
সংক্ষেপে
সৌদি আরব যেতে কত টাকা লাগে, তার সরকারি উত্তর ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই নির্ধারিত অঙ্ক প্রথম আলো ২০২০ সালে প্রকাশ করেছিল, আর এর পরে সৌদির জন্য নতুন কোনো অঙ্ক সরকারিভাবে প্রকাশ হতে আমরা দেখিনি।
বাস্তবে খরচ অনেক বেশি পড়ে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালে সৌদি যাওয়া কর্মীদের গড় খরচ ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৬ টাকা। এই লেখায় পাবেন কোন খরচ সরকার নির্ধারিত, কোনটা নিয়োগকর্তার দেওয়ার কথা, আর বাড়তি টাকা চাইলে কী করবেন।
সৌদি ভিসা যাচাই, বহির্গমন ছাড়পত্র আর এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ বিএমইটির কাজ।
এই লেখায়
১. সরকারিভাবে সৌদি আরব যেতে কত টাকা লাগে
প্রথম আলোর ১৯ নভেম্বর ২০২০ তারিখের প্রতিবেদনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য দিয়ে কয়েকটি দেশের সরকার নির্ধারিত অভিবাসন খরচ ছাপা হয়েছিল। সেখানে সৌদি আরবের জন্য অঙ্কটি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। পাশের দেশগুলোর অঙ্কও তুলনার জন্য দেওয়া হলো:
| দেশ | সরকার নির্ধারিত খরচ (২০২০ সালের প্রতিবেদন) |
|---|---|
| সৌদি আরব | ১,৬৫,০০০ টাকা |
| সিঙ্গাপুর | ২,৬২,২৭০ টাকা |
| লিবিয়া | ১,৪৫,৭৮০ টাকা |
| ওমান | ১,০০,৭৮০ টাকা |
| কাতার | ১,০০,৭৮০ টাকা |
| বাহরাইন | ৯৭,৭৮০ টাকা |
একই তালিকায় মালয়েশিয়ার অঙ্ক ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার, যা ২০২২ সালে কমিয়ে ৭৮,৯৯০ টাকা করা হয়। মানে এসব অঙ্ক বদলায়। সৌদির জন্য নতুন কোনো পরিপত্র এসেছে কি না, যাওয়ার আগে বিএমইটি বা জেলা জনশক্তি অফিসে জিজ্ঞেস করে নিন।
২. বর্তমানে সৌদি যেতে কত টাকা লাগে: জরিপ যা বলছে
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২০ সালে অভিবাসন ব্যয় নিয়ে প্রথম বড় জরিপ করে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের পরিবার থেকে তথ্য নিয়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদি আরবে যেতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে গড় খরচ পড়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৬ টাকা, সরকারের বেঁধে দেওয়া অঙ্কের প্রায় আড়াই গুণ।
- এই খরচে ধরা হয়েছে উড়োজাহাজ ভাড়া, প্রশিক্ষণ, ঋণের সুদ, নিয়োগকারীর ফি, নিরাপত্তা ছাড়পত্র, ভিসা ফি, দালালের টাকা, মেডিকেল, দেশের ভেতরে যাতায়াত, পাসপোর্ট, কল্যাণ ফি আর দক্ষতা যাচাই।
- জরিপে সব দেশ মিলিয়ে একজন অভিবাসীর গড় খরচ ৪ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৯ টাকা, আর তা তুলতে লেগেছে প্রায় সাড়ে ১৭ মাসের আয়।
- অভিবাসীদের খরচের ৭৮ শতাংশই এসেছে ধারদেনা থেকে, আর ১৩ শতাংশ ঋণ শোধ করতে না পেরে সম্পত্তি হারিয়েছেন।
জরিপটি কয়েক বছর আগের, ২০২৬ সালের বাজারদর আলাদা হতে পারে। তবু এটা পরিষ্কার: এজেন্সি বা দালাল যে অঙ্ক চায়, তা সরকারি অঙ্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার দরকার আছে।
৩. দেশে কোন ফি সরকার নির্ধারিত
বহির্গমন ছাড়পত্র নিতে কর্মীকে কিছু নির্দিষ্ট সরকারি ফি দিতে হয়। বিডিনিউজ২৪-এর ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের খবর অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে কল্যাণ ফি বেড়েছে, কার্যকর ১ অক্টোবর থেকে।
| খাত | পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি | ৫,৫০০ টাকা | আগে ছিল ৩,৫০০ টাকা |
| বিদেশগামী কর্মীর বীমা | ১,০০০ টাকা | কল্যাণ ফির সঙ্গে আলাদা |
| বিএমইটি স্মার্ট কার্ড | বিনামূল্যে | আগে ৫০০ টাকা নেওয়া হতো |
পাসপোর্ট, মেডিকেল আর প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণের নিজস্ব ফি আছে। এর বাইরে এজেন্সি যা নেয়, তা তাদের সার্ভিস চার্জ বা অন্য খরচ। প্রতিটি টাকার রসিদ চেয়ে নিন।
৪. সৌদির জন্য বাড়তি দুটি ধাপ: তাকামুল আর বায়োমেট্রিক
সৌদি কাজের ভিসার জন্য অনেক পেশায় দক্ষতা যাচাই সনদ, যাকে তাকামুল বলে, বাধ্যতামূলক। প্রথম আলোর আগস্ট ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় ঢাকার সৌদি দূতাবাস বলেছিল, কর্মীকে নিবন্ধনের ৫০ ডলার দিতে হবে না। বাস্তবে কর্মীরাই সেই টাকা দিচ্ছিলেন, দালাল বা কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করে। সনদের মেয়াদ পাঁচ বছর, পরীক্ষা হয় দেশের নির্ধারিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে।
এ ছাড়া সৌদি ভিসার জন্য তাসিরের সেন্টারে আঙুলের ছাপ আর ছবি দিতে হয়, দ্য ডেইলি স্টার ২০২৩ সালে এটি বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে। এই দুটি ধাপের ফি সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই কে দেবে আর কত, এজেন্সির সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে স্পষ্ট করুন।
৫. সৌদি যাওয়ার আগে খরচ নিয়ে ঠকবেন না যেভাবে
- ১ভিসা যাচাই করুনটাকা দেওয়ার আগে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিসা প্ল্যাটফর্মে বা বিএমইটির বহির্গমন শাখায় ভিসা মিলিয়ে নিন। বিএমইটির সিটিজেন চার্টারে সৌদি ভিসা যাচাইয়ে কোনো ফি নেই।
- ২লাইসেন্সধারী এজেন্সি বাছুনএজেন্সির লাইসেন্স নম্বর বিএমইটির তালিকায় আছে কি না দেখুন। ব্যক্তি দালালের হাতে টাকা দেবেন না।
- ৩লিখিত চুক্তি নিনপদ, বেতন, থাকা-খাওয়া, কাজের সময় আর মোট খরচ কত, কাগজে লিখিয়ে নিন। মুখের কথার দাম পরে থাকে না।
- ৪প্রতিটি টাকার রসিদ রাখুনকল্যাণ ফি, বীমা, মেডিকেল, সার্ভিস চার্জ আলাদা করে রসিদ চাইবেন। রসিদ না দিলে সেটাই সতর্কসংকেত।
- ৫বাড়তি টাকা চাইলে অভিযোগ করুনপ্রবাসবন্ধু কল সেন্টার ১৬১৩৫ নম্বরে বা বিএমইটির অভিযোগ শাখায় জানান। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে কোনো দেশে নিয়োগ চললে তাদের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জও তুলনা করে দেখুন।
চুক্তিপত্রে যা লেখা থাকা দরকার
নিয়োগকর্তার কাজ ছাড়া অন্য কাজ করার সুযোগের কথা বলে বিক্রি হওয়া ভিসায় গেলে বৈধ কাজ আর সুরক্ষা দুটোই ঝুঁকিতে পড়ে। যে নিয়োগকর্তার নামে ভিসা, তাঁর অধীনে কী কাজ, তা যাচাই না করে যাবেন না।
৬. অনেকে যা জানতে চান
সরকারিভাবে সৌদি আরব যেতে কত টাকা লাগে?
বর্তমানে সৌদি যেতে কত টাকা লাগে?
saudi jete koto taka lage ar kon fee sorkari?
তাকামুল সনদের টাকা কে দেবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।