
সংক্ষেপে
সরকারি চাকরিতে এখন কোটা মোট ৭ শতাংশ, বাকি ৯৩ শতাংশ পদে নিয়োগ হয় মেধায়। ৭ শতাংশের ভাগ: বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান ৫, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ১, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ ১ শতাংশ।
এই ভাগ এসেছে আপিল বিভাগের ২১ জুলাই ২০২৪ সালের রায়ের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপনে। এটি সব গ্রেডের সরাসরি নিয়োগে প্রযোজ্য। ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিগুলোতেও কোটার ক্ষেত্রে সরকারের সর্বশেষ সার্কুলার মানার কথা লেখা থাকছে।
নিয়োগ ও কোটা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আর পরিপত্র এই মন্ত্রণালয় জারি করে।
এই লেখায়
১. বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কোটা কত শতাংশ
| ভাগ | শতাংশ |
|---|---|
| মেধা (সাধারণ) | ৯৩ |
| বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান | ৫ |
| ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী | ১ |
| শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ | ১ |
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই হার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান আর বিভিন্ন করপোরেশনের সরাসরি নিয়োগে খাটে, সব গ্রেডে। অর্থাৎ বিসিএস থেকে শুরু করে কারারক্ষী বা পুলিশ কনস্টেবল, সবখানে মূল ভাগ একই। পদোন্নতিতে এই কোটা প্রযোজ্য নয়, এটি শুধু নতুন নিয়োগের হিসাব।
নারী কোটা আর জেলা কোটা এখনকার সাধারণ তালিকায় নেই। তবে কিছু নিয়োগের নিজস্ব বিধিমালায় আলাদা ব্যবস্থা থাকে। যেমন প্রথম আলোর খবরে এসেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এ নারীদের আগের বিশেষ কোটা বাতিল করে নতুনভাবে ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। তাই যে চাকরিতে আবেদন করছেন, তার বিজ্ঞপ্তির কোটা অংশটি আলাদা করে পড়ুন।
২. কোটা কত শতাংশ ছিল, কীভাবে এখানে এল
প্রথম আলোর ১০ জুলাই ২০২৪ তারিখের প্রতিবেদনে সরকারি তথ্য উল্লেখ করে ইতিহাসটা দেওয়া আছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত মাত্র ২০ শতাংশ পদ মেধায় পূরণ হতো। ১৯৮৫ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে মেধা ৪৫ শতাংশ করা হয়, পরে প্রতিবন্ধী কোটা যোগ হয়ে মোট কোটা দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ।
| সময় | কী ঘটেছিল |
|---|---|
| ২০১৮ সালের আগে | কোটা ৫৬%: মুক্তিযোদ্ধা ৩০, নারী ১০, জেলা ১০, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫, প্রতিবন্ধী ১ |
| ৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে কোটা বাতিল করে পরিপত্র; তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা থেকে যায় |
| ৫ জুন ২০২৪ | হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন |
| ২১ জুলাই ২০২৪ | আপিল বিভাগের রায়: ৯৩% মেধা, ৭% কোটা |
| ২৩ জুলাই ২০২৪ | জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, আগের পরিপত্র ও আদেশ বাতিল |
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে তখনকার জনপ্রশাসনমন্ত্রীর বরাতে বলা হয়, রায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনির কথা নেই, তাই তাঁদের জন্য কোনো কোটা থাকছে না। এখনকার ৫ শতাংশ শুধু সন্তানদের জন্য।
৩. কোটার পদে প্রার্থী না পেলে কী হয়
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে, নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে খালি পদ সাধারণ মেধাতালিকা থেকে পূরণ হবে। ফলে কোটার পদ এখন আর বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকার কথা নয়। বাস্তবে এর মানে, কোটার প্রার্থী না থাকলে সেই পদও মেধাতালিকার পরের প্রার্থী পান, তাই সাধারণ প্রার্থীদের জন্যও চূড়ান্ত তালিকা পর্যন্ত নজর রাখা দরকার।
কিছু নিয়োগে কোটার প্রার্থীদের শারীরিক মাপে ছাড়ও থাকে। যেমন ২০২৬ সালের পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে মেধা কোটার পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি চাওয়া হয়েছে, আর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ২ ইঞ্চি ছাড় ছিল।
৪. ২০২৬ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোটা নিয়ে কী লেখা থাকছে
সাধারণ প্রজ্ঞাপনের পর থেকে বেশির ভাগ বিজ্ঞপ্তি আলাদা করে শতাংশ লেখে না, এক লাইনে সরকারের সর্বশেষ সার্কুলার মানার কথা বলে। কয়েকটি উদাহরণ:
- কারা অধিদপ্তরের ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখের কারারক্ষী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা সংক্রান্ত সরকারের সর্বশেষ সার্কুলার ও বিদ্যমান অন্যান্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে।
- বাংলাদেশ পুলিশের অক্টোবর ২০২৬ সালের টিআরসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি মানা হবে, আর জেলাভিত্তিক শূন্য পদের সংখ্যা আলাদা করে দেওয়া হবে।
- কারারক্ষী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার সময় মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা হিসেবে প্রমাণ দিতে সনদের সত্যায়িত কপির সঙ্গে সম্পর্কের প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ নিয়োগভেদে কাগজের তালিকা একটু আলাদা হলেও মূল ভাগ ওই ৯৩ আর ৭। কোনো বিজ্ঞপ্তিতে এর বাইরে আলাদা শতাংশ দেখলে সেটি ওই পদের নিজস্ব নিয়োগবিধি থেকে এসেছে কি না, বিজ্ঞপ্তির নিচের অংশ পড়ে বুঝে নিন। দরকার হলে নিয়োগকারী দপ্তরের সাইটে প্রশ্ন বা হেল্পলাইনের ঠিকানা থাকে, সেখানে জিজ্ঞেস করুন।
৫. কোটায় আবেদন করলে কোন সনদ লাগবে
আবেদনের সময় সাধারণত শুধু কোটার ঘরে টিক দিতে হয়। প্রমাণ চাওয়া হয় মৌখিক পরীক্ষা, শারীরিক পরীক্ষা বা পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময়। ২০২৬ সালের কারারক্ষী আর পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে কাগজের তালিকা দাঁড়ায় এমন:
কোটাভেদে প্রমাণপত্র
কোটার প্রমাণ দেখাতে না পারলে বা কাগজ ভুয়া প্রমাণ হলে প্রার্থিতা বাতিল হয়, যোগদানের পরে ধরা পড়লে নিয়োগও বাতিল হয়। নিশ্চিত না হলে সাধারণ মেধায় আবেদন করাই নিরাপদ।
৬. আবেদনের আগে কোটা নিয়ে যা মিলিয়ে নেবেন
- ১বিজ্ঞপ্তির কোটা অংশ পড়ুনসাধারণ নিয়মের বাইরে সেই নিয়োগের বিধিমালায় কিছু থাকলে বিজ্ঞপ্তিতেই লেখা থাকে।
- ২সনদ নিজের নামে আছে কি না দেখুনমুক্তিযোদ্ধা কোটায় সনদ থাকে বাবা বা মায়ের নামে, তাই সম্পর্কের প্রত্যয়নপত্রটি আগেই নিয়ে রাখুন।
- ৩নাম-বানান মিলিয়ে নিনসনদ, NID আর শিক্ষাগত সনদে বাবা-মায়ের নামের বানান একরকম কি না দেখুন। অমিল থাকলে মৌখিক পরীক্ষার আগে সংশোধন করে নিন।
- ৪আবেদন ফরমে সঠিক ঘর বাছুনটেলিটকের ফরমে কোটার ঘরটি ফি দেওয়ার পর আর বদলানো যায় না, তাই জমার আগে দেখে নিন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
মুক্তিযোদ্ধা কোটা কত শতাংশ?
মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কি কোটা পাবে?
উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা কত শতাংশ?
kota koto percent 2026 sorkari chakrite?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।