প্রবাস ও বিদেশে চাকরি

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ: ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে গেলে ৬,৫০০ টাকায় যেভাবে নেবেন

সম্পাদনা: রিহাত খানপড়তে ৫ মিনিট

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ: ছাড়পত্র ছাড়া বিদেশে গেলে ৬,৫০০ টাকায় যেভাবে নেবেন

সংক্ষেপে

যাঁরা বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গেছেন, তাঁদের আলাদা করে সদস্য হওয়ার দরকার নেই, বোর্ড নিজেই তা বলেছে। সদস্যপদ দরকার তাঁদের, যাঁরা ছাড়পত্র ছাড়া গিয়ে এখন বৈধভাবে কাজ করছেন।

আবেদন হয় অনলাইনে, বোর্ডের পোর্টালে, তারপর কর্মরত দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং সদস্যপদ দেয়। খরচ ৬,৫০০ টাকার সমমূল্যের স্থানীয় মুদ্রা, এর মধ্যে জীবন বীমার ফিও আছে। লাগে পাসপোর্ট আর ওয়ার্ক পারমিট বা বৈধভাবে কাজ করার প্রমাণ।

সদস্যপদের অনলাইন আবেদন

বোর্ডের পোর্টালে সদস্যপদের আবেদন, কার্ড ডাউনলোড আর যাচাই হয়।

পোর্টাল খুলুন
এই লেখায়
  1. ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য পদ কাদের দরকার
  2. সদস্যপদ থাকলে পরিবার কী পায়
  3. সন্তানের বৃত্তি আর অন্য আবেদনে সদস্যপদ নম্বর
  4. wewb membership registration: কাগজ আর খরচ
  5. আবেদন থেকে কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত
  6. সদস্য হওয়ার পর যা সংরক্ষণ করবেন
  7. অনেকে যা জানতে চান

১. ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য পদ কাদের দরকার

বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার নিয়মিত পথে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র নিতে হয়, আর তার সঙ্গে কল্যাণ বোর্ডের ফি জমা হয়ে যায়। কিন্তু কেউ কেউ ছাড়পত্র ছাড়াই বিদেশে গেছেন, আর এখন সেখানে বৈধভাবে কাজ করছেন। তাঁদের হাতে বিএমইটির কার্ড নেই। বোর্ডের অনেক সহায়তায় ছাড়পত্র অথবা সদস্যপদের প্রমাণ চাওয়া হয়, তাই এমন কর্মীর জন্য সদস্যপদই সেই প্রমাণ।

বোর্ডের সদস্যপদের পাতায় তিনটি কথা পরিষ্কার লেখা:

  • প্রবাসী কর্মীরা অনলাইনে আবেদন করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে সদস্যপদ আর জীবন বীমা নেন।
  • যাঁদের বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র বা কার্ড আছে, তাঁদের আর সদস্যপদ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
  • আগে যাঁরা সদস্য হয়েছেন, তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও পাতায় দেওয়া আছে।

দেশে থাকা পরিবারও জানতে চাইতে পারে, প্রবাসী সদস্যের ছাড়পত্র বা সদস্যপদ আছে কি না। বোর্ডের পাতায় দুটো যাচাইয়ের লিংক দেওয়া আছে, একটি সদস্যপদের তথ্য দেখার, আরেকটি বিএমইটির ছাড়পত্র বা কার্ড আছে কি না দেখার। বিপদের আগে একবার মিলিয়ে রাখলে পরে দৌড়াতে হয় না।

২. সদস্যপদ থাকলে পরিবার কী পায়

সদস্যপদ নেওয়ার আসল কারণ পরিবারের সুরক্ষা। বোর্ডের কয়েকটি বড় সহায়তায় শর্তই হলো ছাড়পত্র অথবা সদস্যপদ।

সহায়তাপরিমাণশর্ত
প্রবাসে মৃত্যুতে পরিবারকে অনুদান৩ লাখ টাকাবহির্গমন ছাড়পত্র বা বোর্ডের সদস্যপদ
প্রবাসী কর্মীর প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতা (২০২৬)মাসে ২,০০০ টাকা, ৭ বছরবহির্গমন ছাড়পত্র বা বোর্ডের সদস্যপদ
যাতায়াতের সময় বিমানবন্দরে মৃত্যু৩ লাখ টাকা আর লাশ পরিবহনে ৩৫,০০০ টাকাছাড়পত্র বা সদস্যপদ, সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও চিকিৎসকের প্রত্যয়ন

মৃত্যুজনিত অনুদানের পাতায় আরেকটা খুঁটিনাটি আছে। ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশে ছাড়পত্র বা সদস্যপদ নিয়ে কাজে গেলে শেনজেনের যেকোনো দেশে মৃত্যু হলে সুবিধা পাওয়া যায়। আর ছাড়পত্র বা সদস্যপদধারী কর্মী হজ বা ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়ে মারা গেলে দূতাবাসের সনদ যাচাই করে অনুদান দেওয়া হয়।

দেরি করলে ঝুঁকি পরিবারের

সদস্যপদ না থাকলে ৩ লাখ টাকার অনুদানের শর্ত পূরণ হয় না। কাজের অনুমতি হাতে এলেই আবেদন করে ফেলুন।

৩. সন্তানের বৃত্তি আর অন্য আবেদনে সদস্যপদ নম্বর

বোর্ডের পোর্টালে প্রবাসী কর্মীর সন্তানের শিক্ষাবৃত্তির আবেদনে বাবা বা মা প্রবাসী কর্মী, তার প্রমাণ হিসেবে বহির্গমন ছাড়পত্র বা সদস্যপদসহ পাসপোর্টের কপি চাওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ভাতার ফরমেও ছাড়পত্র বা মেম্বারশিপ নম্বর লেখার আলাদা ঘর আছে।

একটা উদাহরণ ভাবুন। সুমন ছাড়পত্র ছাড়াই বিদেশে গিয়েছিলেন, এখন তাঁর ওয়ার্ক পারমিট আছে। দেশে তাঁর মেয়ে এইচএসসিতে ভালো ফল করেছে, বোর্ডের বৃত্তির বিজ্ঞপ্তিও এসেছে। কিন্তু সুমনের ছাড়পত্র বা সদস্যপদ কোনোটাই নেই, তাই মেয়ের আবেদনে বাবা প্রবাসী কর্মী, তার প্রমাণ দেওয়া কঠিন হবে। সদস্যপদ আগে নেওয়া থাকলে এই সমস্যা হতো না।

সদস্যপদের সঙ্গে যে জীবন বীমা হয়, তার সুবিধা আর দাবির নিয়ম নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে। বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবাসী কর্মী বীমা নীতিমালা ২০১৯ আর বাধ্যতামূলক বীমার পরিপত্রও দেওয়া আছে।

৪. wewb membership registration: কাগজ আর খরচ

আবেদনের আগে হাতের কাছে রাখুন

খরচটা টাকায় নয়, যে দেশে আছেন সেখানকার মুদ্রায় দিতে হয়, অঙ্কটা ৬,৫০০ টাকার সমান। বিনিময় হার বদলায়, তাই দূতাবাসের শ্রম উইং যে অঙ্ক বলবে সেটাই দিন আর রসিদ রাখুন। আবেদনে নাম আর পাসপোর্ট নম্বর হুবহু পাসপোর্টের মতো লিখুন, কারণ পরে অনুদান বা ভাতার আবেদনে এই তথ্যগুলোই মিলিয়ে দেখা হয়। কেউ বাড়তি টাকা নিয়ে দ্রুত সদস্যপদ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে রাজি হবেন না, আবেদন নিজেই পোর্টালে করুন।

৫. আবেদন থেকে কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত

  • ১
    ছাড়পত্র আছে কি না আগে দেখুনবিদেশে যাওয়ার সময় বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে থাকলে সদস্যপদ লাগবে না। নিশ্চিত না হলে বোর্ডের পোর্টালের BMET/Membership Verification অংশে দেখে নিন।
  • ২
    পোর্টালে আবেদন করুনবোর্ডের পোর্টালে WEWB Membership অংশে গিয়ে পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিট নম্বর আর কর্মস্থলের তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন, কাগজ আপলোড করুন।
  • ৩
    শ্রম কল্যাণ উইংয়ে যোগাযোগ করুনকর্মরত দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং আবেদন যাচাই করে। সেখানেই ফি জমা দেওয়ার নির্দেশনা পাবেন।
  • ৪
    অবস্থা দেখুন আর কার্ড নামানপোর্টালে সদস্যপদ আবেদনের অবস্থা দেখার আর মেম্বারশিপ কার্ড ডাউনলোডের অপশন আছে। অনুমোদন হলে কার্ড নামিয়ে পরিবারের কাছেও একটা কপি পাঠিয়ে রাখুন।

পরিবারের কাছে কার্ডের কপি থাকা কাজের। বিপদের সময় অনুদান বা ভাতার আবেদনে সদস্যপদ নম্বর লাগে, প্রতিবন্ধী ভাতার ফরমেও আলাদা ঘর আছে।

৬. সদস্য হওয়ার পর যা সংরক্ষণ করবেন

নিজের কাছে আর দেশে পরিবারের কাছে রাখুন

সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্নে বোর্ড প্রবাসবন্ধু কল সেন্টারে ফোন করতে বলেছে। দেশ থেকে ১৬১৩৫, টোল ফ্রি। বিদেশে থাকলে সবচেয়ে কাছের পথ কর্মরত দেশের দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং।

৭. অনেকে যা জানতে চান

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে কত টাকা লাগে?
বোর্ডের পাতায় লেখা, ৬,৫০০ টাকার সমমূল্যের সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রা, জীবন বীমার ফিসহ।
বিএমইটি কার্ড থাকলে কি সদস্যপদ নিতে হবে?
না। বোর্ড বলেছে, যাঁদের বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র বা কার্ড আছে, তাঁদের আর সদস্যপদ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
wewb membership card download কোথা থেকে করব?
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পোর্টাল থেকে। সেখানে মেম্বারশিপ কার্ড ডাউনলোড আর BMET/Membership যাচাইয়ের অপশন আছে।
দেশে থেকে কি সদস্যপদের আবেদন করা যায়?
বোর্ডের পাতায় সদস্যপদ প্রবাসী কর্মীদের জন্য, দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে। বিদেশে বৈধভাবে কাজ করার প্রমাণ লাগে।

এরপর পড়তে পারেন

যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি

জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

সরকারি সাইট

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে আরও লেখা

সব লেখা
প্রবাস

গামকা মেডিকেল রিপোর্ট চেক: ওয়াফিদে স্ট্যাটাস দেখা, স্লিপ আর আনফিট এলে করণীয়

ওয়াফিদে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে মেডিকেল স্ট্যাটাস, ১০ ডলারের স্লিপ, ফলের ২৬ দিন আর তথ্য ভুল হলে করণীয়।

অনেকে খোঁজেন