
সংক্ষেপে
উপসাগরীয় দেশে কাজ বা বসবাসের জন্য যাওয়ার আগের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এখন ওয়াফিদ (Wafid) প্রোগ্রামের অধীনে হয়, যা গালফ হেলথ কাউন্সিলের কর্মসূচি। অনেকে একে এখনো গামকা মেডিকেল নামে চেনেন। গামকা মেডিকেল রিপোর্ট চেক করতে ওয়াফিদের ওয়েবসাইটে Medical Examination Result অংশে পাসপোর্ট নম্বর আর জাতীয়তা দিন, অথবা স্লিপ নম্বর দিন।
ওয়াফিদ বলছে, পরীক্ষার ফল আসতে ২৬ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। নাম, পাসপোর্ট নম্বর বা জন্মতারিখ ভুল এলে মেডিকেল সেন্টারকে দিয়েই সংশোধনের অনুরোধ পাঠাতে হয়, এর জন্য কোনো ফি নেই।
পাসপোর্ট নম্বর ও জাতীয়তা, অথবা স্লিপ নম্বর দিয়ে মেডিকেলের ফল দেখা যায়।
এই লেখায়
১. ওয়াফিদ কী, কাদের লাগে
ওয়াফিদ গালফ হেলথ কাউন্সিলের একটি কর্মসূচি। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কোনো দেশে কাজ বা বসবাসের জন্য যাঁরা যাবেন, তাঁরা এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন আর ফল দেখেন। জিসিসির দেশ ছয়টি: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান আর বাহরাইন। ওয়াফিদের তালিকায় বাংলাদেশ আছে, তাই দেশেই অনুমোদিত সেন্টারে পরীক্ষা হয়।
বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্রের আগে মেডিকেল শেষ থাকতে হয়। মালয়েশিয়া বা অন্য দেশের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম আলাদা, এই লেখা শুধু উপসাগরীয় দেশের জন্য।
২. স্লিপ নেওয়া থেকে মেডিকেল পর্যন্ত
- ১Book an Appointment চাপুনওয়াফিদের ওয়েবসাইটে Medical Examinations অংশে Book an Appointment বেছে নিন।
- ২দেশ, শহর আর গন্তব্য দিনপরীক্ষার দেশ বাংলাদেশ, আপনার শহর আর যে দেশে যাবেন সেটি বেছে নিন। শহর অনুযায়ী সেন্টার নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
- ৩তথ্য দিন, দুবার মিলিয়ে নিনপাসপোর্ট নম্বর, নাম, জন্মতারিখ, পেশা, ভিসার নম্বর আর তারিখ পাসপোর্ট ও ভিসা দেখে লিখুন। জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তারিখ আবার মিলিয়ে নিন।
- ৪কার্ডে ফি দিনওয়াফিদের হিসাবে অ্যাপয়েন্টমেন্টের ফি জনপ্রতি ১০ মার্কিন ডলার, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে দিতে হয়। কার্ডের মেয়াদ লিখতে হয় আগে বছর, পরে মাস (YYMM)।
- ৫স্লিপ নিয়ে সেন্টারে যানস্লিপ পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব নির্ধারিত সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করান। স্লিপে তার মেয়াদও লেখা থাকে।
- সেন্টার নিজে বেছে নেওয়া যায় না, শহর আর দেশ অনুযায়ী সিস্টেম ঠিক করে দেয়।
- শহর বদলাতে চাইলে বর্তমান স্লিপের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তারপর নতুন স্লিপ নিতে হয়।
- স্লিপ হারালে Appointment Slips অংশে পাসপোর্ট নম্বর আর জাতীয়তা দিয়ে আবার বের করা যায়।
- শহরের অনুমোদিত সব সেন্টারের নাম Medical Centers List অংশে দেখা যায়।
৩. গামকা মেডিকেল রিপোর্ট চেক করবেন যেভাবে
ওয়াফিদের ওয়েবসাইটে Medical Examination Result পাতায় দুইভাবে খোঁজা যায়: By Passport Number বেছে পাসপোর্ট নম্বর আর জাতীয়তা (Bangladeshi), অথবা Wafid slip number বেছে স্লিপের নম্বর। ক্যাপচা থাকলে পূরণ করে খুঁজুন।
| যা দেখছেন | মানে | এখন কী করবেন |
|---|---|---|
| কোনো ফল নেই | পরীক্ষার পর ফল আসতে ২৬ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে | এই সময় পার হলে সেন্টারে খোঁজ নিন |
| ফিট | স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপযুক্ত | রিপোর্টের মেয়াদ দেখে এজেন্সিকে জানান |
| আনফিট | নির্ধারিত কোনো স্বাস্থ্যগত কারণে অনুপযুক্ত | নিচের শেষ অংশ পড়ুন |
| নাম বা পাসপোর্ট নম্বর ভুল | বুকিংয়ের সময় ভুল তথ্য গেছে | সেন্টারকে সংশোধনের অনুরোধ পাঠাতে বলুন |
এজেন্সি বা দালাল কাগজে যা-ই দেখাক, ফল নিজে ওয়াফিদের সাইটে মিলিয়ে নিন। কাগজের ফল সাইটের সঙ্গে না মিললে সেটি কোনো কাজে আসবে না।
৪. তথ্য ভুল, বা টাকা কেটেছে কিন্তু স্লিপ আসেনি
পাসপোর্ট নম্বর, নাম, জাতীয়তা, পেশা, জন্মতারিখ, ভিসার নম্বর বা পাসপোর্টের তারিখ ভুল গেলে ওয়াফিদের নিয়ম হলো মেডিকেল সেন্টারই আপনার হয়ে সংশোধনের অনুরোধ পাঠাবে। সেন্টারের কাছ থেকে অনুরোধের নম্বর আর জমার তারিখ লিখে নিন। ওয়াফিদ স্পষ্ট করে বলেছে, এই সংশোধনে কোনো ফি নেই।
- পেমেন্ট না হলে কার্ড চালু আছে কি না, ব্যালান্স আছে কি না আর মেয়াদ YYMM ধরনে লিখেছেন কি না দেখুন। অন্য কার্ড বা অন্য ব্রাউজারে চেষ্টা করুন।
- টাকা কেটেছে কিন্তু স্লিপ আসেনি, অথবা দুবার টাকা কেটেছে: ওয়াফিদের Contact Us পাতায় দেওয়া ইমেইলে পাসপোর্ট নম্বর, পুরো নাম, পেমেন্টের তারিখ ও সময়, কার্ডধারীর নাম আর ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ জানান।
- সাইট না চললে অন্য ব্রাউজার আর ভালো ইন্টারনেট দিয়ে চেষ্টা করুন, ত্রুটির স্ক্রিনশট রেখে দিন।
- ওয়াফিদের ফোন নম্বর +৯৬৬ ৯২০০২৩৫৬০, এটি সৌদি আরবের নম্বর।
রিফান্ডের জন্য কার্ডের তথ্য শুধু ওয়াফিদের নিজের যোগাযোগ পাতায় দেওয়া ঠিকানায় পাঠান। দালাল বা অচেনা কেউ ‘টাকা ফেরত এনে দেব’ বলে কার্ডের নম্বর বা OTP চাইলে দেবেন না।
৫. আনফিট এলে, বা আবার মেডিকেল করাতে চাইলে
ওয়াফিদ কোন কোন কারণে আনফিট ধরা হয়, তার তালিকা প্রকাশ করেছে। সংক্রামক রোগের মধ্যে আছে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, ম্যালেরিয়া ও মাইক্রোফাইলেরিয়া, কুষ্ঠ, আর বুকের এক্স-রেতে যক্ষ্মাসহ অস্বাভাবিক চিহ্ন। অসংক্রামক কারণের মধ্যে কিডনি, লিভার বা হার্টের অকার্যকারিতা, নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস, ক্যানসার, মানসিক ও স্নায়বিক রোগ, কাজে বাধা দেয় এমন শারীরিক অক্ষমতা আর খুব কম হিমোগ্লোবিন।
- সিস্টেমে বৈধ রিপোর্ট থাকলে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায় আগের রিপোর্টের তারিখের দুই মাস পর।
- পরীক্ষার তারিখ বদলানো যায় না, ওটা অনুমোদনের তারিখ ধরে সিস্টেম ঠিক করে।
- রিপোর্টের মেয়াদ গোনা হয় তথ্য সংশোধনের তারিখ থেকে, মূল পরীক্ষার তারিখ থেকে নয়।
আনফিট এলে আগে একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে কারণটা বুঝে নিন। টাকার বিনিময়ে ফিট করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হবেন না, এতে টাকা যায় আর বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এজেন্সি টাকা নিয়ে থাকলে চুক্তি আর রসিদ দেখিয়ে কথা বলুন, সমাধান না হলে বিএমইটিতে অভিযোগ করুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
গামকা মেডিকেল রিপোর্ট চেক করতে টাকা লাগে?
ওয়াফিদ মেডিকেল স্ট্যাটাস কত দিনে আসে?
গামকা মেডিকেল সেন্টার নিজে বেছে নেওয়া যায়?
ওয়াফিদ স্লিপ হারিয়ে গেলে কী করব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।