
সংক্ষেপে
২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বরের পর বিএমইটির স্মার্ট কার্ড নিয়ে বৈধভাবে কাজে যাওয়া প্রত্যেক কর্মী জীবন বীমা কর্পোরেশনের ‘প্রবাসী কর্মী বীমা’র আওতায়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের বীমা স্মার্ট কার্ড পাওয়ার দিন থেকে ৫ বছরের। মৃত্যুতে পরিবার পায় ১০ লাখ টাকা, প্রিমিয়াম মাত্র একবার ১,০০০ টাকা, যা ছাড়পত্রের সময় কল্যাণ ফির সঙ্গে জমা হয়।
চাকরি হারিয়ে ৬ মাসের মধ্যে দেশে ফিরলে ৫০ হাজার টাকা, আর অঙ্গহানিতে বীমা অংকের ১০% থেকে ১০০% পাওয়া যায়। দাবি যায় কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে: বোর্ড কাগজ যাচাই করে জীবন বীমা কর্পোরেশনে সুপারিশ পাঠায়, কর্পোরেশন টাকা দেয়। এজন্য কোনো সেবামূল্য নেই, জানতে ফোন করুন প্রবাস বন্ধু কল সেন্টারে ১৬১৩৫।
প্রবাসী কর্মী বীমার নীতিমালা, সুবিধার তালিকা আর দাবির সহায়তা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পাতায়।
এই লেখায়
১. কবে গেছেন, তার ওপর নির্ভর করে কত পাবেন
বীমা চালুর পর থেকে সুবিধা দুবার বেড়েছে। তাই আপনার বা পরিবারের সদস্যের বীমা কত টাকার, তা নির্ভর করে কোন সময়ে স্মার্ট কার্ড নিয়ে বিদেশে গেছেন তার ওপর। কল্যাণ বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে হিসাবটা এমন:
| বিদেশে গেছেন | বীমার মেয়াদ | মৃত্যুতে সুবিধা |
|---|---|---|
| ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০২০ | স্মার্ট কার্ড পাওয়ার দিন থেকে ২ বছর | ২ লাখ টাকা |
| ১১ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ | স্মার্ট কার্ড পাওয়ার দিন থেকে ২ বছর | ৪ লাখ টাকা |
| ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে | স্মার্ট কার্ড পাওয়ার দিন থেকে ৫ বছর | ১০ লাখ টাকা |
শেষ দলের কর্মীদের জন্য বীমা অংক ১০ লাখ টাকা, বয়সসীমা ১৮ থেকে ৫৫ বছর। এই টাকা কল্যাণ বোর্ডের মৃত্যুজনিত আর্থিক অনুদান বা লাশ আনার খরচ থেকে আলাদা, দুটোই আলাদাভাবে পাওয়ার কথা।
কোন সারি আপনার ক্ষেত্রে খাটবে, তা স্মার্ট কার্ডের তারিখ দেখে মেলান। বিদেশে যাওয়ার আগে পরিবারের কাছে নিজের পাসপোর্ট নম্বর, স্মার্ট কার্ডের কপি আর বীমা সার্টিফিকেট রেখে যান। কল্যাণ বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির শেষ পরামর্শও এটাই: বীমার কথা নিজে জানুন, পরিবারকে জানিয়ে রাখুন, আর সময়মতো দাবি করুন।
২. কোন ঘটনায় কত টাকা
| ঘটনা | সুবিধা |
|---|---|
| স্বাভাবিক মৃত্যু, বীমার মেয়াদে | বীমা অংকের ১০০% |
| দুর্ঘটনায় মৃত্যু, মেয়াদে বা মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যে | বীমা অংকের ১০০% |
| দুই চোখের দৃষ্টি, দুই হাত বা দুই পা হারানো, অথবা এক হাত ও এক পা, কিংবা এক চোখের সঙ্গে এক হাত বা এক পা হারানো | বীমা অংকের ১০০% |
| এক চোখের দৃষ্টি, কব্জির ওপর থেকে এক হাত বা গোড়ালির ওপর থেকে এক পা হারানো | বীমা অংকের ৫০% |
| হাঁটুর নিচ থেকে পা, এক পা, নিচের চোয়াল সরে যাওয়া, বা বুড়ো আঙুলসহ হাতের চার আঙুল হারানো | বীমা অংকের ২৫% |
| হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী, মাঝের আঙুল বা পায়ের সব আঙুল হারানো | বীমা অংকের ১৫% |
| অনামিকা, কড়ে আঙুল বা পায়ের বিভিন্ন আঙুল হারানো | বীমা অংকের ১০% |
| বিদেশে যাওয়ার পর চাকরি হারিয়ে ৬ মাসের মধ্যে দেশে ফেরা | ৫০,০০০ টাকা |
চাকরিচ্যুতির ৫০ হাজার টাকা পাবেন না, যদি নিয়োগকর্তা আপনার বিদেশ যাওয়ার পুরো খরচ বহন করে থাকেন। শতাংশের হিসাব হয় বীমা অংকের ওপর, তাই ২০২৩ বা পরে যাওয়া কর্মী এক চোখের দৃষ্টি হারালে ৫০% মানে ৫ লাখ টাকা। আংশিক অঙ্গহানির টাকা পাওয়ার পর কর্মী মারা গেলে, বীমা অংক থেকে আগে দেওয়া টাকা বাদ দিয়ে বাকিটা মৃত্যুদাবি হিসেবে দেওয়া হয়।
৩. যেসব ক্ষেত্রে বীমার টাকা মেলে না
- বীমা শুরুর ৬ মাসের মধ্যে আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করা।
- এইডস বা এইচআইভি-সংক্রান্ত রোগে সরাসরি মৃত্যু বা অসুস্থতা।
- মোটর রেসিং, মুষ্টিযুদ্ধ, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাশুটিং, পর্বতারোহণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মৃত্যু।
- বীমা শুরুর আগে থেকে থাকা রোগ।
- মদ বা মাদকাসক্তির কারণে মৃত্যু, যুদ্ধ, দাঙ্গা বা সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যু।
- গুরুতর অপরাধে আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড।
প্রথম আলোর জানুয়ারি ২০২৪-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গন্তব্য দেশের মৃত্যুসনদে ‘আত্মহত্যা’ লেখা থাকায় কোনো কোনো পরিবার বীমার টাকা পায়নি। কারণ নিয়ে সন্দেহ থাকলে দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং আর কল্যাণ বোর্ডকে লিখিতভাবে জানান।
৪. দাবি করবেন যেভাবে
জীবন বীমা কর্পোরেশনের লিফলেট অনুযায়ী ঘটনা ঘটলে কল্যাণ বোর্ড দাবির কাগজ পরীক্ষা করে সুপারিশ কর্পোরেশনে পাঠায়, কর্পোরেশন দাবির টাকা বাংলাদেশি টাকায় বোর্ডকে পরিশোধ করে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশে মৃত্যুর ক্ষেত্রে আলাদা আবেদন ছাড়াই টাকা পাঠানো হয়, অন্য ক্ষেত্রে দাবি করতে হয়। টাকা না এলে বা অঙ্গহানি ও চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে নিচের ধাপগুলো মানুন।
- ১বীমা সার্টিফিকেট নামানজীবন বীমা কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটের নাগরিক ই-সেবা অংশে ‘প্রবাসী কর্মী বীমা সার্টিফিকেট’ খুলুন। পাসপোর্ট নম্বর বা এক্সপ্যাট্রিয়েট আইডির ঘর পূরণ করে সার্টিফিকেট দেখুন ও সংরক্ষণ করুন।
- ২কল সেন্টারে জানানপ্রবাস বন্ধু কল সেন্টারে দেশ থেকে ১৬১৩৫ (টোল ফ্রি) বা বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে ফোন করে ঘটনা জানান, কোথায় কোন কাগজ জমা দেবেন জেনে নিন।
- ৩কাগজ জমা দিনকল্যাণ বোর্ডের সেবা তালিকা অনুযায়ী বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র বা বোর্ডের সদস্যপদের প্রমাণ আর পাসপোর্টের কপি লাগে, সঙ্গে বোর্ড যা চাইবে সেই ঘটনার প্রমাণ।
- ৪চাকরি হারালে সময়ের হিসাব রাখুনচাকরি হারানোর পর ৬ মাসের মধ্যে দেশে ফিরতে হবে। পাসপোর্টে দেশে ঢোকার সিলের কপি আর চাকরি শেষের কাগজ যত্ন করে রাখুন।
- ৫খোঁজ রাখুনবোর্ডের সুপারিশ কর্পোরেশনে গেছে কি না, আর টাকা কবে আসবে, কল সেন্টার বা বোর্ডের অফিসে খোঁজ নিন। আবেদনের কপি আর রসিদ রেখে দিন।
পরিবার যা গুছিয়ে রাখবে
৫. অনেকে যা জানতে চান
প্রবাসী কর্মী বীমার প্রিমিয়াম কত, কোথায় দিতে হয়?
২০২১ সালে গেছি, আমার বীমা কি এখনো আছে?
অসুখে দেশে ফিরে এলে কি বীমার টাকা পাব?
স্মার্ট কার্ড ছাড়া গেলে কি বীমা পাব?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।