
সংক্ষেপে
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষে চাকরি করতে করতে বিসিএস দেওয়া যায়, তবে শর্ত আছে। ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এমন প্রার্থীরা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে কর্তৃপক্ষের সিল-সইসহ ছাড়পত্রের কপি দিতে হয়।
ছাড়পত্র না দিলে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না, প্রার্থিতাও বাতিল হবে, এটা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা। আবেদনের পরে নতুন চাকরিতে যোগ দিলে, ইস্তফা দিলে বা অপসারিত হলেও মৌখিকে সংশ্লিষ্ট কাগজ দেখাতে হয়। অন্য অনেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও চাকরিরতদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়। তাই আবেদনের আগেই নিজের অফিসে অনুমতির প্রক্রিয়া শুরু করুন।
চাকরিরত প্রার্থীদের ছাড়পত্রের ফরম বিপিএসসির ওয়েবসাইটের ফরমসমূহ অংশে পাওয়া যায়।
এই লেখায়
১. চাকরিরত অবস্থায় বিসিএস: বিজ্ঞপ্তিতে কী শর্ত
বিপিএসসি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তার ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে চাকরিরত প্রার্থীদের কথা আছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মে, অর্থাৎ সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায়, অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে চাকরিরত যোগ্য ও নির্ধারিত বয়সের প্রার্থীরা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
এই শর্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য লেখা নয়, বিজ্ঞপ্তিতে শুধু প্রজাতন্ত্রের কর্ম আর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কথা আছে। তবে আপনার প্রতিষ্ঠানের নিজের চাকরির নিয়মে অন্য চাকরিতে আবেদনের আগে জানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলে সেটা মানতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে কাগজটির নাম লেখা আছে অনাপত্তি বা ছাড়পত্র ফরম। সহজ ভাষায়, এটি আপনার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের লিখিত সম্মতি যে আপনি এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এবং তাতে তাদের আপত্তি নেই। লোকমুখে একে এনওসি বা NOC বলে।
অফিসের অনুমতি আর সই পেতে সময় লাগে। লিখিত পরীক্ষার ফলের দিন থেকে মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত সময় কম, তাই আবেদনের সময়েই অফিসকে লিখিতভাবে জানিয়ে রাখুন।
২. কোন কাগজ কখন লাগে
| আপনার অবস্থা | কী জমা দিতে হবে | কখন |
|---|---|---|
| চাকরিরত, লিখিত পরীক্ষায় পাস | নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সিল-সইসহ অনাপত্তি বা ছাড়পত্রের কপি | মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে |
| আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বা অপসারিত হয়েছেন | ইস্তফা গ্রহণ বা অপসারণ আদেশের সত্যায়িত কপি | আবেদনপত্রের (BPSC Form-1) সঙ্গে |
| আবেদনের পর, মৌখিকের আগে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, ইস্তফা দিয়েছেন বা অপসারিত হয়েছেন | অনাপত্তি বা ছাড়পত্র, ইস্তফা গ্রহণ বা অপসারণ আদেশের কপি | মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে |
তিনটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞপ্তির শর্ত এক: কাগজ না দিলে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না এবং প্রার্থিতা বাতিল হবে। লক্ষ করুন, তৃতীয় সারিটি অনেকের অজানা। আবেদনের পর কোনো সরকারি চাকরিতে যোগ দিলে সেই নতুন অফিসের ছাড়পত্রও লাগবে।
চাকরি থেকে অপসারিত হলেও বিসিএসে অংশ নেওয়া যায়, বিজ্ঞপ্তির ১৭.১২ অনুচ্ছেদ তা বলছে, শুধু আদেশের সত্যায়িত কপি লাগবে। মৌখিকের দিন ছাড়পত্রের পাশাপাশি প্রাক্-চাকরি বৃত্তান্ত যাচাই ফরমের ৩ কপি, পূরণ করা BPSC Form-3 আর নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্রও লাগে, একই বিজ্ঞপ্তির আলাদা অনুচ্ছেদে এগুলো বলা আছে। পুরো তালিকা আমাদের বিসিএস ভাইভার কাগজপত্রের লেখায় পাবেন।
৩. ছাড়পত্র নেবেন যেভাবে
- ১ফরম নামানবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনাপত্তি বা ছাড়পত্রের ফরম কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা থাকে। বিপিএসসির ফরমসমূহ অংশে চাকুরীরত প্রার্থীদের ছাড়পত্র নামে ফরমটি পাবেন।
- ২অফিসে আবেদন করুননিজের অফিস প্রধানের কাছে লিখিত আবেদন দিন, কোন পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন নম্বর আর মৌখিক পরীক্ষার তারিখ উল্লেখ করুন। সঙ্গে পূরণ করা ফরম দিন। আবেদনের রিসিভ কপিতে অফিসের সিল আর তারিখ নিয়ে রাখুন, যাতে কবে আবেদন করেছিলেন তার প্রমাণ থাকে।
- ৩নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সই নিনফরমে সই-সিল দেবেন আপনার পদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। অনেক ক্ষেত্রে সেটা অফিস প্রধান নন, ঊর্ধ্বতন দপ্তর। কে দেবেন, প্রশাসন শাখায় জেনে নিন।
- ৪কপি রাখুন, মৌখিকে জমা দিনসই করা ছাড়পত্রের কয়েকটি কপি করে রাখুন। মৌখিক পরীক্ষার দিন বোর্ডে কপি জমা দিন, আর মূল কপিটি সঙ্গে রাখুন যাতে চাইলে দেখাতে পারেন।
অফিসে যা নিয়ে যাবেন
৪. একটি উদাহরণ আর যে ভুলগুলো হয়
সাবরিনা একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পদে চাকরি করেন এবং ৫১তম বিশেষ বিসিএসে আবেদন করতে চান। আবেদনের আগেই তিনি অফিস প্রধানকে লিখিতভাবে জানালেন। লিখিত পরীক্ষায় পাসের পর বিপিএসসির সাইট থেকে ছাড়পত্রের ফরম নামিয়ে পূরণ করলেন, প্রশাসন শাখার মাধ্যমে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সই-সিল নিলেন, আর মৌখিকের দিন কপি জমা দিলেন। এখানে তাঁর সবচেয়ে বড় কাজ ছিল সময় হাতে রেখে শুরু করা। লিখিত ফলের পরে শুরু করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সব সই জোগাড় করা কঠিন হতো।
- নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বদলে অন্য কারও সই নেওয়া। বিজ্ঞপ্তি চায় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত ছাড়পত্র।
- আবেদনের পর নতুন সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে সেই অফিসের ছাড়পত্র না নেওয়া।
- মৌখিকের দিন মূল কপি বা ফটোকপি সঙ্গে আনতে ভুলে যাওয়া।
- অফিসকে না জানিয়ে আবেদন করে পরে অনুমতি চাইতে গিয়ে জটিলতায় পড়া।
৫. যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন: অন্য বিজ্ঞপ্তিতে
বিসিএস ছাড়া অনেক নিয়োগ বা নিবন্ধন পরীক্ষাতেও এমন শর্ত থাকে। যেমন বিসিএস (কর) একাডেমির কর আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২৬ এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সেখানে আরও শর্ত, সনদের জন্য নির্বাচিত হলে সনদ নেওয়ার আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে ছাড়পত্র জমা দিতে হবে।
- অনলাইন আবেদনে সাধারণত অফিসের অগ্রায়ণ জমা দেওয়ার জায়গা থাকে না। তখন অনুমতির কাগজ রেখে দিন, যাচাই বা মৌখিকের সময় চাওয়া হয়।
- হাতে লেখা আবেদন চাওয়া হলে নিজের অফিসের মাধ্যমে অগ্রায়ণ করিয়ে পাঠান, অফিসের স্মারক নম্বর আর তারিখ যেন থাকে।
- প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত আলাদা হতে পারে, তাই চাকরিরত প্রার্থীদের অনুচ্ছেদটি আলাদা করে পড়ুন।
- অফিসের অনুমতিপত্র বা অগ্রায়ণপত্রের অনুলিপি নিজের কাছে রাখুন। পরে বদলি হলেও নতুন অফিসে দেখাতে পারবেন যে আবেদন অনুমতি নিয়েই করেছিলেন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
সরকারি চাকরি করে কি বিসিএস দেওয়া যায়?
ছাড়পত্র না দিলে কী হবে?
চাকুরীরত প্রার্থীদের ছাড়পত্রের ফরম কোথায় পাব?
চাকরি ছেড়ে দিয়েছি, তবু কি কিছু জমা দিতে হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।