
সংক্ষেপে
ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড ৫ বছর মেয়াদি একটি সঞ্চয় বন্ড, যা বৈধ পথে পাঠানো প্রবাস আয় দিয়ে কেনা যায়। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মেয়াদান্তে মুনাফা ১২% (সরল হারে), ১৫ থেকে ৩০ লাখে ১১%, ৩০ থেকে ৫০ লাখে ১০% আর ৫০ লাখের বেশি হলে ৯%। মুনাফা দেওয়া হয় ছয় মাস পরপর।
বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা নেই, বন্ডের টাকা ও মুনাফা আয়করমুক্ত, আর এফসি অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বন্ড পাওয়া যায় বাংলাদেশ ব্যাংক, যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (AD) শাখা, আর বিদেশে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউসে।
সঞ্চয় বন্ডের পাতায় ওয়েজ আর্নার বন্ডের সর্বশেষ মুনাফার হার আর শর্ত দেওয়া আছে।
এই লেখায়
১. মুনাফা কত, আগে ভাঙালে কত পাবেন
বন্ডের মূল্যমান ২৫,০০০; ৫০,০০০; ১,০০,০০০; ২,০০,০০০; ৫,০০,০০০; ১০,০০,০০০ আর ৫০,০০,০০০ টাকা। মুনাফার হার নির্ভর করে কত টাকা রাখছেন আর কত দিন রাখছেন তার ওপর। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সারণী অনুযায়ী (শতাংশ, সরল হারে):
| কত দিন পর ভাঙালে | ১৫ লাখ পর্যন্ত | ১৫ থেকে ৩০ লাখ | ৩০ থেকে ৫০ লাখ | ৫০ লাখের বেশি |
|---|---|---|---|---|
| ৬ মাস পর, ১২ মাসের আগে | ৮.৭০ | ৭.৯৮ | ৭.২৫ | ৬.৫৩ |
| ১২ মাস পর, ১৮ মাসের আগে | ৯.৪৫ | ৮.৬৬ | ৭.৮৮ | ৭.০৯ |
| ১৮ মাস পর, ২৪ মাসের আগে | ১০.২০ | ৯.৩৫ | ৮.৫০ | ৭.৬৫ |
| ২৪ মাস পর, ৬০ মাসের আগে | ১১.২০ | ১০.২৭ | ৯.৩৩ | ৮.৪০ |
| মেয়াদান্তে (৫ বছর) | ১২.০০ | ১১.০০ | ১০.০০ | ৯.০০ |
সারণীতে ৬ মাসের আগে ভাঙানোর কোনো হার দেওয়া নেই, আর মেয়াদের আগে ভাঙালে মুনাফার হার বেশ কমে যায়। টাকা অন্তত পাঁচ বছর রাখতে পারবেন কি না আগে ভেবে কিনুন। হার সরকার সময়ে সময়ে বদলাতে পারে, কেনার দিন ব্যাংকে চালু হার জেনে নিন।
একটা সহজ হিসাব ধরুন। ১০ লাখ টাকার বন্ড পাঁচ বছর রাখলে বছরে ১২% সরল হারে মুনাফা দাঁড়ায় বছরে ১,২০,০০০ টাকা, পাঁচ বছরে মোট ৬,০০,০০০ টাকা, আর মেয়াদ শেষে মূল ১০ লাখ টাকা ফেরত। সরল হার মানে মুনাফার ওপর আবার মুনাফা হয় না। মেয়াদের আগে ভাঙালে সারণীর কম হারে হিসাব হয়, তখন আগে তোলা মুনাফা কীভাবে সমন্বয় হবে, ভাঙানোর আগে ব্যাংকের কাছ থেকে লিখিত হিসাব চেয়ে নিন।
২. কারা কিনতে পারবেন
- বৈধ ওয়েজ আর্নার, বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স বা বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে। কেনা যায় নিজ নামে, আবেদনপত্রে উল্লেখ করা ব্যক্তির নামে, অথবা বাংলাদেশে থাকা বেনিফিশিয়ারির নামে, টাকায়।
- বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
- বিদেশে লিয়েনে কর্মরত সরকারি, সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে।
বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদেশি মালিকানাধীন জাহাজ বা এয়ারলাইনে কাজ করা অনিবাসী বাংলাদেশি নাবিক, পাইলট ও কেবিন ক্রুরাও এই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একবার কেনার পর আরও দুবার পুনর্বিনিয়োগ করা যায়, অর্থাৎ সব মিলিয়ে ১৫ বছর।
বন্ডটি বৈধ পথে আসা প্রবাস আয়ের জন্য। হুন্ডিতে আনা টাকা বা দেশে আয় করা টাকা দিয়ে কেনার সুযোগ নেই। রেমিট্যান্স আসার ব্যাংক রসিদ বা বিবরণী সংরক্ষণ করুন, কেনার সময় ব্যাংক এগুলো দেখতে চাইতে পারে।
৩. কোথায় আর কীভাবে কিনবেন
- ১অঙ্ক ঠিক করুনহারের সারণী দেখে কত টাকা রাখবেন ঠিক করুন। ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে হার সবচেয়ে বেশি।
- ২বিক্রয়কেন্দ্র বেছে নিনদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক বা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার (AD) শাখায়, বিদেশে বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকের শাখা, এক্সচেঞ্জ হাউস বা এক্সচেঞ্জ কোম্পানিতে বন্ড কেনা ও ভাঙানো যায়।
- ৩আবেদন ফরম পূরণ করুনব্যাংক থেকে ফরম নিয়ে ক্রেতা, যাঁর নামে বন্ড আর নমিনির তথ্য দিন। পাসপোর্টের কপিসহ কোন কাগজ লাগবে, যে শাখা থেকে কিনবেন সেখানে আগে জেনে নিন।
- ৪রেমিট্যান্সের টাকায় মূল্য পরিশোধ করুনবৈধ পথে আসা প্রবাস আয় বা বৈদেশিক মুদ্রা থেকে দাম দিন। এফসি অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক নয়।
- ৫বন্ড আর রসিদ সংরক্ষণ করুনবন্ডের সনদ, ক্রয়ের রসিদ আর নমিনির কাগজ নিরাপদে রাখুন। ছয় মাস পরপর মুনাফা তুলতে আর মেয়াদ শেষে টাকা পেতে এগুলো লাগবে।
৪. আর যেসব সুবিধা আছে
- আয়করমুক্ত: বন্ডে বিনিয়োগ করা টাকা আর মুনাফা আয়করমুক্ত। এনবিআরের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২০২৭-এর করমুক্ত আয়ের তালিকাতেও ওয়েজ আর্নারস ডেভেলপমেন্ট বন্ডের আয় আছে।
- ঊর্ধ্বসীমা নেই: যত টাকা ইচ্ছা বিনিয়োগ করা যায়, তবে বড় অঙ্কে মুনাফার হার কম।
- মৃত্যু-ঝুঁকি সুবিধা: সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যু-ঝুঁকি সুবিধার কথা আছে। কোন ক্ষেত্রে কতটা, কেনার সময় ব্যাংক থেকে লিখিত জেনে নিন।
- ঋণ: বন্ড জামানত রেখে ঋণ নেওয়া যায়।
- নমিনি: নমিনি নিয়োগ, পরিবর্তন বা বাতিল করা যায়।
- ডুপ্লিকেট: হারিয়ে গেলে, পুড়ে গেলে বা নষ্ট হলে ডুপ্লিকেট বন্ড ইস্যু করা যায়।
- ডলারে মূল টাকা: বন্ডের মূল অর্থ ইউএস ডলারে নেওয়ার সুযোগ আছে।
৫. কেনার আগে যা মিলিয়ে নেবেন
সিদ্ধান্তের আগে
ডলারে বিনিয়োগ রাখতে চাইলে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড আর ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডও আছে, তথ্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের একই পাতায়। পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি বা বিপদে করণীয় জানতে আমাদের প্রবাসী কল্যাণের লেখাটি দেখুন।
৬. অনেকে যা জানতে চান
দেশে থাকা স্ত্রী বা মায়ের নামে কি বন্ড কেনা যায়?
মুনাফায় কি উৎসে কর কাটে?
সর্বোচ্চ কত টাকার বন্ড কেনা যায়?
মেয়াদ শেষে কি আবার একই বন্ডে রাখা যায়?
যেখান থেকে তথ্য মিলিয়েছি
জেনে রাখুন: লেখাটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বাধীনভাবে লেখা, নাগরিক সেবা কোনো সরকারি দপ্তর নয়। লেখাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফি, তারিখ আর নিয়ম বদলাতে পারে, আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।