সংক্ষেপে
কাজ নিয়ে বৈধভাবে বিদেশে যেতে চাইলে প্রথম কাজ বিএমইটিতে নিবন্ধন। এখন এটি হয় সরকারের ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) কর্মী পোর্টালে: জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ আর মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রোফাইল পূরণ করতে হয়। অনলাইনে নিবন্ধনের ফি ২০০ টাকা, দেওয়া যায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে।
নিবন্ধনের পর আপনার তথ্য বিএমইটির ডেটাবেজে থাকে। রিক্রুটিং এজেন্সি সেখান থেকে কর্মী বাছাই করে। টিটিসির কোর্সে ভর্তি আর পরে বহির্গমন ছাড়পত্রের আবেদনেও এই নিবন্ধন লাগে।
বিএমইটি নিবন্ধন, প্রশিক্ষণে ভর্তি আর ছাড়পত্রের আবেদন এই পোর্টাল থেকেই হয়।
এই লেখায়
১. কাদের নিবন্ধন করতে হয়
কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চান, এমন যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এই নিবন্ধন করবেন। রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যান বা নিজে ভিসা জোগাড় করেন, দুই ক্ষেত্রেই বহির্গমন ছাড়পত্রের আবেদনে নিবন্ধনপত্রের সত্যায়িত কপি লাগে। বিএমইটির কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ভর্তির আগেও নিবন্ধন করতে বলা হয়।
ওইপিতে একজন কর্মীর যাত্রা শুরু হয় এই নিবন্ধন দিয়ে। এরপর প্রশিক্ষণ, পাসপোর্ট, এজেন্সির মাধ্যমে চাকরি, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ (পিডিও), মেডিকেল, ভিসা, আর সবশেষে বহির্গমন ছাড়পত্র।
নিবন্ধন করলেই বিদেশে চাকরি হয়ে যায় না, এটি শুধু বিএমইটির খাতায় আপনার নাম তোলা। কেউ 'নিবন্ধন করিয়ে দিলেই ভিসা' বললে সাবধান হোন।
২. নিবন্ধনের আগে যা হাতে রাখবেন
যা লাগবে
নিবন্ধনের ফরমে পাসপোর্ট নম্বর চাওয়া হয় না। তবে বহির্গমন ছাড়পত্রের সময় বৈধ পাসপোর্ট লাগবেই, তাই আগেভাগে পাসপোর্ট করিয়ে রাখা ভালো।
৩. অনলাইনে নিবন্ধনের ধাপ
- ১কর্মী পোর্টাল খুলুনব্রাউজারে ওইপির কর্মী পোর্টাল (Aspirant Migrant Portal) খুলুন। বিএমইটির ওয়েবসাইটের 'অনলাইন নিবন্ধন' লিংকও এখানেই নিয়ে যায়। ঠিকানার শেষে gov.bd আছে কি না দেখে নিন।
- ২NID-র তথ্য দিয়ে যাচাই করুন'অ্যাকাউন্ট নেই?' লেখা অংশে গিয়ে NID অনুযায়ী ইংরেজিতে নাম, মোবাইল নম্বর, NID নম্বর আর জন্মতারিখ দিন। ক্যাপচা পূরণ করে শর্তে টিক দিন, তারপর 'যাচাই করুন' চাপুন। তথ্য NID-র সঙ্গে না মিললে এগোনো যাবে না।
- ৩OTP দিয়ে লগইন করুনমোবাইলে আসা OTP দিয়ে অ্যাকাউন্টে ঢুকুন। লগইন পাতায় পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢোকার ব্যবস্থাও আছে।
- ৪প্রোফাইল পূরণ করুনশিক্ষা, দক্ষতা, ভাষা আর কাজের অভিজ্ঞতার ঘর যত্ন করে পূরণ করুন। এজেন্সিগুলো ওইপির দক্ষ কর্মীর ডেটাবেজ থেকেই কর্মী খোঁজে।
- ৫ফি দিয়ে কার্ড নামানমোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধন ফি দেওয়ার পর নিবন্ধনের কার্ড ডাউনলোড করুন। কয়েক কপি প্রিন্ট করে রাখুন।
কম্পিউটারের দোকান বা দালাল দিয়ে নিবন্ধন করালে সরকারি ফির বাইরে বাড়তি টাকা চাওয়া হতে পারে। মোবাইল নম্বরটি যেন আপনার নিজের থাকে, না হলে পরে OTP পাবেন না।
৪. ফি কত, কোথায় দেবেন
| কাজ | কোথায় | খরচ |
|---|---|---|
| অনলাইন নিবন্ধন | ওইপির কর্মী পোর্টাল | ২০০ টাকা |
| আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) | জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (ডিইএমও) | অফিস থেকে জেনে নিন |
| বহির্গমন কার্ড বা স্মার্ট কার্ড | ছাড়পত্র অনুমোদনের পর | কার্ডের আলাদা ফি নেই |
প্রথম আলোর নভেম্বর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অনলাইনে বিএমইটি নিবন্ধনের ফি ২০০ টাকা। ফি বদলাতে পারে, তাই পেমেন্টের ধাপে পোর্টাল যে অঙ্ক দেখায় সেটাই ধরুন। দোকানের সার্ভিস চার্জ সরকারি ফি নয়, নিজে করলে লাগে না।
৫. নিবন্ধনের পর কী করবেন
- নিজের জেলার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (ডিইএমও) আঙুলের ছাপ দিন। ছাড়পত্রের আগে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শেষ থাকা দরকার।
- দরকার হলে টিটিসিতে কাজের বা ভাষার প্রশিক্ষণ নিন। একই অ্যাকাউন্ট থেকে কোর্সে ভর্তির আবেদন করা যায়।
- লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সি বেছে নিন, অথবা নিজের জোগাড় করা ভিসা আগে যাচাই করুন।
- পিডিও, মেডিকেল আর ভিসার কাজ শেষ হলে বহির্গমন ছাড়পত্রের আবেদন করুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
বিএমইটি নিবন্ধন করতে কি ঢাকায় যেতে হয়?
নিবন্ধনের কার্ড হারিয়ে গেলে কী করব?
পোর্টালে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।