
সংক্ষেপে
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক আছে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে: ঢাকার হযরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আর সিলেটের ওসমানী। বিএমইটির নাগরিক সনদ অনুযায়ী এখানে তথ্য যাচাইয়ের সেবা বিনামূল্যে, আর সেবা মেলে তাৎক্ষণিক থেকে এক দিনের মধ্যে।
যাওয়ার সময় ডেস্ক কর্মসংস্থান ভিসার কর্মীর বিএমইটি স্মার্ট কার্ড আর ছুটিতে আসা সৌদিপ্রবাসীর ভিসার মেয়াদ যাচাই করে। ফেরার সময় নির্যাতন বা প্রতারণার শিকার হয়ে এক বছরের মধ্যে ফেরা নারী কর্মী নগদ ৫,০০০ টাকা পান, অসুস্থ কর্মীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, আর মৃত কর্মীর লাশ হস্তান্তরের সময় ৩৫,০০০ টাকার চেক দেওয়া হয়।
তিন বিমানবন্দরের ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর যোগাযোগের তালিকা এখানে।
এই লেখায়
১. প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক কোথায়, কারা চালায়
ডেস্কগুলো চলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএমইটির আওতায়, প্রতিটিতে একজন সহকারী পরিচালক দায়িত্বে থাকেন। বিএমইটির ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত নাগরিক সনদে বিমানবন্দরস্থ প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সেবাগুলো আলাদা করে লেখা আছে। সেবা পাওয়ার জায়গা: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক।
অনেকে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ফরম pdf খোঁজেন। নাগরিক সনদে ডেস্কের সেবার জন্য আলাদা কোনো আবেদন ফরমের কথা নেই। দরকার হয় নিজের কাগজপত্র, যেমন পাসপোর্ট, বহির্গমন ছাড়পত্র, ভিসা আর বিমান টিকিট।
২. বিদেশ যাওয়ার সময় ডেস্কে যা হয়
- নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা আর জালিয়াতি ঠেকাতে যাত্রী কর্মীকে সহায়তা ও পরামর্শ, সার্ভার লিংকের মাধ্যমে তথ্য যাচাই
- কর্মসংস্থান ভিসায় যাওয়া কর্মীর বিএমইটি স্মার্ট কার্ড যাচাই ও সত্যায়ন
- ছুটিতে এসে আবার সৌদি আরবে ফেরা কর্মীর ভিসার মেয়াদ বা ফেরার তারিখ অনলাইনে যাচাই করে সত্যায়ন
- প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে বিএমইটির ছাড়পত্রের তথ্য যাচাই ও প্রতিস্বাক্ষর
যাওয়ার দিন তাই হাতের কাছে রাখুন কর্মীর ছাড়পত্র, ভিসা, বিমান টিকিট আর এয়ারওয়ে বিলের মতো কাগজ। সৌদিপ্রবাসী হলে নতুন ভিসা আর টিকিট। স্মার্ট কার্ডে নাম বা পাসপোর্ট নম্বরে ভুল থাকলে যাত্রার আগেই ঠিক করান, বিমানবন্দরে গিয়ে নয়।
সৌদি আরবে কাজ করা অনেকে ছুটিতে দেশে এসে আবার ফেরেন। তাঁদের জন্য ডেস্ক অনলাইনে ভিসার মেয়াদ আর ফেরার তারিখ মিলিয়ে সত্যায়ন করে। যেমন রফিক দুই মাসের ছুটি শেষে রিয়াদে ফিরছেন। নতুন ভিসা আর টিকিট দেখালে ডেস্ক অনলাইনে মিলিয়ে নেয়, এতে বহির্গমনের সময় প্রশ্ন কম ওঠে।
নাগরিক সনদ অনুযায়ী কর্মসংস্থান ভিসায় যাওয়া কর্মীর স্মার্ট কার্ড ডেস্ক যাচাই করে। কাউন্টার কোথায় বা কখন যেতে হবে নিয়ে সন্দেহ থাকলে চেক-ইনের আগেই ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন, সেবাটি বিনামূল্যে।
৩. দেশে ফেরার সময় যে সাহায্য পাবেন
| অবস্থা | ডেস্কের সেবা | যা সঙ্গে লাগে |
|---|---|---|
| নির্যাতিত, নিপীড়িত বা প্রতারিত হয়ে এক বছরের মধ্যে ফেরা নারী কর্মী | নগদ ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা | পাসপোর্ট, ছাড়পত্র, ভিসা, বিমান টিকিট, এয়ারওয়ে বিল |
| অসুস্থ হয়ে ফেরা কর্মী | পরিবারের কাছে হস্তান্তর; অবস্থা বুঝে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানো ও চিকিৎসার ব্যবস্থা | অসুস্থতার কাগজ, বিমান টিকিট আর অন্য বৈধ কাগজ |
| প্রবাসে মৃত কর্মী | পরিবারকে ফোনে কাগজের কথা জানানো, কার্গো থেকে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া, পরিবহন ও দাফন বাবদ ৩৫,০০০ টাকার চেক | পাসপোর্ট, মৃত্যুর কাগজ, টিকিট, ওয়ারিশ সনদ, প্রযোজ্য হলে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি |
নারী কর্মীর ৫,০০০ টাকার সহায়তা নিয়ে দুটি কথা মনে রাখুন। এক, নাগরিক সনদের ভাষায় এটি বিদেশে নির্যাতিত, নিপীড়িত বা প্রতারিত হয়ে এক বছরের মধ্যে ফেরত আসা নারী কর্মীর জন্য। এক বছরের হিসাব ঠিক কোন দিন থেকে ধরা হয়, তা সনদে আলাদা করে লেখা নেই, তাই ডেস্কে জেনে নিন। দুই, এটা নগদ সহায়তা, দেওয়া হয় বিমানবন্দরের ডেস্ক থেকেই, তাই ফেরার দিনই ডেস্কে যান।
লাশ পরিবহন আর মৃত্যুর পর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অন্য অনুদানের বিস্তারিত আমাদের প্রবাসী কর্মী ও পরিবারের সরকারি সহায়তার লেখায় আছে। এখানে মনে রাখার বিষয়, নাগরিক সনদে লাশ গ্রহণের কাগজের তালিকায় ওয়ারিশ সনদ আছে। তাই খবর পাওয়ার পরই ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ওয়ারিশ সনদ তোলার কাজ শুরু করুন, বিমানবন্দরে গিয়ে আটকে থাকতে হবে না।
৪. এজেন্সির প্রতারণা হলে: ডেস্ক থেকে বিএমইটিতে অভিযোগ
অনেক কর্মী দেশে ফিরে প্রথম যে সরকারি দপ্তরের মুখোমুখি হন, সেটা এই ডেস্ক। রিক্রুটিং এজেন্সি চুক্তির চেয়ে কম বেতনের কাজ দিয়েছে বা টাকা নিয়ে ভুল ভিসা দিয়েছে, এমন হলে ডেস্কে ঘটনা জানিয়ে পরামর্শ নিন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পথ আলাদা।
বিএমইটির নাগরিক সনদ অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে বিদেশগামী, বিদেশফেরত বা প্রতারিত কর্মীর অভিযোগ নিষ্পত্তি করে মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখা। মহাপরিচালক বরাবর নিজের স্বাক্ষর করা আবেদন আর প্রমাণ জমা দিতে হয়, বা কর্মীদের অভিযোগ সেলে প্রমাণসহ দাখিল করা যায়। সেবা বিনামূল্যে, সময়সীমা ৩০ কর্মদিবস। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি হয়, শুনানি নিয়ে ব্যবস্থার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে যায়।
- বিদেশে থাকা অবস্থার ভিসা, চুক্তিপত্র, বেতনের কাগজের কপি রাখুন
- এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার রসিদ বা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ জোগাড় করুন
- বিমানবন্দরের ডেস্কে কী বলেছেন, কোন দিন, তা লিখে রাখুন
৫. ডেস্কে সেবা নেবেন যেভাবে
- ১কাগজ গুছিয়ে নিনপাসপোর্ট, বহির্গমন ছাড়পত্র বা স্মার্ট কার্ড, ভিসা, টিকিট এক ফাইলে রাখুন। ফেরার সময় অসুস্থতা বা প্রতারণার কোনো কাগজ থাকলে সেগুলোও রাখুন।
- ২ডেস্কে নিজের অবস্থা বলুনযাত্রী হলে স্মার্ট কার্ড বা ভিসা যাচাইয়ের কথা বলুন। ফেরত আসা কর্মী হলে কী সমস্যায় ফিরেছেন, তা খুলে বলুন।
- ৩কাগজ দেখিয়ে যাচাই করানডেস্ক সার্ভারে তথ্য মিলিয়ে সত্যায়ন বা প্রতিস্বাক্ষর দেয়। নাগরিক সনদে সময় বলা আছে তাৎক্ষণিক থেকে এক দিন।
- ৪সহায়তার টাকা বা চেক বুঝে নিননারী কর্মীর ৫,০০০ টাকা বা লাশ পরিবহনের ৩৫,০০০ টাকার চেক বা টাকা নেওয়ার সময় যে কাগজ দেওয়া হয়, তার কপি বা ছবি রেখে দিন।
- ৫সেবা না পেলে অভিযোগনাগরিক সনদে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (কর্মসংস্থান) নাম দেওয়া আছে, ইমেইল adgemp@bmet.gov.bd।
৬. অনেকে যা জানতে চান
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে আপনার রিপোর্ট করতে হবে কি?
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ফরম pdf কোথায় পাব?
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ঢাকা এয়ারপোর্টে সেবা কি টাকা দিয়ে নিতে হয়?
নির্যাতিত হয়ে ফেরা নারী কর্মী কত টাকা পান?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২২ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।