
সংক্ষেপে
বাহরাইন ভিসা চেক অনলাইনে করা যায় বাহরাইন সরকারের eVisa সাইটের Check Application Status অংশ থেকে। সেখানে পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা (Bangladesh), জন্মতারিখ আর আবেদনের সময় দেওয়া Application Reference Number দিলে ভিসা বা পারমিটের অবস্থা দেখা যায়।
শুধু পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে এই সাইটে খোঁজার ঘর নেই, রেফারেন্স নম্বরও লাগে। নম্বরটা নিয়োগকর্তা বা যিনি আবেদন করেছেন তাঁর কাছ থেকে নিন। কাজের ভিসায় গেলে বাংলাদেশে বিএমইটির নিবন্ধন আর বহির্গমন ছাড়পত্রও লাগবে।
ভিসার আবেদন, অবস্থা দেখা আর তথ্য সংশোধনের একমাত্র সরকারি সাইট।
এই লেখায়
১. বাহরাইন ভিসা চেক অনলাইন: কোন সাইটে
বাহরাইনের eVisa সাইট নিজেই বলছে, বাহরাইনের ভিসার আবেদনের এটাই একমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট। অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা কোম্পানি বাহরাইন সরকারের পক্ষে কাজ করে না, তাই তাদের সঙ্গে লেনদেনে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। ফেসবুকে 'বাহরাইন ভিসা চেক লিংক' নামে যা ঘোরে, তার অনেকগুলোই বেসরকারি সাইট।
সাইটের মেনুতে Visa Services অংশে কয়েকটি সেবা আছে: Apply for a Visa, Check Application Status, Visa Data Correction আর Pay For Application। ভিসার মেয়াদ বাড়ানো আর বাতিলের কাজ হয় বাহরাইন সরকারের আলাদা সেবা পোর্টাল থেকে।
eVisa সাইটে পরিষ্কার লেখা, ভিসা থাকলেই বাহরাইনে ঢোকার নিশ্চয়তা নেই, পৌঁছানোর পর সব শর্ত পূরণ করতে হয়। ঢুকতে না দিলে ফির কোনো অংশ ফেরত হয় না, আর আবেদন অনুমোদন না হলেও প্রসেসিং ফি ফেরত দেওয়া হয় না।
২. bahrain visa check online by passport number: ধাপগুলো
- ১eVisa সাইট খুলুনব্রাউজারে বাহরাইনের eVisa সাইট খুলে Check Application Status চাপুন। নতুন একটি পাতা খুলবে, শিরোনাম Check the Status of a Visa or Permit for Bahrain।
- ২পাসপোর্টের তথ্য দিনপাসপোর্টে যেভাবে লেখা, হুবহু সেভাবে পাসপোর্ট নম্বর লিখুন। Nationality ঘরে Bangladesh বাছুন।
- ৩জন্মতারিখ দিনদিন, মাস আর বছর আলাদা তিনটি ঘর থেকে বাছুন। মাস ইংরেজি সংক্ষেপে থাকে, যেমন JAN বা FEB।
- ৪রেফারেন্স নম্বর দিনআবেদনের সময় যে Application Reference Number দেওয়া হয়েছিল, সেটা লিখে Submit চাপুন।
চেক করার আগে হাতে রাখুন
সাইটের ফরমে রেফারেন্স নম্বরের ঘর আছে, তাই শুধু পাসপোর্ট নম্বরে কাজ হবে না। যিনি আপনার হয়ে আবেদন করেছেন, সেই নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে নম্বরটা লিখিত চেয়ে নিন। দিতে না চাইলে সেটাই একটা সতর্কসংকেত।
তথ্য দেওয়ার পর সাইট আবেদনের অবস্থা দেখায়। আবেদনে নাম, পাসপোর্ট নম্বর বা জন্মতারিখে ভুল ধরা পড়লে একই সাইটের Visa Data Correction অংশ আছে, তবে সেটা আবেদনকারী বা নিয়োগকর্তার কাজ। নিজের ভুল তথ্যের ভিসা নিয়ে যাত্রা করবেন না, বিমানবন্দরে আটকে যেতে পারেন।
৩. বাহরাইনে কাজের ভিসার যে শর্তগুলো জানা দরকার
বাহরাইনে বিদেশি কর্মীর কাজের অনুমতি দেয় লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (LMRA)। ২০২২ সালে তারা প্রবাসী কর্মীদের উদ্দেশে কয়েকটি কথা পরিষ্কার করেছে, যা যাওয়ার আগেই জানা ভালো:
- বাহরাইনে ঢোকার আগেই সেখানকার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সরকারি ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে।
- ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজ করা বেআইনি। ধরা পড়লে জরিমানা আর দেশ থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।
- প্রথমবার ঢোকার এক মাসের মধ্যে LMRA-তে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হয়।
- ওয়ার্ক পারমিট আর স্বাস্থ্যবিমাসহ কর্মীর ওপর আরোপিত সব ফি নিয়োগকর্তা দেবেন। পারমিট দেওয়া বা নবায়নের বিনিময়ে কর্মীর কাছ থেকে টাকা বা সুবিধা নেওয়া নিষেধ।
- নিয়োগকর্তা বদলালে নতুন পারমিট না আসা পর্যন্ত আগের জায়গায় কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
সমস্যায় পড়লে LMRA-র প্রবাসী কর্মী সুরক্ষা ও সহায়তা কেন্দ্রের হটলাইন ৯৯৫-এ ফোন করা যায়। LMRA জানিয়েছে, এটি দিনরাত কয়েকটি ভাষায় চালু থাকে।
এই নিয়মগুলো জানা থাকলে চুক্তিপত্র পড়ার সময় বুঝবেন, কোন খরচ আপনার আর কোনটা নিয়োগকর্তার। চুক্তিতে উল্টো কিছু লেখা থাকলে সই করার আগে প্রশ্ন করুন।
৪. বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে যা মিলিয়ে নেবেন
- eVisa সাইটে ভিসা বা পারমিটের অবস্থা দেখে নিন, নাম আর পাসপোর্ট নম্বর মিলছে কি না।
- যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন, তার লাইসেন্স সরকারি তালিকায় আছে কি না দেখুন।
- বিএমইটিতে নিবন্ধন, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ আর মেডিকেল শেষ করুন।
- বহির্গমন ছাড়পত্র বা স্মার্ট কার্ড নিন। এটা ছাড়া কাজের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর পার হওয়া যায় না।
একটা উদাহরণ। কুমিল্লার জাহিদকে এক দালাল বলল, বাহরাইনের 'ভিজিট ভিসায় গিয়ে পরে কাজের ভিসা করে দেব'। জাহিদ রেফারেন্স নম্বর চাইলেন, পেলেন একটা ভিজিট ভিসার কাগজ। LMRA-র নিয়ম পড়ে তিনি বুঝলেন, ঢোকার আগেই ওয়ার্ক পারমিট লাগে। তিনি টাকা দেননি।
বিএমইটির ছাড়পত্রের সময় দূতাবাসের সত্যায়ন আর ভিসার তথ্য মেলানো হয়। তাই eVisa সাইটে নাম বা পাসপোর্ট নম্বরে গরমিল দেখলে আগে সেটা ঠিক করান, তারপর ছাড়পত্রের আবেদন করুন।
৫. বাহরাইন ভিসা কবে খুলবে: যা জানা আছে
ইত্তেফাক ২০২২ সালের জুনে জানিয়েছিল, ২০১৮ সালে বাহরাইন বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা বন্ধ করেছিল, প্রায় চার বছর পর আবার ভিসা দেওয়া শুরু করছে। প্রথম ধাপে করোনার সময় দেশে আটকে পড়া কর্মীদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, নিয়োগকর্তা রাজি থাকলে।
এরপর বাংলাদেশিদের জন্য বাহরাইনের শ্রমবাজার এখন কতটা খোলা, এ নিয়ে সরকারি কোনো নতুন ঘোষণা আমরা খুঁজে পাইনি। সর্বশেষ অবস্থা জানতে মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাস আর বিএমইটির বিজ্ঞপ্তি দেখুন। 'ভিসা খুলেছে, এখনই টাকা দিন' ধরনের প্রচারে টাকা দেওয়ার আগে উপরের ধাপে ভিসা যাচাই করুন।
রেফারেন্স নম্বর দিতে টালবাহানা, শুধু ছবি বা পিডিএফ পাঠানো, ভিজিট ভিসায় কাজের প্রতিশ্রুতি, আর পারমিটের জন্য কর্মীর কাছে টাকা চাওয়া। LMRA-র নিয়মে পারমিটের ফি নিয়োগকর্তার দেওয়ার কথা।
৬. অনেকে যা জানতে চান
bahrain visa check online by passport number করা যায়?
bahrain visa check application id কোথায় পাব?
বাহরাইনে ভিজিট ভিসায় গিয়ে কি কাজের ভিসা করা যায়?
বাহরাইন ভিসা চেক করতে কি টাকা লাগে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।