সংক্ষেপে
এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। ১৮তম পরীক্ষা পর্যন্ত নিয়ম ছিল আগে নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করে সনদ নেওয়া, তারপর গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠান বেছে আবেদন করা।
২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিতে এই পথ বদলাচ্ছে। শূন্য পদের তালিকা দিয়ে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষা হবে: ২০০ নম্বরের এমসিকিউ আর ২০ নম্বরের মৌখিক। পাস করলে সনদ আর নিয়োগের সুপারিশ একসঙ্গে মিলবে।
বিজ্ঞপ্তি, প্রবেশপত্র, ফল আর ই-প্রত্যয়নপত্রের লিংক এখান থেকে পাওয়া যায়।
এই লেখায়
১. আগের পথ: নিবন্ধন পরীক্ষা, তারপর গণবিজ্ঞপ্তি
এ পর্যন্ত ১৮টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষা হতো স্কুল, স্কুল-২ আর কলেজ, এই তিন পর্যায়ে, আর ধাপ ছিল তিনটি: প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ), লিখিত ও মৌখিক। ১৮তম পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয় ২০২৫ সালের ৪ জুন।
পাস করলে মিলত নিবন্ধন সনদ বা প্রত্যয়নপত্র। এটি চাকরি নয়, আবেদনের যোগ্যতা। এরপর এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তি দিত, সনদধারীরা অনলাইনে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান বেছে নিতেন, আর মেধা অনুযায়ী সুপারিশ হতো।
| বিজ্ঞপ্তি | যা ছিল |
|---|---|
| ৫ম গণবিজ্ঞপ্তি (২০২৪) | একটি আবেদনে সর্বোচ্চ ৪০টি প্রতিষ্ঠান বাছাই, ফি ১০০০ টাকা |
| ৭ম বিশেষ বিজ্ঞপ্তি (জানুয়ারি ২০২৬) | ৬৭ হাজার ২০৮টি পদ, ফি ১০০০ টাকা, আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফি জমা |
২. নতুন পদ্ধতি: সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষা
২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিতে আগে সনদ নিয়ে পরে গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের ব্যবস্থা থাকছে না। শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করে এনটিআরসিএ সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষা নেবে। এনটিআরসিএর সচিবের ভাষ্য, সনদ পেয়েও চাকরি না পাওয়ার জট কাটাতেই এই বদল।
| ধাপ | নম্বর |
|---|---|
| এমসিকিউ পরীক্ষা | ২০০ |
| মৌখিক | ২০ |
| মোট | ২২০, পাস করতে অন্তত ৪০ শতাংশ |
প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য '৯ম এনটিআরসিএ প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬' এর প্রস্তাব জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল, পদ ধরা হয়েছিল ৬৯ হাজার ৫৭৭টি। ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য কিছু পদ আলাদা রেখে এই হিসাব করা হয়েছে। আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে ৮ম নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ সালে হয়েছে, এমসিকিউর পর এখন মৌখিক চলছে।
নতুন পদ্ধতির বয়সসীমা, ফি আর আবেদনের তারিখ প্রবেশ পর্যায়ের বিজ্ঞপ্তিতেই চূড়ান্ত হবে। অক্টোবর ২০২৬-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে সেই বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়নি।
৩. কারা আবেদন করতে পারেন
- পদ অনুযায়ী সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় যে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া আছে, তা থাকতে হবে।
- সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিগুলোতে সর্বোচ্চ বয়স ছিল ৩৫ বছর, একটি নির্দিষ্ট তারিখ ধরে। যেমন ৭ম বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে তারিখ ছিল ৪ জুন ২০২৫। বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এই সীমা আসে এমপিও নীতিমালা থেকে।
- পুরোনো সনদ দিয়ে আবেদন করতে হলে সনদ বৈধ থাকতে হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের স্মারক অনুযায়ী নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সনদ বৈধ।
- এমপিওভুক্ত কর্মরত (ইনডেক্সধারী) শিক্ষকেরা একই পদে আবার আবেদন করতে পারেন না; বৈধ সনদ থাকলে উঁচু বা নিচু অন্য পদে পারেন।
৪. আবেদন, ফি আর ফল কোথায়
- ১বিজ্ঞপ্তি দেখুনএনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি, শূন্য পদের তালিকা আর সিলেবাস প্রকাশ হয়।
- ২টেলিটকের সাইটে আবেদনআবেদন হয় এনটিআরসিএর জন্য খোলা টেলিটকের সাইটে। ngi.teletalk.com.bd ঠিকানায় চলমান নিয়োগগুলোর লিংক থাকে, তবে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া লিংকটিই ব্যবহার করুন।
- ৩সময়মতো ফি দিনফর্ম জমার পর যে User ID বা Application ID পাবেন, তা দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি দিন। ফি দেওয়ার পর আবেদনের তথ্য আর বদলানো যায় না।
- ৪প্রবেশপত্র ও ফল দেখুনপ্রবেশপত্র, ফল আর নিয়োগ সুপারিশের তালিকার লিংক এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। নিবন্ধন পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও ফল দেখার পুরোনো লিংক ntrca.teletalk.com.bd সাইটে।
- ৫ই-প্রত্যয়নপত্র নামানউত্তীর্ণরা এনটিআরসিএর সাইটের e-Certificate লিংক থেকে প্রত্যয়নপত্র নামাতে পারেন। সংশোধন বা ডুপ্লিকেটের জন্য সেখানে আলাদা আবেদন ফর্ম আছে।
৭ম বিশেষ বিজ্ঞপ্তির ফলে ১১ হাজার ৭১৩ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। আগের ১ থেকে ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষার সম্মিলিত জাতীয় মেধাতালিকাও এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটের লিংক থেকে দেখা যায়।
৫. অনেকে যা জানতে চান
নিবন্ধন সনদ পেলেই কি চাকরি হয়?
১৯তম নিবন্ধন পরীক্ষা কবে হবে?
বয়স ৩৫ পেরিয়ে গেলে কি আবেদন করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।