
সংক্ষেপে
সরকারি চাকরিতে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস। আগে পূর্ণ বেতনে চার মাস ছিল। ডেইলি স্টারের ১১ জানুয়ারি ২০১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে তা ছয় মাস করে, কার্যকর হয় ৯ জানুয়ারি ২০১১ থেকে।
পুরো চাকরিজীবনে এই ছুটি নেওয়া যায় দুবার, আগের নিয়মেও তাই ছিল। অস্থায়ী কর্মচারীদের জন্য চাকরিকালের একটি শর্ত ছিল, সেটি নিচে আলাদা করে লিখেছি।
ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকরের দিন, শর্ত আর তখনকার প্রেক্ষাপট।
এই লেখায়
১. মাতৃত্বকালীন ছুটি কত দিন, কত মাস
উত্তরটা মাসে: ছয় মাস। দিনের হিসাবে কত দিন দাঁড়াবে, তা নির্ভর করে কোন তারিখ থেকে ছুটি শুরু হচ্ছে তার ওপর। মঞ্জুরির আদেশে শুরু আর শেষের তারিখ লেখা থাকে, সেটাই আপনার হিসাব।
| বিষয় | আগে | ৯ জানুয়ারি ২০১১ থেকে |
|---|---|---|
| ছুটির মেয়াদ | পূর্ণ বেতনে ৪ মাস | ৬ মাস |
| চাকরিজীবনে কতবার | ২ বার | ২ বার |
| কাদের জন্য | নারী সরকারি কর্মচারী | নারী সরকারি কর্মচারী |
পরিবর্তনটা এসেছিল বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস সংশোধনের গেজেট প্রজ্ঞাপনে। ২০১১ সালের পর এই ছয় মাসের মেয়াদ কমানো বা বাড়ানোর কোনো নতুন প্রজ্ঞাপনের খবর অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আমরা পাইনি।
একটা উদাহরণ ধরা যাক। একজন সহকারী শিক্ষিকার সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ মার্চের মাঝামাঝি। তিনি ১ মার্চ থেকে ছুটি চাইলেন। ছয় মাস ধরে হিসাব করলে ছুটি চলবে আগস্টের শেষ পর্যন্ত, আর সেপ্টেম্বরের প্রথম কর্মদিবসে তিনি যোগ দেবেন। আদেশে ঠিক কোন তারিখ লেখা হলো, সেটা হাতে পেয়ে মিলিয়ে নিন, কারণ বেতন আর যোগদান দুটোই ওই তারিখ ধরে হয়।
মনে রাখুন, ছুটির মাঝখানে কোনো সরকারি ছুটি বা শুক্র-শনিবার পড়লে তার জন্য ছুটি বাড়ে না। ছয় মাস ক্যালেন্ডার ধরে চলে, তাই শেষের তারিখটা আগে থেকেই পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিকল্পনা করুন, বিশেষ করে শিশুর দেখাশোনার ব্যবস্থা।
অনেকে জানতে চান ছুটি প্রসবের আগে নিতে হয় নাকি পরে। আবেদনে আপনি শুরুর তারিখ প্রস্তাব করেন, মঞ্জুরকারী কর্মকর্তা আদেশ দেন। শরীরের অবস্থা আর চিকিৎসকের পরামর্শ বুঝে তারিখ ঠিক করুন, আর তা আবেদনে স্পষ্ট লিখুন।
২. মাতৃত্বকালীন ছুটি কতবার দেওয়া যায়
চাকরিজীবনে দুবার। প্রথম সন্তানের সময় একবার, দ্বিতীয় সন্তানের সময় আরেকবার, এভাবে দুবার ছয় মাস করে ছুটি পাবেন। তৃতীয়বার একই মাতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগ এই নিয়মে নেই।
তৃতীয়বার দরকার হলে কোন ছুটি নেওয়া যায়, যেমন জমানো অর্জিত ছুটি, সেটি আপনার ছুটির হিসাবের ওপর নির্ভর করে। হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে ছুটির প্রাপ্যতার হিসাব নিয়ে প্রশাসন শাখার সঙ্গে কথা বলুন।
দুবারের হিসাব হয় পুরো সরকারি চাকরিজীবন ধরে, এক চাকরি ধরে নয়। ধরুন, কেউ প্রথম চাকরিতে একবার মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন, পরে অন্য সরকারি দপ্তরে নতুন পদে যোগ দিয়েছেন। নতুন দপ্তরে তিনি আর একবারই এই ছুটি পাবেন বলে ধরে নিন। তাই আবেদনে আগের ছুটির তথ্য লুকাবেন না, সার্ভিস বুকে সেটা থাকে।
একবারের প্রসবে একবারই ছুটি গণনা হয়, সন্তান একজন হোক বা দুজন। তবে এ ধরনের বিশেষ ক্ষেত্রে আপনার দপ্তরের ব্যাখ্যা লিখিতভাবে নিয়ে রাখা ভালো।
৩. অস্থায়ী চাকরিতে থাকলে
২০১১ সালের প্রতিবেদনে ডেইলি স্টার বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭(২) বিধির কথা লিখেছিল। তখনকার নিয়মে অস্থায়ী সরকারি কর্মচারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতেন, যদি প্রসবের ঠিক আগে অন্তত নয় মাস চাকরি করে থাকেন।
একই প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মীরা বেতনসহ ছুটি পেতেন না, কারণ তাঁদের নিয়োগ ছিল 'কাজ নেই, বেতন নেই' ভিত্তিতে। তাই আপনি অস্থায়ী, প্রকল্পভিত্তিক বা মাস্টাররোলে থাকলে নিয়োগপত্রে ছুটির শর্ত কী লেখা, আগে পড়ে নিন।
নয় মাসের শর্তটি ২০১১ সালের প্রতিবেদনের। পরে এতে বদল এসেছে কি না, তা আপনার দপ্তরের প্রশাসন শাখা বা হিসাবরক্ষণ অফিসে নিশ্চিত হয়ে নিন।
৪. মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করবেন যেভাবে
আবেদনটা আগেভাগে করলে ঝামেলা কম। শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে থেকে কাগজ পাঠানো কঠিন, তাই সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ জানার পরই প্রস্তুতি নিন। আপনার অনুপস্থিতিতে কাজ কে দেখবেন, সেটা নিয়েও আগে অফিসপ্রধানের সঙ্গে কথা বলে রাখলে মঞ্জুরি দ্রুত হয়।
- ১চিকিৎসকের কাগজ নিনসম্ভাব্য প্রসবের তারিখসহ চিকিৎসকের সনদ বা প্রেসক্রিপশনের কপি রাখুন। অফিস সাধারণত এটি দেখতে চায়।
- ২লিখিত আবেদন দিনদপ্তরপ্রধান বা ছুটি মঞ্জুরকারী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন লিখুন। কোন তারিখ থেকে ছয় মাসের ছুটি চান, আর এটি চাকরিজীবনের প্রথম না দ্বিতীয় মাতৃত্বকালীন ছুটি, তা উল্লেখ করুন।
- ৩মঞ্জুরির আদেশ সংগ্রহ করুনআদেশের কপি নিজের কাছে রাখুন। এতে ছুটির শুরু ও শেষের তারিখ থাকে, ছুটিকালের বেতন তোলায় এটি কাজে লাগে।
- ৪যোগদানের দিন লিখিত যোগদানপত্র দিনছুটি শেষে যেদিন কাজে ফিরবেন, সেদিন যোগদানপত্র জমা দিন। এতে সার্ভিস বুকে ছুটির হিসাব ঠিক থাকে।
আবেদনের সঙ্গে রাখুন
৫. বেসরকারি চাকরিতে কি একই নিয়ম
না, এই লেখার ছয় মাস আর দুবারের হিসাব সরকারি কর্মচারীদের জন্য। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কারখানা বা এনজিওতে ছুটি হয় শ্রম আইন আর প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, মেয়াদও আলাদা হতে পারে।
বেসরকারি চাকরিতে থাকলে এইচআর বিভাগ থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটির লিখিত নীতিটা চেয়ে নিন। কত সপ্তাহ, বেতনসহ কি না, আর কবে আবেদন করতে হবে, তিনটা প্রশ্নের উত্তর কাগজে থাকা ভালো।
আরেকটা ক্ষেত্রে গোলমাল হয়: সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের অধীনে বা আউটসোর্সিংয়ে কাজ। এসব নিয়োগ সাধারণত চুক্তির শর্তে চলে, সরকারি কর্মচারীর সব ছুটির নিয়ম আপনাআপনি খাটে না। চুক্তিপত্রে ছুটির ধারা কী বলছে, সেটাই আগে দেখুন, প্রয়োজনে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে লিখিত ব্যাখ্যা নিন।
সরকারি চাকরিতে বাবাদের জন্য আলাদা পিতৃত্বকালীন ছুটির কোনো প্রজ্ঞাপন আমরা খুঁজে পাইনি। স্ত্রীর প্রসবের সময় স্বামীকে সাধারণত নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি নিতে হয়, নিজের দপ্তরে নিয়মটা জেনে নিন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
মাতৃত্বকালীন ছুটি কত মাস?
মাতৃত্বকালীন ছুটি কতবার দেওয়া যায়?
মাতৃত্বকালীন ছুটিতে কি বেতন পাওয়া যায়?
অস্থায়ী কর্মচারী কি মাতৃত্বকালীন ছুটি পান?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।