
সংক্ষেপে
সার্ভিস বেনিফিট বলতে শ্রম আইনে চাকরি শেষ হলে মালিকের দেওয়া ক্ষতিপূরণ বোঝায়, আর তার হার নির্ভর করে চাকরি কীভাবে শেষ হলো তার ওপর। ছাঁটাই, ডিসচার্জ বা মালিক নোটিশ দিয়ে স্থায়ী শ্রমিকের চাকরি শেষ করলে প্রতি সম্পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মজুরি, অথবা গ্র্যাচুইটি প্রদেয় হলে দুটির মধ্যে যেটা বেশি।
শ্রমিক নিজে ইস্তফা দিলে ২০২৬ সালের সংশোধন অনুযায়ী ৩ বছর পর্যন্ত চাকরিতে প্রতি বছরে ৭ দিন, ৩ থেকে ১০ বছরের কম হলে ১৫ দিন, আর ১০ বছর বা বেশি হলে ৩০ দিনের মজুরি বা গ্র্যাচুইটি, যেটা বেশি।
মূল আইন আর সংশোধনীগুলো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আইন পাতায় পাবেন।
এই লেখায়
১. গ্র্যাচুইটি কি, আইনে কত
শ্রম আইনের ২ ধারার (১০) দফায়, ২০১৩ সালের সংশোধনের পর, গ্র্যাচুইটির সংজ্ঞা এমন: প্রতি পূর্ণ বছরের চাকরি, অথবা ছয় মাসের বেশি সময়ের চাকরির জন্য শেষ প্রাপ্ত মজুরির হারে ন্যূনতম ৩০ দিনের মজুরি। চাকরি ১০ বছরের বেশি হলে হার ৪৫ দিনের মজুরি। এটি দেওয়া হয় চাকরির অবসানে।
লক্ষ করুন, ক্ষতিপূরণের ধারাগুলোতে লেখা আছে গ্র্যাচুইটি যদি প্রদেয় হয়। প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির ব্যবস্থা আছে কি না, নিয়োগপত্র আর চাকরির বিধিমালায় দেখে নিন। থাকলে ক্ষতিপূরণ আর গ্র্যাচুইটির মধ্যে যেটা বেশি সেটাই পাবেন।
উদাহরণ হিসেবে, ১২ বছর চাকরির পর কারও প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির ব্যবস্থা থাকলে সংজ্ঞা অনুযায়ী তা ৪৫ দিন গুণ ১২, মানে ৫৪০ দিনের মজুরির কম হওয়ার কথা নয়। মালিক নোটিশ দিয়ে চাকরি শেষ করলে ক্ষতিপূরণ হতো ৩০ দিন গুণ ১২, মানে ৩৬০ দিন। দুটির মধ্যে বেশিটা, অর্থাৎ গ্র্যাচুইটিই প্রাপ্য।
২. চাকরি শেষ হওয়ার ধরন অনুযায়ী সার্ভিস বেনিফিট হিসাব
| কীভাবে চাকরি শেষ | শর্ত | প্রতি পূর্ণ বছরের ক্ষতিপূরণ |
|---|---|---|
| ছাঁটাই, অপ্রয়োজনীয়তার কারণে (ধারা ২০) | অন্তত ১ বছর অবিচ্ছিন্ন চাকরি | ৩০ দিনের মজুরি বা গ্র্যাচুইটি, যেটা বেশি; সঙ্গে এক মাসের নোটিশ বা নোটিশের বদলে মজুরি |
| ডিসচার্জ, অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণে (ধারা ২২) | অন্তত ১ বছর অবিচ্ছিন্ন চাকরি | ৩০ দিনের মজুরি বা গ্র্যাচুইটি, যেটা বেশি |
| মালিক নোটিশ দিয়ে স্থায়ী শ্রমিকের চাকরি শেষ করলেন (ধারা ২৬) | মাসিক মজুরিতে ১২০ দিনের, অন্যদের ৬০ দিনের নোটিশ বা সমান মজুরি | ৩০ দিনের মজুরি বা গ্র্যাচুইটি, যেটা বেশি, অন্য সুবিধার অতিরিক্ত |
| শ্রমিক নিজে ইস্তফা দিলেন (ধারা ২৭, ২০২৬ সংশোধন) | স্থায়ী শ্রমিক | ৩ বছর পর্যন্ত ৭ দিন; ৩ বছরের বেশি ১০ বছরের কম ১৫ দিন; ১০ বছর বা বেশি ৩০ দিন বা গ্র্যাচুইটি, যেটা বেশি |
| অসদাচরণে বরখাস্ত বা অপসারণ (ধারা ২৩) | অন্তত ১ বছর অবিচ্ছিন্ন চাকরি | ১৪ দিনের মজুরি বা গ্র্যাচুইটি, যেটা বেশি; তবে চুরি, প্রতারণা বা অসাধুতার দায়ে বরখাস্ত হলে কিছুই নয় |
ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে আরেকটি নিয়ম আছে: লে-অফের পর ছাঁটাই হলে নোটিশ লাগে না, তবে ক্ষতিপূরণের সঙ্গে আরও ১৫ দিনের মজুরি দিতে হয়। আর ছাঁটাইয়ের পর এক বছরের মধ্যে মালিক আবার লোক নিলে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আগে ডাকতে হয়।
৩. নোটিশের বদলে মজুরি: আলাদা পাওনা
ক্ষতিপূরণের বাইরে নোটিশের নিয়মও আছে, আর নোটিশ না দিলে তার বদলে মজুরি দিতে হয়। এই টাকা ক্ষতিপূরণের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
- মালিক স্থায়ী শ্রমিকের চাকরি শেষ করলে (ধারা ২৬): মাসিক মজুরিতে নিযুক্ত হলে ১২০ দিনের, অন্যদের ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ।
- মালিক অস্থায়ী শ্রমিকের চাকরি শেষ করলে: মাসিক মজুরিতে ৩০ দিন, অন্যদের ১৪ দিন।
- ছাঁটাইয়ে (ধারা ২০): কারণ উল্লেখ করে এক মাসের লিখিত নোটিশ; নোটিশের কপি প্রধান পরিদর্শক বা তাঁর নির্ধারিত কর্মকর্তাকেও পাঠাতে হয়।
- বিনা নোটিশে চাকরি শেষ করতে চাইলে মালিক নোটিশের মেয়াদের সমান মজুরি দিয়ে তা করতে পারেন।
উদাহরণ: মাসিক বেতনের একজন স্থায়ী শ্রমিককে মালিক কোনো নোটিশ ছাড়াই বিদায় দিলেন। তিনি ১২০ দিনের মজুরি পাবেন নোটিশের বদলে, আর আলাদাভাবে প্রতি পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মজুরি বা গ্র্যাচুইটি।
৪. সার্ভিস বেনিফিট হিসাব করার নিয়ম: একটি উদাহরণ
হিসাবটা দিনের সংখ্যায় করুন, তারপর আপনার দৈনিক মজুরি দিয়ে গুণ করুন। দৈনিক মজুরি কীভাবে বের করা হবে, তা আপনার প্রতিষ্ঠানের হিসাব পদ্ধতি আর নিয়োগপত্রে দেখে নিন, কারণ মজুরির কোন অংশ ধরা হবে তা নিয়ে বিরোধ হয়।
- ১চাকরি কীভাবে শেষ হলো ঠিক করুনইস্তফা, ছাঁটাই, ডিসচার্জ নাকি মালিকের নোটিশে অবসান। চিঠিতে কী লেখা আছে সেটাই ভিত্তি।
- ২পূর্ণ বছর গুনুনযোগদানের দিন থেকে শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত কত বছর অবিচ্ছিন্ন চাকরি। গ্র্যাচুইটির হিসাবে ছয় মাসের বেশি সময়ও এক বছর ধরা হয়।
- ৩হার বসানউদাহরণ: ৮ বছর চাকরির পর মালিক নোটিশ দিয়ে চাকরি শেষ করলেন। ৩০ দিন গুণ ৮, মানে ২৪০ দিনের মজুরি। একই ব্যক্তি নিজে ইস্তফা দিলে ১৫ দিন গুণ ৮, মানে ১২০ দিনের মজুরি।
- ৪গ্র্যাচুইটির সঙ্গে তুলনা করুনপ্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটি থাকলে সেটার হিসাবও করুন। যেটা বেশি সেটাই প্রাপ্য।
- ৫বাকি পাওনা যোগ করুনশেষ মাসের মজুরি, অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির টাকা, নোটিশের বদলে মজুরি থাকলে সেটা, আর ভবিষ্য তহবিলের অংশ আলাদা।
৫. সার্ভিস বেনিফিট কত দিনের মধ্যে পাওয়া যায়
৩০ ধারা অনুযায়ী অবসর, ডিসচার্জ, ছাঁটাই, বরখাস্ত বা চাকরির অবসান, যে কারণেই চাকরি শেষ হোক, সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করতে হয়। ২৯ ধারা বলছে, ভবিষ্য তহবিলের সদস্য হলে চাকরি শেষ হওয়ার কারণে মালিকের চাঁদাসহ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
দাবি করার আগে হাতে রাখুন
লিখিতভাবে আপত্তি জানান। তারপর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের হেল্পলাইন ১৬৩৫৭, আর শেষে ১২ মাসের মধ্যে শ্রম আদালত। মামলার আগে শ্রম আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
সার্ভিস বেনিফিট কি?
গ্র্যাচুইটি হিসাব করার নিয়ম কী?
service benefit sromo ain 2026 e ki bodlalo?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।