
সংক্ষেপে
মালদ্বীপ ভিসা চেক, মানে কাজের অনুমতি আসল কি না, তা দেখা যায় মালদ্বীপ সরকারের Xpat সাইটের Work Permit Verification পাতায়। সেখানে ওয়ার্ক পারমিট নম্বর (WP দিয়ে শুরু) আর কর্মীর নাম বা পাসপোর্ট নম্বর দিলে পারমিটের বিবরণ আসে।
একই সাইটে পাসপোর্ট নম্বর আর দেশ দিয়ে দেখা যায়, কর্মীর আঙুলের ছাপ দেওয়া বাকি কি না। ২০২৬ সাল থেকে মালদ্বীপ ই-ভিসা চালু করেছে, তাই হাতে কাগজের ভিসা থাকলেও সরকারি সাইটে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
ওয়ার্ক পারমিট যাচাই, আঙুলের ছাপের প্রয়োজন আর নিয়মিতকরণ যাচাই এখানে।
এই লেখায়
১. মালদ্বীপ ভিসা চেক করার নিয়ম: Xpat সাইটে ওয়ার্ক পারমিট যাচাই
মালদ্বীপে বিদেশি কর্মীর কাজের অনুমতি দেওয়া হয় Xpat সিস্টেমে। এটা দেশটির সরকারি OneGov পোর্টালের একটি সেবা। লগইন ছাড়াই এর প্রথম পাতায় Work Permit Verification নামে একটি অংশ আছে, যেকোনো কর্মী বা পরিবার সেখানে পারমিট মিলিয়ে দেখতে পারেন।
মনে রাখুন, পারমিট যাচাই আর ভিসা এক জিনিস নয়। নিয়োগকর্তা আগে Xpat-এ পারমিটের আবেদন করেন, অনুমোদনের পর ইমিগ্রেশনে ভিসার কাজ হয়। তাই পারমিট যাচাই না হলে ভিসার কাগজ দেখে আশ্বস্ত হবেন না। আর পারমিট যাচাই হলেও বাংলাদেশ থেকে বিএমইটির ছাড়পত্র ছাড়া কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যায় না।
- ১Xpat সাইট খুলুনমালদ্বীপ সরকারের Xpat সাইটে গিয়ে Work Permit Verification অংশে যান।
- ২ওয়ার্ক পারমিট নম্বর দিনপারমিট নম্বর সাধারণত WP দিয়ে শুরু, সাইটের নমুনায় দেখানো আছে WP00000000 ধরনে।
- ৩নাম বা পাসপোর্ট নম্বর দিনদ্বিতীয় ঘরে কর্মীর নাম অথবা পাসপোর্ট নম্বর লিখুন, তারপর Verify চাপুন।
- ৪বিবরণ মিলিয়ে নিনপারমিটে কর্মীর নাম, পাসপোর্ট আর নিয়োগকর্তার তথ্য আপনার কাগজের সঙ্গে মেলে কি না দেখুন।
নিয়োগকর্তা Xpat সিস্টেমে আবেদন করার পর পারমিট নম্বর তৈরি হয়। এজেন্সি বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নম্বরটা লিখিত নিন। নম্বর দিতে না পারলে বা দিলেও সাইটে কিছু না এলে টাকা দেওয়ার আগে থামুন।
২. পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে মালদ্বীপ ভিসা চেক: আঙুলের ছাপ বাকি কি না
Xpat সাইটের Fingerprint Requirement পাতায় শুধু পাসপোর্ট নম্বর আর দেশ (Bangladesh) দিলে জানা যায়, ওই কর্মীর আঙুলের ছাপ দেওয়া দরকার কি না। এটা ভিসার অনুমোদন দেখায় না, তবে পাসপোর্ট নম্বরটা সিস্টেমে আছে কি না বুঝতে কাজে লাগে।
- মালের আশপাশের এলাকায় প্রবাসী কর্মীর বায়োমেট্রিক হালনাগাদ এখন শুধু অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে হয়, কর্মদিবসে দুপুর ২টা থেকে ৪টা।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার, কর্মীকে নির্ধারিত সময়ে হাজির করাও তাঁর কাজ।
- মালের বাইরে থাকা কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কাউন্সিল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
- Xpat সাইট সতর্ক করেছে, বায়োমেট্রিক হালনাগাদ বাকি থাকলে সিস্টেমে সেবায় বিধিনিষেধ আসতে পারে।
নিয়োগকর্তা বায়োমেট্রিকের সময় নিচ্ছেন না দেখলে লিখিতভাবে মনে করিয়ে দিন। হালনাগাদ বাকি থাকলে সমস্যা শেষে কর্মীর ঘাড়েও আসে।
৩. অবৈধ হয়ে পড়া কর্মীর নিয়মিতকরণ যাচাই
কাগজ না থাকায় যাঁরা মালদ্বীপে অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন আর নিয়মিতকরণের নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের জন্য Xpat সাইটে Regularization Verification নামে আলাদা পাতা আছে। সেখানে নিবন্ধন নম্বর আর নামের প্রথম অংশ দিতে হয়। সাইটের নমুনায় নিবন্ধন নম্বরের ধরন দেখানো আছে RRGZ দিয়ে শুরু।
- নিয়মিতকরণের নিবন্ধনের কাগজ থেকে নম্বরটা নিন।
- Regularization Verification পাতায় নম্বর আর First Name দিয়ে Verify চাপুন।
- বিবরণ না এলে বা নাম না মিললে নিয়োগকর্তা বা হাইকমিশনের সঙ্গে কথা বলুন।
Xpat সাইটে নিয়োগকর্তাদের জন্য কর্মী নিখোঁজ ঘোষণা আর পারমিট প্রত্যাহারের নিয়ম হালনাগাদের নোটিশও আছে। কাজ ছেড়ে অন্য জায়গায় গেলে নিয়োগকর্তা আপনাকে নিখোঁজ দেখাতে পারেন, তাই চাকরি বদলের আগে নিয়ম মেনে কাগজ ঠিক করুন।
৪. মালদ্বীপ ই ভিসা: ২০২৬ সালে কী বদলেছে
বাসস ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ জানিয়েছে, মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন ই-ভিসা ব্যবস্থা আর একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে দেশটির ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল এই তথ্য দেন।
- যাঁদের বৈধ ভিসা আছে, নির্ধারিত ফি দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তর হবে। ফির অঙ্ক খবরে বলা নেই।
- নতুন আবেদনকারীদের জন্য ব্যবস্থাটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর।
- প্রবাসীরা নতুন ব্যবস্থায় অনলাইনে ভিসার অবস্থা দেখতে পারবেন।
- শুরুতে কিছু কারিগরি সমস্যার কথা স্বীকার করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টায় ভিসা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
ইমিগ্রেশনের ভিসা সেবা, আবেদন আর সারির টোকেনের অবস্থা দেখার জন্য দেশটির আলাদা পোর্টাল আছে, যার নাম Imuga। কাজের পারমিট যাচাইয়ের জন্য অবশ্য উপরের Xpat সাইটটাই মূল জায়গা।
নতুন ব্যবস্থা চালুর শুরুতে কাজ ধীর হতে পারে, তাই হাতে যথেষ্ট সময় রেখে আবেদন করান।
৫. ফ্রি ভিসার ফাঁদ আর প্রতারিত হলে
একই বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার 'ফ্রি ভিসা' প্রথা, শ্রমিক শোষণ আর প্রতারণার বিষয় তুলেছিলেন। মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি বা নিয়োগকর্তাকে যাচাই করে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, আর ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দেশটির লেবার রিলেশনস অথরিটিতে (LRA) অভিযোগ করতে বলা হয়েছে।
টাকা দেওয়ার আগে মিলিয়ে নিন
একটা উদাহরণ। সিলেটের রুবেলকে বলা হয়েছিল, মালদ্বীপে গিয়ে নিজেই কাজ খুঁজে নেবেন, ভিসা 'ফ্রি'। তিনি পারমিট নম্বর চাইলেন। Xpat সাইটে নম্বর মিলল, কিন্তু পারমিটে নিয়োগকর্তার নাম আলাদা কোম্পানির। তিনি যাওয়া স্থগিত রাখলেন আর এজেন্সির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাইলেন।
৬. মালদ্বীপে থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট বদলালে
বাসসের একই খবরে বলা হয়েছে, তথ্য বদলে নতুন পাসপোর্ট নিলে মালদ্বীপের ইমিগ্রেশনে তা হালনাগাদ করতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের যাচাইপত্র লাগে। নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়ে আগে হাইকমিশনে যোগাযোগ করুন, তারপর নিয়োগকর্তার মাধ্যমে Xpat-এ তথ্য হালনাগাদ করান।
Xpat সাইটে সহায়তা কেন্দ্রের নম্বর দেওয়া আছে ১৪৮৫। দেশ থেকে প্রশ্ন থাকলে প্রথমে এজেন্সি আর বিএমইটি, মালদ্বীপে থাকলে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করুন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
maldives visa check by passport number কি সম্ভব?
মালদ্বীপ ওয়ার্ক ভিসা চেক করতে কি টাকা লাগে?
মালদ্বীপ ই ভিসা চেক কোথায় করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।