে নির্ধারিত দিনের মধ্যে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল, আর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা পুলিশ ভেরিফিকেশনে অনুপযুক্ত হলেও কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিলের কথা লেখা আছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের নোটিশ

নিয়োগাদেশ আর চূড়ান্ত ফল দপ্তরের ওয়েবসাইটের নোটিশ অংশে প্রকাশ হয়; নিজের দপ্তরের সাইটও এভাবে দেখুন।

নোটিশ দেখুন
এই লেখায়
  1. নিয়োগপত্রে কী থাকে, আগে সেটা পড়ুন
  2. যোগদানের দিন যে কাগজ জমা দেবেন
  3. স্বাস্থ্য পরীক্ষা আর স্বাস্থ্যগত সনদ
  4. অঙ্গীকারনামা, পুলিশ ভেরিফিকেশন আর শিক্ষানবিশকাল
  5. যোগদানপত্র আর সময়সীমা
  6. অনেকে যা জানতে চান

১. নিয়োগপত্রে কী থাকে, আগে সেটা পড়ুন

চূড়ান্ত ফলের পর দপ্তর নিয়োগাদেশ বা নিয়োগপত্র জারি করে। এতে থাকে আপনার পদ, গ্রেড, বেতনক্রম, কোথায় যোগ দেবেন, কবের মধ্যে যোগ দেবেন আর কোন শর্তে নিয়োগ। রেলওয়ের ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর আদেশে ৬১ জনকে গার্ড গ্রেড-২ পদে ১৪তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে ২০টি শর্ত।

তালিকায় প্রত্যেকের রোল নম্বর, নাম, স্থায়ী ঠিকানা আর পদায়নের জন্য ন্যস্ত কার্যালয় লেখা থাকে। রেলওয়ের আদেশে কাউকে চট্টগ্রামে মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), কাউকে রাজশাহীতে মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম)-এর অধীনে দেওয়া হয়েছে। রোল নম্বর দিয়ে নিজের সারিটা খুঁজে আগে নিশ্চিত হোন কোথায় যোগ দিতে হবে, তারপর যাতায়াত আর থাকার ব্যবস্থা করুন।

দপ্তর নিয়োগাদেশ ওয়েবসাইটে দিতে পারে, এসএমএসেও জানাতে পারে। রেলওয়ের আদেশে টেলিটকের মাধ্যমে প্রার্থীদের এসএমএসে জানানোর কথা আছে, আর বলা আছে, ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে সেটি নিয়েই কর্মস্থলে যোগ দেওয়া যাবে। ডাকে চিঠির অপেক্ষায় বসে থাকলে সময় পেরিয়ে যেতে পারে, তাই ফলের পর দপ্তরের নোটিশ বোর্ড নিয়মিত দেখুন।

২. যোগদানের দিন যে কাগজ জমা দেবেন

রেলওয়ের নিয়োগাদেশ অনুযায়ী এক সেট সত্যায়িত কপি

অন্য দপ্তরের তালিকা একটু আলাদা হতে পারে, কিন্তু কাঠামো প্রায় একই। মূল কপিগুলো সঙ্গে রাখুন, কারণ সত্যায়িত কপি মেলাতে মূল দেখতে চাইতে পারে। সত্যায়ন করাবেন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাকে দিয়ে, নাম ও পদবির সিলসহ; নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও কাগজ এভাবে সত্যায়িত করতে বলা হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার সময় যে মূল সনদগুলো দেখিয়েছিলেন, সেগুলোর বেশিরভাগই এখানে আবার কাজে লাগবে।

৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষা আর স্বাস্থ্যগত সনদ

রেলওয়ের আদেশে বলা আছে, যোগদানের সময় রেলওয়ের বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তার কার্যালয় (ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম) অথবা সিভিল সার্জনের কাছ থেকে স্বাস্থ্যগত সনদ নিয়ে জমা দিতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে নিয়োগাদেশ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিল হবে।

  • ১
    কোথায় পরীক্ষা, আগে জেনে নিননিয়োগপত্রে লেখা থাকে কার কাছ থেকে সনদ নিতে হবে। সিভিল সার্জন লেখা থাকলে নিজ জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
  • ২
    নিয়োগপত্রের কপি সঙ্গে নিনকোন পদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, তা দেখাতে নিয়োগপত্রের কপি, এনআইডি আর ছবি নিয়ে যান।
  • ৩
    কোন কোন পরীক্ষা লাগবে, অফিসেই জানুননিয়োগপত্রে সাধারণত শুধু সনদের কথা থাকে, পরীক্ষার তালিকা থাকে না। কোন পরীক্ষা করাতে হবে আর ফি আছে কি না, তা চিকিৎসা কর্মকর্তা বা সিভিল সার্জন অফিস জানাবে।
  • ৪
    সময় হাতে রাখুনপরীক্ষার রিপোর্ট আসতে সময় লাগতে পারে। যোগদানের শেষ দিনের অন্তত কয়েক দিন আগে কাজ শুরু করুন।
  • ৫
    সনদের কপি রেখে দিনস্বাস্থ্যগত সনদ আর জমা দেওয়া সব কাগজের একটি করে ফটোকপি নিজের কাছে রাখুন। পরে দপ্তর কোনো কাগজ আবার চাইলে বা ফাইল খুঁজে না পেলে এগুলো দিয়ে দ্রুত সমাধান হয়।

৪. অঙ্গীকারনামা, পুলিশ ভেরিফিকেশন আর শিক্ষানবিশকাল

  • বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করলে বা বিয়েতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে নিয়োগ বাতিল। এ বিষয়ে যোগদানের আগে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হয়।
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন না আসা পর্যন্ত নিয়োগ সাময়িক বলে গণ্য। ভেরিফিকেশনে অনুপযুক্ত হলে নিয়োগ বাতিল।
  • প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশকাল। এ সময়ে উপযুক্ত না মনে হলে চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষানবিশকাল বাড়ানো যায়।
  • বিভাগীয় প্রশিক্ষণ শেষ করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে পদে স্থায়ী করা হয় না।
  • এই নিয়োগাদেশের জোরে স্থায়ী চাকরির দাবি করা যায় না; আদেশে বলা আছে, কারণ দর্শানো ছাড়াই ১৫ দিনের নোটিশে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।
  • জমা দেওয়া কোনো সনদ পরে ভুয়া প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা। স্থায়ী ঠিকানায় গরমিল ধরা পড়লেও নিয়োগ বাতিল।
  • চাকরি ছাড়তে চাইলে অন্তত ৩০ দিন আগে লিখিতভাবে জানাতে হয়, নইলে এক মাসের মূল বেতনের সমান টাকা সরকারি কোষাগারে দিতে হয়।

যোগদানের জন্য কোনো টিএ বা ডিএ দেওয়া হয় না, যাতায়াতের খরচ নিজের। পুলিশ ভেরিফিকেশনের ফরম আর তাতে কী দেখা হয়, তা নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে, যোগদানের আগে-পরে সেটিও কাজে লাগবে।

৫. যোগদানপত্র আর সময়সীমা

নিয়োগাদেশ মেনে নিলে নির্ধারিত দিনের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে যোগদানপত্র দিতে হয়। রেলওয়ের আদেশে শেষ দিন ছিল ১ নভেম্বর ২০২৬, যোগদানপত্র দিতে হবে পদায়নের জন্য নির্ধারিত মহাব্যবস্থাপকের (পূর্ব বা পশ্চিম) দপ্তরে। নির্ধারিত সময়ে যোগ না দিলে নিয়োগাদেশ বাতিল বলে গণ্য হয়।

যোগদানপত্র ছোট একটি আবেদন। এতে যাঁর বরাবর যোগ দিচ্ছেন তাঁর পদবি, নিয়োগাদেশের স্মারক নম্বর ও তারিখ, আপনার নাম, পদের নাম আর যে তারিখে যোগ দিচ্ছেন তা স্পষ্ট লিখুন, নিচে স্বাক্ষর দিন। একটি কপিতে গ্রহণের সিল ও তারিখ নিয়ে নিজের কাছে রাখুন, সময়মতো যোগ দিয়েছেন তার প্রমাণ হিসেবে এটি পরে কাজে লাগে।

আগের চাকরি আর বেতনক্রম

এখন অন্য কোথাও চাকরি করলে সেখানকার নিয়ম দেখে ছাড়ার নোটিশ আর ছাড়পত্রের ব্যবস্থা আগেই করুন, যাতে যোগদানের দিন আটকে না যান। নতুন বেতনক্রম, যেমন রেলওয়ের আদেশে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী ২৩,৫০০ থেকে ৫৬,৮০০ টাকা লেখা, সেটিও নিয়োগপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে রাখুন।

৬. অনেকে যা জানতে চান

সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় কি কি কাগজ লাগে?
সাধারণত স্বাস্থ্যগত সনদ, প্রবেশপত্র ও আবেদনের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত কপি, রঙিন ছবি আর কোটা থাকলে কোটা সনদ। নিখুঁত তালিকা আপনার নিয়োগপত্রের শর্তে থাকে।
সরকারি চাকরির মেডিকেল টেস্টে কী কী হয়?
নিয়োগপত্রে সাধারণত শুধু স্বাস্থ্যগত সনদ চাওয়া হয়। কোন কোন পরীক্ষা হবে, তা ঠিক করেন সনদ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসা কর্মকর্তা বা সিভিল সার্জন অফিস।
সময়মতো যোগ দিতে না পারলে কী হয়?
নিয়োগপত্রে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যোগ না দিলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হয়। বিশেষ সমস্যা থাকলে শেষ দিনের আগেই নিয়োগকারী দপ্তরে লিখিতভাবে যোগাযোগ করুন।
যোগদানের জন্য কি যাতায়াত ভাতা পাওয়া যায়?
রেলওয়ের নিয়োগাদেশে স্পষ্ট লেখা, যোগদানের সময় কোনো টিএ বা ডিএ দেওয়া হবে না। অন্য দপ্তরেও নিয়োগপত্রের শর্ত দেখে নিন।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
চাকরি

চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম: কী কী কাগজ লাগে, কী দেখা হয়, পূরণে কোন ভুল এড়াবেন

পুলিশ প্রত্যয়ন ফরমের প্রতিটি ঘর, চারিত্রিক সনদ, পরিচয়দাতা আর মামলার তথ্য লুকালে কেন বিপদ।
চাকরি

সরকারি চাকরির আবেদন ফি কত: গ্রেড অনুযায়ী ৫০ থেকে ২০০ টাকা, সঙ্গে টেলিটকের চার্জ

কোন গ্রেডে কত টাকা, টেলিটকের কমিশন আর ভ্যাট যোগ হয়ে মোট কত, আর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে না মিললে কী করবেন।
চাকরি

বিসিএস ভাইভার কাগজপত্র আর বিপিএসসি ফরম ৩: মৌখিক পরীক্ষার আগে যা গুছিয়ে রাখবেন

ফরম ৩ পূরণ, ভাইভা বোর্ডে দুই কপি কাগজ, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম তিন কপি আর স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাপ।

অনেকে খোঁজেন