সংক্ষেপে
বহির্গমন ছাড়পত্র বা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ থাকলে কর্মী ও তাঁর পরিবার বোর্ডের সহায়তা পান। প্রবাসে মৃত্যু হলে পরিবার পায় ৩ লাখ টাকা অনুদান, আর লাশ দেশে এলে বিমানবন্দরে পরিবহন ও দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক। দেশে ফেরা আহত বা অসুস্থ কর্মী চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা চাইতে পারেন।
বিদেশে যাওয়ার খরচ মেটাতে বা ফিরে এসে ব্যবসা শুরু করতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বার্ষিক ৯% সরল সুদে ঋণ দেয়। যেকোনো বিপদে কর্মী বা পরিবার দিনরাত ১৬১৩৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন, বিদেশ থেকে +৮৮০ ৯৬১০ ১০২০৩০।
শিক্ষাবৃত্তি, চিকিৎসা সহায়তা, সদস্যপদ আর অভিযোগের অনলাইন আবেদন এখানে হয়।
এই লেখায়
১. প্রবাসে মৃত্যু: অনুদান আর লাশ দেশে আনা
৩ লাখ টাকার অনুদান পেতে কর্মীর বহির্গমন ছাড়পত্র বা বোর্ডের সদস্যপদ থাকতে হয়। ছাড়পত্র নিয়ে যে দেশে গেছেন, সাধারণত সেই দেশে মৃত্যু হলেই অনুদান মেলে। বোর্ডের এসব সেবার জন্য কোনো ফি নেই।
| সহায়তা | পরিমাণ | কীভাবে পাবেন |
|---|---|---|
| লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ | ৩৫,০০০ টাকা | বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে চেক; লাশ আসার ৩ মাসের মধ্যে নিতে হয় |
| আর্থিক অনুদান | ৩,০০,০০০ টাকা | বিমানবন্দরে চেক নিলে আলাদা আবেদন লাগে না; বোর্ড কাগজ চেয়ে চিঠি দেয়, টাকা যায় ব্যাংক হিসাবে |
| বিদেশে দাফন হলে অনুদান | ৩,০০,০০০ টাকা | মৃত্যুর ১ বছরের মধ্যে বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর বা জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে আবেদন |
| ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন, বীমা | ঘটনা অনুযায়ী আলাদা | দূতাবাস আদায় করে; পরিবারকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ কাগজ দিতে হয় |
- ১লাশ আনার আবেদন করুনপরিবারের সদস্যরা বোর্ডে লাশ দেশে আনার আবেদন করবেন, নমুনা ফরম বোর্ডের ওয়েবসাইটে আছে। বোর্ড পরিবারের মত নিয়ে আবেদন দূতাবাসে পাঠায়।
- ২খোঁজ রাখুনলাশ দেশে না আসা পর্যন্ত বোর্ড দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। খবর জানতে ১৬১৩৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন।
- ৩বিমানবন্দরে লাশ বুঝে নিনপ্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে লাশ গ্রহণের সময় ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। ওয়ারিশ সনদ আর মনোনীত ব্যক্তির ছবি ও NID বা পাসপোর্টের কপি সঙ্গে রাখুন।
৩ লাখ টাকার অনুদানে যে কাগজ লাগে
নাবালকের ভাগ ৩ লাখ টাকা বা তার বেশি হলে তার নামে তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলে টাকা এফডিআর করতে হয়।
২. অসুস্থ হয়ে ফিরলে, বীমা আর শিক্ষাবৃত্তি
- চিকিৎসা সহায়তা: আহত, অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে দেশে ফেরা কর্মী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পেতে পারেন। দেশে ফেরার ১ বছরের মধ্যে চিকিৎসার কাগজ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পাসপোর্ট ও অ্যারাইভাল সিলের কপি দিয়ে আবেদন করতে হয়। বোর্ডের কমিটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে রোগীকে দেখে সুপারিশ করে।
- বীমা: ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে বিদেশগামী কর্মীর বীমা বাধ্যতামূলক। বীমার মেয়াদে কর্মীর মৃত্যু হলে, অথবা চাকরি হারিয়ে ৬ মাসের মধ্যে দেশে ফিরলে বীমার টাকা পেতে বোর্ড সাহায্য করে।
- শিক্ষাবৃত্তি: প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানেরা এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান ক্যাটাগরিতে অনলাইনে আবেদন করতে পারে। ১১ অক্টোবর ২০২৬ বোর্ড এসএসসি/সমমান ২০২৬, এইচএসসি/সমমান ২০২৫ আর ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ২০২৫ ক্যাটাগরিতে আবেদন চেয়েছে, শেষ তারিখ বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।
- প্রবাসী কর্মীর প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য বোর্ডের আলাদা ভাতাও আছে।
বিদেশে আছেন অথচ বহির্গমন ছাড়পত্র নেই, এমন কর্মীও বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকলে অনলাইনে আবেদন করে দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে বোর্ডের সদস্যপদ নিতে পারেন। বোর্ডের ওয়েবসাইটে এর খরচ লেখা আছে জীবন বীমাসহ ৬,৫০০ টাকার সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা।
৩. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ
| বিষয় | অভিবাসন ঋণ | পুনর্বাসন ঋণ |
|---|---|---|
| কার জন্য | কাজ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার খরচ মেটাতে | দেশে ফিরে ব্যবসা বা প্রকল্প শুরু করতে |
| সর্বোচ্চ ঋণ | ৩ লাখ টাকা, জামানত ছাড়া | ৫০ লাখ টাকা; জামানত ছাড়া ৩ লাখ পর্যন্ত |
| মেয়াদ | গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ৩ বছর | সর্বোচ্চ ১০ বছর |
| সুদ | বার্ষিক ৯% সরল সুদ | বার্ষিক ৯% সরল সুদ |
| সময় | কাগজ ঠিক থাকলে ৭ কর্মদিবস | কাগজ ঠিক থাকলে ১৫ কর্মদিবস |
অভিবাসন ঋণে যা লাগে
আবেদনকারীর বয়স হতে হয় ১৮ থেকে ৬০ বছর, আর আবেদনকারী ও জামিনদারকে শাখার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়। প্রসেসিং ও ডকুমেন্টেশন ফি ০.৫০% করে, সঙ্গে ভ্যাট; অভিবাসন ঋণে ঝুঁকি আচ্ছাদন বাবদ প্রতি লাখে ৯০০ টাকা। পুনর্বাসন ঋণে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স লাগে। ঋণ নিয়ে সমস্যা হলে ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৮, বিদেশ থেকে +৮৮০ ৯৬৭৭ ৭৮৭৮৭৮।
৪. বিপদে পড়লে কোথায় অভিযোগ করবেন
- ১প্রথমে ১৬১৩৫ নম্বরে ফোনপ্রবাসবন্ধু কল সেন্টার দিনরাত খোলা। দেশ থেকে ১৬১৩৫ (টোল ফ্রি), বিদেশ থেকে +৮৮০ ৯৬১০ ১০২০৩০। কর্মী বা পরিবার যেকোনো সমস্যা এখানে জানাতে পারেন।
- ২বিদেশে থাকলে দূতাবাসের শ্রম উইংবিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের শ্রম কল্যাণ উইং কর্মীদের নানা সমস্যায় সাহায্য করে। উইংয়ের তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আছে।
- ৩এজেন্সির বিরুদ্ধে বিএমইটিতেরিক্রুটিং এজেন্সি প্রতারণা করলে বিএমইটির মহাপরিচালক বরাবর প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিন। ফি লাগে না, সিটিজেন চার্টারে নিষ্পত্তির সময় ৩০ কর্মদিবস; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় মন্ত্রণালয়।
- ৪অনলাইনে অভিযোগওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পোর্টালে 'অভিযোগ দাখিল' অংশ আছে। সরকারি কোনো দপ্তরের সেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলে জিআরএস (অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা) ব্যবহার করতে পারেন।
লাশ দেশে আনা বা অনুদান পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে দেবেন না। বোর্ডের এসব সেবায় কোনো ফি নেই, অনুদানের টাকা সরাসরি পরিবারের ব্যাংক হিসাবে যায়।
৫. অনেকে যা জানতে চান
ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে গিয়ে কেউ মারা গেলে পরিবার কী পাবে?
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ কি অনলাইনে আবেদন করা যায়?
১৬১৩৫ নম্বরে কি বিদেশ থেকে ফোন করা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।