
সংক্ষেপে
বৈধ পথে, অর্থাৎ ব্যাংক বা বাংলাদেশি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি থাকা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে পাঠানো প্রবাসী আয়ে সরকার ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়। ১১ জুন ২০২৬-এর বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও এই হার বহাল থাকছে। তাই প্রণোদনা বন্ধ হয়নি।
যে ব্যাংক টাকা বিতরণ করে, সে-ই প্রণোদনা যোগ করে দেয়, আলাদা আবেদন লাগে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৩ মে ২০২২-এর নির্দেশনার পর থেকে যেকোনো অঙ্কের রেমিট্যান্সে প্রেরকের কোনো কাগজ ছাড়াই প্রণোদনা দেওয়ার কথা।
রেমিট্যান্স প্রণোদনার সার্কুলার আর গ্রাহক অভিযোগের ব্যবস্থা।
এই লেখায়
১. রেমিট্যান্স প্রণোদনা কি বন্ধ? ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অবস্থা
না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্সে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা চালু থাকবে। হারটি কীভাবে এ পর্যন্ত এল, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে আছে।
| কার্যকর | হার | নির্দেশনা |
|---|---|---|
| ১ জুলাই ২০১৯ | ২ শতাংশ | এফই সার্কুলার নং ৩১, ৬ আগস্ট ২০১৯ |
| ১ জানুয়ারি ২০২২ | ২.৫ শতাংশ | এফই সার্কুলার পত্র নং ০১, ২ জানুয়ারি ২০২২ |
| ২০২৬-২৭ অর্থবছর | ২.৫ শতাংশ, বহাল | বাজেট বক্তৃতা, ১১ জুন ২০২৬ |
প্রণোদনা দেওয়া হয় টাকায় রূপান্তরিত অঙ্কের ওপর। ধরুন বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা বাংলাদেশে এসে ১ লাখ টাকা হলো, তাহলে প্রাপক এর সঙ্গে আরও ২,৫০০ টাকা পাবেন।
প্রণোদনার টাকা আলাদা লেনদেন হিসেবে না এসে মূল টাকার সঙ্গেই জমা হতে পারে। তাই হিসাব মেলাতে এসএমএসে দুটি অঙ্ক দেখুন: বিনিময় হারে রূপান্তরিত মূল টাকা আর সরকারি প্রণোদনা। দুটির যোগফলই আপনার হিসাবে যোগ হওয়ার কথা।
২. প্রণোদনা পাবেন যেভাবে
- ১বৈধ পথে পাঠানবাংলাদেশি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি থাকা বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস বা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠান। হুন্ডির টাকায় প্রণোদনা নেই।
- ২ব্যাংক টাকায় রূপান্তর করেযে ব্যাংকে রেমিট্যান্স আসে, সেই ব্যাংক প্রচলিত বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তর করে প্রাপকের হিসাবে জমা বা নগদ দেওয়ার সময়ই প্রণোদনা যোগ করে।
- ৩অন্য ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট হলেপ্রাপকের হিসাব অন্য ব্যাংকে থাকলে প্রণোদনাসহ পুরো টাকা BEFTN, RTGS, NPSB বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সেখানে পাঠানো হয়।
- ৪এসএমএস বা রসিদ মিলিয়ে নিনবাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা জমার এসএমএস বা লেনদেনের রসিদে সরকারি প্রণোদনার অঙ্ক আলাদা করে লেখা থাকতে হবে। এটি না থাকলে ব্যাংকে জিজ্ঞেস করুন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা আছে, সরকারের দেওয়া অগ্রিম তহবিল শেষ হয়ে গেলেও ব্যাংক নিজের তহবিল থেকে প্রণোদনা দেওয়া চালিয়ে যাবে। প্রণোদনা দিতে দেরি বা হয়রানি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. কাগজ লাগে কি? প্রণোদনার ডকুমেন্টের সীমা
শুরুতে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্সে প্রেরকের কাগজ দেখাতে হতো। ধাপে ধাপে সেই সীমা বেড়েছে, আর ২০২২ সাল থেকে কাগজের শর্তই নেই।
| সময় | কাগজ ছাড়া কত পর্যন্ত | এর বেশি হলে |
|---|---|---|
| জুলাই ২০১৯ থেকে | প্রতিবার ১,৫০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ | প্রেরকের পাসপোর্টের কপি আর নিয়োগপত্র বা বিএমইটির সনদ বা ব্যবসার লাইসেন্স, টাকা আসার ৫ কর্মদিবসের মধ্যে |
| মে ২০২২-এর আগে | ৫,০০০ মার্কিন ডলার বা ৫ লাখ টাকা | বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে প্রেরকের কাগজ পাঠাতে হতো |
| ২৩ মে ২০২২ থেকে | যেকোনো অঙ্ক | প্রেরকের কোনো কাগজ লাগে না |
বাংলাদেশ ব্যাংকের এফই সার্কুলার পত্র নং ১৫ (২৩ মে ২০২২) বলছে, প্রেরকের কোনো ধরনের কাগজ ছাড়াই ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা প্রযোজ্য, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত। প্রণোদনার শর্ত হিসেবে কেউ কাগজ চাইলে এই সার্কুলারের কথা বলুন।
৪. কোন টাকায় প্রণোদনা মেলে, কোনটায় নয়
- প্রবাসে চাকরির পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ছুটির বেতন, বোনাস, গ্র্যাচুইটি বা অবসরের সুবিধার টাকা আয়ের উৎস যাচাই সাপেক্ষে প্রণোদনা পায় (২০ জানুয়ারি ২০২২ থেকে)।
- বিদেশে কাজের সময় মৃত্যু বা আঘাতের জন্য নিয়োগকর্তা বা বিমা কোম্পানির দেওয়া ক্ষতিপূরণও প্রণোদনা পায় (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে)।
- ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বা প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ করা টাকায় প্রণোদনা নেই (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে)।
- ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারের সফটওয়্যার বা আইটিইএস সেবার আয় রেমিট্যান্স প্রণোদনা নয়, রপ্তানি প্রণোদনার আওতায় পড়ে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এর হার ২.৫ শতাংশ।
নিয়মের বাইরে প্রণোদনা নিলে তা ফেরত আদায় করা হবে, আর পরে সেই ব্যক্তি এ সুবিধা পাবেন না। রেমিট্যান্সের টাকা কোনো কারণে ফেরত দিতে হলে প্রণোদনাও ব্যাংককে ফেরত দিতে হয়।
৫. প্রণোদনা না পেলে যা করবেন
- ১এসএমএস আর হিসাব দেখুনটাকা জমার এসএমএস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ওয়ালেটের লেনদেনে প্রণোদনার আলাদা অঙ্ক আছে কি না দেখুন।
- ২শাখায় তথ্যসহ জানানএক্সচেঞ্জ হাউসের নাম, রেফারেন্স বা PIN নম্বর, পাঠানোর তারিখ আর অঙ্ক নিয়ে যে ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান টাকা দিয়েছে, তাদের শাখায় বা কল সেন্টারে জানান।
- ৩অভিযোগ সেলে লিখিত অভিযোগসমাধান না হলে ওই প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ সেলে লিখিত অভিযোগ দিন, কপি রেখে দিন।
- ৪বাংলাদেশ ব্যাংকে যানতাতেও না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রে (CIPC) অভিযোগ করুন: হটলাইন ১৬২৩৬ (কর্মদিবসে অফিস সময়ে), ইমেইল বা অনলাইন অভিযোগ ফরমে।
অভিযোগের সময় যা হাতে রাখবেন
৬. অনেকে যা জানতে চান
রেমিট্যান্স প্রণোদনা ২০২৬ কত পারসেন্ট?
প্রণোদনা পেতে কি আলাদা আবেদন করতে হয়?
৫,০০০ ডলারের বেশি পাঠালে কি কাগজ লাগবে?
ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয়ে কি রেমিট্যান্স প্রণোদনা মেলে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৬ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।