
সংক্ষেপে
সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট (রুখসা আমল) ১২ মাসের বেশি আগে মেয়াদোত্তীর্ণ, আর যাঁরা দেশে ঢোকার বা নিয়োগকর্তা বদলের ছয় মাস পরও পারমিট পাননি, তাঁদের পারমিট ২০২৬ সালের মধ্যেই ইস্যু বা নবায়ন করতে হবে।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ৩০ জুন নোটিশটি প্রচার করে। সময়মতো কাজ শেষ না করলে নিয়োগকর্তা আর কর্মী দুজনের বিরুদ্ধেই প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই এখনই নিয়োগকর্তার কাছে নিজের পারমিটের অবস্থা জেনে নিন।
দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং আর অভিযোগের পথ মন্ত্রণালয়ের সাইটে পাবেন।
এই লেখায়
১. সৌদি ওয়ার্ক পারমিট কি, ইকামার সঙ্গে তফাত
সৌদি আরবে কাজের অনুমতিপত্রকে আরবিতে বলে রুখসা আমল। এটা ইস্যু আর নবায়ন হয় শ্রম মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থায়, নিয়োগকর্তার মাধ্যমে। ইকামা হলো বসবাসের অনুমতি। দুটো আলাদা কাগজ, আর একটার মেয়াদ থাকলেও অন্যটার মেয়াদ পেরিয়ে যেতে পারে।
অনেক কর্মী ইকামা হাতে দেখে নিশ্চিন্ত থাকেন, অথচ ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন হয়নি। এবারের নোটিশটা ঠিক এমন কর্মীদের নিয়ে। ইকামা কীভাবে যাচাই করবেন, তা আমাদের ইকামা চেকের লেখায় আছে।
- ইকামার মেয়াদ আছে, ওয়ার্ক পারমিট নেই: এই নোটিশ আপনার জন্য।
- ওয়ার্ক পারমিট আছে, ইকামার মেয়াদ নেই: সেটার জন্য আলাদা নবায়ন লাগে, নিয়োগকর্তাকে জানান।
- দুটোরই মেয়াদ আছে: চুক্তির শেষ তারিখ আর পারমিটের মেয়াদ এক কি না মিলিয়ে রাখুন।
২. কারা এই সুযোগের আওতায়
| কর্মীর অবস্থা | করণীয় | শেষ সময় |
|---|---|---|
| ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ১২ মাসের বেশি আগে শেষ | পারমিট নবায়ন | ২০২৬ সালের মধ্যে |
| সৌদিতে ঢোকার ছয় মাস পরও পারমিট পাননি | পারমিট ইস্যু | ২০২৬ সালের মধ্যে |
| অন্য নিয়োগকর্তার কাছে বদলির ছয় মাস পরও পারমিট পাননি | পারমিট ইস্যু | ২০২৬ সালের মধ্যে |
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ১ জুলাই ২০২৬ জানিয়েছে, অনেক নিয়োগকর্তা আর কর্মী আগেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, তাই বছরের শেষ পর্যন্ত সুযোগটা খোলা রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষায় উদ্দেশ্য হলো শ্রম আইন মানার সংস্কৃতি জোরদার করা, আর নিয়োগকর্তা ও কর্মী দুই পক্ষের চুক্তিগত অধিকার রক্ষা।
নোটিশে শুধু বলা হয়েছে, সময়মতো না করলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কী শাস্তি, তা খবরে নেই। সামাজিক মাধ্যমে নানা অঙ্কের জরিমানার কথা ঘোরে, সেগুলোর সরকারি সূত্র যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।
৩. সৌদি ওয়ার্ক পারমিট চেক আর নবায়ন: আপনি যা করবেন
- ১নিয়োগকর্তার কাছে অবস্থা জানুনপারমিট নবায়নের কাজ নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির মাধ্যমে হয়। আপনার পারমিটের মেয়াদ কবে শেষ, নবায়ন হয়েছে কি না, লিখিত বা প্রিন্ট আকারে চেয়ে নিন।
- ২নিজের তথ্য গুছিয়ে রাখুনপাসপোর্ট, ইকামা নম্বর, আগের পারমিটের কপি আর চাকরির চুক্তি এক ফাইলে রাখুন। বদলি হয়ে থাকলে নতুন নিয়োগকর্তার কাগজও।
- ৩দেরি দেখলে দূতাবাসে জানাননিয়োগকর্তা গড়িমসি করলে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বা জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ শাখায় যোগাযোগ করুন।
- ৪রসিদ বা প্রমাণ রাখুননবায়ন হলে তার প্রমাণের ছবি বা প্রিন্ট নিজের কাছে আর পরিবারের কাছে রাখুন।
একটা উদাহরণ। রিয়াদে কাজ করা মামুনের ইকামার মেয়াদ ছিল, কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট শেষ হয়েছিল ১৪ মাস আগে। তিনি কোম্পানির এইচআর-কে নোটিশটা দেখালেন। কোম্পানি নভেম্বরে নবায়ন করে দিল, তিনি নবায়নের কপি দেশে স্ত্রীর কাছেও পাঠিয়ে রাখলেন।
এই নোটিশ ২০২৬ সালের জন্য। পরের বছর নিয়ম বদলাতে পারে, তাই পারমিটের মেয়াদ শেষের তারিখ ফোনের ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন, আর তিন মাস আগে থেকেই নিয়োগকর্তাকে মনে করিয়ে দিন।
৪. নিয়োগকর্তাকে যে প্রশ্নগুলো করবেন
লিখিত উত্তর চেয়ে নিন
এই প্রশ্নগুলো লিখে এইচআর বা কফিলের কাছে দিন। মুখের কথায় 'হয়ে যাবে' শুনে বসে থাকবেন না। ডিসেম্বর শেষ হয়ে গেলে নোটিশের সুযোগ আর থাকবে না, আর তখন দায় কার, তা নিয়ে বিরোধ হলে লিখিত উত্তরই আপনার প্রমাণ।
ফি নিয়ে আলাদা সতর্কতা। নোটিশের খবরে কে ফি দেবেন, তা বলা নেই। চুক্তিপত্রে এ নিয়ে কী লেখা আছে, আগে দেখে নিন। চুক্তির বাইরে টাকা কাটলে দূতাবাসের শ্রম শাখায় চুক্তির কপিসহ জানান।
৫. পারমিট না থাকলে ঝুঁকি কোথায়
- পারমিট ছাড়া কাজ করলে আইনি ঝুঁকি থাকে কর্মী আর নিয়োগকর্তা দুজনেরই, এবারের নোটিশেও দুজনকে সতর্ক করা হয়েছে।
- বৈধ কাগজ না থাকলে বেতন বা পাওনা নিয়ে বিরোধে অভিযোগ করা কঠিন হয়।
- ছাড়পত্র ছাড়া বা কাগজ গোলমালে প্রবাসে মৃত্যু হলে পরিবারের সরকারি সহায়তা পেতেও জটিলতা হতে পারে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ থাকলে কাজ সহজ হয়।
পারমিট নবায়ন নিয়োগকর্তার কাজ। কেউ বাইরে থেকে টাকা নিয়ে 'পারমিট করে দেব' বললে আগে নিয়োগকর্তা আর দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলুন।
আরেকটা কাজ পরিবার করতে পারে। সৌদির খবর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিন নতুন 'নিয়ম' ঘোরে। কোনটা সত্যি, তা মিলিয়ে নিন দূতাবাসের যাচাই করা ফেসবুক পাতা বা বড় জাতীয় দৈনিকের খবরে। কর্মীকে শুধু যাচাই করা তথ্য পাঠান।
৬. দেশ থেকে পরিবার কীভাবে সাহায্য করতে পারে
সৌদিতে থাকা কর্মী অনেক সময় দূতাবাসে যাওয়ার সুযোগ পান না। তখন দেশে থাকা পরিবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে বিষয়টি জানাতে পারে। সঙ্গে রাখুন কর্মীর পাসপোর্টের কপি, ইকামা নম্বর, নিয়োগকর্তার নাম আর ফোন নম্বর।
- কর্মীর কাছ থেকে পারমিটের সর্বশেষ অবস্থা লিখিত নিন।
- নোটিশের তারিখ আর শর্তগুলো নিজেরা পড়ে নিন, গুজবে কান দেবেন না।
- অভিযোগ বা সহায়তার আবেদনের কপি সংরক্ষণ করুন।
৭. অনেকে যা জানতে চান
সৌদি ওয়ার্ক পারমিট কি?
সৌদি ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের শেষ সময় কবে?
saudi work permit check কীভাবে করব?
ইকামা আছে কিন্তু ওয়ার্ক পারমিট নেই, কী হবে?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।