
সংক্ষেপে
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসী কর্মীর প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য আলাদা ভাতা দেয়। ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মাসে ২,০০০ টাকা হারে বছরে ২৪,০০০ টাকা, টানা ৭ বছর। টাকা আসে বছরে এক কিস্তিতে, অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবে।
আবেদন করা যায় অনলাইনে, বোর্ডের পোর্টালে, তবে সারা বছর নয়। ২০২৬ সালের আবেদন নেওয়া হয়েছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ। বোর্ড জানিয়েছে, প্রতি বছরের প্রথম দিকে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তাই ২০২৭ সালের আবেদনও সম্ভাব্য বছরের শুরুর দিকে, কাগজ এখনই গুছিয়ে রাখুন।
প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি আর সদস্যপদের অনলাইন আবেদন এখানে হয়।
এই লেখায়
১. প্রবাসী প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা, কত বছর
বোর্ডের সেবার পাতায় লেখা আছে, আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রতিমাসে ২,০০০ টাকা হারে বছরে এক কিস্তিতে ২৪,০০০ টাকা করে ৭ বছর ভাতা দেওয়া হয়। এই সেবার জন্য বোর্ডকে কোনো ফি দিতে হয় না।
হিসাবটা সহজ: ৭ বছরে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। একটি সন্তানের চিকিৎসা, থেরাপি বা পড়াশোনার খরচে এটা বড় সাহায্য। হারটা সম্প্রতি বেড়েছে। ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তিতে ছিল মাসে ১,০০০ টাকা, বছরে ১২,০০০, মেয়াদ ৫ বছর। ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তিতে তা বেড়ে মাসে ২,০০০ টাকা আর মেয়াদ ৭ বছর হয়েছে, কার্যকর ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে।
| বিষয় | ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তি | ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি |
|---|---|---|
| মাসিক হার | ১,০০০ টাকা | ২,০০০ টাকা |
| বছরে | ১২,০০০ টাকা | ২৪,০০০ টাকা |
| মেয়াদ | ৫ বছর | ৭ বছর |
| অনলাইনে আবেদনের সময় | ৪ মে থেকে ৩ জুন ২০২৫ | ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ |
| একজন কর্মীর কয় সন্তান | প্রত্যেকের আলাদা আবেদন | আলাদা আবেদন, সর্বোচ্চ ২ জন |
২. কারা আবেদন করতে পারবেন
আবেদন করেন প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা, মা বা অভিভাবক। শর্ত দুটোর যেকোনো একটি পূরণ হতে হবে।
- প্রবাসী কর্মী বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়েছেন, অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ (মেম্বারশিপ) নিয়েছেন।
- কর্মী বিদেশে মারা গেছেন, আর তাঁর পরিবার বোর্ড থেকে আর্থিক অনুদান পেয়েছে।
সন্তানের প্রতিবন্ধিতার প্রমাণ হিসেবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের দেওয়া সুবর্ণ নাগরিক পরিচয়পত্র লাগবে। এই কার্ড না থাকলে আগে সমাজসেবা অফিস থেকে সেটা করিয়ে নিন, তারপর বোর্ডে আবেদন।
২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যাঁরা এই ভাতা পেয়েছেন, তাঁদের আবার আবেদন করার দরকার নেই।
ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে গিয়ে থাকলে সন্তানের জন্য এই ভাতার পথ বন্ধ, এমন নয়। বৈধভাবে কাজ করছেন এমন কর্মী দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে বোর্ডের সদস্যপদ নিতে পারেন। সদস্যপদ থাকলে পরের বছরের আবেদনে শর্ত পূরণ হবে।
৩. যে কাগজ লাগবে
অনলাইন আবেদনের আগে স্ক্যান করে রাখুন
ফরমে সন্তানের নাম, জন্মতারিখ, প্রতিবন্ধিতার ধরন, সুবর্ণ কার্ডের নম্বর আর প্রবাসী বাবা বা মায়ের পাসপোর্ট নম্বর, বহির্গমন ছাড়পত্র বা সদস্যপদ নম্বর আর কর্মরত দেশের নাম চাওয়া হয়। এগুলো আগে থেকে এক কাগজে লিখে রাখলে আবেদনের সময় ভুল কম হয়।
৪. আবেদন করবেন যেভাবে
- ১বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুনবোর্ডের ওয়েবসাইটের নোটিশ অংশ আর জাতীয় দৈনিকে আবেদন আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি আসে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শুরু আর শেষ তারিখ থাকে।
- ২পোর্টালে আবেদন করুনবোর্ডের পোর্টালে প্রতিবন্ধী ভাতার অপশনে গিয়ে ফরম পূরণ করুন আর কাগজগুলো আপলোড করুন। একাধিক প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আবেদন, সর্বোচ্চ দুজন।
- ৩তথ্য মিলিয়ে জমা দিনবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে বা অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন বাতিল হয়। জমার আগে নাম, নম্বর আর ব্যাংকের তথ্য আরেকবার দেখুন।
- ৪নির্বাচিতদের তালিকা দেখুনবোর্ড প্রতি বছর নির্বাচিতদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের তালিকা সেবার পাতায় দেওয়া আছে। তালিকায় আবেদনের আইডি আর আবেদনের ধরন (অনলাইন, অফলাইন বা ম্যানুয়াল) লেখা থাকে, তাই আবেদনের আইডি যত্ন করে রেখে দিন।
সরাসরি কাগজে আবেদনের সুযোগ আছে শুধু একটি ক্ষেত্রে: ১ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখের আগে ইস্যু হওয়া পাসপোর্টে হাতে লেখা বহির্গমন ছাড়পত্র থাকলে। তখন মূল পাসপোর্ট দেখিয়ে বোর্ডের কর্মকর্তা বা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে সত্যায়ন করিয়ে নিতে হয়। ফরম বোর্ডের প্রধান কার্যালয়, ওয়েবসাইট বা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালে পূরণ করা ফরম জমা দিতে হয়েছিল ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ৯ তলায়, বোর্ডের ডেসপাস শাখায়।
৫. যে কারণে আবেদন বাতিল হয়
বিজ্ঞপ্তিতে বাতিলের কারণ সরাসরি লেখা আছে, আর আবেদনের ফরমের নিচেও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে অসম্পূর্ণ আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন।
- তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে, যেমন পাসপোর্ট নম্বর বা ছাড়পত্রের নম্বর না মিললে।
- কোনো তথ্য বা কাগজ বাদ পড়লে, বিশেষ করে সুবর্ণ কার্ডের কপি বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
- শেষ তারিখ পেরিয়ে আবেদন করলে। ২০২৬ সালে অনলাইন আর সরাসরি দুই আবেদনেরই শেষ দিন ছিল ৩১ মার্চ।
- দুইয়ের বেশি সন্তানের জন্য আবেদন করলে, কারণ ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তিতে সর্বোচ্চ দুজন বলা আছে।
৬. সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ
যেকোনো প্রশ্নে প্রবাসবন্ধু কল সেন্টারে ফোন করতে বলেছে বোর্ড। দেশ থেকে নম্বর ১৬১৩৫, টোল ফ্রি। ভাতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, বিজ্ঞপ্তিতে এ কথাও লেখা আছে।
এই ভাতার আবেদনে বোর্ডকে কোনো ফি দিতে হয় না। কেউ তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সাবধান হোন, আর পোর্টালে নিজেই আবেদন করুন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
প্রবাসী কর্মীর প্রতিবন্ধী সন্তান কত টাকা ভাতা পায়?
প্রবাসী কর্মীর প্রতিবন্ধী সন্তানদের প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম কোথায় পাব?
২০২৭ সালের আবেদন কবে শুরু হবে?
সুবর্ণ কার্ড ছাড়া কি আবেদন করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।